📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 সাজদায় কোরআন পড়া নিষিদ্ধ

📄 সাজদায় কোরআন পড়া নিষিদ্ধ


রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকু ও সাজদায় কোরআন পড়তে নিষেধ করেছেন। বরং তিনি সাজদায় অধিকতর দোআ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এমর্মে একটি হাদীস রুকু অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
তিনি বলেছেন, বান্দাহ সাজদাহ অবস্থায় আল্লাহর বেশী নিকটবর্তী হয়। তোমরা সাজদায় বেশী বেশী করে দোআ কর। ৩৩৭

টিকাঃ
৩৩৬. ঐ。
৩৩৭. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা, বায়হাকী。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 সাজদাহ দীর্ঘায়িত করা

📄 সাজদাহ দীর্ঘায়িত করা


রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকুর মত দীর্ঘ সাজদাও করতেন। কখনো কখনো আকস্মিক কারণে সাজদাহ তিনি অতিমাত্রায় দীর্ঘায়িত করতেন।
এক সাহাবী বর্ণনা করেন, একবার রসূলুল্লাহ (সঃ) বিকেলের (আসর কিংবা মাগরিব) নামাযের জন্য সাথে হাসান কিংবা হোসাইনকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। নবী (সঃ) ইমামতির জন্য অগ্রসর হন এবং তাকে ডান পায়ের কাছে রাখেন। তারপর তাকবীর বলে নামায শুরু করেন। তিনি সাজদাহ করেন এবং তা খুব দীর্ঘায়িত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মুসল্লীদের মাঝে মাথা তুলে দেখি, শিশুটি রসূলুল্লাহর পিঠের উপর এবং তিনি সাজদারত। আমি পুনরায় সাজদায় ফিরে যাই। রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নামায শেষে লোকেরা জিজ্ঞেস করে, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার এই নামাযের মধ্যে একটি দীর্ঘ সাজদাহ দিয়েছেন যার ফলে আমাদের মনে দুর্ঘটনার আশংকা জেগেছে, কিংবা ধারণা করেছিলাম যে, আপনার উপর ওহী নাযিল হচ্ছিল। তিনি উত্তরে বলেন, এগুলো কিছুই ঘটেনি। আমার সন্তানটি আমার উপর আরোহণ করায় আমি তাকে তার সখ পূরণের আগে দ্রুত নামিয়ে দিতে পছন্দ করিনি। ৩৩৮
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ (সঃ) যখন নামায পড়েন, তখন হাসান ও হোসাইন তাঁর পিঠে আরোহন করে। লোকেরা যখন শিশু দু'টিকে আরোহণ করতে নিষেধ করেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইশারা দেন যে, তাদের বিষয়টা ছেড়ে দাও। নামায শেষে তিনি দুজনকে নিজের কোলে বসান এবং বলেন, যে আমাকে ভালবাসে, সে যেন এই দুজনকেও ভালবাসে। ৩৩৯

টিকাঃ
৩৩৮. নাসাঈ, ইবনু আসাকির। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী একে সমর্থন করেছেন。
৩৩৯. ইবনু খোযায়মাহ, বায়হাকী। বোখারী ও মুসলিম শরীফে এ বিষয়ে আরও হাদীস আছে。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 সাজদার ফযীলত

📄 সাজদার ফযীলত


রসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, আমার উম্মাহর মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যাকে আমি কেয়ামতের দিন চিনতে পারবো না। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রসূল! এত সৃষ্টির মধ্যে আপনি কি করে তাদেরকে চিনবেন? তিনি প্রশ্ন করেন, ঐ বিষয়ে তোমার রায় কি, তুমি যদি কোনো আস্তাবলে প্রবেশ করো আর সেখানে যদি কালো ঘোড়ার মধ্যে এমন একটি ঘোড়া থাকে যার পায়ের নীচের অংশ, হাত ও মুখ সাদা, তুমি কি তাকে পৃথক করে চিনতে পারবে না? সাহাবী জওয়াবে বললেন, 'জী হাঁ।' তখন রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ঐ দিন আমার উম্মতের সাজদার কারণে সাদা ধবধবে চেহারা এবং উযুর কারণে হাত-পা উজ্জ্বল সাদা হবে। ৩৪০
রসূলুল্লাহ (সঃ) আরও বলেছেন, আল্লাহ যদি কোন দোযখবাসীকে দয়া করার ইচ্ছে করেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে আদেশ দেবেন এবং বলবেন, আল্লাহর ইবাদতকারীকে বের করে নিয়ে আষ। ফেরেশতারা তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা তাকে তার সাজদার চিহ্নের কারণে চিনতে পারবে। আল্লাহ দোযখের উপর সাজদার চিহ্নকে জ্বালানো হারাম করে দিয়েছেন। তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আসা হবে। আগুন আদম সন্তানের শরীরের সকল অংশ খেলেও সাজদার অংশ খেতে পারবে না। ৩৪১

টিকাঃ
৩৪০. আহমদ সনদ সহীহ, তিরমিযী- এ হাদীসে, হাত, পা ও মুখে উযুর চিহ্নকে ঘোড়ার হাত, পা ও মুখের শুভ্রতার সাথে তুলনা করা হয়েছে যে, এগুলোও অনুরূপ শুভ্র হবে。
৩৪১. বোখারী, মুসলিম。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 মাটি ও চাটাইতে সাজদা করা

📄 মাটি ও চাটাইতে সাজদা করা


রসূলুল্লাহ (সঃ) মাটিতেই অধিংকাশ সময় সাজদাহ করেছেন। ৩৪২
সাহাবায়ে কেরাম কঠোর ও প্রখর রোদে তাঁর সাথে নামায আদায় করতেন। যারা তাপের কারণে কপাল মাটিতে রাখতে পারতেন না, তারা কাপড় বিছিয়ে সাজদাহ করতেন। ৩৪৩
তিনি আরও বলতেন; গোটা যমীন আমার উম্মতের জন্য মসজিদ ও পবিত্র করা হয়েছে। যখন এবং যেখানে নামাযের সময় হবে, সেখানেই তার মসজিদ ও সেখানেই পবিত্রতা। আমার পূর্বের লোকদের জন্য এ বিষয়ে কঠিন নিয়ম ছিল। তারা কেবল গীর্জায় নামায পড়ত। ৩৪৪
কদাচিত তিনি কাদা মাটি ও পানিতে সাজদাহ করেছেন। একবার একুশে রমযানের ফজরের নামাযে তা ঘটেছিল। আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণের ফলে মসজিদের খেজুর পাতার চাল বেয়ে মসজিদে পানি পড়ে কাদা হয়ে যায়। তিনি সেই কাদাতে নামায পড়েন। আবু সাঈদ খুদ্রী (রাঃ) বলেন, আমি নিজ চোখে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কপাল ও নাকে কাদা দেখেছি। ৩৪৫
তিনি কখনও খোমরা এবং কখনও চাটাইর উপর নামায পড়তেন। ৩৪৬
পরিধানের কাপড়ের এক অংশ বিছিয়ে দীর্ঘ সময় নামায পড়ায় তা কালো হয়ে গেছে। এ হাদীস প্রমাণ করে যে পরিধানের কাপড়ের অংশ বিশেষ বিছিয়ে নামায পড়া জায়েয। তবে সিলেকর কোন জিনিসের উপর বসা জায়েয নেই। এ বিষয়ে পরিষ্কার নিষেধাজ্ঞা আছে। (বোখারী, মুসলিম)

টিকাঃ
৩৪২. কেননা, তাঁর মসজিদে তখন চাটাই বা অন্য কিছু ছিল না। এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীস আছে。
৩৪৩. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানাহ。
৩৪৪. আহমদ, আস-সেরাজ, বায়হাকী- সনদ সহীহ。
৩৪৫. বোখারী, মুসলিম。
৩৪৬. ঐ। খোমরা হচ্ছে সাজদার জন্য নাক ও কপাল রাখার ছোট মতো জায়নামায。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00