📄 রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং দো‘আ পড়া
রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় বলতেন:
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ -
অর্থ: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা কবুল করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।" ২৭৪
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছেন, কোন ব্যক্তির নামায সে পর্যন্ত শুদ্ধ হয় না, যে পর্যন্ত না সে তাকবীর বলে রুকু থেকে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে। ২৭৫
তারপর তিনি দাঁড়িয়ে বলতেন: رَبَّنَا (وَ) لَكَ الْحَمْدُ .
এখানে ওয়াও সহ বা তা ব্যতিত উভয় প্রকার পড়ার বর্ণনা আছে। (বোখারী, আহমদ)
অর্থঃ হে আমাদের রব! (এবং) তোমার জন্যই সকল প্রশংসা।
তিনি সকল ধরনের মুসল্লীকে অনুরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'তোমরা আমাকে যেরূপ নামায পড়তে দেখ, সেরূপ নামায পড়।' ২৭৬
তিনি আরও বলেছেন, ইমামকে অনুসরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবে, তখন তোমরা বলবে, اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
আল্লাহ তোমাদের প্রশংসা শুনবেন। আল্লাহ তাঁর নবীর মুখে বলেছেন, যে আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শুনেন। ২৭৭
তিনি অন্য এক হাদীসে এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, যার কথা ফেরেশতার দোআর সাথে একাকার হয়ে যাবে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন। ২৭৮
তিনি রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় দু'হাত উপরে উঠাতেন। তাকবীরে তাহরীমা অধ্যায়ে তা আলোচনা করা হয়েছে।
১. তারপর তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় নীচে বর্ণিত দোআ পড়েছেন:
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ২৯
২. কোনো সময় পড়তেন:
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ২৮০
৩. কোনো সময় তিনি উপরোক্ত বাক্যগুলোর আগে اللهم শব্দ যোগ করে পড়তেন। ২৮১
এই ভাবে পড়ার জন্য তিনি আদেশ করে বলেছেন।
৪. ইমাম যখন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে, তখন তোমরা বলবে, 'আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ'। যে ব্যক্তির কথা ফেরেশতার কথার সাথে মিলে যাবে, আল্লাহ তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেবেন। ২৮২
৫. তিনি কখনও এর সাথে নিম্নোক্ত দোআ যোগ করতেন: ২৮৩ বর্ণিত।
مِلْءَ السَّمُوتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
অর্থ: আসমান ভরে, যমীন ভরে এবং তুমি আরও যা চাও তা ভরে (তোমার প্রশংসা)
৬. কিংবা তিনি যোগ করে পড়তেন: ২৮৪
مِلْءَ السَّمَوتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
৭. কখনও তিনি এই দোআটি যোগ করতেন: ২৮৫
أهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ لَأَمَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطَى لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَالْجَدِ مِنْكَ الْجَدُّ .
অর্থ: 'হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী! তুমি যাকে দাও তা রোধকারী কেউ নেই, তুমি যাকে বঞ্চিত কর তাকে কোন দানকারী নেই এবং কোন বিত্তশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির শক্তি ও সম্পদ তোমার কাছ থেকে তাকে রক্ষা করে উপকার করতে পারে না। (একমাত্র নেক আমলই তাকে রক্ষা করতে পারে।)
৮. তিনি রাতের নামাযে কখনও বলতেনঃ
لِرَبِّي الْحَمْدُ لِرَبِّي الْحَمْدُ -
অর্থ: আমার রবের সকল প্রশংসা, আমার রবের সকল প্রশংসা। তিনি এটা বারবার পুনরাবৃত্তি করতেন। ফলে তাঁর এই কেয়াম বা সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় প্রায় রুকুর সময়ের পরিমাণ হয়ে যেত। আর রুকুর সময়ের পরিমাণ ছিল প্রথম রাকআতের কেয়াম সমান, যে রাকআতে তিনি সূরা বাকারা পড়েছেন। ২৮৬.
৯. কখনও তিনি নীচের দোয়াটি যোগ করতেন:
مل السَّمَاتِ وَمِلَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ، أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ اَحَقَّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدُ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا اعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَالْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ .
অর্থ: আসমান ভরে, যমীন ভরে এবং তুমি আরও যা চাও তা ভরে তোমার প্রশংসা। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী, বান্দার প্রশংসা পাওয়ার সর্বাধিক যোগ্য সত্তা! আমরা সবাই তোমার গোলাম। তুমি যাকে দাও তা রোধকারী কেউ নেই। তুমি যাকে বঞ্চিত কর তাকে কোন দানকারী নেই। কোনবিত্তশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির সম্পদ ও শক্তি তোমার কাছ থেকে তাকে রক্ষা করে উপকার করতে পারে না। ২৮৭
১০. তিনি নিম্নের দোআ পড়েছেন:
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ (مُبَارَكًا عَلَيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى)
অর্থঃ হে আমাদের রব! তোমার জন্যই প্রশংসা, অত্যধিক পবিত্র ও মোবারক প্রশংসা, (প্রশংসাকারীর জন্যও তা মোবারক হোক, যেভাবে আমাদের রব পসন্দ করেন ও সন্তুষ্ট থাকেন)।
রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পিছনে নামায আদায়কারী এক সাহাবী রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে দাঁড়ানোর পর ঐ দোআটি পড়েন। রসূলুল্লাহ (সঃ) নামায শেষ করে জিজ্ঞেস করলেন, কে ঐ দোআটি পড়েছিল? ব্যক্তিটি বলল, আমি ইয়া রসূলাল্লাহ! রসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন, আমি ৩৩-এরও অধিক ফেরশতাকে প্রতিযোগিতা করতে দেখেছি, কে প্রথমে তা লিখবে! ২৮৮
টিকাঃ
২৭৪. বোখারী, মুসলিম。
২৭৫. আবু দাউদ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
২৭৬. বোখারী, আহমদ。
২৭৭. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা, আহমদ, আবু দাউদ。
২৭৮. বোখারী, মুসলিম। তিরমিযী একে সহীহ হাদীস বলেছেন。
২৭৯. বোখারী, মুসলিম। মোতাওয়ায়াতের রেওয়াতের দ্বারা হাত তোলার কথা
২৮০. ঐ。
২৮১. বোখারী, আহমদ। ইবনুল কাইয়েম তাঁর যাদুল মাআ'দ গ্রন্থে 'আল্লাহুম্মা' এবং 'ওয়াও' সম্বলিত বর্ণনাগুলোকে অস্বীকার করেছেন। অথচ এ সকল বর্ণনা বোখারী, মোসনাদে আহমদ এবং নাসাঈতে আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে, দারেমীতে ইবনু উমার থেকে, বায়হাকীতে আবু সাঈদ খুদরী থেকে এবং নাসাঈতে অন্য এক সূত্রে আবু মূসা আশআরী থেকে বর্ণিত আছে。
২৮২. বোখারী, মুসলিম। তিরমিযী একে সহীহ হাদীস বলেছেন。
২৮৩. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা。
২৮৪. ঐ。
২৮৫. ঐ。
২৮৬. আবু দাউদ, নাসাঈ-সনদ সহীহ。
২৮৭. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা, আবু দাউদ。
২৮৮. মালেক, বোখারী, আবু দাউদ。
📄 রুকু থেকে ধীরস্থিরভাবে দাঁড়ানো ওয়াজিব
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, রসূলুল্লাহ (সঃ) প্রায় রুকুর সমপরিমাণ সময় রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। তাঁর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কেউ কেউ ধারণা করতেন তিনি সাজদায় যাবার কথা ভুলে গেছেন। ২৮৯
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে প্রশান্তি সহকারে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: তারপর মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়াও। অন্য এক রিওয়ায়াতে এসেছে, যখন তুমি মাথা তুলবে, তখন সোজা হয়ে দাঁড়াবে যেন হাড় তার জোড়ার সাথে ঠিকমত খাপ খায়। ২৯০
তিনি তাকে বলেন, এরূপ না করলে তোমাদের নামায পরিপূর্ণ হবে না।
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ সেই ব্যক্তির নামাযের দিকে তাকান না, যে রুকু ও সাজদায় পিঠ সোজা করে না। ২৯১
টিকাঃ
২৮৯. বোখারী, মুসলিম, আহমদ:
২৯০. বোখারী, মুসলিম, দারেমী, হাকেম, শাফেঈ, আহমদ। এই হাদীসের উদ্দেশ্য হল, প্রশান্তির সাথে দাঁড়ানো। এই হাদীস দ্বারা হেজাযের কিছু আলেম রুকু থেকে দাঁড়িয়ে বুকের উপর হাত বাঁধার বৈধতা সম্পর্কে যা বলেছেন, তা রিওয়ায়াতের অর্থের মধ্যেই নেই। বরং এজাতীয় প্রমাণ বাতিল। এই কেয়ামে বুকে হাত বাঁধা যে বেদআত তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই। এর কোন ভিত্তি থাকলে তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছত। অতীতের নেক লোকেরাও অনুরূপ করেছেন বলে কোন প্রমাণ নেই। হাদীসের কোন ইমামও এ প্রসঙ্গে অনুকূল কিছু বলেননি। শেখ তুয়াইজেরী ইমাম আহমদের বরাত দিয়ে বলেছেন, কেউ ইচ্ছা করলে হাত ছেড়ে দিতে পারে কিংবা বাঁধতে পারে। তিনি এটাকে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাদীস বলেননি。
২৯১. আহমদ, আল কবীর-তাবারানী। সনদ সহীহ。
📄 সাজদাহ
রসূলুল্লাহ (সঃ) তাকবীর বলে সাজদায় যেতেন। ২৯২
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ আদেশ দিয়ে বলেছেন, তারপর তাকবীর বলে সাজদায় যাবে যেন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়া শান্ত হয়। ২৯৩
তিনি সাজদায় যাবার কালে তাকবীর বলতেন, দুই হাত দুই পাঁজর থেকে দূরে রেখে সাজদাহ করতেন। ২৯৪
তিনি কখনও কখনও সাজদাহ করার সময় দু'হাত উপরের দিকে উঠাতেন। ২৯৫
টিকাঃ
২৯২. বোখারী, মুসলিম。
২৯৩. আবু দাউদ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী একে সমর্থন করেছেন。
২৯৪. মোসনাদ, ২/২৮৪পৃঃ-আবু ইয়া'লী, সনদ ভাল, ইবনু খোযায়মাহ ১/৭৯/২, সনদ সহীহ。
২৯৫. নাসাঈ, দারু কুতনী, ফাওয়ায়েদ-আল মোখলেস। সনদ সহীহ। ১০ জন সাহাবী রসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, হাসান বসরী, তাউস, আবদুল্লাহ বিন তাউস, নাফে', সালিম বিন আবদুল্লাহ, কাসেম বিন মোহাম্মদ, আবদুল্লাহ বিন-দীনার ও আতা এরূপ করাকে বৈধ বলেছেন। আবদুর রহমান বিন মাহদী একে সুন্নত বলেছেন। ইমাম আহমদ এর উপর আমল করেছেন এবং ইমাম শাফেঈ ও মালেকের মত এটাই。
📄 দুই হাত আগে মাটিতে রেখে সাজদায় যাওয়া
তিনি মাটিতে দুই হাঁটু রাখার আগে দুই হাত রাখতেন। ২৯৬
দুই পায়ে তিনি এরূপ করার আদেশ দিয়ে বলেছেন, 'তোমাদের কেউ সাজদাহ করলে দুই পায়ে সে উটের মত না বসে, বরং হাঁটু রাখার আগে যেন দুই হাত মাটিতে রাখে। ২৯৭
উটের বিরোধীতার উপায় হল, উট প্রথমে পেছনের দুই পায়ের উপর বসার উদ্যোগ নেয়। তাই প্রথমে দুই হাত মাটিতে রেখে সাজদা করলে উটের বসার বিরোধীতা হয়।
তিনি আরও বলেছেনঃ কপালের মত হাতও সাজদাহ করে। তোমাদের কেউ মাটিতে কপাল দিয়ে সিজদাহ করার আগে দুই হাত মাটিতে রাখবে। যখন সাজদাহ থেকে উঠবে, তখন দুই হাতও উঠাবে। ২৯৮.
তিনি দুই হাতের তালুর উপর ভর দিতেন এবং তা বিছিয়ে দিতেন। ২৯৯ তবে আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে ৩০০ মিলিয়ে রাখতেন। ৩০১
তিনি দুই হাতের তালু মাটিতে কাঁধ বরাবর রাখতেন ৩০২ এবং কখনও কখনও দুই কান বরাবর রাখতেন। ৩০৩
তিনি নিজের কান ও কপাল মাটিতে মযবুত করে রাখতেন। তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছিলেন, তুমি যখন সাজদাহ করবে, মযবুত ভাবে তা করবে। ৩০৪
অন্য এক রেওয়ায়াতে এসেছে, যখন তুমি সাজদাহ করবে, তখন কপাল ও হাত মযবুত ভাবে রাখবে এবং প্রত্যেক অঙ্গ যেন তার নিজ স্থানে প্রশান্তির সাথে বহাল হয়। ৩০৫
তিনি আরো বলেছেন, সেই ব্যক্তির নামায হয় না, যার নাক ও কপাল মাটি স্পর্শ করে না। ৩০৬.
তিনি দুই হাঁটু ও দুই পায়ের আঙ্গুল সুপ্রতিষ্ঠিত রেখে সাজদাহ করতেন। ৩০৭
পায়ের আঙ্গুলের মাথা কেবলামুখী করে রাখতেন, ৩০৮
পায়ের দুই গোঁড়ালি মিলিয়ে রাখতেন। ৩০৯
এবং দুই পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন ৩১০
এবং অনুরূপ করার জন্য আদেশ করেছেন। ৩১১
রসূলুল্লাহ (সঃ) সাত অঙ্গে সাজদাহ করতেন। অঙ্গগুলো হচ্ছে, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু, দুই পায়ের পাতা, কপাল ও নাক।
তিনি সাজদায় শেষের দু'টি অঙ্গকে (অর্থাৎ কপাল ও নাক) এক অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরেক বর্ণনায় এসেছে, আমাকে সাত হাড়ে সাজদাহ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে দুই হাত। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙ্গুল। এই কথা বলে তিনি কপাল ও নাকের প্রতি ইঙ্গিত দেন। আর আমি যেন কাপড় ও চুল এলোমেলো হয়ে গেলে তা ঠিক না করি। রুকু ও সাজদায় এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে। ৩১২.
তিনি বলেছেন, বান্দাহর সাজদার সময় তার সাতটি অঙ্গ এক সাথে সাজদাহ করে। সেই অঙ্গগুলো হচ্ছে, কপাল, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু ও দুই পা। ৩১৩
এক ব্যক্তি নিজ চুল খোঁপার মত বেঁধে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পিছে নামায পড়েন। তিনি তাঁকে লক্ষ্য করে বলেন, 'তার উদাহরণ হল দুই হাত বাঁধা নামাযীর মত। ৩১৪
তিনি আরো বলেন, 'বাঁধা চুল শয়তানের আসন। ৩১৫.
তিনি দুই হাত মাটিতে লম্বা করে বিছিয়ে দিতেন না। ৩১৬
বরং তা যমীন থেকে উপরে এবং পেটের দুই পাশ থেকে দূরে রাখতেন এমন কি পেছন থেকে তাঁর বগলের নীচের শুভ্রতা দৃষ্টিগোচর হত। ৩১৭
কোন ছোট ভেড়া-বকরীর বাচ্চা তাঁর হাতের নীচ দিয়ে যেতে চাইলে যেতে পারত। ৩১৮
এক সাহাবী একটু বাড়িয়ে বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) যখন সাজদায় যান, তখন তাঁর দুই হাত পেটের দুই পাশ থেকে এতটুকু দূরত্বে থাকে যে, আমরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারি। ৩১৯
তিনি এরূপ করার আদেশ দিয়ে বলেছেন, তুমি যখন সাজদাহ করবে, তখন তোমার দুই হাতের তালু মাটিতে রাখবে এবং দুই কনুই উপরে রাখবে। ৩২০
তিনি আরো বলেছেন, তোমরা সাজদায় সোজা থাক এবং কুকুরের মত দুই হাত সামনের দিকে বিছিয়ে দিও না। ৩২১
তিনি অন্য এক হাদীসে বলেছেন, তোমরা কুকুরের মত দুই হাত বিছিয়ে দিও না। ৩২২
তিনি আরও বলেছেন, তোমরা হিংস্র প্রাণীর মত হাত বিছিয়ে দিও না, দুই হাতের তালুর উপর ভর রাখ এবং দুই বাহুকে আলাদা রাখ। এই ভাবে করলে তোমার সকল অঙ্গ সাজদাহ করবে। ৩২৩
টিকাঃ
২৯৬. ইবনু খোযায়মাহ, দার কুতনী। হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী একে সমর্থন করেছেন। এ হাদীসের বিরোধী হাদীস সহীহ নয়। ইমাম মালেক, আহমদ ও আওযাঈর মতও এটাই。
২৯৭. আবু দাউদ, সোগরা ওয়া কোবরা-নাসাঈ, সনদ সহীহ。
২৯৮. ইবনু খোযায়মাহ, আহমদ, আস-সেরাজ। হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
২৯৯. আবু দাউদ। হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
৩০০. বায়হাকী-সনদ সহীহ, ইবনু আবী শায়বা ১/৮২/২, আস-সেরাজ。
৩০১. ইবনু খোযায়মাহ, বায়হাকী। হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
৩০২. ৩০৩. আবু দাউদ। তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন。
৩০৪. আবু দাউদ, নাসাঈ-সনদ সহীহ。
৩০৫. ইবনু খোযায়মাহ-সনদ সহীহ。
৩০৬. দারু কুতনী, তাবারানী, আখবারে ইসপাহান-আবু নাঈম。
৩০৭. বায়হাকী সনদ সহীহ。
৩০৮. বোখারী, আবু দাউদ。
৩০৯. তাহাবী, ইবনু খোযায়মাহ。
৩১০. বায়হাকী-সনদ সহীহ।।
৩১১. তিরমিযী, হাকেম。
৩১২. বোখারী, মুসলিম。
৩১৩. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা, ইবনু হিব্বান。
৩১৪. হাদীসটির অর্থ হল, চুল খোলা থাকলে সাজদার সময় তা মাটিতে পড়ত এবং নামাযীকে এর সওয়াব দেয়া হত। কিন্তু চুল বাঁধা থাকার অর্থ হল, চুলের সাজদাহ না করা। একে দুই হাত বাঁধা নামাযীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেননা, হাত বাঁধা থাকলে সাজদার সময় হাত মাটিতে পড়ে না। আমার মতে এই হুকুম পুরুষের জন্য, মেয়েদের জন্য নয়। শাওকানী ইবনু আরাবী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন。
৩১৫. আবু দাউদ। তিরমিযী এটিকে উত্তম হাদীস এবং ইবনু খোযায়মাহ ও ইবনু হিব্বان একে সহীহ হাদীস বলেছেন。
৩১৬. বোখারী, আবু দাউদ。
৩১৭. বোখারী, মুসলিম。
৩১৮. মুসলিম, আবু আওয়ানা, ইবনু হিব্বান。
৩১৯. আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ-সনদ ভাল。
৩২০. মুসলিম, আবু আওয়ানা。
৩২১ বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমদ。
৩২২ আহমদ। তিরমিযী এটিকে সহীহ বলেছেন。
৩২৩. ইবনু খোযায়মাহ। আলমোখতারাহ আল-মাকদেসী, হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。