📄 রুকু দীর্ঘায়িত করা
রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকু, রুকু থেকে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে সাজদাহ এবং দুই সাজদার মাঝখানে প্রায় সমপরিমাণ সময় ব্যয় করতেন। ২৭২
টিকাঃ
২৭২. বোখারী, মুসলিম。
📄 রুকুতে কোরআন পড়া নিষেধ
রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকু' ও সাজদায় কোরআন পড়তে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমাকে রুকু ও সাজদায় কোরআন পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। তোমরা রুকুতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ কর এবং সাজদায় বেশী বেশী করে দোআ কর। সাজদা দোআ' কবুলের উপযুক্ত জায়গা। ২৭৩.
টিকাঃ
২৭৩. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা। এই নিষেধাজ্ঞা ফরয ও নফল সকল নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইবনু আসাকির نفل নামাযে জায়েয বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা দুর্বল。
📄 রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং দো‘আ পড়া
রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় বলতেন:
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ -
অর্থ: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা কবুল করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।" ২৭৪
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছেন, কোন ব্যক্তির নামায সে পর্যন্ত শুদ্ধ হয় না, যে পর্যন্ত না সে তাকবীর বলে রুকু থেকে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে। ২৭৫
তারপর তিনি দাঁড়িয়ে বলতেন: رَبَّنَا (وَ) لَكَ الْحَمْدُ .
এখানে ওয়াও সহ বা তা ব্যতিত উভয় প্রকার পড়ার বর্ণনা আছে। (বোখারী, আহমদ)
অর্থঃ হে আমাদের রব! (এবং) তোমার জন্যই সকল প্রশংসা।
তিনি সকল ধরনের মুসল্লীকে অনুরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'তোমরা আমাকে যেরূপ নামায পড়তে দেখ, সেরূপ নামায পড়।' ২৭৬
তিনি আরও বলেছেন, ইমামকে অনুসরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবে, তখন তোমরা বলবে, اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ
আল্লাহ তোমাদের প্রশংসা শুনবেন। আল্লাহ তাঁর নবীর মুখে বলেছেন, যে আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শুনেন। ২৭৭
তিনি অন্য এক হাদীসে এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, যার কথা ফেরেশতার দোআর সাথে একাকার হয়ে যাবে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন। ২৭৮
তিনি রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় দু'হাত উপরে উঠাতেন। তাকবীরে তাহরীমা অধ্যায়ে তা আলোচনা করা হয়েছে।
১. তারপর তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় নীচে বর্ণিত দোআ পড়েছেন:
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ২৯
২. কোনো সময় পড়তেন:
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ২৮০
৩. কোনো সময় তিনি উপরোক্ত বাক্যগুলোর আগে اللهم শব্দ যোগ করে পড়তেন। ২৮১
এই ভাবে পড়ার জন্য তিনি আদেশ করে বলেছেন।
৪. ইমাম যখন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে, তখন তোমরা বলবে, 'আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ'। যে ব্যক্তির কথা ফেরেশতার কথার সাথে মিলে যাবে, আল্লাহ তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেবেন। ২৮২
৫. তিনি কখনও এর সাথে নিম্নোক্ত দোআ যোগ করতেন: ২৮৩ বর্ণিত।
مِلْءَ السَّمُوتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
অর্থ: আসমান ভরে, যমীন ভরে এবং তুমি আরও যা চাও তা ভরে (তোমার প্রশংসা)
৬. কিংবা তিনি যোগ করে পড়তেন: ২৮৪
مِلْءَ السَّمَوتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
৭. কখনও তিনি এই দোআটি যোগ করতেন: ২৮৫
أهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ لَأَمَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطَى لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَالْجَدِ مِنْكَ الْجَدُّ .
অর্থ: 'হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী! তুমি যাকে দাও তা রোধকারী কেউ নেই, তুমি যাকে বঞ্চিত কর তাকে কোন দানকারী নেই এবং কোন বিত্তশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির শক্তি ও সম্পদ তোমার কাছ থেকে তাকে রক্ষা করে উপকার করতে পারে না। (একমাত্র নেক আমলই তাকে রক্ষা করতে পারে।)
৮. তিনি রাতের নামাযে কখনও বলতেনঃ
لِرَبِّي الْحَمْدُ لِرَبِّي الْحَمْدُ -
অর্থ: আমার রবের সকল প্রশংসা, আমার রবের সকল প্রশংসা। তিনি এটা বারবার পুনরাবৃত্তি করতেন। ফলে তাঁর এই কেয়াম বা সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় প্রায় রুকুর সময়ের পরিমাণ হয়ে যেত। আর রুকুর সময়ের পরিমাণ ছিল প্রথম রাকআতের কেয়াম সমান, যে রাকআতে তিনি সূরা বাকারা পড়েছেন। ২৮৬.
৯. কখনও তিনি নীচের দোয়াটি যোগ করতেন:
مل السَّمَاتِ وَمِلَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ، أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ اَحَقَّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدُ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا اعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَالْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ .
অর্থ: আসমান ভরে, যমীন ভরে এবং তুমি আরও যা চাও তা ভরে তোমার প্রশংসা। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী, বান্দার প্রশংসা পাওয়ার সর্বাধিক যোগ্য সত্তা! আমরা সবাই তোমার গোলাম। তুমি যাকে দাও তা রোধকারী কেউ নেই। তুমি যাকে বঞ্চিত কর তাকে কোন দানকারী নেই। কোনবিত্তশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির সম্পদ ও শক্তি তোমার কাছ থেকে তাকে রক্ষা করে উপকার করতে পারে না। ২৮৭
১০. তিনি নিম্নের দোআ পড়েছেন:
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ (مُبَارَكًا عَلَيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى)
অর্থঃ হে আমাদের রব! তোমার জন্যই প্রশংসা, অত্যধিক পবিত্র ও মোবারক প্রশংসা, (প্রশংসাকারীর জন্যও তা মোবারক হোক, যেভাবে আমাদের রব পসন্দ করেন ও সন্তুষ্ট থাকেন)।
রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পিছনে নামায আদায়কারী এক সাহাবী রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে দাঁড়ানোর পর ঐ দোআটি পড়েন। রসূলুল্লাহ (সঃ) নামায শেষ করে জিজ্ঞেস করলেন, কে ঐ দোআটি পড়েছিল? ব্যক্তিটি বলল, আমি ইয়া রসূলাল্লাহ! রসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন, আমি ৩৩-এরও অধিক ফেরশতাকে প্রতিযোগিতা করতে দেখেছি, কে প্রথমে তা লিখবে! ২৮৮
টিকাঃ
২৭৪. বোখারী, মুসলিম。
২৭৫. আবু দাউদ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
২৭৬. বোখারী, আহমদ。
২৭৭. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা, আহমদ, আবু দাউদ。
২৭৮. বোখারী, মুসলিম। তিরমিযী একে সহীহ হাদীস বলেছেন。
২৭৯. বোখারী, মুসলিম। মোতাওয়ায়াতের রেওয়াতের দ্বারা হাত তোলার কথা
২৮০. ঐ。
২৮১. বোখারী, আহমদ। ইবনুল কাইয়েম তাঁর যাদুল মাআ'দ গ্রন্থে 'আল্লাহুম্মা' এবং 'ওয়াও' সম্বলিত বর্ণনাগুলোকে অস্বীকার করেছেন। অথচ এ সকল বর্ণনা বোখারী, মোসনাদে আহমদ এবং নাসাঈতে আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে, দারেমীতে ইবনু উমার থেকে, বায়হাকীতে আবু সাঈদ খুদরী থেকে এবং নাসাঈতে অন্য এক সূত্রে আবু মূসা আশআরী থেকে বর্ণিত আছে。
২৮২. বোখারী, মুসলিম। তিরমিযী একে সহীহ হাদীস বলেছেন。
২৮৩. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা。
২৮৪. ঐ。
২৮৫. ঐ。
২৮৬. আবু দাউদ, নাসাঈ-সনদ সহীহ。
২৮৭. মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা, আবু দাউদ。
২৮৮. মালেক, বোখারী, আবু দাউদ。
📄 রুকু থেকে ধীরস্থিরভাবে দাঁড়ানো ওয়াজিব
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, রসূলুল্লাহ (সঃ) প্রায় রুকুর সমপরিমাণ সময় রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। তাঁর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কেউ কেউ ধারণা করতেন তিনি সাজদায় যাবার কথা ভুলে গেছেন। ২৮৯
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে প্রশান্তি সহকারে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: তারপর মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়াও। অন্য এক রিওয়ায়াতে এসেছে, যখন তুমি মাথা তুলবে, তখন সোজা হয়ে দাঁড়াবে যেন হাড় তার জোড়ার সাথে ঠিকমত খাপ খায়। ২৯০
তিনি তাকে বলেন, এরূপ না করলে তোমাদের নামায পরিপূর্ণ হবে না।
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ সেই ব্যক্তির নামাযের দিকে তাকান না, যে রুকু ও সাজদায় পিঠ সোজা করে না। ২৯১
টিকাঃ
২৮৯. বোখারী, মুসলিম, আহমদ:
২৯০. বোখারী, মুসলিম, দারেমী, হাকেম, শাফেঈ, আহমদ। এই হাদীসের উদ্দেশ্য হল, প্রশান্তির সাথে দাঁড়ানো। এই হাদীস দ্বারা হেজাযের কিছু আলেম রুকু থেকে দাঁড়িয়ে বুকের উপর হাত বাঁধার বৈধতা সম্পর্কে যা বলেছেন, তা রিওয়ায়াতের অর্থের মধ্যেই নেই। বরং এজাতীয় প্রমাণ বাতিল। এই কেয়ামে বুকে হাত বাঁধা যে বেদআত তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই। এর কোন ভিত্তি থাকলে তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছত। অতীতের নেক লোকেরাও অনুরূপ করেছেন বলে কোন প্রমাণ নেই। হাদীসের কোন ইমামও এ প্রসঙ্গে অনুকূল কিছু বলেননি। শেখ তুয়াইজেরী ইমাম আহমদের বরাত দিয়ে বলেছেন, কেউ ইচ্ছা করলে হাত ছেড়ে দিতে পারে কিংবা বাঁধতে পারে। তিনি এটাকে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাদীস বলেননি。
২৯১. আহমদ, আল কবীর-তাবারানী। সনদ সহীহ。