📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 ৪. মাগরিবের নামায

📄 ৪. মাগরিবের নামায


রসূলুল্লাহ (সঃ) মাগরিবের নামাযে ছোট সূরা (কেসারে মোফাস্সাল) পড়তেন। লোকেরা তাঁর সাথে নামায পড়ে ঘরে গিয়ে ধনুকে তীরের স্থান নির্ধারণ করতে পারত। ১৮৪
অর্থাৎ অন্ধকার নেমে আসার আগেই নামায শেষ হয়ে যেত।
তিনি সফরে দ্বিতীয় রাকআতে সূরা তীন পড়েছেন।
তিনি কখনও লম্বা এবং কখনও মাঝারি সূরা পড়তেন। তাই তিনি কোনো সময় সূরা মোহাম্মদ (সূরা নং ৪৭, আয়াত সংখ্যা ৩৮) পড়েছেন। ১৮৫
কখনও তিনি সূরা তুর পড়েছেন। ১৮৬
কখনও আবার সূরা আল মোরসালাত (সূরা নং ৭৭, আয়াত সংখ্যা ৫০) পড়েছেন। এটা তাঁর জীবনের সর্বশেষ মাগরিব পড়ার ঘটনা। ১৮৭
কখনও তিনি মাগরিবের দুই রাকআতে বড়ো দুই সূরার ১৮৮ মধ্যে অপেক্ষাকৃত বড়ো সূরা আল-আরাফ (সূরা নং ৭, আয়াত সংখ্যা ২০৬) পড়েছেন। ১৮৯
কখনও তিনি দুই রাকআতে সূরা আনফাল পড়েছেন। (সূরা নং ৮, আয়াত সংখ্যা ৭৫) ১৯০
রসূলুল্লাহ (সঃ) মাগরিবের ফরয নামাযের পর সুন্নতে সূরা কাফেরূন এবং সূরা ইখলাস পড়েছেন। ১৯১

টিকাঃ
১৮৪. আহমদ, তায়ালিসী-সনদ সহীহ。
১৮৫. ইবনু খোযায়মাহ, তাবারানী, আল-মাকদেসী-সনদ সহীহ。
১৮৬. বোখারী, মুসলিম。
১৮৭. ঐ。
১৮৮. সূরা আরাফ অপেক্ষাকৃত বড়ো এবং সূরা আনআম অপেক্ষাকৃত ছোট。
১৮৯. বোখারী, আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ, আহমদ, আস-সেরাজ, আল-মোখলেস。
১৯০. তাবারানী- সনদ সহীহ。
১৯১. আহমদ, আল-মাকদেসী, নাসাঈ, ইবনু নসর এবং তাবারানী。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 ৫. এশার নামায

📄 ৫. এশার নামায


রসূলুল্লাহ (সঃ) এশার ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকআতে মাঝারি ধরনের (ওয়াসাত মোফাস্সাল) সূরা পড়তেন। ১৯২
তিনি কখনও সূরা আশ-শামস (সূরা নং ৯১, আয়াত সংখ্যা ১৫) কিংবা এই জাতীয় অন্য সূরা পড়েছেন। ১৯৩
তিনি কখনো সূরা ইনশিক্বাক পড়েছেন এবং ঐ সূরায় যে সাজদা আছে, তা আদায় করেছেন। ১৯৪
একবার তিনি সফরে প্রথম রাকআতে সূরা তীন পড়েছেন। (সূরা নং-৯৫, আয়াত সংখ্যা ৮) ১৯৬
তিনি এশার ফরয নামাযে লম্বা কেরআত পড়তে নিষেধ করেছেন। কেননা, একবার সাহাবী মোআয বিন জাবাল নিজ লোকদেরকে নিয়ে এশার নামায পড়েন এবং তাতে লম্বা কেরাআত পড়েন। সেই জামাতে শরীক একজন আনসার সাহাবী নামায শেষে পুনরায় এশার ফরয নামায আদায় করেন। মোআয (রাঃ)-কে বিষয়টি জানানোর পর তিনি মন্তব্য করেন যে, ঐ আনসার সাহাবী মুনাফিক। আনসার সাহাবী ঐ মন্তব্য শুনার পর রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে যান এবং মোআযের মন্তব্য সম্পর্কে তাঁকে জানান। তখন রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, হে মোআয! তুমি কি ফেতনা ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হতে চাও? হে মোআয! তুমি লোকদেরকে নিয়ে নামাযের ইমামতি করলে সূরা আশ-শামস, (নং ৯১, আয়াত ১৫) সূরা আ'লা (নং ৭৭ আয়াত ১৯) সূরা আলাক (নং ৯৬, আয়াত ১৯) এবং সূরা আল-লাইল (নং ৯২, আয়াত ২১) পড়তে পার। কেননা, তোমার পেছনে বুড়ো, দুর্বল ও এমন লোক আছে, যাদের দ্রুত যাওয়া দরকার। ১৯৭

টিকাঃ
১৯২. নাসাঈ, আহমদ-সনদ সহীহ。
১৯৩. আহমদ, তিরমিযী একে উত্তম হাদীস বলেছেন。
১৯৪. বোখারী, মুসলিম, নাসাঈ。
১৯৫. ঐ
১৯৬. বোখারী, মুসলিম, নাসাঈ。
১৯৭. বোখারী, মুসলিম。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 ৬. রাতের নামায

📄 ৬. রাতের নামায


রসূলুল্লাহ (সঃ) রাতের নামাযে কেরাআত লম্বা এবং ছোট করতেন। কখনও তিনি অনেক লম্বা কেরাআত পড়তেন। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) বলেন, 'আমি এক রাতে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে নামায পড়েছি। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় আমি একটা খারাপ ইচ্ছা পোষণ করি। খারাপ ইচ্ছাটি কি ছিল-এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি বসে পড়া এবং রসূলুল্লাহর সাথে নামায ত্যাগ করার ইচ্ছা করি। ১৯৭
হোযাইফা বিন ইয়ামান বলেন, আমি এক রাত্রে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে নামায পড়ি। তিনি সূরা বাকারা দিয়ে নামায শুরু করেন। আমি ধারণা করি যে, হয়তো একশত আয়াতের মাথায় তিনি রুকুতে যাবেন। কিন্তু না, তিনি কেরাআত অব্যাহত রাখেন। আমি ধারণা করি, হয়তো সূরাটি তিনি দুই রাকআতে পড়বেন। কিন্তু না, তিনি কেরাআত পড়া অব্যাহত রাখেন। তখন আমার ধারণা হয় যে, হয়তো সূরাটি শেষ করে রুকুতে যাবেন। কিন্তু না, তিনি সূরা নিসা শুরু করে তা শেষ করলেন। তারপর সূরা আলে-ইমরান শুরু করে তাও শেষ করেন। ১৯৮
তিনি আস্তে আস্তে এবং সাধারণভাবে কেরাআত পড়েন। যখন তাসবীহ পাঠের আয়াত আসে, তখন তাসবীহ পড়েন, চাওয়ার আয়াত আসলে প্রার্থনা করেন এবং আশ্রয়ের আয়াত আসলে আশ্রয় চান। তারপর তিনি রুকু করেন। ১৯৯
তিনি একরাতে ৭টি লম্বা সূরা পাঠ করেন, অথচ তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। ২০০
তিনি কখনও প্রত্যেক রাকআতে একটি করে উপরোল্লিখিত সূরা পড়তেন। ২০১
তিনি এক রাতে কখনও পুরো কোরআন পড়েছেন বলে জানা যায় না। ২০২
বরং তিনি আবদুল্লাহ বিন আমরের জন্য তাতে সম্মতি দেননি। আবদুল্লাহ বিন আমর বলেছেন, আমি প্রত্যেক মাসে কোরআন খতম করি। আমি বলি যে, আমার আরও শক্তি আছে। (অর্থাৎ আমি আরও বেশী পড়তে পারি।) রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, তাহলে ২০ রাতে এক খতম কর। আবদুল্লাহ বলেন, আমি আরও বেশী পড়ার শক্তি রাখি। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, তাহলে ৭ রাতে এক খতম কর, এর বেশী নয়। ২০৩
(অর্থাৎ ৭ দিনের কম সময়ে কোরআন খতম কর না)
তারপর তিনি তাকে ৫ দিনের মধ্যে কোরআন খতমের অনুমতি দিয়েছেন। ২০৪
এরপর তাকে তিন দিনের মধ্যে কোরআন খতমের অনুমতি দিয়েছেন। ২০৫
তিনদিনের কম সময়ে কোরআন খতম করতে তিনি তাকে নিষেধ করেছেন। ২০৬
তিনি এর কারণ বর্ণনা করে বলেন: যে ব্যক্তি তিন দিনের কমে কোরআন খতম করে, সে কোরআন বুঝতে পারে না। ২০৭
অন্য আরেক বর্ণনায় এসেছে, তিনি তাকে বলেছেন, সে ব্যক্তি কোরআন বুঝতে পারে না, যে তিন দিনের কম সময়ে কোরআন খতম করে। ২০৮
রসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে আরো বলেন, সকল ইবাদতকারীর রয়েছে হিম্মত ও তৎপরতা ২০৯ এবং প্রত্যেক হিম্মত ও তৎপরতার জন্য রয়েছে সময় বা যুগ সন্ধিক্ষণ। হয় তিনি সুন্নতে, না হয় বেদআতের দিকে মোড় নেবেন। যার কাল-সন্ধিক্ষণ সুন্নতের বিপরীত জিনিসের প্রতি মোড় নেয়, সে ধ্বংস হবে। ২১০
সে কারণে রসূলুল্লাহ (সঃ) তিন দিনের কম সময়ে কোরআন শরীফ খতম করতেন না। ২১১
তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি রাতে দুইশত আয়াত পড়ে, তাকে একনিষ্ঠ মোখলেস আনুগত্যকারীদের মধ্যে পরিগণিত করা হয়। ২১২
রসূলুল্লাহ (সঃ) প্রত্যেক রাতের নামাযে সূরা বনী ইসরাঈল এবং সূরা যুমার পাঠ করতেন। ২১৩
তিনি আরও বলতেন, যে ব্যক্তি রাতে একশত আয়াত পড়বে, তাকে গাফেলদের মধ্যে লেখা হবে না। ২১৪
তিনি কখনও প্রত্যেক রাকআতে ৫০ আয়াত কিংবা আরও বেশী পড়তেন। ২১৫
আবার কখনও সূরা মোয্যাম্মেল (নং ৭৩, আয়াত সংখ্যা ২০) পরিমাণ কেরাআতে পড়তেন। ২১৬
তিনি কখনও পুরো রাত জেগে নামায পড়তেন না। ২১৭
তবে কদাচিত পুরো রাত পড়েছেন।
বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ বিন খাব্বাব আল-আরত বদরের যুদ্ধে রসূলুল্লাহর সাথে অংশগ্রহণ করেন এবং রসূলুল্লাহকে সারা রাতভর নামায পড়তেন দেখেন। সোবহে সাদেক পর্যন্ত তিনি নামায পড়েছেন। তিনি নামায থেকে সালাম ফিরালেন। খাব্বাব জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রসূল, আমার মা-বাপ আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনি এই রাতে এমন নামায পড়লেন যা ইতিপূর্বে আর কখনও দেখিনি। তিনি উত্তরে বলেন, হাঁ, এটা ছিল আশা ও ভয়ের নামায, আমি আমার রবের কাছে তিনটি জিনিস চেয়েছি। তিনি দু'টো দিয়েছেন এবং একটি নিষেধ করেছেন। আমি চেয়েছি যে, আমার উম্মাতকে যেন অন্যান্য জাতির মত ধ্বংস করা না হয়। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যেন দুর্ভিক্ষ দিয়ে ধ্বংস করা না হয়। এই দোআ আল্লাহ মনযুর করেছেন। আমি আমার রবের কাছে আমাদের উপর নিজেরা ছাড়া অন্য জাতিকে বিজয়ী না করার প্রার্থনা জানিয়েছি। তিনি ঐ দোআও মনযুর করেছেন। আমি আরও দোআ করেছি, আমাদের মধ্যে যেন বিভক্তি না হয়। তিনি তা কবুল করেননি। ২১৮.
এক রাতে তিনি বারবার ভোর পর্যন্ত শুধু নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়ে রুকু, সাজদাহ ও দোআ করতে থাকেন। আয়াতটি হল:
إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرُ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ .
অর্থ: 'তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও, তবে তারা তো তোমারই বান্দাহ, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর, নিঃসন্দেহে তুমি শক্তিশালী ও বিজ্ঞ।' (সূরা মায়েদাহ-১১৮)
ভোর হলে আবু যার (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! সারা রাত ভোর না হওয়া পর্যন্ত আপনি শুধু এই একটি মাত্র আয়াত পড়ে রুকু, সাজদাহ এবং দোআ করলেন, অথচ আল্লাহ আপনাকে পুরো কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে কেউ এরকম করলে আমরা তাকে পাকড়াও করতাম। রসূলুল্লাহ (সঃ) জওয়াবে বললেন, আমি আল্লাহর কাছে আমার উম্মতের সুপারিশ প্রার্থনা করেছি, তিনি তা মনযুর করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করে না, সে ইন্‌শাআল্লাহ আমার সুপারিশ লাভ করবে। ২১৯.
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার এক প্রতিবেশী রাতে নামায পড়েন। তবে তিনি তাতে সূরা ইখলাস ছাড়া আর কোন সূরা পড়েন না। তিনি বারবার কেবলমাত্র ঐ সূরাটিই পড়েন এবং আর কোন সূরা পড়েন না। প্রশ্নকর্তা সূরা ইখলাসকে যেন অপর্যাপ্ত বিবেচনা করে ঐ প্রশ্ন করেন। নবী (সঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, এটা কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ। ২২০

টিকাঃ
১৯৮. তিনি সূরা আলে-ইমরানের আগে সূরা নিসা পড়েছেন। এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, কোরআনের সূরার ক্রমিক ধারা লংঘন করা জায়েয。
১৯৯. মুসলিম, নাসাঈ。
২০০. আবু ইয়া'লী। হাকেম ও আল্লামা যাহাবী একে সহীহ হাদীস বলেছেন। ৭টি লম্বা, সূরা হচ্ছে-বাকারা, আলে-ইমরান, নিসা, মায়েদাহ, আনআ'ম, আ'রাফ এবং তাওবাহ。
২০১. আবু দাউদ, নাসাঈ-সনদ বিশুদ্ধ。
২০২. মুসলিম, আবু দাউদ。
২০৩. বোখারী, মুসলিম。
২০۴. নাসাঈ, তিরমিযী。
২০৫. রোখারী, আহমদ。
২০৬. সুনানে দারেমী, সুনান সাঈদ বিন মানসুর-সনদ বিশুদ্ধ。
২০৭. আহমদ-সনদ সহীহ。
২০৮. দারেমী। তিরমিযী এটিকে সহীহ বলেছেন。
২০৯. হিম্মত ও তৎপরতা বলতে বুঝায় সেই তেজীভাব, যা মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার জন্য প্রদর্শন করে। এই তেজীভাবের অপর অর্থ হল, নেক আমল করা এবং স্থায়ীভাবে তা করতে থাকা যে পর্যন্ত না আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হয়। তাই রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহর কাছে প্রিয়তম আমল হচ্ছে স্থায়ী আমল-যদিও সেটা কম হোক না কেন。
২১০. আহমদ, ইবনু হিব্বান。
২১১. ইবনু, সা'দ, ১ম খন্ড ৩৭৬ পৃঃ, আখলাকুন্নবী-আবুশ্ শেখ ২৮১ পৃঃ。
২১২. দারেমী, হাকেম। আল্লামা যাহাবী হাদীসটিকে ঠিক বলেছেন。
২১৩. আহমদ, ইবনে নসর-সনদ সহীহ。
২১৪. দারেমী, হাকেম এবং আল্লামা যাহাবী একে সহীহ বলেছেন。
২১৫. বোখারী, আবু দাউদ。
২১৬. আহমদ, আবু দাউদ, সনদ সহীহ。
২১৭. মুসলিম, আবু দাউদ। এই হাদীস সহ অন্যান্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সর্বদা বা অধিকাংশ সময় পুরো রাত জাগা মাকরূহ। কেননা, তা উত্তম হলে রসূলুল্লাহ (সঃ) ছাড়তেন না। তিনি হচ্ছেন উত্তম আদর্শ ও চরিত্র। ইমাম আবু হানীফা (রঃ) ৪০ বছর ব্যাপী ইশার উযু দিয়ে ফজর পড়েছেন বলে যে মিথ্যা ঘটনা বর্ণিত আছে, তা বিশ্বাস করা ঠিক নয়। আল্লামা ফিরোযাবাদী 'আর রাদ্দ আ'লাল মো'তারেদ' গ্রন্থের ১ম খন্ডের ৪৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, এটা ইমাম আবু হানীফার সম্মানের প্রতি ক্ষতিকর প্রকাশ্য মিথ্যা। ইমাম আবু হানীফা (রঃ) প্রতি নামাযের জন্য নতুন উযু করা উত্তম তাই সেটা অবশ্যই করে থাকবেন。
২১৮. নাসাঈ, আহমদ, তাবারানী। তিরমিযী এটিকে সহীহ হাদীস বলেছেন。
২১৯. নাসাঈ, ইবনু খোযায়মাহ, আহমদ, ইবনু নসর। হাকেম ও আল্লামা যাহাবী একে সহীহ বলেছেন。
২২০. বোখারী, আহমদ。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 ৭. বিতরের নামায

📄 ৭. বিতরের নামায


রসূলুল্লাহ (সঃ) বিতরের নামাযে প্রথম রাকআতে সূরা আল-আ'লা (নং ৮৭, আয়াত ১৯), দ্বিতীয় রাকআতে সূরা কাফেরূন এবং তৃতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস পড়তেন। ২২১
তিনি কখনও তৃতীয় রাকআতে সূরা ফালাক ও সূরা নাসসহ যোগ করে পড়তেন। ২২২
একবার তিনি তৃতীয় রাকআতে সূরা নিসার একশত আয়াত পড়েছেন। ২২৩
তিনি বিতরের পরের দুই রাকআত নামাযে সূরা যিলযাল এবং সূরা কাফেরূন পড়েছেন। ২২৪

টিকাঃ
২২১. নাসাঈ। হাকেম এটাকে সহীহ বলেছেন。
২২২. তিরমিযী। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী এর সাথে একমত হয়েছেন。
২২৩. নাসাঈ, আহমদ-সনদ সহীহ。
২২৪. আহমদ, ইবনু নসর-সনদ সহীহ। বিতরের পরে দুই রাকআত নামাযের কথা মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে, যা বোখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত অপর একটি হাদীসের বিপরীত। তাতে রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, إِجْعَلُوا أَخِرَ صَلَاتِكُمُ بِاللَّيْلِ وَتْرا অর্থ: তোমরা রাত্রে বিতরকে সর্বশেষ নামায বানাও।' ওলামায়ে কেরাম হাদীস দু'টির বৈপরীত্য দূর করার উদ্দেশ্যে কিছু জওয়াব দিয়েছেন। কিন্তু কোনটাই প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য নয়। তাই আমার মতে, বিতরকে সর্বশেষ নামায বানানোর আদেশের প্রেক্ষিতে উক্ত দুই রাকআত নামায ত্যাগ করা উত্তম। বিতরের পর দুই রাকআত নামায পড়ার বিষয়েও আরেকটি আদেশসূচক হাদীস আছে। তাই প্রথম হাদীসের উপর আমল করা মোস্তাহাব হলে দ্বিতীয় হাদীসের সাথে কোন বিরোধ থাকে না。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00