📄 ২. যোহরের নামায
রসূলুল্লাহ (সঃ) যোহরের ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতেহা এবং একটা করে অন্য সূরা পড়তেন। তিনি প্রথম রাকআতে দ্বিতীয় রাকআত অপেক্ষা লম্বা সূরা পড়তেন। ১৬৬
তিনি কখনও যোহরের প্রথম রাকআতে কেরাআত এতো লম্ব করতেন যে, নামায শুরু হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি 'বাকী' নামক স্থানে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে সেখান থেকে ঘরে ফিরে উযু করে পরে মসজিদে এসে রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে প্রথম রাকআতে পেতেন। ১৬৭
লোকদের ধারণা, রসূলুল্লাহ (সঃ)-এমনটি করতেন এজন্যে যেনো লোকেরা প্রথম রাকআত পায়। ১৬৮
তিনি কখনও দুই রাকআতে ত্রিশ আয়াত পরিমাণ পড়তেন। যেমন সূরা সাজদাহ। আয়াত সংখ্যা ৩০। সাথে তো সূরা ফাতেহা থাকতোই। ১৬৯
তিনি কখনও সূরা আত্-তারেক, সূরা আল-বুরূজ এবং সূরা আল-লাইল জাতীয় সূরা পড়তেন। ১৭০
তিনি কখনও সূরা ইনশিক্বাক বা এ জাতীয় অন্য সূরা পড়েছেন। ১৭১
যোহর ও আসরের নামাযে লোকেরা রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দাড়ির নড়াচড়া দেখে তাঁর কেরআত পড়া উপলব্ধি করতেন। ১৭২
যোহরের শেষ দু' রাকআতে তিনি প্রথম দু' রাকআতের চাইতে সংক্ষিপ্ত কেরআত পড়তেন। অর্থাৎ প্রথম দুই রাকআতের অর্ধেক-পনের আয়াত পরিমাণ পড়তেন। ১৭৩
আবার কোন সময় শেষ দু' রাকআতে শুধু সূরা ফাতেহা পড়তেন। ১৭৪
কখনও তিনি তাদেরকে শেষ দু' রাকআতে আয়াত শুনাতেন। ১৭৫
সাহাবায়ে কেরাম রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কণ্ঠে এ দু রাকআতে সূরা আল-আলা এবং সূরা আল গাশিয়া পড়ার গুনগুন আওয়াজ শুনতেন। ১৭৬
কখনও সূরা বুরূজ, সূরা তারেক এবং এ জাতীয় অন্য সূরা পড়তেন। ১৭৭
কখনও তিনি সূরা আল-লাইল কিংবা অনুরূপ সূরা পড়েছেন। ১৭৮
টিকাঃ
১৬৬. বোখারী, মুসলিম。
১৬৭. মুসলিম, বোখারী কেরাআত অধ্যায়。
১৬৮. আবু দাউদ-বিশুদ্ধ সনদ, ইবনু খোযায়মাহ。
১৬৯. আহমদ, মুসলিম。
১৭০. আবু দাউদ, তিরমিযী এটাকে সহীহ বলেছেন। ইবনু খোযায়মাও একে সহীহ বলেছেন。
১৭১. ইবনু খোযায়মা-১/৬৭ পৃঃ。
১৭২. বোখারী, আবু দাউদ。
১৭৩. আহমদ, মুসলিম। এই হাদীস যোহরের শেষ দুই রাকআতে সূরা ফাতেহার-সাথে কেরাআত পড়া সুন্নত বলে প্রমাণ করে। সাহাবায়ে কেরাম এরূপই করতেন। আবু বকর (রাঃ)-ও এরূপ করেছেন। যোহর সহ অন্যান্য নামাযে ইমাম শাফেঈও এরূপ করেছেন। পরবর্তী আলেমদের মধ্যে আবুল হাসানাত (লক্ষ্মৌ) 'আত্মালীক আল-মোমাজ্জাদ আলা মোআত্তা মোহাম্মদ কিতাবের ১০২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, কি আশ্চর্যের বিষয় যে, আমাদের আলেমরা শেষ দুই রাকআতে সূরা পড়লে ভুলের সাজদাকে বাধ্যতামূলক করেন। ইবরাহীম হালাবী এবং ইবনু আসীর এর যথার্থ উত্তর দিয়েছেন। কোন সন্দেহ নেই, যারা এরকম বলেন, তাদের কাছে হয় হাদীস পৌঁছেনি, অথবা তারা হাদীসের প্রতি গুরুত্ব দেননি。
১৭৪. বোখারী, মুসলিম。
১৭৫. ইবনু খোযায়মাহ, যিয়া আল-মাকদেসীর মোখতারা গ্রন্থে সহীহ সনদ সহকারে বর্ণিত。
১৭৬. বোখারী কেরাআত অধ্যায়, তিরমিযী。
১৭৭. মুসলিম。
📄 ৩. আসরের নামায
রসূলুল্লাহ (সঃ) প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতেহার পর একটি করে অন্য সূরা পড়তেন। দ্বিতীয় রাকআতের তুলনায় প্রথম রাকআতে দীর্ঘ কেরাআত পড়েছেন। ১৭৯
সাহাবায়ে কেরামের ধারণা ছিল যে, তিনি লম্বা কেরাআতের মাধ্যমে চাইতেন যেন লোকেরা ঐ রাকআতটি পায়। ১৮০
তিনি প্রত্যেক রাকআতে ১৫ আয়াত করে পড়তেন, যা যোহরের নামাযের কeraআতের অর্ধেক পরিমাণ ছিল।
তিনি কখনও শেষ দুই রাকআতে প্রথম দুই রাকআতের অর্ধেক পরিমাণ কেরাআত পড়তেন। ১৮১
তিনি শেষ দুই রাকআতে কখনো শুধু সূরা ফাতেহা পড়েছেন। ১৮২
তিনি কখনও আসরের নামাযে এমনভাবে কেরাআত পড়তেন যে, সাহাবায়ে কেরাম তা শুনতে পেতেন। ১৮৩
যোহরের নামাযে আমরা যেসব সূরার কথা উল্লেখ করেছি আসরের নামাযে তিনি সেসব সূরা পড়তেন।
টিকাঃ
১৭৮. বোখারী, মুসলিম。
১৭৯. আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ。
১৮০. আহমদ, মুসলিম。
১৮১. বোখারী ও মুসলিম。
১৮২. ঐ。
১৮৩. ঐ。
📄 ৪. মাগরিবের নামায
রসূলুল্লাহ (সঃ) মাগরিবের নামাযে ছোট সূরা (কেসারে মোফাস্সাল) পড়তেন। লোকেরা তাঁর সাথে নামায পড়ে ঘরে গিয়ে ধনুকে তীরের স্থান নির্ধারণ করতে পারত। ১৮৪
অর্থাৎ অন্ধকার নেমে আসার আগেই নামায শেষ হয়ে যেত।
তিনি সফরে দ্বিতীয় রাকআতে সূরা তীন পড়েছেন।
তিনি কখনও লম্বা এবং কখনও মাঝারি সূরা পড়তেন। তাই তিনি কোনো সময় সূরা মোহাম্মদ (সূরা নং ৪৭, আয়াত সংখ্যা ৩৮) পড়েছেন। ১৮৫
কখনও তিনি সূরা তুর পড়েছেন। ১৮৬
কখনও আবার সূরা আল মোরসালাত (সূরা নং ৭৭, আয়াত সংখ্যা ৫০) পড়েছেন। এটা তাঁর জীবনের সর্বশেষ মাগরিব পড়ার ঘটনা। ১৮৭
কখনও তিনি মাগরিবের দুই রাকআতে বড়ো দুই সূরার ১৮৮ মধ্যে অপেক্ষাকৃত বড়ো সূরা আল-আরাফ (সূরা নং ৭, আয়াত সংখ্যা ২০৬) পড়েছেন। ১৮৯
কখনও তিনি দুই রাকআতে সূরা আনফাল পড়েছেন। (সূরা নং ৮, আয়াত সংখ্যা ৭৫) ১৯০
রসূলুল্লাহ (সঃ) মাগরিবের ফরয নামাযের পর সুন্নতে সূরা কাফেরূন এবং সূরা ইখলাস পড়েছেন। ১৯১
টিকাঃ
১৮৪. আহমদ, তায়ালিসী-সনদ সহীহ。
১৮৫. ইবনু খোযায়মাহ, তাবারানী, আল-মাকদেসী-সনদ সহীহ。
১৮৬. বোখারী, মুসলিম。
১৮৭. ঐ。
১৮৮. সূরা আরাফ অপেক্ষাকৃত বড়ো এবং সূরা আনআম অপেক্ষাকৃত ছোট。
১৮৯. বোখারী, আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ, আহমদ, আস-সেরাজ, আল-মোখলেস。
১৯০. তাবারানী- সনদ সহীহ。
১৯১. আহমদ, আল-মাকদেসী, নাসাঈ, ইবনু নসর এবং তাবারানী。
📄 ৫. এশার নামায
রসূলুল্লাহ (সঃ) এশার ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকআতে মাঝারি ধরনের (ওয়াসাত মোফাস্সাল) সূরা পড়তেন। ১৯২
তিনি কখনও সূরা আশ-শামস (সূরা নং ৯১, আয়াত সংখ্যা ১৫) কিংবা এই জাতীয় অন্য সূরা পড়েছেন। ১৯৩
তিনি কখনো সূরা ইনশিক্বাক পড়েছেন এবং ঐ সূরায় যে সাজদা আছে, তা আদায় করেছেন। ১৯৪
একবার তিনি সফরে প্রথম রাকআতে সূরা তীন পড়েছেন। (সূরা নং-৯৫, আয়াত সংখ্যা ৮) ১৯৬
তিনি এশার ফরয নামাযে লম্বা কেরআত পড়তে নিষেধ করেছেন। কেননা, একবার সাহাবী মোআয বিন জাবাল নিজ লোকদেরকে নিয়ে এশার নামায পড়েন এবং তাতে লম্বা কেরাআত পড়েন। সেই জামাতে শরীক একজন আনসার সাহাবী নামায শেষে পুনরায় এশার ফরয নামায আদায় করেন। মোআয (রাঃ)-কে বিষয়টি জানানোর পর তিনি মন্তব্য করেন যে, ঐ আনসার সাহাবী মুনাফিক। আনসার সাহাবী ঐ মন্তব্য শুনার পর রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে যান এবং মোআযের মন্তব্য সম্পর্কে তাঁকে জানান। তখন রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, হে মোআয! তুমি কি ফেতনা ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হতে চাও? হে মোআয! তুমি লোকদেরকে নিয়ে নামাযের ইমামতি করলে সূরা আশ-শামস, (নং ৯১, আয়াত ১৫) সূরা আ'লা (নং ৭৭ আয়াত ১৯) সূরা আলাক (নং ৯৬, আয়াত ১৯) এবং সূরা আল-লাইল (নং ৯২, আয়াত ২১) পড়তে পার। কেননা, তোমার পেছনে বুড়ো, দুর্বল ও এমন লোক আছে, যাদের দ্রুত যাওয়া দরকার। ১৯৭
টিকাঃ
১৯২. নাসাঈ, আহমদ-সনদ সহীহ。
১৯৩. আহমদ, তিরমিযী একে উত্তম হাদীস বলেছেন。
১৯৪. বোখারী, মুসলিম, নাসাঈ。
১৯৫. ঐ
১৯৬. বোখারী, মুসলিম, নাসাঈ。
১৯৭. বোখারী, মুসলিম。