📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 শুধু সূরা ফাতেহা পড়াও জায়েয

📄 শুধু সূরা ফাতেহা পড়াও জায়েয


মোআয (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে ইশার নামায পড়ে ঘরে ফিরে যেতেন এবং নিজ গোত্রের সাথীদের নিয়ে পুনরায় নামাযের ইমামতি করতেন।
এক রাত তিনি ফিরে যান এবং তাদের নিয়ে নামায পড়েন। তাঁর নিজ গোত্র বনী সালামার এক যুবকও তার সাথে নামায পড়েন। যুবকটির নাম সালিম। নামায দীর্ঘ হওয়ায় যুবকটি নামায ছেড়ে দেয় এবং মসজিদের এক প্রান্তে পৃথকভাবে নামায আদায় করে। তারপর নিজ উটের লাগাম ধরে বেরিয়ে যায়। মোআযের নামায শেষ হলে তাকে ঘটনাটি জানানো হয়। মোআয বলেন, তার মধ্যে মুনাফেকী আছে। আমি তার এই ঘটনার বিষয়ে রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে অবহিত করবো। যুবকটিও বলল, আমিও মোআযের বিষয়টি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সঃ)- কে অবহিত করবো। পরের দিন সকালে তারা রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে যান। মোআয যুবকটি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে খবর দেন। যুবকটি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! মোআয আপনার কাছে রাতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে। পরে ফিরে যায় এবং আমাদের নামায দীর্ঘ করে। তখন রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, হে মোআয! তুমি কি ফেতনা সৃষ্টিকারী? রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, হে ভাতিজা! তুমি যখন নামায পড়, তখন তা কিভাবে আদায় কর? যুবকটি উত্তর দিল, আমি সূরা ফাতেহা পড়ি। তারপর আমি আল্লাহর কাছে বেহেশত প্রার্থনা করি এবং দোযখ থেকে আশ্রয় চাই। কিন্তু আমি আপনার ও মোআযের ঐ সকল সুরেলা কেরআত বুঝি না। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আমি ও মোআয এই দু'টো কিংবা একটার মধ্যেই থাকি। (অর্থাৎ সূরা ফতেহার সাথে একটি সূর‍্য কিংবা শুধু সূরা ফাতেহা পড়ি) যুবকটি বলল, শীঘ্রই মোআয নিজ গোত্রে ফিরে আসার পর যখন শত্রুর আগমনের খবর পাবে, তখন বিষয়টি বুঝতে পারবে। বর্ণনাকারী বলেন, শত্রু আসার পর যুবকটি যুদ্ধে শহীদ হয়ে গেল। এরপর রসূলুল্লাহ (সঃ) মোআযকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার ও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী প্রতিপক্ষের কি খবর? মোআয বলেন, হে আল্লাহর রসূল! সে আল্লাহকে সত্য জেনেছে। আমিই বরং তাকে মিথ্যা জ্ঞান করেছি। সে শহীদ হয়ে গেছে। ১৩৭

টিকাঃ
১৩৭. ইবনু খোযায়মাহ, বায়হাকী-বিশুদ্ধ সনদ, আবু দাউদ। মুল ঘটনা বোখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, 'রসূলুল্লাহ (সঃ) দুই রাকআত নামায পড়েছেন, কিন্তু তাতে সূরা ফাতেহা ছাড়া আর কিছু পড়েননি।' আহমদ, মোসনাদে হারেস বিন উসামা। বায়হাকী দুর্বল সনদ সহকারে তা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মোআয ও ইবনু আব্বাসের হাদীস দ্বারা নামাযে শুধু সূরা ফাতেহা পড়ার যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 প্রকাশ্যে ও গোপনে কেরাআত পড়া

📄 প্রকাশ্যে ও গোপনে কেরাআত পড়া


রসূলুল্লাহ (সঃ) ফজরের ফরয নামায এবং মাগরিব ও ইশার ফরয নামাযের ১ম দুই রাকআতে প্রকাশ্যে কেরাআত পড়তেন। তিনি যোহর ও আসরের ফরয নামায, মাগরেবের ফরযের তৃতীয় রাকআত এবং ইশার ফরযের শেষ দুই রাকআতে কেরাআত অপ্রকাশ্যে পড়তেন। ১৩৮
সাহাবায়ে কেরাম তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে বুঝতে পারতেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) অপ্রকাশ্যে কেরাআত পড়ছেন। ১৩৯
কোন সময় রসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে আয়াত শুনাতেন। অর্থাৎ এতোটুকু অপ্রকাশ্য আওয়াযে পড়তেন যে, নিকটবর্তী লোকেরা তা শুনতে পেত। ১৪০

টিকাঃ
১৩৮. ইমাম নববী বলেছেন, আমাদের পূর্বসূরীরা তাদের পূর্বসূরীদের কাছ থেকে সর্বসম্মতভাবে বিশুদ্ধ হাদীসের ভিত্তিতে এরূপ করে আসছেন。
১৩৯. বোখারী, আবু দাউদ。
১৪০. বোখারী ও মুসলিম。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 রাতের নামাযে কেরাআত প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে পড়া

📄 রাতের নামাযে কেরাআত প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে পড়া


রসূলুল্লাহ (সঃ) রাতের নামাযে কখনও কেরাআত প্রকাশ্যে এবং কখনও অপ্রকাশ্যে পড়তেন। (মুসলিম, বোখারী আফআলুল ইবাদ গ্রন্থে)। তিনি যখন ঘরে কেরাআত পড়তেন, তখন হুজরায় যিনি থাকতেন তিনি তাঁর কেরাআত শুনতেন।-(আবু দাউদ, তিরমিযী-শামায়েল গ্রন্থে বিশুদ্ধ সনদ সহকারে) এ কথার অর্থ হল, তিনি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যের মাঝামাঝি আওয়াজে কেরাআত পড়তেন।
তিনি কখনও আরও একটু উঁচু আওয়াজে কেরাআত পড়তেন। হুজরার বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি তা শুনতে পেতেন। (নাসাঈ, তিরমিযী-শামায়েল গ্রন্থে এবং বায়হাকী 'আদ্‌দালায়েল' গ্রন্থে বিশুদ্ধ সনদ সহকারে তা বর্ণনা করেছেন)।
আর এ ভাবেই কেরাআত পড়ার জন্য তিনি আবু বকর এবং উমর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এক রাতে তিনি বের হন এবং আবু বকর (রাঃ)-কে ছোট আওয়াজে নামায পড়তে দেখেন। তিনি উমর (রাঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাঁকে উঁচু আওয়াজে নামায পড়তে দেখেন। তাঁরা উভয়ে যখন রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছ একত্রিত হন, তখন রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, হে আবু বকর! আমি তোমার কাছে দিয়ে যাওয়ার সময় তুমি ছোট আওয়াজে কেরাআত পড়ছিলে! আবু বকর বলেন, আমি যার কাছে দোয়া করেছি তাকে শুনিয়েছি ইয়া রসূলাল্লাহ! তিনি উমরকে বলেন, আমি তোমার কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় তুমি উঁচু আওয়াজে নামায পড়ছিলে। উমর বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন লোককে জাগাই এবং শয়তানকে দূর করি। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, হে আবু বকর! তোমার আওয়াজ কিছুটা চড়া করো এবং উমরকে বলেন, তোমার আওয়াজ কিছুটা কমাও। ১৪৩.
তিনি জুমআ, দুই ঈদ এবং ইস্তিস্কার (বৃষ্টি প্রার্থনার) নামাযে কেরআত প্রকাশ্যে পড়তেন। ১৪১
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, প্রকাশ্যে কোরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দান-সদকারীর মত এবং গোপনে কোরআন পাঠকারী গোপনে দান-সদকাকারীর মত। ১৪৪

টিকাঃ
১৪১. বোখারী, আবু দাউদ。
১৪২. আবদুল হক 'তাহাজ্জুদ' গ্রন্থে লিখেছেন: দিনে নফল ও সুন্নতে রসূলুল্লাহ (সঃ) প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে কিভাবে কেরাআত পড়তেন, তা সহীহ হাদীস দ্বারা জানা যায় না। তবে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, তিনি অপ্রকাশ্যে কেরাআত পড়েছেন। রসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন তিনি আবদুল্লাহ বিন হোযাফার পাশ দিয়ে দিনে অতিক্রম করেন। আবদুল্লাহ দিনে প্রকাশ্যে কেরাআত পড়েন। তিনি আবদুল্লাহকে বলেন, হে আবদুল্লাহ! আল্লাহকে শুনাও, আমাদেরকে নয়। হাদীসটি দুর্বল。
১৪৩. আবু দাউদ, হাকেম। আল্লামা যাহাবী এটিকে সহীহ বলেছেন。
১৪৪. ঐ

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 সুন্দর আওয়াজ ও তারতীল সহকারে কেরাত পাঠ

📄 সুন্দর আওয়াজ ও তারতীল সহকারে কেরাত পাঠ


আল্লাহ তারতীল (ধীরে ধীরে ও সুন্দর করে) সহকারে কোরআন পড়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন সেই আলোকে রসূল (সঃ) আস্তে আস্তে সুন্দর আওয়াযে কোরআন পাঠ করতেন। তিনি না খুব বেশী ধীরগতিতে পড়তেন, না দ্রুতগতিতে পড়তেন। বরং তিনি প্রতিটি অক্ষর সুস্পষ্ট করে পাঠ করতেন। তিনি এমন ভাবে তারতীল করে পাঠ করতেন তাতে যেন দীর্ঘ সূরা আরও- অধিকতর দীর্ঘ হয়ে যেত। ২৩৩
তিনি বলেন, কোরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি দুনিয়ায় যে রকম তারতীল সহকারে কোরআন পাঠ করেছ ঠিক তেমনি ভাবে কোরআন পড় এবং উপরে উঠো। তোমার পঠিত শেষ আয়াতের উপর তোমার মর্যাদা নির্ধারিত হবে। ২৩৪.
তিনি যেখানে মাদের অক্ষর আছে, সেখানে লম্বা করে টেনে পড়তেন। بِسْمِ اللَّهِ - الرَّحْمَنِ - الرَّحِيمِ জাতীয় শব্দের মাদ আদায় করে পড়তেন। তিনি মাদের হরফে মাদ আদায় করে লম্বা করে পড়তেন। ২৩৫.
তিনি প্রতিটি আয়াতের শেষে ওয়াকফ করতেন বা থামতেন। সূরা ফাতেহায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি কখনও লম্বা ও গুনগুন সুরে কোরআনের আয়াত পাঠ করতেন। এটাকে 'তারজী' বলা হয় (যেমনটি আযানে দেখা যায়।) তিনি মক্কা বিজয়ের দিন উষ্ট্রীর পিঠে নরম সুরে তারজী' সহকারে সূরা ফাতহ পড়েছিলেন। ২৩৬
আবদুল্লাহ বিন মোগাফ্ফাল রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর তারজী' নিম্নরূপ বর্ণনা করেছেন।
।।। (তিন আলিফ) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন প্রথম হামজার উপর ফাতাহ্ এরপর আলিফ সাকিন এবং তারপর অন্য আরেকটি হামজাহ। মোল্লা আলী কারীও অন্য এক সূত্র থেকে একই কথা বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন, এটা পরিষ্কার যে, এখানে ৩টা লম্বা আলিফ রয়েছে।
রসূলুল্লাহ (সঃ)- সুন্দর আওয়াজে বা সুরে কোরআন পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
زَيَّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ فَإِنَّ الصوْتِ الْحَسَنَ يَزِيدُ الْقُرْآنَ حَسَنًا .
অর্থ: 'তোমরা কোরআনকে সুললিত কণ্ঠে পড়। সুন্দর সুর কোরআনের সৌন্দর্য বাড়ায় ২৩৭
তিনি আরো বলেছেন,
إِنَّ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ صَوْتًا بِالْقُرْآنِ الَّذِي إِذَا سَمِعْتُمُوهُ يقْرَأُ حَسِبْتُمُوهُ يَخْشَى اللَّهَ -
অর্থ: সেই ব্যক্তির কোরআন পড়ার সুর সর্বোত্তম, যার কোরআন পড়া শুনলে তোমাদের ধারণা হবে যে, লোকটি আল্লাহকে ভয় করে। ২৩৮
রসূলুল্লাহ (সঃ) গুনগুন সুরে কোরআন পড়ার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'তোমরা আল্লাহর কিতাব শিখ, ভাল করে তা আঁকড়ে ধর ও অনুসরণ কর এবং ললিত-কোমল সুরে তা পড়। আল্লাহর শপথ, উটকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার চাইতেও কোরআন মনে রাখা আরও কঠিন। ২৩৯
তিনি বলেছেন - لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَّمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ “সে ব্যক্তি আমাদের নয়, যে সুন্দর সুরে কোরআন পড়ে না।" ২৪০
তিনি আরও বলেছেন, 'আল্লাহ কোন নবীর সুন্দর সুরে কিতাব পড়া অপেক্ষা অন্য কোন জিনিস বেশী শুনেন না। নবী শব্দ করে সুললিত কণ্ঠে কোরআন পড়বেন। ২৪১
রসূলুল্লাহ (সঃ) আবু মূসা আশআরীকে বলেছেন, আমি গত রাতে তোমার কেরাআত শুনেছি, তুমি যদি আমাকে দেখতে! তোমাকে দাউদ (আঃ)-এর মত সুন্দর কণ্ঠ বা সুর দেয়া হয়েছে। আবু মূসা বলেন, আমি আপনার উপস্থিতি টের পেলে আরও সুন্দর সুরে পাঠ করতাম। ২৪২

টিকাঃ
২৩৩. মুসলিম, মালেক。
২৩৪. আবু দাউদ। তিরমিযী এটিকে সহীহ বলেছেন。
২৩৫. বোখারী, 'আবু দাউদ。
২৩৬. বোখারী, মুসলিম。
২৩৭. বোখারী, আবু দাউদ, দারেমী, হাকেম, তাম্মام, আররাযী-সনদ সহীহ。
২৩৮. হাদীসটি সহীহ। ইবনু মোবারক, আয্যোহদ ১/১৬২, দারেমী, ইবনু নসর, তাবারানী, আবু নাঈম-আখবার ইসপাহান এবং আযযিয়া-আল্‌ মোখতারা গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন。
২৩৯. দারেমী, আহমদ-সনদ সহীহ。
২৪০. আবু দাউদ। হাকেম ও আল্লামা যাহাবী একে সহীহ বলেছেন。
২৪১. বোখারী, মুসলিম, তাহাবী, ইবনে মান্দাহ-আত-তাওহীদ ১/৮১ পৃঃ。
২৪২. আবদুর রায্যাক-আল-আমালী, বোখারী, মুসলিম, ইবনু নসর, হাকেম。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00