📄 নামায শুরুর দোআ
রসূলুল্লাহ (সঃ) নামাযে সূরা কিরাআত শুরুর আগে বিভিন্ন দোআ পড়তেন। ঐ সকল দোআয় তিনি মূলত আল্লাহর প্রশংসা, শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণ-গান বর্ণনা করতেন। তিনি ভুল নামায আদায়কারী একজন সাহাবীকে শোধরানোর সময় বলেছিলেন, 'কোন ব্যক্তির নামায সেই পর্যন্ত পরিপূর্ণ হয় না, যে পর্যন্তনা সে (তাকবীর) আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, (হামদ) প্রশংসা ও (সানা) গুণ-গান করে এবং পরে সাধ্য অনুযায়ী যতোটুকু সম্ভব কোরআন থেকে পাঠ করে। ৮৬
১. তিনি একেক সময় একেক দোআ পড়তেন। কোন কোন সময় নিম্নোক্ত দোআ পড়তেন :
اللَّهُمَّ بَاعِدُ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اَللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ -
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমার ও আমার গুনাহর মধ্যে সেরকম দূরত্ব সৃষ্টি করো যেমন দূরত্ব রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! আমাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেমন করে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে ধবধবে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আমাকে গুনাহ থেকে পানি, বরফ ও শীতলতা দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।" এ দোআটি পড়তেন তিনি ফরয নামাযে। ৮৭
২. তিনি ফরয, সুন্নত ও নফল নামাযে নিম্নোক্ত দোআও পড়েছেন :
وَجَّهْتُ وَجْهِي لِلَّذِي فَطَرَ السَّمُوتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ . الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ - اللَّهُمَّ انْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذَنبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّى سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلَّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ وَالْمَهْدِى مَنْ هَدَيْتَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ لَا مَنْجَا وَلَا مَلْجَأَ مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَاتُوبُ إِلَيْكَ -
অর্থঃ “আমি সঠিক সরল পথের অনুসারী মুসলিম হিসেবে আমার চেহারা সেই আল্লাহর দিকে ফিরালাম যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মোশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চিয়ই আমার নামায, সুকৃতি ও কোরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু বিশ্বজগতের রব মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরীক নেই, আমাকে একাজেরই নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমি মুসলমানদের প্রথম। হে আল্লাহ! তুমি শাহানশাহ, তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। আমি তোমার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি। তুমি আমার রব এবং আমি তোমার গোলাম। আমি আমার আত্মার উপর যুলুম করেছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। আমার সকল গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফকারী নেই। আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথ দেখাও। তুমি ছাড়া আর কেউ তা দেখাতে পারে না। আমাকে খারাপ চরিত্র থেকে দূরে রাখ। তুমি ছাড়া আর কেউ আমাকে তা থেকে দূরে রাখতে পারে না। আমি তোমার আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং তোমার দীনের সাহায্য ও অনুসরণে সদা প্রস্তুত। সকল কল্যাণ তোমার হাতে। তোমার প্রতি কোনো মন্দ কাজের সম্বোধন করা যায় না। তুমি যাকে পথ দেখিয়েছ সেই হেদায়াত প্রাপ্ত। আমি তোমার সাথে আছি ও তোমার প্রতি আশাবাদী হয়ে আছি। তুমি ছাড়া আমার মুক্তি ও আশ্রয়ের কোনো জায়গা নেই। তুমি বরকতময় ও শ্রেষ্ঠ। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তাওবাহ করছি।”
৩. কখনো তিনি উপরোল্লিখিত দোআই পড়তেন সামান্য পরিবর্তন সহকারেঃ
أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ -
বাক্যটি বাদ দিতেন এবং নিম্নের বাক্যটি অতিরিক্ত যোগ করতেন: ৮৯
اللَّهُمَّ أَنتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ -
৪. কখনো তিনি উপরোক্ত দোআটি - وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ পর্যন্ত পড়ে তারপর নিম্নের অংশটুকু যোগ করতেন:
اللهُمَّ اهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ وَأَحْسَنِ الْأَعْمَالِ لَا يَهْدِى لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَقِنِي سَيِّئَ الْأَخْلَاقِ وَالْأَعْمَالِ لَا يَقِي سَيِّئَهَا إِلَّا انت .
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমাকে উত্তম চরিত্র ও উত্তম আমলের পথ দেখাও। তুমি ছাড়া আর কেউ তা দেখাতে পারে না। আমাকে খারাপ চরিত্র ও আমল থেকে বাঁচাও, তুমি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বাঁচাতে পারে না।” ৯০
৫. তিনি কখনো কখনো এই দোআ পড়েছেন:
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ .
অর্থঃ “হে আল্লাহ! তুমি সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত ও পবিত্র। আমরা সর্বদা তোমার প্রশংসা করি। তোমার নামের বরকত অনেক বেশি এবং তোমার সম্মান ও মর্যাদা অনেক উঁচু। তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই।"৯১
রসূলুল্লাহ (সঃ) এই দোআটি সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর কাছে বান্দার সর্বাধিক প্রিয় বাক্য হলঃ ৯২
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ .
৬. রাত্রের নামাযে তিনি উপরোক্ত দোআর সাথে আরও একটু বাড়িয়ে বলতেন:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ . তিনবার اللَّهُ أَكْبَرٌ كَبِيرًا এবং তিনবার পড়তেন। ৯৩
৭. একবার এক সাহাবী এই দোআ পড়েন:
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً واصِيلًا
অর্থঃ "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান, অত্যধিক প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করি।"
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আমি এটি শুনে দারুণ আনন্দিত হয়েছি। কারণ, এই দোআর ফলে আসমানের দরযা খুলে গেছে। ৯৪
৮. একজন সাহাবী নীচের দোআটি পড়েন:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ -
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আমি ১২ জন ফেরেশতাকে এ দোআ উপরে উঠানোর ব্যাপারে প্রতিযোগতিা করতে দেখেছি। ৯৫
৯. রসূলুল্লাহ (সঃ) রাত্রের নামাযে নিম্নের দোআগুলো পড়তেন:
اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ اَنْتَ نُوْرُ السَّمَوتِ وَالْاَرْضِ وَمَنْ فِيْهِمْ وَلَكَ الْحَمْدُ اَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوتِ وَالْاَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ اَنْتَ مَلِكُ السَّمَوتِ وَالْاَرْضِ وَمَنْ فِيْهِمْ وَلَكَ الْحَمْدُ اَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ حَقٌّ وَقَوْلُكَ حَقٌّ وَلِقَاءَكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارِ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّوْنَ حَقٌّ وَمُحَمَّدُ حَقٌّ - اَللّٰهُمَّ لَكَ اَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَبِكَ اٰمَنْتُ وَاِلَيْكَ اَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَاِلَيْكَ حَاكَمَتُ اَنْتَ رَبُّنَا وَاِلَيْكَ الْمَصِيْرُ فَاغْفِرْ لِىْ مَا قَدَّمْتُ وَمَا اَخَرْتُ وَمَا اَسْرَرْتُ وَمَا اَعْلَنْتُ وَمَا اَنْتَ اَعْلَمُ بِهِ مِنِّيْ اَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَاَنْتَ الْمُؤَخِّرُ اَنْتَ اِلٰهِيْ لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ .
অর্থঃ "হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান, যমীন এবং উভয়ের মধ্যে যারা আছে তাদের জন্য আলো। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান ও যমীন এবং উভয়ের মধ্যে যা আছে তাদের রক্ষক ও হেফাযতকারী। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান ও যমীন এবং ঐ উভয়ের মধ্যে যারা আছে তাদের বাদশাহ। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি সত্য, তোমার ওয়াদা সত্য, কথা সত্য, তোমার সাথে সাক্ষাত হওয়া সত্য, বেহেশত সত্য, দোযখ সত্য, কেয়ামত সত্য, নবীরা সত্য এবং নবী মোহাম্মদ সত্য। হে আল্লাহ! তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই ইসলাম গ্রহণ করেছি, তোমার উপর নির্ভর করেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার দিকে ফিরে এসেছি, তোমার উদ্দেশ্যে বিরোধ করেছি এবং তোমার বিধান মতো ফয়সালা করেছি। তুমি আমাদের রব এবং তোমার কাছেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ মাফ কর, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ত্রুটি ক্ষমা কর এবং আমার বিষয়ে যা তুমি জান তাও মাফ কর। তুমিই প্রথম এবং তুমিই শেষ। তুমি আমার মাবুদ, তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই।" ৯৬
১০. اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَائِيلَ، فَاطِرَ السَّمُوتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيْمَا كَانُوا فِيْهِ يَخْتَلِفُونَ لِمَا اخْتُلِفَ فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ -
অর্থঃ "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা এবং প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়ের জ্ঞানী; তুমিই বান্দাদের মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে থাক। তোমার অনুগ্রহে আমাকে মতবিরোধকৃত সত্যের ব্যাপারে সঠিক পথ দেখাও। তুমিই যাকে ইচ্ছা সহজ-সরল পথ দেখাও। ৯৭.
১১. রসূলুল্লাহ (সঃ) ১০ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার), ১০ বার আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদু লিল্লাহ), ১০ বার আল্লাহর পবিত্রতা (সুবাহানাল্লাহ), ১০ বার লাইলাহা ইল্লাল্লাহু বলতেন এবং ১০ বার গুনাহ মাফ (ইস্তেগফার) চাইতেন। তারপর ১০ বার বলতেন:
اللهُمَّ اغْفِرْ لِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, হেদায়াত দাও, রিযক দাও এবং সুস্থতা দাও।
এরপর ১০ বার বলতেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الضِّيقِ يَوْمَ الْحِسَابِ -
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমি হাশরের হিসাব-নিকাশের দিনের সংকীর্ণতা ও কষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই।" ৯৮
১২. রসূলুল্লাহ (সঃ) তিনবার اللَّهُ أَكْبَرُ বলে আরো বলতেন:
ذُو الْمَلَكَوْتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ -
অর্থঃ "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, শক্তি ও কুদরত, কঠোরতা, গর্ব এবং মহত্ত্বের মালিক।" ৯৯
টিকাঃ
৮৬. ঐ।
৮৭. আবু দাউদ, হাকেম এবং আল্লামা হাফেয আযযাহাবী একে সহীহ হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন।
৮৮. মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমদ, তাবারানী, শাফেঈ, আবু আওয়ানা। যারা এটিকে শুধু নফল নামাযের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন, তারা কল্পনার ভিত্তিতেই তা করেছেন।
৮৯. নাসাঈ, বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।
৯০. নাসাঈ, দারু কুতনী বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।
৯১. আবু দাউদ, হাকেম। আল্লামা যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।
৯২. ইবনু মান্দাহ আতাওহীদ কিতাবের ২য় খন্ডে ১২৩ পৃঃ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে এবং 'নাসাঈ ফিল ইয়াওম ওয়াল লাইলা' বইতে এটি বর্ণনা করেছেন।
৯৩. আবু দাউদ, তাহাবী বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।
৯৪. মুসলিম, আবু আওয়ানা। আবু নাঈম আখবারে ইসপাহানে জোবায়ের বিন মোতয়েম থেকে বর্ণনা করেছেন, জোবায়ের রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে নফল নামাযে তা বলতে শুনেছেন।
৯৫. মুসলিম।
৯৬. বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আবু আওয়ানা, দারেমী, ইবনু নসর।
৯৭. মুসলিম, আবু আওয়ানা।
৯৮. আহমদ, ইবনু আবী শায়বাহ, আবু দাউদ, তাবারানী বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।
৯৯. আবু দাউদ, আততায়ালিসী-বিশুদ্ধ সনদসহ।
📄 সূরা-কেরআত পাঠ
দোয়া পাঠের পর রসূলুল্লাহ (সঃ) প্রথমে আল্লাহর কাছে নিম্নরূপ বাক্যে আশ্রয় চাইতেন:
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْتِهِ
অর্থঃ "আমি আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তানের মাতলামি, গর্ব-অহংকার ও মন্দ কবিতা ১০০ থেকে আশ্রয় চাই।” ১০১
'ভাল কবিতায় জ্ঞান ও কৌশলের কথা আছে।' (বোখারী)
তিনি কখনও আরো একটু বাড়িয়ে দোআটি এরূপ পড়তেন: ১০২
أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعُ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ
তারপর তিনি 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' পাঠ করতেন এবং এগুলো তিনি নিঃশব্দে পড়তেন। ১০৩
টিকাঃ
১০০. হাম্য়, নাফাখ ও নাফাছ শব্দ তিনটির উপরোক্ত অর্থ বিশুদ্ধ মোরসাল সনদ সহকারে রসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। কবিতা বলতে মন্দ কবিতা বুঝাবে। কেননা, ভাল কবিতার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন : إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حكمة
১০১. আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, দারু কুতনী। হাকেম, ইবনু হিব্বান ও আল্লামা যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।
১০২. আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমদ-সনদ বিশুদ্ধ।
১০৩. বোখারী, মুসলিম, আবু আওয়ানা তাহাবী, আহমদ।
📄 সূরা ফাতেহা নামাযের রোকন হওয়া এবং এর ফযীলত
রসূলুল্লাহ (সঃ) এই সূরার সম্মান ও মর্যাদা প্রসঙ্গে বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা ফাতেহা এবং আরও অতিরিক্ত কেরাআত পড়ে না, তার নামায ঠিক হয় না। (বোখারী, মুসলিম, বায়হাকী, আবু আওয়ানা)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি নামায পড়ল কিন্তু সূরা ফাতেহা পড়ল না, তার নামায অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ। (মুসলিম, আবু আওয়ানা)
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আল্লাহ বলেছেন, আমি নামাযকে আমার ও বান্দার মাঝে দুই ভাগে ভাগ করেছি। অর্থাৎ সূরা ফাতেহাকে দুই ভাগে ভাগ করেছি। এক ভাগ আমার, অপর ভাগ বান্দার। বান্দা যা চাইবে তাই পাইবে। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তোমরা (ফাতেহা) পড়। কারণ যখন বান্দাহ বলে, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
এর জওয়াবে আল্লাহ বলেন, 'বান্দাহ আমার প্রশংসা করেছে।' তারপর বান্দাহ যখন বলে, الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ আল্লাহ এর জওয়াবে বলেন, 'বান্দাহ আমার গুণ-গান করেছে।' বান্দাহ যখন বলে مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ আল্লাহ্ জওয়াবে বলেন, 'বান্দাহ আমাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করেছে।' বান্দাহ যখন বলে إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ আল্লাহ বলেন, 'এটাই আমার ও আমার বান্দাহর মাঝের সম্পর্ক, বান্দাহ যা চাইবে, তা পাবে।' বান্দাহ যখন বলে
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
আল্লাহ বলেন, 'এগুলো সব আমার বান্দার জন্য (মন্যুর করা হল) আমার বান্দাহ যা চাইবে তাই পাবে।' ১০৬
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন: আল্লাহ তাওরাত ও ইনজীলে উম্মুল কোরআনের (ফাতেহা) মত কোনো সূরা নাযিল করেননি। এতে, বারবার পড়ার মতো ৭টি আয়াত আছে। ১০৭ এটি মহা কোরআন যা আমি আপনাকে দিয়েছি।' (আল-কোরআন)
রসূলুল্লাহ (সঃ) ভুল নামায আদায়কারীকে সংশোধন করার সময় নামাযে সূরা ফাতেহা পড়তে নির্দেশ দেন। ১০৮
তিনি আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি এ সূরা মুখস্থ করতে পারেনি, সে যেন পড়েঃ
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ -১০৯
রসূলুল্লাহ (সঃ) ভুল নামায আদায়কারীকে শোধরানোর সময় বলেছিলেন, যদি কোরআন তোমার জানা থাকে, তাহলে তাই পড়, অন্যথায় হামদ, তাকবীর ও তাহলীল বল। অর্থাৎ এরূপ পড়:
الْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ-১১০
টিকাঃ
১০৬. মুসলিম, মালেক, আবু আওয়ানা। আস্সাহমী 'তারীখে জুরজানে' জাবের (রাঃ) থেকে অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণিত আছে।
১০৭. নাসাঈ, হাকেম এবং আল্লামা যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।
১০৮. বোখারী বিশুদ্ধ সনদ-ইমামের পেছনে কেরাআত পড়ার অধ্যায়।
১০৯. আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ, হাকেম, তাবারানী, ইবনু হিব্বান। হাকেম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।
১১০. আবু দাউদ, তিরমিযী।
📄 ইমামের প্রকাশ্য কেরাআতে মুক্তাদি কেরাআত পড়বে না
রসূলুল্লাহ (স) মুক্তাদীদেরকে প্রথম দিকে প্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে ইমামের পেছনে কোরআন পড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। একদিন ফজরের সময় তিনি কেরাআত পড়েন এবং তা তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। নামায শেষে তিনি জিজ্ঞেস করেন : “তোমরা সম্ভবত ইমামের পেছনে কেরাআত পড়! আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা দ্রুত কেরাআত পড়ি। তিনি বললেন, তোমরা এরূপ কর না। তবে কেউ ইচ্ছা করলে শুধু সূরা ফাতেহা পড়তে পারে। কারণ যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতেহা না পড়ে, তার নামায নেই। ১১১
এরপর তিনি 'সকল প্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে ইমামের পেছনে মুক্তাদীর পড়া নিষিদ্ধ করেন। কেননা একবার তিনি প্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামায শেষে (এক বর্ণনায় তা ছিল ফজরের নামায) জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি আমার সাথে নামাযে কেরাআত পড়েছিলে? এক ব্যক্তি বলল, হাঁ, 'আমি, হে রসূলুল্লাহ! তিনি বললেন, অন্যরা যখন কেরাআত পড়ে, তখন আমি কেন আর কেরাআত পড়বো? রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঐ কথা শুনে লোকেরা প্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে কেরাআত পড়া সম্পূর্ণ ত্যাগ করেন এবং শুধুমাত্র ইমামের অপ্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে মনে মনে কেরাআত পড়েন। ১১২
ইমামের কেরাআতের সময় চুপ করে থাকাকে ইমামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন 'অনুকরণের উদ্দেশ্যে ইমাম নিয়োগ করা হয়েছে। ইমাম তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে এবং ইমাম কেরাআত পড়লে তোমরা চুপ করে থাকবে। ১১৩.
ইমামের পেছনে কেরাআত পড়ার পরিবর্তে কেরাআত শুনাকে যথেষ্ট বিবেচনা করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: যার ইমাম আছে, ইমামের কেরাআতই তার কেরাআত। ১১৪.
এটা হচ্ছে, প্রকাশ্য কেরআত বিশিষ্ট নামাযের বিধান।
টিকাঃ
১১১. বোখারী, আবু দাউদ, আহমদ। তিরমিযী ও দারু কুতনী এটাকে উত্তম হাদীস বলেছেন।
১১২. মালেক, হোমায়দী, বোখারী, আবু দাউদ, মাহালেমী। তিরমিযী এটাকে উত্তম এবং আবু হাতেম রাযী, ইবনু হিব্বান ও ইবনুল কাইয়্যেম এটাকে সহীহ বলেছেন। হযরত উমর (রাঃ) থেকে অনুরূপ আরেকটি হাদীস বর্ণিত আছে। তাতে বলা হয়েছে, 'আমি কেন কোরআন পড়া নিয়ে বিবাদ করবো? ইমামের কেরাআত কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয়? ইমামকে অনুকরণীয় বানানো হয়েছে। ইমাম যখন কেরাআত পড়বে, তখন তোমরা চুপ করে থাকবে। বায়হাকী, জামে আল-কবীর।
১১৩. ইবনু আবী শায়বা, আবু দাউদ, মুসলিম, আবু আওয়ানা, আর-রুইয়ানী।
১১৪. ইবনু আবী শায়বা, দারু কুতনী, ইবনু মাজাহ, আহমদ।