📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা

📄 বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা


রসূলুল্লাহ (সঃ) বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতেন৬৩ এবং বলতেন, আমাদের নবীগণকে ইফতার দ্রুত করা, সেহরী বিলম্বে খাওয়া এবং নামাযে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৬৪
একবার তিনি এক নামায পড়া ব্যক্তির পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন যে, সে ডান হাতের উপর বাম হাত রেখেছে। তিনি তার হাত পৃথক করে দিয়ে তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে দেন। ৬৫

টিকাঃ
৬৩. মুসলিম, আবু দাউদ。
৬৪. ইবনু হিব্বান, আযয্যিয়া সহীহ সনদ সহকারে তা বর্ণনা করেছেন।
৬৫. আহমদ, আবু দাউদ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 বুকে হাত রাখা

📄 বুকে হাত রাখা


তিনি বাম হাতের পিঠ ও কব্যার উপর ডান হাত রাখতেন ৬৬ এবং এরূপ করার জন্য সাহাবায়ে কেরামকে আদেশ দেন। ৬৭
কখনও তিনি বাম হাতকে ডান হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরতেন। (নাসাঈ ও দার কুতনী-সনদ সহীহ।) হাদীস থেকে বুঝা যায় হাতের উপর হাত রাখা কিংবা আঁকড়ে ধরা উয়ভটিই সুন্নত। তবে হানাফী মাযহাবের কিছু লোক দু'টো বিষয়কে এক সাথে করা উত্তম বলেছেন। কিন্তু এটা বেদআত। তারা বলেছেন, বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে ডান হাতের কনিষ্ঠ ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে বাম হাতের কব্জি আঁকড়ে ধরতে হবে এবং অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বিছিয়ে দিতে হবে। ৬৮
রসূলুল্লাহ (সঃ) দু'হাত বুকের উপর রেখে নামায পড়তেন। ৬৯
তিনি কোমরের উপর হাত রেখে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। ৭০
কোমর বলতে কোমরের হাড় বুঝানো হয়েছে। এর উপর হাত রাখতে রসূলুল্লাহ (সঃ) নিষেধ করেছেন। ৭১

টিকাঃ
৬৬. আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু খোযায়মাহ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে, ইবনু হিব্বانও একে সহীহ বলেছেন।
৬৭. মালেক, বোখারী, আবু আওয়ানা।
৬৮. হাশিয়া ইবনু আবেদীন-রদ্দুল মোহতার।
৬৯. আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ, আহমদ। তারীখে ইসপাহান-আবুশ শেখ, পৃঃ ১২৫। তিরমিযী এর একটি সনদকে উত্তম বলেছেন। একই অর্থে মোআত্তা ও বোখারীতে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। বুকের উপর হাত রাখাই সুন্নত হিসেবে হাদীসে বর্ণিত আছে। এর বিপরীত বর্ণনা হয় দুর্বল, না হয় ভিত্তিহীন। ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াহ এই সুন্নতের উপর আমল করেছেন।
৭০. বোখারী, মুসলিম।
৭১. আবু দাউদ, নাসাঈ প্রভৃতি।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 সাজদার স্থানের প্রতি নজর রাখা ও বিনয়ী হওয়া

📄 সাজদার স্থানের প্রতি নজর রাখা ও বিনয়ী হওয়া


রসূলুল্লাহ (সঃ) নামায পড়ার সময় মাথা নীচু করতেন এবং দৃষ্টি যমীনের উপর রাখতেন। ৭২ তিনি যখন কাবা শরীফের ভেতর ঢুকেন, তখন তাঁর দৃষ্টি সাজদার জায়গা ছাড়া আর কোনো দিকে নিবদ্ধ ছিল না, যে পর্যন্ত না তিনি সেখান থেকে বের হন। ৭৩
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ঘরে এমন কোনো জিনিস থাকা উচিত নয়, যা নামাযীর মনকে ব্যস্ত রাখতে পারে। ৭৪
তিনি নামাযে আকাশের দিকে তাকাতে নিষেধ করেছেন। ৭৫
শুধু তাই নয়, তাকীদ সহকারে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, 'হয় লোকেরা আসমানের দিকে তাকানো বন্ধ করবে, আর না হয় তাদের চোখ আর ফিরে আসবে না।' অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, 'আর না হয় তাদের চোখ কেড়ে নেয়া হবে।' ৭৬
অন্য এক হাদীসে এসেছে, 'তোমরা যখন নামায পড়বে, তখন এদিক-ওদিক তাকাবে না। কারণ, আল্লাহ নিজ চেহারা বান্দার চেহারার দিকে নিবদ্ধ রাখেন যতোক্ষণ না বান্দা এদিক-ওদিক তাকায়।' ৭৭
এদিক সেদিক তাকানোর বিষয়ে তিনি আরো বলেছেন, 'এটা হচ্ছে বান্দার নামাযে শয়তানের ছোবল।' ৭৮
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, 'নামাযে আল্লাহর দৃষ্টি সে পর্যন্ত বান্দার দিকে থাকে যে পর্যন্ত বান্দা এদিক-সেদিক না তাকায়। যখন সে এদিক-ওদিক তাকানোর জন্য মুখ ফিরায়, আল্লাহও নিজ মুখ ফিরিয়ে নেন।' ৭৯
রসূলুল্লাহ (সঃ) নামাযে তিনটি কাজ নিষেধ করেছেন। প্রথম হচ্ছে দুই সাজদার মাঝখানে সোজা হয়ে না বসে মোরগের মতো ঠোকর দেয়া (অর্থাৎ সাজদা করা)। দ্বিতীয় হচ্ছে, কুকুরের মতো বসা এবং তৃতীয় হচ্ছে, শিয়ালের মতো এদিক-ওদিক তাকানো। ৮০
তিনি আরো বলেছেন, মৃত্যুপথ যাত্রীর শেষ নামাযের মতো মনোযোগ সহকারে নামায পড় এবং মনে কর যে, তুমি আল্লাহকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে নাও দেখ, তাহলে তিনি অবশ্যি তোমাকে দেখেন। ৮১
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ফরয নামায উপস্থিত হলে কোন ব্যক্তি যদি ভালোভাবে উযু করে, বিনয় (খুশু') সহকারে নামায পড়ে এবং ভালভাবে রুকু করে, তাহলে তা তার সগীরা গুনাহর ক্ষতিপূরণ (কাফ্ফারা) হবে যে পর্যন্ত সে কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে। এভাবেই যুগের পর যুগ চলতে থাকবে। ৮২.
রসূলুল্লাহ (সঃ) চিহ্ন বিশিষ্ট কাল পশমী কাপড়ে নামায পড়েন এবং কাপড়ের চিহ্নের প্রতি একবার নযর করেন। নামায শেষ হলে তিনি বলেন, আমার এই কাপড়টি আবু জাহামের কাছে নিয়ে যাও এবং তার চিহ্নবিহীন মোটা কাপড়টি নিয়ে আস। কেননা, এই কাপড়টি আমাকে নামায থেকে অন্যমনস্ক করে দিয়েছিল। ৮৩
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, আমি নামাযে কাপড়ের চিহ্নের দিকে নযর করি যা আমাকে প্রায় ফেতনার মধ্যে ফেলে দিচ্ছিল।
আয়েশা (রাঃ)-এর একটি কাপড়ে ছবি ছিল এবং ছোট একটি ঘরে টানানো ছিল। রসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ দিকে মুখ করেই নামায পড়তেন। তিনি বললেন, আয়েশা, ওটি আমার সামনে থেকে সরিয়ে নাও। নামাযে কাপড়ের ছবিটির প্রতি আমার দৃষ্টি যায়। ৮৪.
রাসূলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেছেন, খাবার উপস্থিত হলে কোন নামায নেই এবং পেশাব-পায়খানা আটকিয়ে রেখেও কোনো নামায নেই। ৮৫
নামাযে বিনয়ের স্বার্থে এদু'টো বিষয়ের কথা বলা হয়েছে।

টিকাঃ
৭২. বায়হাকী, হাকেম।
৭৩. ঐ
৭৪. আবু দাউদ, আহমদ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।
৭৫. বোখারী, আবু দাউদ।
৭৬. বোখারী, মুসলিম।
৭৭. তিরমিযী, হাকেম।
৭৮. বোখারী, আবু দাউদ।
৭৯. আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ ও ইবনু হিব্বান এটাকে সহীহ বলেছেন।
৮০. আহমদ, আবু ইয়ালী-তারগীব।
৮১. ইবনু মাজাহ, আহমদ, তাবারানী, ইবনু আসাকির。
৮২. মুসলিম。
৮৩. বোখারী, মুসলিম, মালেক。
৮৪. বোখারী, মুসলিম, আবু আওয়ানা। তিনি ছবিটি সরিয়ে নিতে বললেন, কিন্তু তা ছিঁড়ে ফেলতে না বলার কারণ, সম্ভবত তাতে কোনো প্রাণীর ছবি ছিল না। বোখারী ও মুসলিম শরীফের অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি প্রাণীর ছবি ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে ফাতহুল বারী এবং গায়াতুল মোরাম ফী তাখরীজি আহাদীসিল হালাল ওয়াল হারাম গ্রন্থের ১৩১-১৪৫ নং হাদীসে。
৮৫. বোখারী মুসলিম, ইবনু আবী শায়বা。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 নামায শুরুর দোআ

📄 নামায শুরুর দোআ


রসূলুল্লাহ (সঃ) নামাযে সূরা কিরাআত শুরুর আগে বিভিন্ন দোআ পড়তেন। ঐ সকল দোআয় তিনি মূলত আল্লাহর প্রশংসা, শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণ-গান বর্ণনা করতেন। তিনি ভুল নামায আদায়কারী একজন সাহাবীকে শোধরানোর সময় বলেছিলেন, 'কোন ব্যক্তির নামায সেই পর্যন্ত পরিপূর্ণ হয় না, যে পর্যন্তনা সে (তাকবীর) আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, (হামদ) প্রশংসা ও (সানা) গুণ-গান করে এবং পরে সাধ্য অনুযায়ী যতোটুকু সম্ভব কোরআন থেকে পাঠ করে। ৮৬
১. তিনি একেক সময় একেক দোআ পড়তেন। কোন কোন সময় নিম্নোক্ত দোআ পড়তেন :
اللَّهُمَّ بَاعِدُ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اَللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ -
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমার ও আমার গুনাহর মধ্যে সেরকম দূরত্ব সৃষ্টি করো যেমন দূরত্ব রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! আমাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেমন করে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে ধবধবে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আমাকে গুনাহ থেকে পানি, বরফ ও শীতলতা দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।" এ দোআটি পড়তেন তিনি ফরয নামাযে। ৮৭
২. তিনি ফরয, সুন্নত ও নফল নামাযে নিম্নোক্ত দোআও পড়েছেন :
وَجَّهْتُ وَجْهِي لِلَّذِي فَطَرَ السَّمُوتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ . الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ - اللَّهُمَّ انْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذَنبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّى سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلَّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ وَالْمَهْدِى مَنْ هَدَيْتَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ لَا مَنْجَا وَلَا مَلْجَأَ مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَاتُوبُ إِلَيْكَ -
অর্থঃ “আমি সঠিক সরল পথের অনুসারী মুসলিম হিসেবে আমার চেহারা সেই আল্লাহর দিকে ফিরালাম যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মোশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চিয়ই আমার নামায, সুকৃতি ও কোরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু বিশ্বজগতের রব মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরীক নেই, আমাকে একাজেরই নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমি মুসলমানদের প্রথম। হে আল্লাহ! তুমি শাহানশাহ, তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। আমি তোমার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি। তুমি আমার রব এবং আমি তোমার গোলাম। আমি আমার আত্মার উপর যুলুম করেছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। আমার সকল গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফকারী নেই। আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথ দেখাও। তুমি ছাড়া আর কেউ তা দেখাতে পারে না। আমাকে খারাপ চরিত্র থেকে দূরে রাখ। তুমি ছাড়া আর কেউ আমাকে তা থেকে দূরে রাখতে পারে না। আমি তোমার আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং তোমার দীনের সাহায্য ও অনুসরণে সদা প্রস্তুত। সকল কল্যাণ তোমার হাতে। তোমার প্রতি কোনো মন্দ কাজের সম্বোধন করা যায় না। তুমি যাকে পথ দেখিয়েছ সেই হেদায়াত প্রাপ্ত। আমি তোমার সাথে আছি ও তোমার প্রতি আশাবাদী হয়ে আছি। তুমি ছাড়া আমার মুক্তি ও আশ্রয়ের কোনো জায়গা নেই। তুমি বরকতময় ও শ্রেষ্ঠ। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তাওবাহ করছি।”
৩. কখনো তিনি উপরোল্লিখিত দোআই পড়তেন সামান্য পরিবর্তন সহকারেঃ
أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ -
বাক্যটি বাদ দিতেন এবং নিম্নের বাক্যটি অতিরিক্ত যোগ করতেন: ৮৯
اللَّهُمَّ أَنتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ -
৪. কখনো তিনি উপরোক্ত দোআটি - وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ পর্যন্ত পড়ে তারপর নিম্নের অংশটুকু যোগ করতেন:
اللهُمَّ اهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ وَأَحْسَنِ الْأَعْمَالِ لَا يَهْدِى لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَقِنِي سَيِّئَ الْأَخْلَاقِ وَالْأَعْمَالِ لَا يَقِي سَيِّئَهَا إِلَّا انت .
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমাকে উত্তম চরিত্র ও উত্তম আমলের পথ দেখাও। তুমি ছাড়া আর কেউ তা দেখাতে পারে না। আমাকে খারাপ চরিত্র ও আমল থেকে বাঁচাও, তুমি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বাঁচাতে পারে না।” ৯০
৫. তিনি কখনো কখনো এই দোআ পড়েছেন:
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ .
অর্থঃ “হে আল্লাহ! তুমি সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত ও পবিত্র। আমরা সর্বদা তোমার প্রশংসা করি। তোমার নামের বরকত অনেক বেশি এবং তোমার সম্মান ও মর্যাদা অনেক উঁচু। তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই।"৯১
রসূলুল্লাহ (সঃ) এই দোআটি সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর কাছে বান্দার সর্বাধিক প্রিয় বাক্য হলঃ ৯২
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ .
৬. রাত্রের নামাযে তিনি উপরোক্ত দোআর সাথে আরও একটু বাড়িয়ে বলতেন:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ . তিনবার اللَّهُ أَكْبَرٌ كَبِيرًا এবং তিনবার পড়তেন। ৯৩
৭. একবার এক সাহাবী এই দোআ পড়েন:
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً واصِيلًا
অর্থঃ "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান, অত্যধিক প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করি।"
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আমি এটি শুনে দারুণ আনন্দিত হয়েছি। কারণ, এই দোআর ফলে আসমানের দরযা খুলে গেছে। ৯৪
৮. একজন সাহাবী নীচের দোআটি পড়েন:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ -
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আমি ১২ জন ফেরেশতাকে এ দোআ উপরে উঠানোর ব্যাপারে প্রতিযোগতিা করতে দেখেছি। ৯৫
৯. রসূলুল্লাহ (সঃ) রাত্রের নামাযে নিম্নের দোআগুলো পড়তেন:
اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ اَنْتَ نُوْرُ السَّمَوتِ وَالْاَرْضِ وَمَنْ فِيْهِمْ وَلَكَ الْحَمْدُ اَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوتِ وَالْاَرْضِ وَمَنْ فِيْهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ اَنْتَ مَلِكُ السَّمَوتِ وَالْاَرْضِ وَمَنْ فِيْهِمْ وَلَكَ الْحَمْدُ اَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ حَقٌّ وَقَوْلُكَ حَقٌّ وَلِقَاءَكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارِ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّوْنَ حَقٌّ وَمُحَمَّدُ حَقٌّ - اَللّٰهُمَّ لَكَ اَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَبِكَ اٰمَنْتُ وَاِلَيْكَ اَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَاِلَيْكَ حَاكَمَتُ اَنْتَ رَبُّنَا وَاِلَيْكَ الْمَصِيْرُ فَاغْفِرْ لِىْ مَا قَدَّمْتُ وَمَا اَخَرْتُ وَمَا اَسْرَرْتُ وَمَا اَعْلَنْتُ وَمَا اَنْتَ اَعْلَمُ بِهِ مِنِّيْ اَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَاَنْتَ الْمُؤَخِّرُ اَنْتَ اِلٰهِيْ لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ .
অর্থঃ "হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান, যমীন এবং উভয়ের মধ্যে যারা আছে তাদের জন্য আলো। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান ও যমীন এবং উভয়ের মধ্যে যা আছে তাদের রক্ষক ও হেফাযতকারী। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান ও যমীন এবং ঐ উভয়ের মধ্যে যারা আছে তাদের বাদশাহ। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি সত্য, তোমার ওয়াদা সত্য, কথা সত্য, তোমার সাথে সাক্ষাত হওয়া সত্য, বেহেশত সত্য, দোযখ সত্য, কেয়ামত সত্য, নবীরা সত্য এবং নবী মোহাম্মদ সত্য। হে আল্লাহ! তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই ইসলাম গ্রহণ করেছি, তোমার উপর নির্ভর করেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার দিকে ফিরে এসেছি, তোমার উদ্দেশ্যে বিরোধ করেছি এবং তোমার বিধান মতো ফয়সালা করেছি। তুমি আমাদের রব এবং তোমার কাছেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ মাফ কর, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ত্রুটি ক্ষমা কর এবং আমার বিষয়ে যা তুমি জান তাও মাফ কর। তুমিই প্রথম এবং তুমিই শেষ। তুমি আমার মাবুদ, তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই।" ৯৬
১০. اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَائِيلَ، فَاطِرَ السَّمُوتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيْمَا كَانُوا فِيْهِ يَخْتَلِفُونَ لِمَا اخْتُلِفَ فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ -
অর্থঃ "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা এবং প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়ের জ্ঞানী; তুমিই বান্দাদের মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে থাক। তোমার অনুগ্রহে আমাকে মতবিরোধকৃত সত্যের ব্যাপারে সঠিক পথ দেখাও। তুমিই যাকে ইচ্ছা সহজ-সরল পথ দেখাও। ৯৭.
১১. রসূলুল্লাহ (সঃ) ১০ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার), ১০ বার আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদু লিল্লাহ), ১০ বার আল্লাহর পবিত্রতা (সুবাহানাল্লাহ), ১০ বার লাইলাহা ইল্লাল্লাহু বলতেন এবং ১০ বার গুনাহ মাফ (ইস্তেগফার) চাইতেন। তারপর ১০ বার বলতেন:
اللهُمَّ اغْفِرْ لِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, হেদায়াত দাও, রিযক দাও এবং সুস্থতা দাও।
এরপর ১০ বার বলতেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الضِّيقِ يَوْمَ الْحِسَابِ -
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমি হাশরের হিসাব-নিকাশের দিনের সংকীর্ণতা ও কষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই।" ৯৮
১২. রসূলুল্লাহ (সঃ) তিনবার اللَّهُ أَكْبَرُ বলে আরো বলতেন:
ذُو الْمَلَكَوْتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ -
অর্থঃ "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, শক্তি ও কুদরত, কঠোরতা, গর্ব এবং মহত্ত্বের মালিক।" ৯৯

টিকাঃ
৮৬. ঐ।
৮৭. আবু দাউদ, হাকেম এবং আল্লামা হাফেয আযযাহাবী একে সহীহ হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন।
৮৮. মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমদ, তাবারানী, শাফেঈ, আবু আওয়ানা। যারা এটিকে শুধু নফল নামাযের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন, তারা কল্পনার ভিত্তিতেই তা করেছেন।
৮৯. নাসাঈ, বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।
৯০. নাসাঈ, দারু কুতনী বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।
৯১. আবু দাউদ, হাকেম। আল্লামা যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।
৯২. ইবনু মান্দাহ আতাওহীদ কিতাবের ২য় খন্ডে ১২৩ পৃঃ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে এবং 'নাসাঈ ফিল ইয়াওম ওয়াল লাইলা' বইতে এটি বর্ণনা করেছেন।
৯৩. আবু দাউদ, তাহাবী বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।
৯৪. মুসলিম, আবু আওয়ানা। আবু নাঈম আখবারে ইসপাহানে জোবায়ের বিন মোতয়েম থেকে বর্ণনা করেছেন, জোবায়ের রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে নফল নামাযে তা বলতে শুনেছেন।
৯৫. মুসলিম।
৯৬. বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আবু আওয়ানা, দারেমী, ইবনু নসর।
৯৭. মুসলিম, আবু আওয়ানা।
৯৮. আহমদ, ইবনু আবী শায়বাহ, আবু দাউদ, তাবারানী বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।
৯৯. আবু দাউদ, আততায়ালিসী-বিশুদ্ধ সনদসহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00