📄 সুতরাহ না থাকলে যে জিনিস নামায ভঙ্গ করে
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, নামাযীর সামনে সুত্রাহ না থাকলে ঋতুবর্তী মহিলার৫০ অতিক্রম কিংবা গাধা ও কাল কুকুরের অতিক্রমের কারণে নামায ভঙ্গ হয়ে যায়। আবু যর জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রসূল! লাল কুকুরের তুলনায় কাল কুকুরের বিষয়টি এমন কেন? রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, কাল কুকুর শয়তান। ৫১
টিকাঃ
৫০. অর্থাৎ বালেগা মহিলা।
৫১. মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ।
📄 কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়া
রসূলুল্লাহ (সঃ) কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, 'তোমরা কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়বে না এবং কবরের উপর বসবে না।'৫২
টিকাঃ
৫২. ঐ।
📄 নিয়্যত
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, 'সকল আমল নিয়্যতের সাথে জড়িত। সকল ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়্যত করে। ৫৪
টিকাঃ
৫৩. ইমাম নববী রাওযাতুত তালেবীন বইতে লিখেছেন, নিয়্যত হল ইচ্ছা বা সংকল্প। 'নামাযের সময় মুসল্লীর মনে নামাযের যে পরিচিতি ও গুণাবলী ভেসে আসে তাই নিয়্যত। যেমন, যোহর, ফরয ইত্যাদি। প্রথম তাকবীরের সাথে ঐ সংকল্প সংশ্লিষ্ট থাকতে হবে।
৫৪. বোখারী, মুসলিম।
📄 তাকবীর
রসূলুল্লাহ (সঃ) আল্লাহু আকবার বলে নামায শুরু করতেন।৫৫ তিনি ভুল নামায আদায়কারী ব্যক্তিকেও অনুরূপ করার আদেশ দিয়েছিলেন। তিনি তাকে বলেছেন, 'কোনো ব্যক্তির নামায ওযু শেষে 'আল্লাহু আকবার' বলে শুরু না করলে তা সম্পন্ন হয় না' (সহীহ সনদ সহকারে তাবারানী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
রসূলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেছেন, নামাযের চাবি হচ্ছে পবিত্রতা অর্জন। তাকবীর দ্বারা নামাযের বাইরের বৈধ কাজগুলোকে নামাযে হারাম করা হয় এবং সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাযের বাইরের বৈধ কাজগুলোকে হালাল করা হয়। (আবু দাউদ, তিরমিযী, হাকেম, আল্লামা যাহাবী এ হাদীসকে বিশুদ্ধ বলেছেন)
তিনি তাকবীর বড়ো করে উচ্চারণ করতেন, পেছনের লোকেরাও তা শুনতে পেত। (আহমদ, হাকেম এবং আল্লামা যাহাবী এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন)
তিনি যখন অসুস্থ অবস্থায় নামায পড়ান, তখন আবু বকর (রাঃ) তাঁর তাকবীরের শব্দ বড়ো করে লোকদেরকে শুনান। (মুসলিম ও নাসাঈ)
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলেন, তখন তোমরাও আল্লাহু আকবার বল। ৫৬
টিকাঃ
৫৫. মুসলিম, ইবনে মাজাহ। নিয়্যত করার জন্যে তিনি কখনও نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّي ইত্যাদি বলতেন না। বরং তা সর্বসম্মতভাবে বেদআত। শুধু এতটুকু মতভেদ যে, তা বেদআতে হাসানাহ, না সাইয়ে্যআহ। আমরা বলবো, ইবাদতের মধ্যে সকল বেদআত গোমরাহী। হাদীস তাই বলে।
৫৬. আহমদ। বায়হাকী সহীহ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন।