📄 সুতরাহ (আড়াল) ও এর অপরিহার্যতা
রসূলুল্লাহ (সঃ) সুতরার কাছে দাঁড়াতেন। দেয়াল থেকে তিনি তিন হাত দূরে দাঁড়াতেন। ৩৪
তাঁর সাজদা ও দেয়ালের মাঝে একটি ভেড়া পারাপারের জায়গা থাকত। ৩৫
রসূলুল্লাহ (স) বলতেন, সুতরার দিক ছাড়া অন্যদিকে ফিরে নামায পড়বে না এবং তোমার নামাযের সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে দেবে না। কেউ অস্বীকার করলে তুমি তার সাথে লড়বে। তার সঙ্গে একজন সাথী রয়েছে। ৩৬
রসূলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেছেন, কেউ যদি সুতরার দিকে মুখ করে নামায পড়ে, সে যেন সুতরার নিকটবর্তী হয় এবং শয়তানকে নিজ নামায অতিক্রম করার সুযোগ না দেয়। ৩৭
রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও কখনও মসজিদের খুঁটিকে সামনে রেখে নামাষ পড়েছেন। ৩৮
রসূলুল্লাহ (সঃ) 'আড়ালবিহীন খোলা মাঠে নামায পড়ার সময় সামনে যুদ্ধাস্ত্র দাঁড় করিয়ে সেই দিকে মুখ করে নামায পড়তেন এবং লোকেরা তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতেন। ৩৯
কোন কোন সময় তিনি সওয়ারীকে সামনে রেখে তার পেছনে নামায পড়েছেন। ৪০
তবে উটের আস্তাবলে নামায পড়ার অনুমতি নেই। বরং রসূলুল্লাহ (সঃ) তা করতে নিষেধ করেছেন। ৪১
কখনও কখনও তিনি সওয়ারীর আসনকে সুতরাহ বানিয়ে সেদিকে ফিরে নামায পড়েছেন। ৪২
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি নিজের সামনে সওয়ারীর আসনের পেছনের কাঠের অনুরূপ একটা কিছু রেখে নামায পড়ে, তাহলে তার সামনে দিয়ে কি অতিক্রম করল এ বিষয়ে তার কোনো পরোয়া নেই। ৪৩
তিনি কখনও কখনও গাছের দিকে মুখ করে নামায পড়েছেন। ৪৪
তিনি কখনও খাটের দিকে ফিরে নামায পড়েছেন এবং আয়েশা (রাঃ) নিজ চাদর মুড়ি দিয়ে খাটে শোয়া ছিলেন। ৪৫
রসূলুল্লাহ (সঃ) সুতরাহ ও নিজের মাঝখানে কোনো কিছুকে অতিক্রম করতে দিতেন না। কোন ভেড়া-বকরী তাঁর নামাযের সামনে দিয়ে পার হতে চাইলে তিনি ভেড়া-বকরীর আগেই দ্রুত দেয়ালের সাথে পেট লাগিয়ে গা ঘেঁষে দাঁড়াতেন এবং ভেড়া-বকরী তার পেছন দিয়ে পেরিয়ে যেত। ৪৬
একবার রসূলুল্লাহ (সঃ) ফরয নামায পড়ার সময় নিজ হাত একসাথে মিলান। তাঁর নামায শেষে সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! নামাযে কি কিছু ঘটেছে? তিনি বলেন, না। তবে শয়তান আমার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাচ্ছিল। আমি তার গলা চেপে ধরি এবং আমার হাতে তার জিহ্বার শীতলতা অনুভব করি। আল্লাহর কসম, যদি এ ব্যাপারে আমার ভাই নবী সোলায়মান (আঃ) আমার অগ্রগামী না হতেন, তাহলে আমি তাকে মসজিদের একটি খুটির সাথে বেঁধে রাখতাম এবং মদীনার শিশুরা তাকে দেখার জন্য চক্কর লাগাত। কেউ যদি চায় যে, কেবলা ও তার মাঝে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি না হোক, তাহলে সে যেন সক্ষম হলে অনুরূপ করে। ৪৭
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, কোনো ব্যক্তি লোকদেরকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে সুতরার দিকে ফিরে নামায পড়ার সময় অন্য কোন ব্যক্তি তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাইলে তাকে বুক দিয়ে প্রতিরোধ করবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তাকে সাধ্যমত প্রতিহত করবে। আরেক বর্ণনায় এসেছে, তাকে দুইবার নিষেধ করতে হবে। যদি সে না মানে, তাহলে তার সাথে লড়াই করতে হবে। কারণ সে ব্যক্তি শয়তান। ৪৮
তিনি আরো বলেছেন, নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী ব্যক্তি যদি জানত যে, তার পরিণতি কি, তাহলে নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চাইতে তার জন্য ৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম। ৪৯
টিকাঃ
৩৪. বোখারী, আহমদ।
৩৫. রোখারী ও মুসলিম।
৩৬. ইবনু খোযায়মাহ।
৩৭. আবু দাউদ, বায্যার, পৃঃ ৪৫, হাকেম। ইমাম যাহাবী ও নববী একে সহীহ হাদীস বলেছেন।
৩৮. ছোট-বড়ো সকল মসজিদে সুত্রার পেছনে নামায পড়ার জন্য ইমাম আহমদ উৎসাহিত করেছেন। এটাই যথার্থ। (মাসায়েল আন ইমাম আহমদ: ইবনু হামি, ১ম খন্ডঃ ৬৬ পৃঃ)
৩৯. বোখারী, মুসলিম ও ইবনু মাজাহ।
৪০. বোখারী, আহমদ।
৪১. ঐ।
৪২. মুসলিম, ইবনু খোযায়মাহ, আহমদ।
৪৩. মুসলিম, আবু দাউদ
৪৪. নাসাঈ, আহমদ।
৪৫. বোখারী, মুসলিম, আবু ইয়ালী।
৪৬. ইবনু খোযায়মাহ, তাবারানী, হাকেম, আযযাহাবী।
৪৭. আহমদ, দার কোতনী এবং সহীহ সনদ সহকারে তাবারানীও বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি বোখারী মুসলিম ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে একদল সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত আছে। এই হাদীস কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে একটি দলীল। তারা জিন স্বীকার করে না। তাদের মতে, জিন বলতে মানুষকে বুঝানো হয়েছে।
৪৮. বোখারী, মুসলিম, ইবনু খোযায়মাহ।
৪৯. ঐ।
📄 সুতরাহ না থাকলে যে জিনিস নামায ভঙ্গ করে
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, নামাযীর সামনে সুত্রাহ না থাকলে ঋতুবর্তী মহিলার৫০ অতিক্রম কিংবা গাধা ও কাল কুকুরের অতিক্রমের কারণে নামায ভঙ্গ হয়ে যায়। আবু যর জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রসূল! লাল কুকুরের তুলনায় কাল কুকুরের বিষয়টি এমন কেন? রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, কাল কুকুর শয়তান। ৫১
টিকাঃ
৫০. অর্থাৎ বালেগা মহিলা।
৫১. মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ।
📄 কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়া
রসূলুল্লাহ (সঃ) কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, 'তোমরা কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়বে না এবং কবরের উপর বসবে না।'৫২
টিকাঃ
৫২. ঐ।
📄 নিয়্যত
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, 'সকল আমল নিয়্যতের সাথে জড়িত। সকল ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়্যত করে। ৫৪
টিকাঃ
৫৩. ইমাম নববী রাওযাতুত তালেবীন বইতে লিখেছেন, নিয়্যত হল ইচ্ছা বা সংকল্প। 'নামাযের সময় মুসল্লীর মনে নামাযের যে পরিচিতি ও গুণাবলী ভেসে আসে তাই নিয়্যত। যেমন, যোহর, ফরয ইত্যাদি। প্রথম তাকবীরের সাথে ঐ সংকল্প সংশ্লিষ্ট থাকতে হবে।
৫৪. বোখারী, মুসলিম।