📄 নৌকায় নামায
রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে নৌকায় নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ডুবে যাওয়ার ভয় না থাকলে দাঁড়িয়ে নামায পড়। ২০
রসূলুল্লাহ (সঃ) শেষ বয়সে একটি লাঠির উপর ভর দিয়ে নামায পড়েছেন। ২১
টিকাঃ
২০. বায্যার, দার কোতনী, হাকেম।
২১. আবু দাউদ, হাকেম।
📄 রাত্রের নামাযে দাঁড়ানো ও বসা
রসূলুল্লাহ (সঃ) রাত্রে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে নামায পড়তেন। তিনি দীর্ঘ সময় বসেও নামায পড়তেন। তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়লে দাঁড়িয়ে রুকু দিতেন এবং বসে নামায পড়লে বসে রুকু দিতেন। ২২
কখনও তিনি বসে বসে নামায পড়লে কেরাআতও বসে বসেই পড়তেন। কিন্তু যখন ৩০/৪০ আয়াত বাকী থাকত, তখন তিনি দাঁড়াতেন। তারপর রুকু ও সাজদা করতেন। দ্বিতীয় রাকআতেও তিনি অনুরূপ করতেন। ২৩
তিনি শেষ বয়সে বসে নফল নামায পড়েছেন। ইন্তিকালের এক বছর আগে তিনি বসে নফল নামায পড়েন। ২৪
রসূলুল্লাহ (সঃ) আসন-পিঁড়ি হয়ে এক পায়ের উপর অন্য পা আড়াআড়িভাবে স্থাপন করে বসতেন। ইংরেজিতে একে Cross-Legged বলে। ২৫
টিকাঃ
২২. মুসলি, আবু দাউদ।
২৩. বোখারী, মুসলিম।
২৪. মুসলিম, আহমদ।
২৫. নাসাঈ, ইবনে খোযাইমাহ, হাকেম।
📄 জুতা সহকারে নামায পড়া ও অনুরূপ করার আদেশ
রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও জুতা পায়ে এবং কখনও খালি পায়ে নামায পড়তেন। তিনি নিজ উম্মাহর জন্যও অনুরূপ করাকে বৈধ করে গেছেন। ২৬
তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ নামায পড়লে সে যেন জুতা পরে থাকে কিংবা দুই পায়ের মাঝখানে তা খুলে রাখে। জুতা দিয়ে কাউকে যেন কষ্ট না দেয়। ২৭
তিনি কখনও জুতা সহকারে নামায পড়ার বিষয়ে তাকীদ দিতেন। তিনি বলেছেন: তোমরা ইহুদীদের বিরোধিতা কর, তারা জুতা ও চামড়ার মোযায় নামায পড়ে না। ২৮
কখনও তিনি নামাযের মধ্যেই দুই পায়ের জুতা খুলে নামায অব্যাহত রাখতেন। এমর্মে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেনঃ একদিন রসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে নিয়ে নামায পড়েন। তিনি নামাযে জুতা খুলে বামদিকে রাখেন। তা দেখে লোকেরাও জুতা খুলে ফেলল। তিনি নামায শেষে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেন জুতা খুলে রেখেছ? তারা বলল, আপনাকে জুতা খুলতে দেখে আমরাও জুতা খুলে রেখেছি। তিনি বললেন, আমার কাছে জিবরীল (আঃ) আসেন এবং জুতায় অপবিত্রতার খবর দেন। তাই আমি তা খুলে রেখেছি। তোমরা মসজিদে আসলে নিজের জুতা দেখে নেবে। তাতে ময়লা থাকলে মুছে ফেলবে এবং জুতা সহকারেই নামায পড়বে। ২৯
তিনি জুতা খুলে তা বাম পার্শ্বে রাখতেন। ৩০
তিনি বলতেন, তোমরা নামায পড়লে নিজ জুতা খুলে ডানে ও বামে রাখবে না যা অন্যের ডানে পড়তে পারে। তবে বামদিকে কেউ না থাকলে বামে রাখা যেতে পারে। অন্যথায় নিজের দুই পায়ের মাঝখানে রাখবে। ৩১
টিকাঃ
২৬. আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ। ইমাম তাহাবী বলেছেন, এটি মোতাওয়াতের হাদীস।
২৭. আবু দাউদ, বায্যার।
২৮. ঐ।
২৯. আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ, হাকেম। ইমাম আযযাহাবী ও ইমাম নববীও একে বিশুদ্ধ হাদীস বলেছেন।
৩০. আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু খোযায়মাহ।
৩১. আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মা, হাকেম।
📄 মিম্বরের ওপর নামায আদায়
একবার রসূলুল্লাহ (সঃ) মিম্বরের উপর নামায আদায় করেন। এক বর্ণনায় এসেছে, মিম্বরের ছিল তিনটি তাক বা সিঁড়ি। ৩২
তিনি মিম্বরের উপর দাঁড়ান ও তাকবীর বলেন। লোকেরাও তাঁর পেছনে তাকবীর বলেন। তারপর তিনি মিম্বরের উপরই রুকুতে যান এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ান। তারপর নীচে নেমে আসেন এবং মিম্বরের নীচের সিঁড়িতে সাজদা করেন। তারপর আবার মিম্বরের উপর উঠেন এবং প্রথম রাকআতের অনুরূপ নামায পড়েন। এইভাবে তিনি নামায শেষ করেন। তারপর লোকদের দিকে ফিরে বলেন, হে লোকেরা! আমি এরূপ করেছি যেন তোমরা আমাকে ভালভাবে অনুসরণ করতে পার এবং আমার নামায দেখে শিখতে পার। ৩৩
টিকাঃ
৩২. তিন সিঁড়ি বিশিষ্ট মিম্বরই সুন্নত। বেশি সিড়ি নামাযের কাতারের জন্য অসুবিধে। এটি উমাইয়া আমলের বেদআত।
৩৩. বোখারী, মুসলিম।