📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 ৪. ইমাম আহমদ বিন হাম্বল

📄 ৪. ইমাম আহমদ বিন হাম্বল


ইমামদের মধ্যে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল সর্বাধিক হাদীস সংগ্রহকারী ও হাদীসের উপর আমলকারী। তিনি শাখা-প্রশাখা মাসআলা ও রায়ের (ইজতিহাদের) উপর ভিত্তি করে কোন গ্রন্থ রচনা করাকে অপছন্দ করতেন। ২৬ তিনি বলেছেন:
১. তোমরা আমার, ইমাম মালেক, শাফেঈ আওযাঈ এবং সুফিয়ান ছাওরীর তাকলীদ (অন্ধ আনুগত্য) করবে না। বরং তারা যে উৎস থেকে গ্রহণ করেছেন তুমিও সেই উৎস থেকেই গ্রহণ কর। ২৭
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তুমি তোমার দীনের বিষয়ে তাদের কারো অন্ধ আনুগত্য কর না। রসূলুল্লাহ (সঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ কর। তারপর তাবেঈদের কাছ থেকে গ্রহণ কর এবং এ বিষয়ে ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি একবার বলেছেন: 'অনুসরণ বলতে বুঝায় রসূলুল্লাহ (সঃ) ও সাহবায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুসরণ করা।' তারপর তাবেঈদের কাছ থেকে বর্ণিত বিষয় মানা-না মানার ব্যাপারে ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে। ২৮
২. আওযাঈ'; ইমাম মালেক ও ইমাম আবু হানীফার রায় তাদের নিজস্ব রায় বা ইজতিহাদ। আমার কাছে এসবই সমান। তবে দলীল হল আছার অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেঈগণের কথা। ২৯
৩. যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করে, সে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ৩০
হাদীস অনুসরণের ব্যাপারে এবং অন্ধ আনুগত্য থেকে দূরে থাকার জন্য এই হচ্ছে ইমামগণের মন্তব্য ও বক্তব্য। তাদের বক্তব্যগুলো এত স্পষ্ট ও পরিষ্কার যে, এর জন্য কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের দরকার কিংবা বির্তকের অবকাশ নেই। এর ভিত্তিতে বলা যায় যে, হাদীস অনুসরণের কারণে নিজ ইমামের মাযহাবের রায়ের বিপরীত হলেও কেউ মাযহাব বিচ্যুত হয় না। বরং সে নিজ মাযহাবেরই অনুসারী থাকে।
তবে যে ব্যক্তি শুধু ইমামদের কথার দোহাই দিয়ে হাদীসের বিরোধিতা করে, সে ব্যক্তি কিছুতেই অটুট রজ্জু আঁকড়ে ধরে নেই। বরং এই অনমনীয় মনোভারের কারণে সে ইমামদের নাফরমানীই করে এবং তাদের কথার বিরোধিতা করে।
আল্লাহ বলেনঃ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا - (سورة النساء : ٢٥) অর্থঃ "আপনার রবের কসম। তারা সেই পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যে পর্যন্ত আপনাকে তাদের ঝগড়ার সালিশে বিচারক না বানায়, আপনার ফয়সালার ব্যাপারে অন্তরে কুণ্ঠা বোধ না করে এবং আপনার রায় প্রশান্ত চিত্তে মেনে না নেয়।” (সূরা আন নিসা : ৬৫) فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ -

টিকাঃ
২৬. আল মানাকেব-ইবনুল জাওযী, পৃঃ ১৯২।
২৭. আল-ফোলানী, পৃঃ ১১৩। ইবনুল কাইয়েম-ই'লাম, ২য় খন্ডঃ পৃঃ ৩০২।
২৮. মাসায়েলে ইমাম আহমদ, পৃঃ ২৭৬-২৭৭।
২৯. ইবনু আবদিল বার-আল-জামে, ২য় খন্ডঃ পৃঃ ১৪৯।
৩০. ইবনুল জাওয়ী পৃঃ ১৮২,

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00