📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায 📄 ৩. ইমাম শাফেঈ (রঃ)

📄 ৩. ইমাম শাফেঈ (রঃ)


এ বিষয়ে ইমাম শাফেঈ থেকে অনেক সুন্দর কথা বর্ণিত আছে এবং তাঁর অনুসারীরা তা সর্বাধিক আমল করেছে। ১৬ তিনি বলেছেন:
১. তোমাদের কারোর কাছ থেকে যেন রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সুন্নাহ ছুটে না যায়। আমি যতো কিছুই বলে থাকি তা যদি রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাদীসের পরিপন্থী হয়, তাহলে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কথাই আমার কথা। ১৭
২. একথার উপর মুসলমানদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যখনই কারোর সামনে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কোনো কথা প্রকাশ পায়, তখনই তার জন্যে অন্য কোনো লোকের কথার ভিত্তিতে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাদীস ত্যাগ করা জায়েয নয়। ১৮
৩. তোমরা যদি আমার কিতাবে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সুন্নাহ বিরোধী, কোনো কিছু পাও, তাহলে আমার ঐ কথা ত্যাগ কর। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তাহলে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঐ হাদীসকে অনুসরণ কর এবং অন্য কারো কথার প্রতি নজর দিও না। ১৯
৪. সহীহ ও বিশুদ্ধ হাদীসই আমার মাযহাব। ২০
৫. আপনারা হাদীস ও রিজাল শাস্ত্রে আমার চাইতে বেশী জ্ঞাত। সহীহ হাদীসের সন্ধান পেলে আমাকে জানাবেন। বর্ণনাকারী কুফা, বসরা ও সিরিয়ার যেই হোক না কেন, হাদীস সহীহ হলে আমি তার কাছে যাবো। ২১
৬. আমি যা বলেছি তার বিপরীত যদি রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কোনো হাদীস কারো নিকট বিদ্যমান থাকে, তাহলে আমি আমার জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থাতেই ঐ হাদীসের দিকে ফিরে আসবো। ২২
৭. তোমরা যদি আমাকে কোনো কথা বলতে দেখ এবং রসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে এর বিপরীত রিওয়ায়াত পাও, তাহলে জেনে রাখ আমার জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। ২৩
৮. আমি যা বলেছি তার বিপরীত রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর থেকে কোনো সহীহ বর্ণনা থাকলে নবীর হাদীসই উত্তম, তখন তোমরা আমার তাকলীদ করবে না। ২৪
৯. রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাদীসই আমার কথা-যদিও সেই হাদীস আমার কাছ থেকে শুনতে পাওনি। ২৫

টিকাঃ
১৬. ইবনু হাযম বলেছেন: যে সকল ফকীহ তার অনুসারীদেরকে অন্ধ অনুসরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম শাফেঈ অন্যতম। তিনি তাকলীদ করতে একেবারেই নিষেধ করেছেন এবং পরবর্তী লোকদের যে কোন (আচার) বক্তব্যের সত্যতা যাঁচাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
১৭. হাকেম তা বর্ণনা করেছেন। তারীখে দিমাঙ্ক- ইবনে আসাকির। ইকায পৃঃ ১০০ এবং ইলামুল মোকেঈন, ২য় খন্ড, ৩৬৩-৩৬৪ পৃঃ।
১৮. ইবনুল কাইয়েম, ২ খন্ডঃ ৩৬১ পৃঃ এবং আলফোলানী: ৬৮ পৃঃ।
১৯. আল-হারাওয়ায়ী জাম্মুল কালাম, ৩য় খন্ডঃ পৃষ্ঠা ১ ও ৪৬। আল ইহতিজাজ বিশ-শাফেঈ-খাতীব, ৮ম খন্ড, পৃঃ ২। ইবনু আসাকির খন্ড ১৫, পৃঃ ৯। আল-মাজমু আন-নববী-১ম খন্ড, ৬৩ পৃষ্ঠা। ইবনুল কায়েম-২য় খন্ডঃ ৩৬১ পৃঃ। আল-ফোলানী-পৃঃ. ১০০ এবং আল-হিলাইয়া-আবু নাঈম, ৯ম খন্ডঃ ১০৭ পৃঃ।
২০. আল-মাজমু-আন-নববী। আশশারানী-১ম খন্ড, ৫৭ পৃঃ। তিনি এটাকে হাকেম এবং বায়হাকীর দিকে সম্বোধন করেছেন। আল ফোলানীঃ ১০৭ পৃঃ। শারানী বলেছেন, ইবনু হাযমের মতে, তিনি সহ অন্য ইমামদের কাছেও এটা সহীহ। ইমাম নববী যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হল:
আমাদের সাথীরা হাই তোলার ব্যাপারে এই রকম আমল করেছেন। তারা রোগসহ বিভিন্ন ওযরের কারণে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার শর্তের বিষয়েও হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। আমাদের পুরাতন সাথীরা কোনো মাসআলায় হাদীস পেলে এবং শাফেঈ মাযহাব এর বিপরীত থাকলে হাদীস অনুযায়ী আমল করতে বলতেন। যা হাদীস মোতাবেক তাই শাফেঈর মাযহাব। আসসাবকী বলেছেন, হাদীসের অনুসরণ করাই উত্তম। কেউ যদি নিজেকে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে উপস্থিত মনে করে, তাহলে তার পক্ষে কি হাদীস মোতাবেক আমল না করে উপায় আছে?
২১. ইমাম আহমদকে সম্বোধন করে এ কথাগুলো তিনি বলেছেন। আদাবুশ শাফেঈ-ইবনু আবি হাতেমঃ পৃঃ ৯৪-৯৫। আল হিলইয়া-আবু নাঈম, ৯, খন্ড, পৃঃ ১০৬। ইবনে আসাকির, ইবনু আবদিল বার, ইবনুল জাওযী এবং আল-হারওয়ায়ী নিজ নিজ কিতাবে তা উল্লেখ করেছেন।
বায়হাকী বলেছেন, ইমাম শাফেঈ প্রায়ই হাদীসের উপর আমল করেছেন। তিনি হেজায, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ইরাকের আলেমদেরকে জমা করে নির্দ্বিধায় সহীহ বর্ণনাগুলো গ্রহণ করেছেন।
২২. হিলইয়া-আবু নাঈম, ৯ম খন্ড, ১০৭ পৃঃ। আল হারওয়ারী ৪৭ পৃঃ। ইবনুল কাইয়েম-ইলামুল মোকেয়ীন, ২য় খন্ড, পৃঃ ৩৬৩ এবং আল ফোলানী, পৃঃ ১০৪।
২৩. আদাব-ইবনু আবি হাতেম, পৃঃ ৯৩। আল-আমালী, আবুল কাসেম সমরখন্দী। হিলইয়া-আবু নাঈম, ৯ম খন্ড, পৃঃ ১০৬ এবং ইবনু আসাকির।
২৪. ইবনু আবি হাতেম, আবু নাঈম ও ইবনু আসাকির।
২৫. ইবনু আবি হাতেম পৃঃ ৯৩-৯৪।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায 📄 ৪. ইমাম আহমদ বিন হাম্বল

📄 ৪. ইমাম আহমদ বিন হাম্বল


ইমামদের মধ্যে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল সর্বাধিক হাদীস সংগ্রহকারী ও হাদীসের উপর আমলকারী। তিনি শাখা-প্রশাখা মাসআলা ও রায়ের (ইজতিহাদের) উপর ভিত্তি করে কোন গ্রন্থ রচনা করাকে অপছন্দ করতেন। ২৬ তিনি বলেছেন:
১. তোমরা আমার, ইমাম মালেক, শাফেঈ আওযাঈ এবং সুফিয়ান ছাওরীর তাকলীদ (অন্ধ আনুগত্য) করবে না। বরং তারা যে উৎস থেকে গ্রহণ করেছেন তুমিও সেই উৎস থেকেই গ্রহণ কর। ২৭
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তুমি তোমার দীনের বিষয়ে তাদের কারো অন্ধ আনুগত্য কর না। রসূলুল্লাহ (সঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ কর। তারপর তাবেঈদের কাছ থেকে গ্রহণ কর এবং এ বিষয়ে ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি একবার বলেছেন: 'অনুসরণ বলতে বুঝায় রসূলুল্লাহ (সঃ) ও সাহবায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুসরণ করা।' তারপর তাবেঈদের কাছ থেকে বর্ণিত বিষয় মানা-না মানার ব্যাপারে ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে। ২৮
২. আওযাঈ'; ইমাম মালেক ও ইমাম আবু হানীফার রায় তাদের নিজস্ব রায় বা ইজতিহাদ। আমার কাছে এসবই সমান। তবে দলীল হল আছার অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেঈগণের কথা। ২৯
৩. যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করে, সে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ৩০
হাদীস অনুসরণের ব্যাপারে এবং অন্ধ আনুগত্য থেকে দূরে থাকার জন্য এই হচ্ছে ইমামগণের মন্তব্য ও বক্তব্য। তাদের বক্তব্যগুলো এত স্পষ্ট ও পরিষ্কার যে, এর জন্য কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের দরকার কিংবা বির্তকের অবকাশ নেই। এর ভিত্তিতে বলা যায় যে, হাদীস অনুসরণের কারণে নিজ ইমামের মাযহাবের রায়ের বিপরীত হলেও কেউ মাযহাব বিচ্যুত হয় না। বরং সে নিজ মাযহাবেরই অনুসারী থাকে।
তবে যে ব্যক্তি শুধু ইমামদের কথার দোহাই দিয়ে হাদীসের বিরোধিতা করে, সে ব্যক্তি কিছুতেই অটুট রজ্জু আঁকড়ে ধরে নেই। বরং এই অনমনীয় মনোভারের কারণে সে ইমামদের নাফরমানীই করে এবং তাদের কথার বিরোধিতা করে।
আল্লাহ বলেনঃ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا - (سورة النساء : ٢٥) অর্থঃ "আপনার রবের কসম। তারা সেই পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যে পর্যন্ত আপনাকে তাদের ঝগড়ার সালিশে বিচারক না বানায়, আপনার ফয়সালার ব্যাপারে অন্তরে কুণ্ঠা বোধ না করে এবং আপনার রায় প্রশান্ত চিত্তে মেনে না নেয়।” (সূরা আন নিসা : ৬৫) فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ -

টিকাঃ
২৬. আল মানাকেব-ইবনুল জাওযী, পৃঃ ১৯২।
২৭. আল-ফোলানী, পৃঃ ১১৩। ইবনুল কাইয়েম-ই'লাম, ২য় খন্ডঃ পৃঃ ৩০২।
২৮. মাসায়েলে ইমাম আহমদ, পৃঃ ২৭৬-২৭৭।
২৯. ইবনু আবদিল বার-আল-জামে, ২য় খন্ডঃ পৃঃ ১৪৯।
৩০. ইবনুল জাওয়ী পৃঃ ১৮২,

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية