📄 ছোট বালক বেড়ে ওঠে
আলী থেকে বর্ণিত যে। একদা ফাতিমা যাঁতা ব্যবহারে তাঁর হাতে যে কষ্ট পেতেন তার অভিযোগ নিয়ে নবী -এর কাছে আসলেন। তাঁর কাছে নবী -এর নিকট দাস আসার খবর পৌঁছেছিল। কিন্তু তিনি নবী নবী কে পেলেন না। তখন তিনি তাঁর অভিযোগ আয়েশার কাছে বললেন। নবী ঘরে আসলে আয়েশা তাঁকে জানালেন। আলী বললেন- রাতে আমরা যখন শুয়ে পড়েছিলাম, তখন তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা উঠতে চাইলাম, কিন্তু তিনি বললেন, তোমরা উভয়ে নিজ স্থানে থাক। তিনি এসে আমার ও ফাতিমার মাঝখানে বসলেন। এমনকি আমি আমার পেটে তাঁর পায়ের শীতলতা অনুভব করেছিলাম। তারপর তিনি বললেন- তোমরা যা চেয়েছ তার চেয়ে কল্যাণকর বিষয় সম্মন্ধে তোমাদের অবহিত করব না? তোমরা যখন তোমাদের শয্যাস্থানে যাবে, অথবা বললেন- তোমরা যখন তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার সে সময় তিনি ছিলেন কিশোর।
টিকাঃ
৭২. আল-তাবাকাত আল-কুবরা লিইবনে সা'দ হাদীস নং ৮১২৩
📄 চতুর্থ দিক: শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়া
শিশু তার নিজের প্রতি নির্ভরতা এবং আত্মবিশ্বাস সেভাবেই গড়ে ওঠে যেমন তার চারপাশের মানুষ থেকে সে পায়। পড়াশুনা করে যদি মানসিকতাটা উদ্বিগ্ন থেকে যায়, সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে, অন্তঃমুখী হয় অথবা লজ্জাহীন হয়, দৃঢ় সংকল্প না হতে পারে, তার সাহস যদি একটা মুরগির বাচ্চার সমান হয় তাহলে সেই পড়াশুনা করে ডিগ্রী অর্জন ছাড়া অন্য কোনো লাভ আছে কি? তাই, নতুন প্রজন্মের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে দেয়া সুস্থ পড়াশুনার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
দয়ালু প্রশিক্ষক নবী শিশুর মনের মধ্যে বিশ্বাস জন্মানো বলতে প্রাসংগিক বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। এই প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলি মহান নেতা নবী -এর জীবনীতে এবং শিশুদের আচরণের ব্যাপারে তার নির্দেশনার মধ্যে পাওয়া যায় সেগুলো নিম্নরূপঃ
📄 সুন্দর নাম রাখা
আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেন যে, নবী তাকে একটি উপাধি দিলেন, সে সময় তিনি ছিলেন কিশোর।
টিকাঃ
৭২. আল-তাবাকাত আল-কুবরা লিইবনে সা'দ হাদীস নং ৮১২৩
📄 তার মর্যাদা রক্ষা এবং ব্যক্তিত্বকে সম্মান করা
সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ-এর নিকট একটি পানির পেয়ালা আনা হলো। তিনি তা থেকে পান করলেন। তাঁর ডানদিকে এক বালক ছিল, সে ছিল লোকদের মধ্যে সবচাইতে কম বয়স্ক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেরা তাঁর বাঁদিকে ছিল। নবী বললেন, হে বালক! তুমি কি আমাকে তোমার জ্যেষ্ঠদের এটি দিতে অনুমতি দিবে? সে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি আপনার উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে নিজের ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতে চাই না। এরপর তিনি তাকেই সেটি দিলেন।
আনাস বর্ণনা করেন। নবী কিছু কিশোরদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এসময় তিনি তাদের সালাম করেন।
টিকাঃ
৭৩. সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং ২২৪৭
৭৪. সহীহ আল-মুসলিম হাদীস নং ৪১৪৪
সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ-এর নিকট একটি পানির পেয়ালা আনা হলো। তিনি তা থেকে পান করলেন। তাঁর ডানদিকে এক বালক ছিল, সে ছিল লোকদের মধ্যে সবচাইতে কম বয়স্ক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেরা তাঁর বাঁদিকে ছিল। নবী বললেন, হে বালক! তুমি কি আমাকে তোমার জ্যেষ্ঠদের এটি দিতে অনুমতি দিবে? সে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি আপনার উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে নিজের ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতে চাই না। এরপর তিনি তাকেই সেটি দিলেন। আনাস বর্ণনা করেন। নবী কিছু কিশোরদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এসময় তিনি তাদের সালাম করেন।
টিকাঃ
৭৩. সহীহ আল-বুখারী হাদী। আমি পিছন ফিরে তাকালাম এবং দেখলাম নবী আসছেন। আমি বললাম, “নবী নিশ্চয় আমার নিকটেই আসছেন।” আমি দৌড়ে কোনো এক দরজার পিছনে নিজেকে লুকিয়ে ফেললাম। ইবন আব্বাস বলেন, "আমি কিছুই বুঝতে পারি নি যতক্ষণ না তিনি ঘাড়ের পিছন দিক হতে আমাকে ধরে ফেললেন। তিনি আস্তে একটা চাপড় দিলেন (তিনি তার হাত দিয়ে রসিকতা করে মৃদু আঘাত করলেন)।” তারপর তিনি বললেন, “যাও! মুয়াবিয়াকে ডেকে নিয়ে আস” আর তিনি ছিলেন তাঁর লেখক। আমি মুয়াবিয়া -এর নিকট গেলাম এবং তাকে বললাম, “আল্লাহর নবী -এর ডাকে সাড়া দিন, তাঁর আপনাকে প্রয়োজন”
টিকাঃ
৭৬. মুসনাদ আহমাদ হাদীস নং ২৯৮৪