📄 প্রথম দিক : প্রাপ্ত বয়স্কদের সমাবেশে তাদের উপস্থিতি
নবী -এর নবুয়তের গুরুদায়িত্ব এবং তার সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও শিশু কিশোররা অবাধে তার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারত। আর তাই, পদমর্যাদা বা সম্মান যতই হোক না কেন, মানুষের উচিত নয় শিশু কিশোর ও তার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, এই ভেবে যে, তা তার সম্মান রক্ষা করে এবং গাম্ভীর্য তৈরী করে।
রসূল -এর চেয়ে বেশি মর্যাদাশীল কেউ নেই এবং রেসালাতের দায়িত্বের চেয়ে বড় কোনো দায়িত্ব নেই। নবী তাঁর এবং তাঁর নাতি- নাতনিদের মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন নি, তার কোনো সাহাবীও তা করেন নি। বরঞ্চ, তিনি তাঁর কথা এবং মর্যাদা দ্বারা সাহাবীদের ব্যাখ্যা করতেন তাদের এরকম চিন্তা নিতান্তই ভ্রান্ত যে শিশুদের খেলাধূলা লাফালাফি তাকে ব্যাথা দেয়, বিঘ্ন ঘটায় বা বিরক্ত করে।
বিপরীতে, তিনি ছোট-বড় উভয়কেই শৃঙ্খলা, নীতিবোধ এবং উত্তম নৈতিকতা শেখানোর সকল সুযোগ গ্রহণ করতেন। শিশুদেরকে বড়দের থেকে আলাদা করা শিক্ষা দিক্ষার ভাল কোনো উপায় হতে পারে না। কত সুন্দর সেই দৃশ্য যখন মানুষরা তার ছোট সন্তানদেরকে মেহমানদের আপ্যায়নের সাথে সম্পৃক্ত করে, যখন বন্ধু বান্ধবদের সাথে থাকে, তাদেরকেও সাথে নেয়। যদি একটা শিশু তার ছোট্ট পরিসরেই আবদ্ধ থাকে তাহলে কিভাবে সে বড় হবে এবং তার চরিত্র উন্নত হবে?
📄 সিজদার সময়ের বীরপুরুষ
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আমরা নবী -এর রাতের নামাজ পড়া দেখছিলাম। যখন তিনি সেজদায় যাচ্ছিলেন হাসান এবং হুসাইন লাফিয়ে তাঁর ঘাড়ের ওপর উঠছিল। যখন তিনি তাঁর মাথা উঠাচ্ছিলেন, তিনি তাদেরকে আস্তে করে পাশে সরিয়ে দিচ্ছিলেন। তারপর আবার যখন তিনি সিজদায় যাচ্ছিলেন, তারা আবার একই কাজ করছিল। তাঁর নামাজ যখন শেষ হলো তখন তিনি তাদের একজনকে এখানে এবং অন্যজনকে ওখানে বসালেন। আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম "ইয়া রসূলাল্লাহ! তাদেরকে তাদের মায়ের নিকট দিয়ে আসব?" তিনি বললেন, “না” তারপর যখন বিদ্যুৎ চমকালো, তিনি বললেন, "যাও, তোমাদের মায়ের সাথে দেখা কর" তারা উভয়েই বিদ্যুতের আলোয় পথ খুঁজতে খুঁজতে বাসায় গেলেন”
টিকাঃ
৫৪. মুসতাদরাক আল-হাকীম হাদীস নং ৪৭৪৫
📄 মসজিদের শিশু
আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত। আমি নবী -এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ সালাত আর কোনো ইমামের পিছনে কখনো পড়িনি। আর তা এ জন্য যে, তিনি শিশুর কান্না শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিত্নায় পড়ার আশংকা করতেন।"
অন্য বর্ণনায়, আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা) নামাযরত অবস্থায় মায়ের সাথে আসা শিশুর কান্না শুনতে পেলে ছোটখাট সুরা দিয়ে নামায শেষ করে দিতেন।
টিকাঃ
৫৫. সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং ৬৮৭
৫৬. সহীহ আল-মুসলিম, কিতাবুস সলাত হাদীস নং ৭৫৯
📄 জুময়ার নামাজের বীরপুরুষ
বুরাইদা আল আসলামী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা) জুময়ার খুতবা দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় হাসান এবং হুসাইন, লাল রঙের পোশাক পরে হাটছিলেন এবং গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ মিম্বার থেকে নেমে এসে তাদেরকে কোলে তুললেন। তিনি তার সামনে তাদেরকে রেখে বললেন, “আল্লাহ সত্য বলেন; তোমাদের ধন-সম্পদ এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষা বই কিছুই নয়'। আমি এ বাচ্চা দুটিকে দেখলাম তারা হাটাহাটি করছে এবং গড়াগড়ি খাচ্ছে, আমার মন মানছিল না। তাই আমি তাদেরকে তুলে আনবার জন্য খুতবা বন্ধ করেছি।”
টিকাঃ
৫৭ আত্তাগাবুন ৬৪ : ১৫
৫৮. আস সহীহ লিল হীব্বান হাদীস নং ৬১৩৮ সুনান ইবনে মাজাহ-হাদীস নং ৫২৬