📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আজ যে শিশু, কাল সে পূর্ণ মানুষ

📄 আজ যে শিশু, কাল সে পূর্ণ মানুষ


একটা ছোট্ট শিশু ছোট থাকে কতদিন? আর কতদিনই বা তার পিতামাতা সামর্থবান এবং বড় থাকে?
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ ضُعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ ضُعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ ضُعْفًا وَشَيْبَةً يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْقَدِيرُ
অর্থ: "আল্লাহ তিনি দুর্বল অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন। অতঃপর দুর্বলতার পর শক্তিদান করেন, অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।”
আজকের শিশু আগামী দিনের পরিপূর্ণ মানুষ এবং তারাই ভবিষ্যত। এই ছোট্ট দুর্বল আর নিষ্পাপ শিশুরাই নিকট ভবিষ্যতে, সমাজের নেতৃত্ব দেবে, মানুষের মাথা হবে, মানুষের তত্ত্বাবধান করবে।

টিকাঃ
৫২. আর রুম আয়াত-৫৪

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 উর্বর জমি

📄 উর্বর জমি


তাদের অন্তর পরিচ্ছন্ন, তাদের প্রকৃতি স্নিগ্ধ এবং তাদের আত্মা ধার্মিক। "প্রত্যেক শিশুই ফিতরাতের (ইসলামের) ওপর জন্মগ্রহণ করে, তারপর তার মাতাপিতা তাকে ইহুদী হিসেবে গড়ে তোলে অথবা খৃস্টান হিসেবে গড়ে তোলে অথবা অগ্নি উপাসক হিসেবে গড়ে তোলে।" তাদের মন- মানসিকতা, ব্যক্তিত্ব আবাদি জমির মতন। আজ আমরা যদি তাদের মধ্যে উচ্চ নৈতিকতা, ভাল চরিত্র, সঠিক মূল্যবোধ এবং সম্মান শ্রদ্ধার বীজ বপন করতে পারি কাল তারা সে অনুযায়ী সঠিক বিবেচনাবোধসম্পন্ন মানুষ, আলেম, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান, রাজনীতিবিদ, জাজ, নেতা এবং চিন্তাবিদ আমাদের উপহার দেবে।
নতুন প্রজন্মের জন্ম নেয়া সফলতার রাস্তা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা। কোনো জাতি কেবল তখনই ধ্বংস হয়, যখন তার শিশুরা ধ্বংস হয়ে যায়। আর শিশু-কিশোররা কোনোদিন পাপের পথে পরিচালিত হয় না যতক্ষণ না তারা অবহেলা, অযত্নের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। সম্মানিত নেতা এবং নির্দেশক তার অন্তদৃষ্টি দিয়ে শিশু কিশোর এবং তরুণদের অবস্থান অনুধাবন করেছিলেন। তাদেরকে সেই দিনের জন্য প্রস্তুত করা যেদিন তারা দায়িত্ব কাধে তুলে নেবে এবং সমাজের নেতৃত্ব দেবে সেদিনের জন্য দিক নির্দেশনা দেয়া এবং বড় করার সকল পদক্ষেপ নিতেন।
মহানতম নেতা এবং সম্মানিত শিক্ষক রসুলুল্লাহ -এর জীবনকে বিশ্লেষণ করে, আমি পর্যবেক্ষণ করলাম তিনি এই ব্যাপারে যেসব দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন সেগুলোকে চারটি প্রধান দিকে ভাগ করা যায়।

টিকাঃ
৫৩. সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং ৪৫১০

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 প্রথম দিক : প্রাপ্ত বয়স্কদের সমাবেশে তাদের উপস্থিতি

📄 প্রথম দিক : প্রাপ্ত বয়স্কদের সমাবেশে তাদের উপস্থিতি


নবী -এর নবুয়তের গুরুদায়িত্ব এবং তার সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও শিশু কিশোররা অবাধে তার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারত। আর তাই, পদমর্যাদা বা সম্মান যতই হোক না কেন, মানুষের উচিত নয় শিশু কিশোর ও তার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, এই ভেবে যে, তা তার সম্মান রক্ষা করে এবং গাম্ভীর্য তৈরী করে।
রসূল -এর চেয়ে বেশি মর্যাদাশীল কেউ নেই এবং রেসালাতের দায়িত্বের চেয়ে বড় কোনো দায়িত্ব নেই। নবী তাঁর এবং তাঁর নাতি- নাতনিদের মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন নি, তার কোনো সাহাবীও তা করেন নি। বরঞ্চ, তিনি তাঁর কথা এবং মর্যাদা দ্বারা সাহাবীদের ব্যাখ্যা করতেন তাদের এরকম চিন্তা নিতান্তই ভ্রান্ত যে শিশুদের খেলাধূলা লাফালাফি তাকে ব্যাথা দেয়, বিঘ্ন ঘটায় বা বিরক্ত করে।
বিপরীতে, তিনি ছোট-বড় উভয়কেই শৃঙ্খলা, নীতিবোধ এবং উত্তম নৈতিকতা শেখানোর সকল সুযোগ গ্রহণ করতেন। শিশুদেরকে বড়দের থেকে আলাদা করা শিক্ষা দিক্ষার ভাল কোনো উপায় হতে পারে না। কত সুন্দর সেই দৃশ্য যখন মানুষরা তার ছোট সন্তানদেরকে মেহমানদের আপ্যায়নের সাথে সম্পৃক্ত করে, যখন বন্ধু বান্ধবদের সাথে থাকে, তাদেরকেও সাথে নেয়। যদি একটা শিশু তার ছোট্ট পরিসরেই আবদ্ধ থাকে তাহলে কিভাবে সে বড় হবে এবং তার চরিত্র উন্নত হবে?

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 সিজদার সময়ের বীরপুরুষ

📄 সিজদার সময়ের বীরপুরুষ


আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আমরা নবী -এর রাতের নামাজ পড়া দেখছিলাম। যখন তিনি সেজদায় যাচ্ছিলেন হাসান এবং হুসাইন লাফিয়ে তাঁর ঘাড়ের ওপর উঠছিল। যখন তিনি তাঁর মাথা উঠাচ্ছিলেন, তিনি তাদেরকে আস্তে করে পাশে সরিয়ে দিচ্ছিলেন। তারপর আবার যখন তিনি সিজদায় যাচ্ছিলেন, তারা আবার একই কাজ করছিল। তাঁর নামাজ যখন শেষ হলো তখন তিনি তাদের একজনকে এখানে এবং অন্যজনকে ওখানে বসালেন। আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম "ইয়া রসূলাল্লাহ! তাদেরকে তাদের মায়ের নিকট দিয়ে আসব?" তিনি বললেন, “না” তারপর যখন বিদ্যুৎ চমকালো, তিনি বললেন, "যাও, তোমাদের মায়ের সাথে দেখা কর" তারা উভয়েই বিদ্যুতের আলোয় পথ খুঁজতে খুঁজতে বাসায় গেলেন”

টিকাঃ
৫৪. মুসতাদরাক আল-হাকীম হাদীস নং ৪৭৪৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00