📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 একজন সফল নেতার অষ্টম রহস্যঃ এই রহস্যের নেপথ্যে একটি মহান শিশু

📄 একজন সফল নেতার অষ্টম রহস্যঃ এই রহস্যের নেপথ্যে একটি মহান শিশু


আজ মুসলমানদের একান্ত প্রয়োজন বাড়ন্ত শিশুদের প্রতি তাদের আচরণ এবং নতুন প্রজন্মের প্রতি তাদের মনোযোগের ব্যাপারে বিস্তারিত চিন্তা করা। নবী ﷺ, তার কথা এবং কাজের মাধ্যমে, নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করার দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। দুর্ভাগ্যবসত, আমরা আমাদের মধ্যে কাউকে কাউকে দেখতে পাই যারা শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে এমন সব রীতি পদ্ধতি অনুসরণ করেন যা জন-এডওয়ার্ড-জেমস-স্মীথদের দ্বারা পরিকল্পিত। তারা সর্বোচ্চ মর্যাদাবান নবী এবং সর্বপ্রধান নির্দেশক নবী (সা)-এর জীবনী পড়ে দেখেন নি, তাঁর শেখানো পদ্ধতির ওপরে হুমড়ি খেয়ে পড়েন নি, এমনকি নতুন প্রজন্ম সম্পর্কে তাঁর দিক নির্দেশনা এবং দৃষ্টিভঙ্গিগুলি বিবেচনা করে দেখেন নি। এর চেয়ে আশ্চর্যের বিষয় আর কি হতে পারে?
একটা শিশু কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই তার প্রকৃতিগত আচরণই প্রকাশ করে এবং তার নিজের একান্ত ব্যক্তিগত অভিপ্রায় ব্যক্ত করে। সে হাসতে হাসতে তার বাবার কোলে প্রস্রাব করে দেয়, অথবা হাসতে হাসতে মানুষজনকে আঘাত করে। তারা তাদের বাবার অন্তরের প্রশান্তি এবং মায়ের অলংকার। তাদের কারণেই জীবন লাবণ্যময় হয়ে ওঠে, বেঁচে থাকাটা সুন্দর মনে হয়। তাদের আরামের জন্য পিতামাতা নির্ঘুম রাত কাটান, তাদের নিরাপত্তা দিতে দিন ব্যয় করে দেন।
একজন বাবা তার জীবনের স্বর্ণযুগে কঠোর পরিশ্রম করে, সংগ্রাম করে, নদী সমুদ্র পাড়ি দিয়ে, কখনো আকাশে উড়ে, পূর্ব-পশ্চিম অতিক্রম করে সন্তানের জন্য ভাল খাদ্য, সুন্দর জামা কাপড় এবং ভাল একটা বাসস্থানের ব্যবস্থা করেন। তিনি এগুলো করেন, তারপরও তার হৃদয় প্রশান্তিতে পূর্ণ থাকে। যদিও তাকে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, শয়তানের কু-প্ররোচনার বিরুদ্ধে সাহসী মানসিকতা নিয়ে যুদ্ধ করতে হয়। তিনি সকালে ওঠেন, রাত্রে ঘুমাতে যান, কিন্তু দিন রাতের প্রত্যেকটা সময় তার মূল চিন্তা থাকে পৃথিবীতে হেটে বেড়ানো এই মনিমুক্তোগুলির দিকে।
বাচ্চারা বাড়ির যেদিকে যে প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়, একজন মাও বাচ্চার সাথে সাথে সেই প্রান্তে ঘুরে বেড়ান এবং ক্লান্তিকর দিনের শেষে, সারারাত নির্ঘুম নয়নে একবার এপাশ আবার ওপাশ এভাবে সারা রাত কাটিয়ে দেন; প্রত্যেক ছোট্ট শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়; বাচ্চাটা যখন নড়ে ওঠে তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, বাচ্চাটা ঘুমিয়ে পড়ে তিনিও ঘুমাতে চেষ্টা করেন। বাচ্চার যন্ত্রনায় তিনি কাতর হন, বাচ্চার চিৎকারে তার চোখ অশ্রু সজল হয়ে ওঠে। তারা যখন সুখে থাকে, হাসতে থাকে, পৃথিবী আনন্দে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু তারা যখন ব্যথা পায়, অসুস্থ হয়, তা যত অল্পই হোক না কেন, মায়ের মন অস্থির হয়ে ওঠে।
আর একারণেই সন্তান থেকে সদ্ব্যবহার পাবার অধিকারের প্রথম তিন-চতুর্থাংশ অধিকার তারই। বাকি এক-চতুর্থাংশ তার স্বামীর সম্মানে, যিনি সার্বক্ষণিক পাশে থেকে সন্তান বড় করতে তাকে সাহায্য করেছেন।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আজ যে শিশু, কাল সে পূর্ণ মানুষ

📄 আজ যে শিশু, কাল সে পূর্ণ মানুষ


একটা ছোট্ট শিশু ছোট থাকে কতদিন? আর কতদিনই বা তার পিতামাতা সামর্থবান এবং বড় থাকে?
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ ضُعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ ضُعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ ضُعْفًا وَشَيْبَةً يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْقَدِيرُ
অর্থ: "আল্লাহ তিনি দুর্বল অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন। অতঃপর দুর্বলতার পর শক্তিদান করেন, অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।”
আজকের শিশু আগামী দিনের পরিপূর্ণ মানুষ এবং তারাই ভবিষ্যত। এই ছোট্ট দুর্বল আর নিষ্পাপ শিশুরাই নিকট ভবিষ্যতে, সমাজের নেতৃত্ব দেবে, মানুষের মাথা হবে, মানুষের তত্ত্বাবধান করবে।

টিকাঃ
৫২. আর রুম আয়াত-৫৪

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 উর্বর জমি

📄 উর্বর জমি


তাদের অন্তর পরিচ্ছন্ন, তাদের প্রকৃতি স্নিগ্ধ এবং তাদের আত্মা ধার্মিক। "প্রত্যেক শিশুই ফিতরাতের (ইসলামের) ওপর জন্মগ্রহণ করে, তারপর তার মাতাপিতা তাকে ইহুদী হিসেবে গড়ে তোলে অথবা খৃস্টান হিসেবে গড়ে তোলে অথবা অগ্নি উপাসক হিসেবে গড়ে তোলে।" তাদের মন- মানসিকতা, ব্যক্তিত্ব আবাদি জমির মতন। আজ আমরা যদি তাদের মধ্যে উচ্চ নৈতিকতা, ভাল চরিত্র, সঠিক মূল্যবোধ এবং সম্মান শ্রদ্ধার বীজ বপন করতে পারি কাল তারা সে অনুযায়ী সঠিক বিবেচনাবোধসম্পন্ন মানুষ, আলেম, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান, রাজনীতিবিদ, জাজ, নেতা এবং চিন্তাবিদ আমাদের উপহার দেবে।
নতুন প্রজন্মের জন্ম নেয়া সফলতার রাস্তা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা। কোনো জাতি কেবল তখনই ধ্বংস হয়, যখন তার শিশুরা ধ্বংস হয়ে যায়। আর শিশু-কিশোররা কোনোদিন পাপের পথে পরিচালিত হয় না যতক্ষণ না তারা অবহেলা, অযত্নের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। সম্মানিত নেতা এবং নির্দেশক তার অন্তদৃষ্টি দিয়ে শিশু কিশোর এবং তরুণদের অবস্থান অনুধাবন করেছিলেন। তাদেরকে সেই দিনের জন্য প্রস্তুত করা যেদিন তারা দায়িত্ব কাধে তুলে নেবে এবং সমাজের নেতৃত্ব দেবে সেদিনের জন্য দিক নির্দেশনা দেয়া এবং বড় করার সকল পদক্ষেপ নিতেন।
মহানতম নেতা এবং সম্মানিত শিক্ষক রসুলুল্লাহ -এর জীবনকে বিশ্লেষণ করে, আমি পর্যবেক্ষণ করলাম তিনি এই ব্যাপারে যেসব দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন সেগুলোকে চারটি প্রধান দিকে ভাগ করা যায়।

টিকাঃ
৫৩. সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং ৪৫১০

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 প্রথম দিক : প্রাপ্ত বয়স্কদের সমাবেশে তাদের উপস্থিতি

📄 প্রথম দিক : প্রাপ্ত বয়স্কদের সমাবেশে তাদের উপস্থিতি


নবী -এর নবুয়তের গুরুদায়িত্ব এবং তার সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও শিশু কিশোররা অবাধে তার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারত। আর তাই, পদমর্যাদা বা সম্মান যতই হোক না কেন, মানুষের উচিত নয় শিশু কিশোর ও তার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, এই ভেবে যে, তা তার সম্মান রক্ষা করে এবং গাম্ভীর্য তৈরী করে।
রসূল -এর চেয়ে বেশি মর্যাদাশীল কেউ নেই এবং রেসালাতের দায়িত্বের চেয়ে বড় কোনো দায়িত্ব নেই। নবী তাঁর এবং তাঁর নাতি- নাতনিদের মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন নি, তার কোনো সাহাবীও তা করেন নি। বরঞ্চ, তিনি তাঁর কথা এবং মর্যাদা দ্বারা সাহাবীদের ব্যাখ্যা করতেন তাদের এরকম চিন্তা নিতান্তই ভ্রান্ত যে শিশুদের খেলাধূলা লাফালাফি তাকে ব্যাথা দেয়, বিঘ্ন ঘটায় বা বিরক্ত করে।
বিপরীতে, তিনি ছোট-বড় উভয়কেই শৃঙ্খলা, নীতিবোধ এবং উত্তম নৈতিকতা শেখানোর সকল সুযোগ গ্রহণ করতেন। শিশুদেরকে বড়দের থেকে আলাদা করা শিক্ষা দিক্ষার ভাল কোনো উপায় হতে পারে না। কত সুন্দর সেই দৃশ্য যখন মানুষরা তার ছোট সন্তানদেরকে মেহমানদের আপ্যায়নের সাথে সম্পৃক্ত করে, যখন বন্ধু বান্ধবদের সাথে থাকে, তাদেরকেও সাথে নেয়। যদি একটা শিশু তার ছোট্ট পরিসরেই আবদ্ধ থাকে তাহলে কিভাবে সে বড় হবে এবং তার চরিত্র উন্নত হবে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00