📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 “তোমার বস্ত্র পুরোনো কর ও জীর্ণ কর”

📄 “তোমার বস্ত্র পুরোনো কর ও জীর্ণ কর”


উম্মে খালিদ বিনতে খালিদ ইবনে সাইদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সাথে রসূলুল্লাহ -এর কাছে আসলাম। আমার গায়ে তখন হলুদ রং এর জামা ছিল। রসূলুল্লাহ বললেন, সানাহ সানাহ। আব্দুল্লাহ বলেন, হাবশী ভাষায় সানাহ" এর অর্থ সুন্দর, সুন্দর। উম্মে খালিদ বলেন, আমি তখন মোহরে নবুয়ত নিয়ে খেলতে লাগলাম। আমার পিতা আমাকে ধমক দিলেন। রসূলুল্লাহ বলেছেন, ওকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দাও। এরপর রসূলুল্লাহ বললেন, “তোমার বস্ত্র পুরোনো কর ও জীর্ণ কর, আবার পুরোনো কর, জীর্ণ কর, আবার পুরোনো কর। জীর্ণ কর। তিনবার বললেন।
আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি দীর্ঘ আয়ু প্রাপ্ত হিসেবে লোকের মধ্যে আলোচিত হয়েছিলেন।

অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা
আলোচ্য ঘটনাটি নিয়ে একটু ভাবা যাক। ঘটনাটি পড়লে এবং এর প্রত্যেক ছত্র ভাল করে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়-
রসূলুল্লাহ -এর নিকট যারাই আগমন করতেন। তারা সকলেই নিশ্চিতভাবে জানতেন তিনি তাদেরকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাবেন। শিশু কিশোররাও তাঁর নিকট আসত এবং তাঁর চারপাশে খেলাধুলা করত। শিশু কিশোরদের সাথে তাঁর সদাচার তারা মসজিদের অভ্যন্তরে, এমনকি নামাজের সময়ও প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা দেখেছেন হাসান এবং হুসাইন (রা) মসজিদে যেতেন, এর উঠোনে খেলা করতেন এবং রসূলুল্লাহ এর পিঠে চড়তেন। তারা লক্ষ্য করতেন প্রশিক্ষক এবং পথ নির্দেশক নবী (সা) বিস্তারিত উপদেশের মাধ্যমে শিশু কিশোরদের ওপর সদয় আচরণ, তাদের স্নেহ করা এবং তাদের কাজের প্রশংসা করার ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন।
রসূল -কে তারা অনেক সময় নামাজ সংক্ষিপ্ত করতে লক্ষ্য করেছেন। নামাজ হলো কালিমার পর ইসলামের দ্বিতীয় ভিত্তি। শত্রুর আক্রমণ বন্ধুর নিমন্ত্রণ কোনো কিছুই তার নামাজকে সংক্ষিপ্ত করতে পারেনি। কিন্তু যখনই তিনি পেছনের কাতার থেকে কোনো শিশুর কান্নার শব্দ পেতেন, তিনি নামাজও সংক্ষিপ্ত করতেন।
অন্যভাবে বললে, নবী শিশুদের জন্য মসজিদের দরজা সবসময় খোলা রাখতেন। তাদের সরলতার ব্যাপারে সজাগ ছিলেন যদিও তারা শিশুসুলভ খেলাধুলায় মত্ত থাকত।

টিকাঃ
৫০. আল-জামি আস সাহীহ লিল বুিখারী হাদীস নং ৫৬৬

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 খালিদ ইবনে সাইদের জন্য উম্মু খালিদ ‘দাসী কন্যা’

📄 খালিদ ইবনে সাইদের জন্য উম্মু খালিদ ‘দাসী কন্যা’


ছোট মেয়েটি বাবার সাথে নবী -এর নিকট পৌঁছানোর সময় তার এমন আশংকা হয় নি সে যে উপেক্ষিত হতে পারে। যখন নবী তাকে দেখলেন, তার অলংকার সাজগোজ নিরিক্ষণ করলেন, তিনি তাকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং তার সমুচিত প্রশংসা করলেন। সে ছিল ছোট্ট বালিকা, তার বয়স ছিল কোমল, হৃদয় ছিল স্নেহে পরিপূর্ণ। অন্য সকল মানুষের মত তার কিছু চাওয়া ছিল। অনুপ্রেরণার প্রয়োজন ছিল।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 বড়দের সাথে সময় কাটানো

📄 বড়দের সাথে সময় কাটানো


ক্ষমাশীল নেতা নবী মেয়েটির বাবার প্রতি যতটুকু মনোযোগী ছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগী ছিলেন মেয়েটির প্রতি, তার সুন্দর বাহারী সাজসজ্জার প্রতি। সেই সময় অলংকার ছিল মোটামুটি দুষ্প্রাপ্য। বহুদিন মুসলিমগণ খাবার এবং পোশাকের মত মৌলিক চাহিদাগুলি ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারেন-নি। তারা মদিনায় এবং তার পূর্বে মক্কায় অবরুদ্ধ হয়েছিলেন। এসব পরিস্থিতি তাদেরকে উপাদেয় খাবার এবং বিলাসী খাবার থেকে দূরে রেখেছিল।
যেই কঠিন সময়ে তারা দিনাতিপাত করতেন তা সেই ছোট্ট মেয়েটির চিন্তার জগতে খুব অল্পই প্রভাব ফেলেছিল। তার শিশুসুলভ ঝোক ছিল অলংকারের প্রতি, সুন্দর পোশাকে সাজার প্রতি। কেন তার এই ঝোক? "যে অলংকারে লালিত-পালিত হয় এবং বিতর্কে কথা বলতে অক্ষম।"
সুতরাং সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা এমনই যেন মানুষের সত্তাগত টানেই এই সৃষ্টিগুলি অলংকারে সজ্জিত হয়ে বড় হয়ে ওঠে।
মহান শিক্ষক নবী একথা ভাল করেই জানতেন। এ কারণেই রিসালাতের ভার এবং আন্দোলনের চাপ ছোট্ট বালিকাটির পরিহিত পোশাকের জাকজমক থেকে তাঁর মনোযোগ দূরে রাখতে পারে নি। সুন্দর জাকজমকপূর্ণ হলুদ জামা। তিনি বললেন, “সানাহ! সানাহ!” ইথিউপিয়ান এই শব্দের অর্থ “সুন্দর! সুন্দর!”

টিকাঃ
৫১. আজ জুখরুফ আয়াত-১৮

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আসবাব ছাড়া বাড়ি

📄 আসবাব ছাড়া বাড়ি


যখন ছোট্ট মেয়েটি তাঁর উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল, মেজবানের মুগ্ধ প্রশংসায়, ভয়ের যে দেয়াল ছিল তা ভেঙ্গে গেল এবং সংশয়ের বেড়া উপড়ে পড়ল, তখন মেয়েটি তার নিজের স্বভাবজাত স্বাভাবিক আচরণ প্রকাশ করার জন্য অনুপ্রাণিত হলো। এভাবেই মেয়েটি কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বাসায় প্রবেশ করল এবং বাড়ির প্রত্যেকটা কোনায় ঘুরে বেড়াল।
যখন সে তার শিশুসুলভ চোখে আকৃষ্ট হওয়ার মত কিছুই খুঁজে পেল না, সে পথপ্রদর্শক এবং শিক্ষক নবী -এর নিকট আসল। সে দেখল। সাধারণ মানুষের মত তিনিও একজন মানুষ, শুধু অন্যান্যদের থেকে তাঁর কিছু উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। তিনি ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল এবং সরল মনের মানুষ। তাঁর সরলতা এবং কোমলতা তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। নবী -এর দুই ঘাড়ের, সঠিকভাবে বললে বাম ঘাড়ের কিছু নিকটে, কবুতরের ডিমের মত আকৃতির নবুয়তের মোহরের দিকে বালিকাটির দৃষ্টি আকর্ষিত হলো। সে মোহরটির কাছে আসল এবং তা তাকে আকৃষ্ট করে ফেলল। তার মনের মধ্যে কিছু সংশয়েরও আবির্ভাব হলো, রসূলুল্লাহ আবার রাগ করেন কিনা, কিন্তু ইতোপূর্বে তাঁর সম্মন্ধে যে ধারণা তার মনে জন্মেছিল, তা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বালিকাটি নবী (সা)-এর পবিত্র পিঠে খেলা করা শুরু করল। সে খেলছিল এবং খেলছিল, এবং তার মনের মধ্যে এই ভয় কাজ করেনি যে, তিনি রাগ করবেন অথবা অস্বস্থি বোধ করবেন। অথচ মেয়েটিই বাবার অভিযোগ করলেন, “আমার বাবা আমাকে তিরস্কার করেছিলেন”
মহান নেতা নবী আকাশের দিকে তাঁর হাত উত্তোলনের মাধ্যমে সভা শেষ করলেন, ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যতের জন্য দুয়া করলেন, তার আগামী দিনগুলি এবং আগামী বয়সের জন্য; তার হলুদ পোশাকের দিকে তাকিয়ে তিনি আল্লাহর নিকট তার দীর্ঘ জীবন চেয়ে দোয়া করলেন যাতে আল্লাহর দাসত্ব এবং আনুগত্যে তার জীবন অলংকৃত হতে পারে।
ইয়া আল্লাহ, রসুলুল্লাহ -এর প্রতি দুরুদ ও সালাম। যিনি ছিলেন দয়াশীল নবী, সদয় রসুল, সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ এবং দয়াশীল মানুষদের নেতা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00