📄 ষষ্ঠ অধ্যায়ের মূলকথা
নবী-এর যুগ ছিল গাম্ভির্যতার যুগ। তাদের যুগ ছিল কাজ, জিহাদ আর ধৈর্যের। এত কিছু সত্ত্বেও নবী এবং তাঁর সাহাবাগণ যথেষ্ট সুন্দর এবং মায়াবী মানসিকতার অধিকারী ছিলেন। যা থেকে বিকশিত হতো শালীন কৌতুক এবং নিয়ন্ত্রিত রসিকতা। যেগুলো শুরু হতো সত্য দিয়ে আর শেষ হতো উচ্ছাস আর ভালবাসা দিয়ে। এই জীবন ছিল সুন্দর জীবন, সুখী জীবন।
📄 ছয় নং মুক্তাদানা
উসায়েদ ইবনে হুদায়ের থেকে বর্ণিত। মানুষের মাঝে বক্তৃতা করার সময় আনসারদের মধ্যে একজন এমন কিছু বললেন যা হাসির উদ্রেক করে। যেহেতু সে সবার সাথে ঠাট্টা করছিল নবী লাঠি দিয়ে তার পাঁজরে খোঁচা দিলেন। আনসার ব্যক্তিটি বললেন, “আমাকে প্রতিশোধ নিতে দিন”। রসূল বললেন, “ঠিক আছে, তুমি প্রতিশোধ নাও।” আনসার ব্যক্তিটি বললেন, “আপনি তো জামা পরে আছেন, কিন্তু আমার গায়ে জামা নেই।” নবী তাঁর জামা উঁচু করে ধরলেন এবং আনসার ব্যক্তিটি তাঁকে জড়িয়ে ধরে তাঁর পার্শ্বদেশে চুমু খাওয়া শুরু করলেন। তিনি বললেন, “আমি এটাই চেয়েছিলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ।”
টিকাঃ
৩৮. সুনান আবু দাউদ হাদীস নং ৫২০৫, আল-মুসতাদরাক, হাদীস নং ৫২8২
📄 মনে রাখা দরকার
একজন যোগ্য নেতা হওয়ার জন্য আপনার উন্নত রসবোধকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন। আপনার চরিত্র প্রশংসিত হবে, আপনার সম্পর্কগুলি আন্তরিক হবে।
يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ ۚ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا ۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ
অর্থঃ “তিনি যাকে খুশি প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, তাকে দান করা হয়েছে প্রভূত কল্যাণ। আর বুদ্ধিমান ব্যতিত কেউই ইহা আঁকড়িয়ে ধরে না।”
আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে। এটা হচ্ছে জ্ঞান। বলা হয়ে থাকে, এর অর্থ হলো কোনো বিষয়কে বুঝতে পারা। আরও বলা হয়ে থাকে এর অর্থ সঠিক ব্যাপারটি বলা।
টিকাঃ
৩৯. আল-বাকারা (২ : ২৬৯)
৪০. জুদাতুত তাফসীর লিল আসকার, পৃষ্ঠা নং ৫৯