📄 স্বাধীন দাস
উম্মে সালামাহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী-এর ওফাতের এক বছর পূর্বে আবু বকর ব্যবসা উপলক্ষে বাসরা গেলেন, তার সাথে ছিলেন নু'আইমান এবং সুয়াইবিত ইবন হারমালাহ। তারা উভয়ে বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। নুআইমান বদরের পাথেয় এর দায়িত্বে ছিলেন এবং সুয়াইবিত ছিলেন কৌতুকপ্রিয় লোক। তিনি নুআইমান কে বলেন, "আমাকে কিছু খাবার দিন।" তিনি বললেন, "আবু বকর এসে নিক" তারপর তিনি বললেন, "আচ্ছা, আমি আপনাকে নাজেহাল করে ছাড়াব"। রাবী বলেন, পরে তারা একটি বস্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সুয়াইবিত তাদের বললেন, "তোমরা কি আমার কাছ থেকে আমার একটি গোলাম কিনবে?" তিনি বললেন, এ এমন একটা গোলাম, যার একটা আওড়ানো বুলি আছে। সে তোমাদের বলবে, আমি আযাদ, (দাস নই), তার এ কথায় তোমরা তাকে ছেড়ে দিয়ে আমাকে এ গোলামের ব্যাপারে অসুবিধায় ফেলো না।' তারা বলল, "না, আমরা বরং তাকে খরিদ করবই"। অতঃপর তারা তাকে দশটি উটের বিনিময়ে খরিদ করল। পরে তার কাছে এলো, তারা তার গলায় পাগড়ী কিংবা রশি পেঁচিয়ে ধরল। নুআইমান তখন বলল, "এ লোক তোমাদের সাথে পরিহাস করছে, সত্যি আমি আযাদ, দাস নই।" তারা বলল, তোমার সব খবরই আমাদের বলা হয়েছে।" তখন তারা তাকে নিয়ে গেল। পরে আবু বকর (রা:) আসলে সাথিরা তাকে এ বিষয়টি অবহিত করল। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি লোকদের অনুসরণ করলেন এবং তাদের উট ফেরত দিয়ে নু'আইমান -কে ছাড়িয়ে আনলেন। রাবী বলেন: নবী ও তাঁর সাহাবীরা তাকে নিয়ে এক বছর যাবত হেসেছিলেন।"
টিকাঃ
১০. কলাইস শব্দটি কুলস এর বহুবচন অর্থ যুবক উট, আন-নিহায়াহ গরীবাল হাদীস ওয়াল আমার -(৪/১০০)
📄 জান্নাতের বৃদ্ধ মহিলা
সম্মানিত শিক্ষক এবং পথপ্রদর্শক নবী -এর নিকট একজন বৃদ্ধ মহিলা আসলেন। তিনি বললেন, "ইয়া রসূলুল্লাহ, আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।" নবী তাকে বললেন, "হে অমুকের মাতা! বৃদ্ধারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।" বৃদ্ধা মহিলা কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলেন। নবী তার সাহাবাদের বললেন, "তাকে বল যে, সে বৃদ্ধা অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কেননা, আল্লাহ বলেছেন-
إِنَّا أَنْشَأْنُهُنَّ إِنْشَاءُ . فَجَعَلْنَهُنَّ أَبْكَارًا . عُرُبًا أَتْرَابًا.
অর্থ: "আমি সৃষ্টি করেছি। অসাধারণ সব সৃষ্টি। আর তাদেরকে তৈরী করেছি কুমারী, পুতঃপবিত্র, প্রেমময়, সমবয়স্কা।
টিকাঃ
১১. সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৩৭৩৫
১২. আল-ওয়াকিয়াহ - (৫৬:৩৫-৩৭)
১৩. শাফায়িলুল মুহাম্মাদীয়াহ লিত তিরমিজ, হাদীস নং ২৩৫.
📄 শেষ কথা
যদি কোনো আলেম অথবা ফকিহ ব্যক্তি রসিকতা করাকে অনুমোদন না করেন, তাহলে আমাদের দেখতে হবে এ ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নবী এবং তার সাহাবীগণের দৃষ্টিভঙ্গি কি ছিল। মতবিরোধ নিরসনের এটাই শ্রেষ্ঠ পন্থা। হাসি-ঠাট্টা, কৌতুক, রসবোধ এমন বিষয় যা আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নবী -এর বিভিন্ন কথা এবং কাজের দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে। রসূল তার কথা এবং কাজের দ্বারা এমন মানুষের জীবন উপস্থাপন করে গেছেন যিনি হাসতে ভালবাসতেন, কৌতুকে সাড়া দিতে ভালবাসতেন, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে ভালবাসতেন, উত্তম চরিত্রবান হতে ভালবাসতেন, প্রশংসনীয় কাজ করতে ভালবাসতেন, সুন্দর অনুভূতির অধিকারি হতে ভালবাসতেন।
মানুষের প্রবল গাম্ভির্যের সাথে অল্প কিছু রসবোধ উপস্থিত থাকা খুবই উত্তম। বক্তৃতা করার সময় কিছু কৌতুক করা, কথা বলার সময় মাধুর্য্য আর প্রজ্ঞার সুষম বিন্যাস ঘটানো খুবই ভাল কাজ।
📄 খাবারের লবণ
রসিকতা হচ্ছে, লবণের মত। একজন শিক্ষক, একজন শায়েখ, একজন বিজ্ঞ আলেম অথবা একজন সমাজ সংস্কারকের উচিত কৌতুককে পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা যেমনটি খাদ্যে লবণ ব্যবহার করা হয়। খাবারে লবণের পরিমাণ হতে হয় একদম ঠিক ঠিক। লবণ কম হলে খাবারের স্বাদ পূর্ণ হবে না। আবার বেশী হয়ে গেলে তা সম্পূর্ণ খাবারকে নষ্ট করে ফেলবে।