📄 জীবন মানে এগিয়ে চলা
জীবন একটি কঠিন যাত্রা যার মধ্যে আনন্দ যেমন আছে, বেদনাও তেমনি আছে। কোনো মানুষই জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত দিক থেকে মুক্ত নয়। আর এ কারণেই মানুষের কিছু বিনোদনের প্রয়োজন অবশ্যই আছে, যা তার অনাকাঙ্ক্ষিত নিরাশার দিকগুলিতে আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়। যার ফলে কাজের চাপ এবং মানসিক অবসাদ মানুষের আনন্দ আর জীবনের সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিতে পারে না।
এই বিনোদনের একটি অংশই হচ্ছে রসবোধ, কৌতুক, ইত্যাদি যা অন্তরের ব্যথা, কপালের ভাজ আর জীবনের নিরাশাকে দূর করে। অবশ্যই এটাও জীবনের শিল্প এবং নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় একটি গুণ। আর এই গুণ কেবল তখনই অর্জন করা সম্ভব যখন একজন নেতা, একজন আলেম, একজন পিতা, একজন ধর্মপ্রচারক, একজন শিক্ষক তার জীবনের দুটি গুরুত্ব অংশের মধ্যে ভারসাম্য আনতে পারেন। প্রথম অংশটি হলো সেই গুরুদায়িত্ব যা কাঁধে নিয়ে তিনি পথ চলছেন এবং দ্বিতীয় অংশটি হলো সেই গুরুদায়িত্বের মাঝে প্রয়োজনীয় বিনোদন।
আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নবী এবং আল্লাহ প্রদত্ত মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালনকারী রসূলুল্লাহ-এর জীবনের মধ্যেও কৌতুক আর রসবোধের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। এই কৌতুকগুলি একই সাথে হাসির সম্ভার করে, আনন্দ দেয় এবং সেই সাথে রসূল-এর প্রশংসিত মার্জিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিও রক্ষা করে।
ইয়া আল্লাহ! আপনার দাস এবং দূত মুহাম্মাদের ওপর আপনার শান্তি এবং করুণা বর্ষণ করুন।
📄 সাহাবাদের সাথে
আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণিত। একজন লোক রসূলুল্লাহ -এর নিকট চড়ার জন্যে একটা উট ধার চাইলেন। রসূলুল্লাহ তাকে বললেন, "আমি তোমাকে মাদী উটের একটা বাচ্চা দিচ্ছি।" লোকটি বললেন, "ইয়া রসূলুল্লাহ! মাদী উটের বাচ্চা দিয়ে আমি কি করব?" রসূলুল্লাহ (সা) প্রত্যুত্তরে বললেন, "সব উটই কি কোনো না কোনো মাদী উটের বাচ্চা নয়?"
টিকাঃ
৬. সুনানুত তিরমিজি- হাদীস নং ১৯৮৩, হাদীসটি হাসান গরীব।
📄 দুই কানওয়ালা
আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ তাকে বললেন, "ওহে দুই কানওয়ালা!" এখানে নবী ঠাট্টাচ্ছলে আদর করে আনাস (রা)-কে "ওহে দুইকানওয়ালা” বলে সম্বোধন করেছেন। মানুষের কান দুইটাই থাকে কিন্তু হঠাৎ করে এমন অদ্ভূত বর্ণনায় সম্বোধন মানুষকে অবাক না করে পারে না।
মানুষের মন আপনাতেই নিজের সামনে একটি আয়না এনে দাড় করায়, যার মাধ্যমে মনে মনে সে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখে তার কয়টা কান আছে। কানত দুইটাই থাকে। সবাই খুব ভাল করেই তা জানে। কিছু “ওহে দুই কানওয়ালা!” সম্বোধনটাও আশ্চর্য শুনায়। তাই যখন আশ্চর্য হওয়া ভাবটা কেটে যায় তখন যেন নতুন করেই ব্যাপারটা ধরা পড়ে। আরে! কান তো দুইটাই!
আর তখনই মানুষ “ওহে! দুই কানওয়ালা!” কথাটির পিছনের কারণটা বুঝতে পারে। তার সাথে কৌতুক করা হয়েছে। মনের অজান্তের তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
টিকাঃ
*. সূনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০০২. ও ৩৮২৮.
📄 এই গোলামকে কে কিনবে?
আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহির ইবনে হিজাম অথবা হিরাম জনৈক বেদুইন ছিল যাকে নবী খুব ভালবাসতেন। বেদুইনটি ছিলেন কুৎসিৎ চেহারার। একদিন বেদুইনটি বাজারে সদাই বিক্রি করছিলেন। এমন সময় রসূলুল্লাহ তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন। বেদুইনটি দেখতে পাচ্ছিল না যে রসূলুল্লাহ তাকে জড়িয়ে ধরেছেন। তাই তিনি বলে উঠলেন, "আমাকে ছেড়ে দাও! কে এইটা?"
এরপর বেদুইনটি পিছনে ফিরলেন এবং দেখলেন এটা স্বয়ং রসূলুল্লাহ! রসূলুল্লাহ-এর বুকের সাথে নিজের পিঠ লেগে যাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। রসূলুল্লাহ বললেন, "কে আছ এই গোলামকে কিনবে?" জহির বলে উঠলেন, "ইয়া রসূলুল্লাহ! আল্লাহর শপথ আমার দাম তো অল্প।” নবী বললেন, "কিন্তু আল্লাহর নিকট তোমার দাম অল্প নয়।” অথবা তিনি বলেছেন, "আল্লাহর নিকট তোমার দাম অনেক বেশি।"
টিকাঃ
*. সূনান আল-কুবরা লিল বায়হাকী হাদীস নং ১৯৭২৯ ও মুসনাদ ইমাম আহমাদ হাদীস নং ১২৪১৮