📄 হাদীসটির পঠন
হাদীসটিতে একজন মহিলা সাহাবীর ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। যিনি তার বানানো কিছু খাবার রসূলুল্লাহ -কে দাওয়াত করে খাওয়াতে চেয়েছিলেন। দাওয়াতটি তিনি উপস্থাপন করলেন স্বামীর পক্ষ হতে।" আমার স্বামী আপনাকে দাওয়াত করেছেন।" যাতে রসূলুল্লাহ বুঝতে পারেন তারা দুইজন স্বামী স্ত্রীই এই দাওয়াতের ব্যাপারে একমত। রসূলুল্লাহ তাঁকে তার স্বামীর নাম জিজ্ঞেস করলেন, এবং কোনো ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চাচ্ছিলেন। মহিলাটি উত্তর দেবার আগেই রসূলুল্লাহ (সা) বললেন, “সে কি ঐ ব্যক্তি যার চোখের একটি অংশ সাদা?"
মহিলাটি রসূলুল্লাহ -এর কৌতুকটি ধরতে না পেরে মনে মনে বিচলিত হয়ে উঠলেন। মহিলাটি ভাবলেন, চোখের একটি অংশ সাদা বলতে রসূলুল্লাহ চোখের কোনো রোগের কথা বুঝিয়েছেন। যার দরুণ কোনো মানুষের দেখতে সমস্যা হয় অথবা পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া অসুস্থ চোখের কারণে মানুষের চেহারার স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যও নষ্ট হয়। মহিলাটি কিছুক্ষণ আগেই স্বামীর নিকট থেকে এসেছেন। তাই মহিলাটি আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন, তার স্বামীর চোখে কোনো সাদা অংশ নেই, রসূলুল্লাহ পুনরায় নিশ্চিত করলেন, "অবশ্যই তার স্বামীর চোখে সাদা অংশ আছে। এবার মহিলা সাহাবী মনে মনে একটু ভয়ই পেলেন, তার বিচলতা এমন পর্যায়ে পৌছাল যেন তিনি তার স্বামীর ব্যাপারে কিছুই জানেন না।"
এবার মহিলাটি পূর্বের চেয়ে সংক্ষেপে উত্তর দিলেন, তিনি বলেন, "আল্লাহর শপথ, না!” মহিলাটির বিচলতা যখন চরম পর্যায়ে পৌছাল তখন রসূলুল্লাহ তাঁর কৌতুকটি বুঝিয়ে দিলেন, "এমন কোনো মানুষ নেই যার চোখে সাদা অংশ নেই।"
রসূলুল্লাহ-এর সাথে কথোপকথনের সময় মহিলা সাহাবী চরম বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। আর এ মুহূর্তটি সকল রহস্যের যবনিকাটা টেনে মহিলা সাহাবীর মনে স্বস্থি ও আনন্দের সঞ্চার করল।
📄 একজন সফল নেতার ষষ্ঠ গুপ্ত রহস্যঃ পরিমিত কৌতুক প্রবণতা এবং নিয়ন্ত্রিত হাস্যরস
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 রহস্যটির মূল ভিত্তি
কৌতুক এবং মানবসূলভ হাসি ঠাট্টা সৃষ্টি জগতের মধ্যে একমাত্র মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান। আর এই বৈশিষ্ট্যই মানুষকে অন্যান্য সব প্রাণী থেকে আলাদা করেছে। এটি আল্লাহর একটি বিশেষ রহমত যার সাহায্যে মানুষ তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে। "আর তিনি হাসান এবং কাঁদান।”
ইসলাম একটি মহান ধর্ম। এটি মানুষের জৈবিক চাহিদা যেমন হাসি ঠাট্টা, কৌতুক এবং আমোদ প্রমোদকে রহিত করে না বরং জীবনকে সুন্দর এবং প্রফুল্ল রাখার প্রত্যেক উপাদানকেই ইসলাম স্বাগত জানায়। ইসলাম আশা করে একজন মুসলিমের জীবন হবে আনন্দঘণ এবং প্রাণশক্তিতে ভরপুর। ইসলাম কখোনই নিরাশাবাদী ব্যক্তিত্বকে সমর্থন করে না। যা মানুষকে সমাজের অন্যান্য মানুষ এবং অংশ থেকে পরিপূর্ণরূপে বিষণ্ণ করে তোলে। অত্যাধিক গাম্ভির্যতা সত্যিকার একজন মানুষের চরিত্রের অংশ হতে পারে না। আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং তাঁর আদেশ নিষেধ বাস্তবায়নের জন্য অত্যাধিক গাম্ভির্য গুরুত্বপূর্ণ অংশও নয়。
টিকাঃ
২. আন-নাজম (৫৩: ৪৩)
📄 মানুষ এবং যন্ত্র
সার্বক্ষণিক কাজের মধ্যে থাকা একটি যন্ত্রের বৈশিষ্ট্য। যন্ত্রটি এর বিরোধীতাও করতে পারে না। কারণ তার জীবন নেই। আর মানুষ এমন একটি সৃষ্টি যা বিভিন্ন আবেগ এ পরিপূর্ণ, বিভিন্ন অনুভূতি দ্বারা অনুপ্রাণিত। এই সব আবেগ এবং অনুভূতির কারণে মানুষ গাম্ভির্য এবং হাসি ঠাট্টা উভয়ের মধ্যবর্তী জীবন যাপনে বাধ্য হয়। সে বিশ্রাম নেয় আবার কাজ করে, সে কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে আবার চুপচাপও থাকে। একটি পরিস্থিতি থেকে অন্য একটি পরিস্থিতিতে মানুষ যেতে থাকে, তাকে তার চারপাশের পরিবর্তনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। এবং তার চারপাশের পৃথিবীর আবর্তনকে মেনে নিয়েই মানুষকে জীবনের ছন্দ খুঁজে পেতে হয়।
মানুষের চারপাশের এই পরিবর্তন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিকে মোড় নেয়। চারপাশের এই পরিবর্তন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা কখনোই সমীচীন হতে পারে না। তাই একজন মানুষের উচিত প্রত্যেক পরিস্থিতি সুন্দর করে বোঝা এবং সেই অনুযায়ী পরিস্থিতিকে চতুরতার সাথে মোকাবেলা করা।
আলী ইবন আবু তালিব (রা:) বলেছেন, " তোমরা অন্তরের প্রশান্তি লাভের চেষ্টা কর আর তার জ্ঞানের চাহিদা মিটাও। মানুষ যেমন ক্লান্ত হয়, অন্তরও তেমনি ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
طٰه . مَا اَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقٰى .
"ত্বহা! আমরা আপনার নিকট কুরআন এই কারণে অবতীর্ণ করি নাই যে তা আপনাকে পীড়া দেবে।
রসূল এই আয়াত সঠিকভাবে অনুধাবন করেছিলেন, আর এ কারণে বিভিন্ন বিষয়ে তার দায়িত্ব-কর্তব্য, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছিলেন সেই লক্ষ্যের বিভিন্ন কর্তব্যসমূহ পালনের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি তার কাজের মধ্যে হাস্যরসকে সংযুক্ত করেছেন। তার রসবোধ প্রবল ছিল। তিনি কখনোই সত্য ছাড়া কিছু বলতেন না।
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা আরজ করলেন, "ইয়া রসূলুল্লাহ! আমরা দেখি আপনি আমাদের সাথে হাসি তামাসা করেন।" রসূলুল্লাহ বললেন, "আমি তো শুধু সত্যই বলি" তিনি সাহাবা এর সাথে সাধারণ জীবন যাপনই করতেন। যেমনিভাবে তিনি তাদের সাথে কষ্ট ও দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতেন, তেমনিভাবে হাসিঠাট্টা, খেলাধুলা এবং কৌতুকগুলোকেও তিনি তাদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতেন।
টিকাঃ
১. আল-জামি আল-আখলাকার রায়ী ওযা আদাবাস সামী; হাদীস নং ১৪০০
২. ত্ব-হা (২০:১-২)
৩. তিরমিযী- হাদীস নং ১৯৮২ বলা হয়েছে হাদীসটি হাসান।