📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আবু আইয়ুব

📄 আবু আইয়ুব


আবু হুরায়রা-এর বরাতে বলা হয়েছে 'মহানবী সাফীয়াকে বিবাহ করার সময় আবু আইয়ুব সে রাতটা নবী-কে প্রহরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সকালে তিনি রসূলে করীম-কে দেখে তকবীর করে উঠলেন। তাঁর হাতে ধরা ছিল তরবারী। তিনি বললেন, 'হে রসূলে করীম (সা) দাসীটির সদ্য বিয়ে হয়েছে এবং আমি তার পিতা। ভাই ও স্বামীকে হত্যা করেছি। আমার আশঙ্কা ছিল সে আপনার ক্ষতি করতে পারে।' নবী (সা) হাসলেন এবং তাকে কিছু সুবচন শোনালেন।”

টিকাঃ
২৬. আল হাকীমের আল মুস্তদ্রাক গ্রন্থে বর্ণিত ৬৮৬২ নং হাসীস।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 সিংহাসনে আসীন বাচ্চাদের মতো

📄 সিংহাসনে আসীন বাচ্চাদের মতো


আনাস ইবনে মালিকের বরাতে জানানো হয়েছে যে উম্মে হিরাম বলেছেন, "নবী দুপুর বেলায় আমার বাড়িতে বিশ্রাম করছিলেন। ঘুম থেকে জেগে উঠে তিনি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম, হে রসূলে করীম (সা) আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতাকে বিসর্জন দেয়া হোক। এখন বলুন কি কারণে হাসছেন? তিনি বললেন, 'আমার জাতির কিছু লোক সমুদ্র যাত্রা করবে এবং তারা হবে সিংহাসনে আসীন বাচ্চাদের মতো।' উম্মে হিরাম বললেন, হে রসূলে করীম আমাকেও তাদের একজনে পরিণত করার জন্য আল্লাহকে বলুন। তিনি বললেন, 'তুমি ও তাদের একজন হবে।”

টিকাঃ
২৭. আবু উরানাহ তাঁর মুসতাখারজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সমুদ্র অভিযানের সুবিধা প্রদর্শন বিষয়ক অধ্যায় ৬০১৩ নং হাদীস।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 কেন হাসছেন

📄 কেন হাসছেন


সুহাইব-এর বরাতে বলা হয়, “নবী বসে ছিলেন। সহসা হেসে উঠলেন। তিনি বললেন, কেন হাসছি আমাকে কি জিজ্ঞাসা করবে না? ওরা তখন বলল। কেন হাসছেন? তিনি বললেন একজন বিশ্বাসীর বিষয়াবলির কথা ভেবে বিস্ময়বোধ করছি। তার সকল বিষয়ের মধ্যে তার জন্য কল্যাণ নিহিত আছে। তার কল্যাণকর কিছু হয়ে থাকলে সে তার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে এবং সেটা করা তার জন্য উত্তম। তাঁর মন্দ কিছু হয়ে থাকলে সে ধৈর্য ধারণ করে এবং সেটাও তার জন্য উত্তম। এটা সবার জন্য নয়, কেবল বিশ্বাসীদের জন্য।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 তাকে স্পর্শ করল ও চুম্বন করল

📄 তাকে স্পর্শ করল ও চুম্বন করল


আব্দুল্লাহ ইবনে আকাসের বরাতে বলা হয়, “স্বামী দূরে কোথাও আছেন এমন এক মহিলা জনৈক ব্যক্তির কাছে কিছু একটা কিনতে এলো। লোকটি তাকে বলল, "ভিতরে প্রবেশ কর যাতে তুমি যা চাইছ তা দিতে পারি।” মহিলা ভিতরে প্রবেশ করলে লোকটি তাকে চুম্বন করল, গায়ে হাত দিল। মহিলা বলল, ধিক তোমাকে! আমার স্বামী দূরে আছেন।' লোকটি তাকে ছেড়ে দিল এবং কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করল। সে উমরের কাছে এসে তার কৃতকর্মের কথা বলল। উমর তাকে বললেন, 'ধিক তোমাকে। তার স্বামী দূরে কোথাও থাকতে পারে।' সে বলল হ্যাঁ, তার স্বামী আসলেই দূরে কোথাও গেছে।' উমর তাকে আবু বকরের কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে কি করণীয় তাকে জিজ্ঞাসা করতে বললেন লোকটি আবু বকরের কাছে এসে তার কৃতকর্মের কথা জানান। আবু বকর তাকে বললেন, 'ধিক তোমাকে! তার স্বামী দূরে কোথাও থাকতে পারতো। লোকটি বলল হ্যাঁ, তার স্বামী আসলেই দূরে কোথাও আছে। তিনি তখন তাকে বললেন, 'নবী -এর কাছে যাও এবং তুমি যা করেছ তা তাকে জানাও। লোকটি মহানবীর-এর নিকট এসে তার কাহিনীটা বললেন। তিনি তাকে বললেন, 'মহিলার স্বামী দূরে কোথাও থাকতে পারে।' লোকটা বলল, হ্যাঁ তার স্বামী আসলেই দূরে আছে।' মহানবী (সা) চুপ করে রইলেন। তারপর নিম্নোক্ত আয়াতে নাযিল হলো-

وَأَقِمِ الصَّلوةَ طَرَفَي النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ الَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّاتِ ذلِكَ ذِكْرَى لِلذَّكِرِينَ.
অর্থ: দিবসের দুই প্রান্তে এবং রাত্রির আগমনের সময় নিয়মিত সালাতের অভ্যাস প্রতিষ্ঠা কর। নিশ্চয় ভাল কাজ মন্দ কাজকে দূর করে দেয়। এটা তাদের জন্য যারা স্মরণে রাখে।

তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন, লোকটা বলল, হে রসূলে করীম এই আয়াত কি শুধুমাত্র আমার জন্য নাকি সকল মানুষের জন্য? তিনি জানালেন যে, "উমর বলেছেন; “ কোনো কৃপা এককভাবে আপনার জন্য করা হয়নি; বরং সকল জনগণের জন্য করা হয়েছে উল্লেখ করলেন। "নবী হেসে উঠলেন এবং বললেন, "উমর সত্য কথাই বলেছে।"

টিকাঃ
২৮. সূরা হুদ-আয়াত ১১৪।
২৯. আহমাদ প্রণীত মুসনাদ ২০৪ নং হাদীস। হাদীসের ভাষ্যকার আহমদ শাকির বলেছেন: এই হাদীসের পরস্পরাগত বর্ণনা সুস্থ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00