📄 পাহাড়ের ইমাম
আমীর ইবনে আল-আমের বরাতে বলা হয়েছে। "এক শীতের রাতে ঘুমের মধ্যে আমার স্বপ্নদোষ হলো। ভাবলাম এই শীতে পাক গোসল করলে ঠাণ্ডা লেগে আমি অসুস্থ যেতে পারি। তাই তায়াম্মুম করে ফজরের নামাজে সহযাত্রীদের ইমামত করলাম। ওরা ঘটনাটা নবীকে জানিয়ে দিল। নবী বললেন, 'অপবিত্র অবস্থায় কি নামাজে ইমামত করেছ? 'আমি তাঁর কাছে কি কারণে পাক গোসল করতে পারিনি সেটা উল্লেখ করে বললাম, 'শুনেছি আল্লাহ বলেছেন, "আত্মহত্যা কর না। বস্তুতই আল্লাহ তোমার প্রতি সদা করুণাময়।” মহানবী হেসে উঠলেন। কোনো মন্তব্য করলেন না।"
টিকাঃ
২৪. সূরা আন নিসা- আয়াত: ২৯।
২৫. আবু দাউদের সুনান গ্রন্থে বর্ণিত Virtues of the Coreparseion অপবিত্র অবস্থায় থাকা কারো যদি ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে তাকে তায়াম্মুম করার অনুমতি দেয়া আছে। ২৯৬ নং হাদীস। আল মুস্তদ্রাক আলা-আল-সাহীহাইন গ্রন্থে আল হাকীম অনুরূপ এক হাদীসের কথা উল্লেখ করেছেন যা পাক পবিত্র হওয়ার কিতাবের ৫৮৭ নং হাদীস বর্ণিত।
📄 আবু আইয়ুব
আবু হুরায়রা-এর বরাতে বলা হয়েছে 'মহানবী সাফীয়াকে বিবাহ করার সময় আবু আইয়ুব সে রাতটা নবী-কে প্রহরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সকালে তিনি রসূলে করীম-কে দেখে তকবীর করে উঠলেন। তাঁর হাতে ধরা ছিল তরবারী। তিনি বললেন, 'হে রসূলে করীম (সা) দাসীটির সদ্য বিয়ে হয়েছে এবং আমি তার পিতা। ভাই ও স্বামীকে হত্যা করেছি। আমার আশঙ্কা ছিল সে আপনার ক্ষতি করতে পারে।' নবী (সা) হাসলেন এবং তাকে কিছু সুবচন শোনালেন।”
টিকাঃ
২৬. আল হাকীমের আল মুস্তদ্রাক গ্রন্থে বর্ণিত ৬৮৬২ নং হাসীস।
📄 সিংহাসনে আসীন বাচ্চাদের মতো
আনাস ইবনে মালিকের বরাতে জানানো হয়েছে যে উম্মে হিরাম বলেছেন, "নবী দুপুর বেলায় আমার বাড়িতে বিশ্রাম করছিলেন। ঘুম থেকে জেগে উঠে তিনি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম, হে রসূলে করীম (সা) আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতাকে বিসর্জন দেয়া হোক। এখন বলুন কি কারণে হাসছেন? তিনি বললেন, 'আমার জাতির কিছু লোক সমুদ্র যাত্রা করবে এবং তারা হবে সিংহাসনে আসীন বাচ্চাদের মতো।' উম্মে হিরাম বললেন, হে রসূলে করীম আমাকেও তাদের একজনে পরিণত করার জন্য আল্লাহকে বলুন। তিনি বললেন, 'তুমি ও তাদের একজন হবে।”
টিকাঃ
২৭. আবু উরানাহ তাঁর মুসতাখারজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সমুদ্র অভিযানের সুবিধা প্রদর্শন বিষয়ক অধ্যায় ৬০১৩ নং হাদীস।
📄 কেন হাসছেন
সুহাইব-এর বরাতে বলা হয়, “নবী বসে ছিলেন। সহসা হেসে উঠলেন। তিনি বললেন, কেন হাসছি আমাকে কি জিজ্ঞাসা করবে না? ওরা তখন বলল। কেন হাসছেন? তিনি বললেন একজন বিশ্বাসীর বিষয়াবলির কথা ভেবে বিস্ময়বোধ করছি। তার সকল বিষয়ের মধ্যে তার জন্য কল্যাণ নিহিত আছে। তার কল্যাণকর কিছু হয়ে থাকলে সে তার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে এবং সেটা করা তার জন্য উত্তম। তাঁর মন্দ কিছু হয়ে থাকলে সে ধৈর্য ধারণ করে এবং সেটাও তার জন্য উত্তম। এটা সবার জন্য নয়, কেবল বিশ্বাসীদের জন্য।