📄 মেজবানের স্মিত হাসি
সুহারীর জানিয়েছেন যে, "আমি মহানবী-এর কাছে এলাম। তার কাছে কিছু রুটি ও খেজুর ছিল। মহানবী বললেন, এসো কিছু খাও' আমি কিছু খেজুর নিয়ে খেলাম। মহানবী বললেন, 'তুমি খেজুর খাচ্ছো আর তোমার চোখ ব্যথা করছে'? সুহারীর বললেন, 'আমি (যে চোখটা ভাল আছে সেই দিকে) অন্যদিকে থেকে চিবাচ্ছি,' রসূল করিম (সা) স্মিত হাসলেন।
টিকাঃ
১৪. ইবনে মাজহর সুনান গ্রন্থে উল্লিখিত মাহস বিষয়ক অধ্যায়। এই হাদীসের পরমপরাগত কিছু উত্তম বিবরণ আছে। ৩৪৫৮ নং হাদীস।
📄 বক্তার স্মিত হাসি
আনাস ইবনে মালিক বলেছেন, মহানবী-এর জীবদ্দশায় জনগোষ্ঠী একবার দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল। একদিন মহানবী (সা) জুমআর জামাতে মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি উঠে দাড়িয়ে বললেন। 'হে রসূলে করীম অশ্ব ও মেষগুলি মরে গেছে। সন্তানরা অনাহারে কষ্ট পাচ্ছে। কাজেই বৃষ্টি জন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত করুন। আনাস বলেন, "তিনি মহানবী তখন দুবাহু প্রসারিত করে বৃষ্টির জন্য মোনাজাত করলেন। আকাশটা কাঁচের রূপধারণ করল। বাতাসের আলোড়ন উঠল। মেঘ তৈরী হলো। তারপর মেঘমালা স্থির হয়ে ঝাড়ল। আমরা বৃষ্টির মধ্যে নেমে পড়লাম এবং বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে বাড়িতে পৌঁছলাম।
বৃষ্টিপাত পরবর্তী শুক্রবার পর্যন্ত চলল। সেই লোকটি বা আরেকজন লোক উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'হে রসূলে করীম আমাদের বাড়ি-ঘর ধসে পড়বে। কাজেই আল্লাহকে বৃষ্টি থামাতে বলুন।' তিনি মহানবী (সা) স্মিত বললেন, "বৃষ্টি আমাদের চারপাশে ঝড়ুক তবে আমাদের ওপর নয়। আমি মেঘমালার দিকে তাকিয়ে দেখলাম বন্ধনীর মতো মদিনার চার পাশে ছড়িয়ে গেল।"
জুমআর জামাতে মিম্বরে অবস্থানকালে এবং খুতবা প্রদানের সময় কেউ তাঁর বাগ্মিতাপূর্ণ ভাষণ ও কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণে ছেদ ঠেনে প্রশ্ন করলে তিনি সাড়া দিতেন। খুতবা দেয়া বন্ধ করে তিনি প্রশ্নকর্তাকে দু'একটা জবাব দিতেন। তখনও তাঁর মুখে স্মিত হাসি দেখা যেত।
টিকাঃ
১৫. আল বুখারী সহীহ হাদীসে বর্ণিত; হাদীস নং ৩৪১৫।
📄 হজ্জ যাত্রীর স্মিত হাসি
আসমা বিনতে আবু বকর উল্লেখ করেছেন, "আমরা রসূলে করীম (সা)-এর সাথে হজ্ব পালনের জন্য রওয়ানা দিলাম। আল-আরমে পৌঁছালে রসূলে করীম উঠের পিঠ থেকে অবতরণ করলেন। আমরাও অবতরণ করলাম। আয়েশা মহানবী -এর পাশে গিয়ে বসলেন এবং আমি আমার পিতা আবু বকর এর পাশে ছিলাম। আবু বকর (রা) ও মহানবী এদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি উটের পিঠে আবু বকরের ক্রীতদাসের হাতে রাখা ছিল।
আবু বকর বসে বসে সে ক্রীতদাসের আগমনের অপেক্ষা করছিলেন। এক পর্যায়ে সে এসে উপস্থিত হলো। কিন্তু তার সাথে কোনো উট ছিল না। তাকে তিনি (আবু বকর) তখন জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমার উট কোথায়? ক্রীতদাস উত্তর দিল, 'আমি গতরাতে ওটাকে হারিয়ে ফেলেছি।' আবু বকর বললেন, 'একটিমাত্র উট ছিল, সেটাও তুমি হারিয়ে ফেললে? তিনি তখন তাকে (মৃদু) প্রহার করতে লাগলেন। মহানবী (স্মিত) হাসছিলেন। তিনি বললেন, 'পবিত্র অবস্থায় (ইহরাম পরিধান করা) এ লোকটিকে দেখ সে কি করছে!' (কথাগুলো বলার সময়) সে স্মিত হাসছিল।
টিকাঃ
১৬. আবু দাউদের সুনান গ্রন্থে বর্ণিত বইটির হজ্ব যাত্রার নিয়ম-কানুন বিষয়ক অধ্যায় হাদীস নং ১৮৫৩।
📄 রোগীর স্মিত হাসি
আয়েশা জানিয়েছেন, "একদিন নবী একজনকে দাফন করে আল-বাকি থেকে ফিরে এলেন। আমার মাথা ধরেছিল এবং আমি বলছিলাম। 'কি বিচ্ছিরি এই মাথা ব্যথা।' নবী শুনে বললেন, 'আমার বরং বলা উচিত 'মাথা ব্যথা আর এমন কি? তিনি বললেন, 'যদি তুমি আমার আগে মারা যাও এবং তারপর আমি তোমার লাশ গোসল করাই, দাফনের কাপড় পরাই, তোমার যানাজা পড়াই এবং অত:পর তোমাকে দাফন করি? আয়েশা তখন বললেন, 'আমি কল্পনা করি যে আমার মৃত্যু হলে আপনি কোনো না কোনো পত্নীর বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে থাকবেন।' শুনে তিনি স্মিত হাসলেন এবং পীড়িত বোধ করতে লাগলেন। এই ব্যধি থেকে তিনি আর সুস্থ হয়ে উঠেননি, শেষ পর্যন্ত ইন্তেকাল করেছিলেন।'
টিকাঃ
১৭. ইবনে হিব্বানের সহীহ হাদীসে বর্ণিত মহানবী অসুস্থতা বিষয়ক অধ্যায় ৬৬৯৮ নং হাদীস।