📄 বৃদ্ধ ব্যক্তির স্মিত হাসি
কাব ইবনে মালিক তাবুক যুদ্ধে তাঁর অংশ গ্রহণ না করার কারণ প্রসঙ্গে বলেছেন- "যারা (তাবুক) যুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি তারা মহানবী (সা)-এর কাছে এসে নানা ধরনের অজুহাত দিতো এবং তাঁর কাছে ওয়াদা করতে শুরু করেছিল। ওরা ছিল সংখ্যায় আশিজনের বেশি। রসূলে করীম তাদের দেয়া অজুহাতগুলো মেনে নিয়ে তাদের আনুগত্যের ওয়াদা গ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এবং তাদের হৃদয়ের ভিতর যা কিনা লুকিয়ে আছে তা বিচার করার ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর আমি তার কাছে এলাম। আমি তাকে সালাম জানালে তিনি একজন ক্রুদ্ধ ব্যক্তির স্মিত হাসি দিলেন তারপর বললেন, 'যাও যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ তোমাদের বিষয়টির বিচার না করেন।'"
টিকাঃ
১২. আল বুখারীর আল-জামি সহীতে বর্ণিত ৪৪০৭ নং হাদীস।
📄 ধর্ম প্রচারে স্মিত হাসি
উম্মে কায়িস বিনতে মুহসান -এর বরাতে বলা হয়, “আমার পুত্র মারা গেলে আমি তার জন্য শোক করছিলাম। দাফন-কাফনের জন্য লাশ গোসল করছিলেন এমন একজনকে আমি বললাম 'ওকে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করিও না। কেননা, তাহলে মারা যেতে পারে।' একথা শুনে উকাশাহ ইবনে মুহসান মহানবী -এর কাছে ছুটে গিয়ে তাঁকে জানালেন আমি কি বলেছি। মহানবী তখন স্মিত হেসে বললেন, 'সে কি বলেছে আল্লাহ তার জীবন দীর্ঘায়িত করুক? আমরা এমন কোনো মহিলার কথা জানি না যিনি তার মতো এতো দীর্ঘ জীবনের অধিকারী হয়েছেন।”
টিকাঃ
১৩. আল বাইহাকীর আস-সুনান আস-সুগরাহ গ্রন্থে বর্ণিত উষ্ণ পানিতে লাশের গোসল বিষয় অধ্যায় ১৮৬৭ নং হাদীস।
📄 মেজবানের স্মিত হাসি
সুহারীর জানিয়েছেন যে, "আমি মহানবী-এর কাছে এলাম। তার কাছে কিছু রুটি ও খেজুর ছিল। মহানবী বললেন, এসো কিছু খাও' আমি কিছু খেজুর নিয়ে খেলাম। মহানবী বললেন, 'তুমি খেজুর খাচ্ছো আর তোমার চোখ ব্যথা করছে'? সুহারীর বললেন, 'আমি (যে চোখটা ভাল আছে সেই দিকে) অন্যদিকে থেকে চিবাচ্ছি,' রসূল করিম (সা) স্মিত হাসলেন।
টিকাঃ
১৪. ইবনে মাজহর সুনান গ্রন্থে উল্লিখিত মাহস বিষয়ক অধ্যায়। এই হাদীসের পরমপরাগত কিছু উত্তম বিবরণ আছে। ৩৪৫৮ নং হাদীস।
📄 বক্তার স্মিত হাসি
আনাস ইবনে মালিক বলেছেন, মহানবী-এর জীবদ্দশায় জনগোষ্ঠী একবার দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল। একদিন মহানবী (সা) জুমআর জামাতে মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি উঠে দাড়িয়ে বললেন। 'হে রসূলে করীম অশ্ব ও মেষগুলি মরে গেছে। সন্তানরা অনাহারে কষ্ট পাচ্ছে। কাজেই বৃষ্টি জন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত করুন। আনাস বলেন, "তিনি মহানবী তখন দুবাহু প্রসারিত করে বৃষ্টির জন্য মোনাজাত করলেন। আকাশটা কাঁচের রূপধারণ করল। বাতাসের আলোড়ন উঠল। মেঘ তৈরী হলো। তারপর মেঘমালা স্থির হয়ে ঝাড়ল। আমরা বৃষ্টির মধ্যে নেমে পড়লাম এবং বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে বাড়িতে পৌঁছলাম।
বৃষ্টিপাত পরবর্তী শুক্রবার পর্যন্ত চলল। সেই লোকটি বা আরেকজন লোক উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'হে রসূলে করীম আমাদের বাড়ি-ঘর ধসে পড়বে। কাজেই আল্লাহকে বৃষ্টি থামাতে বলুন।' তিনি মহানবী (সা) স্মিত বললেন, "বৃষ্টি আমাদের চারপাশে ঝড়ুক তবে আমাদের ওপর নয়। আমি মেঘমালার দিকে তাকিয়ে দেখলাম বন্ধনীর মতো মদিনার চার পাশে ছড়িয়ে গেল।"
জুমআর জামাতে মিম্বরে অবস্থানকালে এবং খুতবা প্রদানের সময় কেউ তাঁর বাগ্মিতাপূর্ণ ভাষণ ও কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণে ছেদ ঠেনে প্রশ্ন করলে তিনি সাড়া দিতেন। খুতবা দেয়া বন্ধ করে তিনি প্রশ্নকর্তাকে দু'একটা জবাব দিতেন। তখনও তাঁর মুখে স্মিত হাসি দেখা যেত।
টিকাঃ
১৫. আল বুখারী সহীহ হাদীসে বর্ণিত; হাদীস নং ৩৪১৫।