📄 মূল বিষয় পাঠ
যারা পরবর্তী পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল যারির তাদের মধ্যে অন্যতম। মুসলিম রাষ্ট্রটি তখন বাহুবলে তুঙ্গে বা তার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়ে ছিল। এ সময় যারির নবী -এর কাছে আসেন। নবী সাথে রাসূল -এর সাথে তাঁর দেখা হলেই নবী স্মিত হাসি দিতেন। যারীর হিযরত (মক্কা থেকে মদিনা যাত্রা করার সুযোগ পাননি এবং বদর যুদ্ধে ও পরবর্তী অন্যান্য যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেননি। তাহলে নবীর এ স্মিত হাসির পিছনে রহস্যটা কি?
সমগ্র আরব উপদ্বীপ ছিল মহানবী -এর নিয়ন্ত্রণাধীনে। মক্কাও বিজিত হয়েছিল এবং তা ইসলামের পিঠস্থানে পরিণত হয়েছিল।
পরিশেষে বড় ধরনের সমস্ত ত্যাগ স্বীকার করা হয় এবং দূর সময়ের অসুবিধাগুলিও অতিক্রান্ত হলো। এ অবস্থায় পরম শ্রদ্ধেয় নবী -এর কি প্রয়োজন ছিল যারিরের মতো ব্যক্তিকে? যারিরের সাথে দেখা হলেই তিনি কেন স্মিত হাসি দিতেন?
নবী -এর জীবনের শেষ মাসগুলি কঠিন ও সংকটময় ঘটনাবলিতে পরিপূর্ণ ছিল। বিভিন্ন শাসকের কাছে পত্র প্রেরণ। মুতা যুদ্ধে রোমান সাম্রাজ্যের সাথে প্রথম সংঘর্ষ এবং সেনাবাহিনীর নামী দামী অধিনায়কদের মৃত্যুবরণ ছাড়াও পরবর্তীকালের বিভিন্ন ঘটনা ও ভীতিকর পরিস্থিতির মতো নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন তিনি হয়েছিলেন।
এভাবেই বিপর্যস্ত সেনাবাহিনীকে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। গ্রীষ্মের তপ্ত দিবসে লড়ায়ের জন্য বেরিয়ে পড়তে হয়েছিল এবং আগে ও পরে মুনাফিক ও কপটদের দুষ্কর্ম ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। এ সমস্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে রসূল ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং তার শরীরে শক্তি বলতে আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না। জীবনের শেষদিনগুলিতে উপবিষ্ট হয়ে সালাত আদায় করার আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন এবং সাধ্যের সবটুকুই নিঃশেষ করে ফেলেছিলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে সাকিক জানান, "আমি আয়েশা মিয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, নবী কি উপবিষ্ট হয়ে সালাত আদায় করেন?” জবাবে তিনি বলেন, "হ্যাঁ, মানুষের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে তিনি সময়ের আগেই বৃদ্ধ হয়ে পড়ায় এভাবে সালাত আদায় করেন।"
মহানবী-এর ইন্তেকালের মাত্র কয়েকদিন আগে যারির ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। যারির ইবনে আব্দুল্লাহ এর বয়ান হলো এই, “রসূল ইন্তেকাল করার চল্লিশ দিন আগে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি।”
এই সময়টায় রসূল পীড়িত হয়ে পড়েছিলেন এবং রোগ শর্যায় থাকাকালীন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যারীর কিভাবে রসূল-এর এ নিরবচ্ছিন্ন স্মিত হাসির দর্শন লাভ করেছিলেন? এ মহৎ মানবটি নবী (সা) কোনো ধরনের চেতনার অধিকারী ছিলেন? তার বিশুদ্ধ হৃদয়ে কোনো ধরনের ধারণা ও সহৃদয়তা ছিল?
যতই সদাচরণের অধিকারী হোক না কেন মানুষ কি এক মাসের জন্যও মুহাম্মাদ এর মত হতে পারবে? কিংবা একদিনের জন্য বা এক ঘণ্টার জন্যও তাঁর মত হতে পারবে? রসূল-এর মুখ মণ্ডলে কি ধরনের হাসির আভা লেগে থাকত? তাঁর হৃদয় থেকে উৎসারিত কোনো ধরনের সুখ ও আনন্দের ফল্গুধারা সমগ্র মানবজাতির জন্য বয়ে যেত?
একই ধরনের স্মিত হাসির কথা যারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল যারালিও জানিয়েছেন ও স্মরণ করেছেন।” আমার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ বা কথা হয়নি। তারপরও তিনি আমার দিকে স্মিত হাসি দিয়েছিলেন।” যারিরের দিকে রসূল-এর সেই উজ্জ্বল হাসির আভা সকল সুদৃশ্য উপহারের চেয়েও সুন্দর এবং সকল মধুর জিনিসের চেয়েও মধুরতর।
ভাষণ দেয়ার সময় রসূল-এর মুখাবয়বে সর্বদাই হাসির আভা লেগে থাকত। এর কোনো ব্যত্যয় হতো না। রসূল ছিলেন স্মিত হাসি দেয়ার ব্যাপারে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তিত্বের দিক দিয়ে বিশুদ্ধতম।
টিকাঃ
৩. মুসলিমের সুনান এ বর্ণিত সুন্নাত নামায আদায়ের অনুমোদনযোগ্য অধ্যায় হাদীস নং ১২৫৪)
৪. ইবনে খুজাইমাহ কর্তৃক তাঁর সাহিহ গ্রন্থে উল্লিখিত Book of Ablutur। নবীর চামড়ার মোজায় মুছে ফেলা শীর্ষক অধ্যায় হাদীস নং ১৮৮।
৫. মুকারিম আল-আখলাকে আল-তাবরানী কর্তৃক বর্ণিত আবু আল-দারদা থেকে প্রাপ্ত ভাইয়ের মুখমন্ডলে মুসলিমের হাসি। হাদীস নং ২১)
৬. আল-মুযাম আল-আমওয়াতে আল-তাবরানি কর্তৃক আবু উমামাহর কাছ থেকে বর্ণিত হাদীস নং ৭৭২৮)
📄 সফল নেতার পঞ্চম গুপ্ত রহস্য দ্যুতিময় স্মিত হাসি ও বিশুদ্ধ হৃদয়
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 এই গুপ্ত রহস্যের ভিত্তি
স্মিত হাসি হলো হৃদয় ও আত্মার সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক। স্মিত হাসি হলো সামান্য একটু হাসি ও মুখের মৃদ সঞ্চালন। স্মিত হাসি হৃদয়ে পৌঁছার সংক্ষিপ্ততম পথ ও আত্মায় পৌছার নিকটতম পথ।
স্মিত হাসি এক মোহনীয় রহস্য ও নিয়ামক শক্তি। নিজের অপাপবিদ্ধ চরিত্রের জন্য একটি ছোট শিশু মৃদুহাসির যাদুকরি শক্তি উপলব্ধি করতে পারে। তাই সে মাঝে-মধ্যেই হাসে। কঠিন হৃদয়ের মানুষরাও শিশুর এই হাসির কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে। শিশুর হাসি দেখলে সবচেয়ে রূঢ় মানুষটিও গলে যায়। বিশুদ্ধ হাসি খাঁটি সোনার মতো যা নকল করা যায় না। জাহিলরা নকল সোনা তৈরীর বৃথাই চেষ্টা করে। কিন্তু খাঁটি সোনার উজ্জ্বল অন্য আর কোনো উজ্জ্বল্যের মত নয়। নিখাদ স্মিত হাসির যাদুর সাথে অন্যান্য যাদুর তুলনা হয় না। স্মিত হাসি হলো আত্মার দীপ্তি। আত্মা-মুক্তি ও হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি। স্মিত হাসি ব্যথার নিরাময় ও সুখ-দুঃখের প্রতিকার। স্মিত হাসি বিবেকের দর্পণ। কারো চেহারায় সেসব বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠে সেগুলি তার ভিতরকার ছবির প্রতিফলন এবং তাঁর আত্মার প্রকৃত দর্পণ।
দীপ্তিময় হাসি হৃদয় ও আত্মাকে আকর্ষিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী সূত্র। স্মিত হাসির রয়েছে এক চিত্তহারী রহস্য যা হৃদয়কে প্রলুব্ধ করে এবং মনকে করে জয়। যারা স্মিত হাসে তারা সবচেয়ে উত্তম মেজাজ, সবচেয়ে সুখী জীবন ও সবচেয়ে সুন্দর হৃদয়ের অধিকারী।
স্মিত হাসি যে গ্রহণ করে তার জন্য তা লাভজনক এবং যে দেয় তার দারিদ্রের কারণ ঘটে না। আপনার যদি অর্থ না থাকে তাহলে চেহারা উৎফুল্ল রাখুন ও স্মিত হাসুন।
📄 দৈনিক হাসি
“স্মিত হাসি কিভাবে দিতে হয় এটা যার জানা নেই তার দোকান দেয়া উচিত নয়।” চীনারা ব্যবসায়ী বলেই তারা ব্যাপারটা ভাল জানে।
ধর্ম প্রচারক, বিচারক, বক্তা, ইমাম, পণ্ডিত ও শিক্ষকরা কি হৃদয়ের ব্যবসায়ী ও লাভজনক পণ্যের মালিক নয়? তারা জনগণের হৃদয় হরণের চেষ্টা করে। কাজেই তারা তাদের পণ্যের নিকট সান্নিধ্যে আসবে এবং এভাবে তারা তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা তাদের সেরা কর্ম থেকে কিনবে। তাই প্রত্যেক ব্যবসায়ী মুখে স্মিত হাসি ধরে রাখতে বাধ্য। যে মানুষটি শিক্ষা দেয়, ইমামত করে, মানুষকে সেবা প্রদান করে কিংবা তাদের বিয়ষাদির দেখাশুনা করে সে ভ্রূকুটি করতে, মুখ ভেংচাতে কিংবা কটমট করে তাকাতে পারে কি করে?