📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 হাদীস হতে শিক্ষা

📄 হাদীস হতে শিক্ষা


এটি একটি যুবক সম্পর্কে বলা হচ্ছে, যার হৃদয় সহজাত প্রবৃত্তির দিকে ধাবিত হয়েছিল, যার আছে শক্তি এবং পৌরুষত্ব। ঝোক এবং বাসনা এ দুটিই বর্তমান এ যুবকটির অন্তরে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি তার আছে ভীতি এবং বিশ্বাস।
তার এ বাসনা তার শরীরের অংশগুলোকে প্রজ্বলিত করে যার ফলে তার জীবন বিঘ্নিত হয়। অনিয়ন্ত্রিত খেয়াল এবং শক্ত প্রবণতা মানবাত্মা পরিপূর্ণ। যাহোক, এ প্রবণতা এবং খেয়াল খুশীগুলো এ যুবককে গুনাহ করার সীমালংঘনের জন্য আকৃষ্ট করে। সে গুনাহর কাছে পরাজিত হতে অস্বীকার করেছে। কারণ তার কাছে এটা একটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার সম্পর্কে পুরোপুরিভাবে জ্ঞাত এবং তার সমস্ত ব্যাপারকে পরিবেষ্টন করে আল্লাহর অবস্থান।
তারপর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সে কারণে শুধুমাত্র আত্মার খেয়ালকে প্রশমিত করা ছাড়া এ যুবক তার ধৈর্যকে কাজে লাগাতে পারেনি। সুতরাং যুবক এ কাজের অনুমতির জন্য রসূল করিম-এর দ্বারগ্রস্ত হন।
ব্যভিচার করার জন্য অনুমতি চাওয়ার ব্যাপারে এ যুবক পুনরায় নবী করিম -এর শরণাপন্ন হলেন, যদিও এ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তিনি পুরোপুরিভাবে জ্ঞাত ছিলেন। যুবকটি নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের ব্যাপারে নবী করিম-কে অনুরোধ করতে এসেছিলেন। যে ধরনের প্রচণ্ড আবেগ ও বাসনা দ্বারা যুবকটি তাড়িত হচ্ছিল সে ধরনের আবেগ ও বাসনা দ্বারা তাড়িত হওয়া অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং সে সাদামাটাভাবে নবী করিম কে বলল: হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি প্রদান করুন।
কোনো ভূমিকা ছাড়া এবং সরাসরিভাবে এ কথাগুলো যুবকটি নবী করিম -এর কাছে পেশ করলেন।

টিকাঃ
১. ইমাম আহমাদ কর্তৃক তার মসনদ গ্রন্থে বর্ণিত, হাদীস নং ২১৬৭৬

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 অনুসন্ধান করা এবং তার অনুসন্ধানের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা

📄 অনুসন্ধান করা এবং তার অনুসন্ধানের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা


মানুষেরা ঐ যুবকের দিকে তাকাচ্ছিল, নবীর কাছে তার অনুরোধ শুনছিল এবং তারা যুবককে গালাগাল করছিল এভাবে যে, এ মহান নেতার কাছে কি তোমার এ কুকর্মের জন্য অনুরোধ করা উচিত?
তুমি কি এ জঘন্য কাজ করার জন্য এ রকম ধরনের উচ্চ নৈতিকতা সম্পন্ন লোকের অনুমতি চাবে? যখন অন্যান্যরা ঐ যুবককে গালাগালি করছিল তখন মহান শিক্ষক পথপ্রদর্শক (তার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর দয়া বর্ষিত হোক) তাদেরকে প্রশমিত করেন। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং প্রশিক্ষককে শান্তি এবং দয়া বর্ষিত করুন। মহান নেতা এবং প্রশিক্ষক যুবকের বিরুদ্ধে তাদের নিন্দা এবং দোষের কথা শুনলেন। নবী করীম (সা) তাকে একপাশে ডাক দিলেন এবং যুবক সাহাবীদের কথা শুনে এবং সেখানে জমায়েত মানুষের রাগান্বিত চেহারার প্রকাশ দেখে নবী করীম (সা)-এর ডাকে সাড়া দিলেন। যুবক নবীর কাছে গিয়ে আসন গ্রহণ করলেন। দয়াশীল ব্যক্তি নবী যুবকের দিকে তাকালেন। নবী করিম (সা)-এর অভ্যাস ছিল শ্রোতার প্রতি পূর্ণ মনযোগ দেয়া।
ছোট ছোট বাক্যের মাধ্যমে নবী করিম ঐ যুবকের সাথে আলাপ শুরু করলেন। আলাপের অংশ ছিল উত্তর দেয়ার মতো মানানসই প্রশ্নাবলি। প্রশ্নের ফাঁকে ফাঁকে ভাবনা-চিন্তার জন্য বিরতি ছিল। অনুসন্ধানকারী এবং অনুসন্ধানের ব্যাপারে মহান নেতা নবী -এর মূল্যায়ন ছিল খুবই শান্ত এবং দয়াশীল। তুমি যে ঘৃণ্য কাজ করতে চাচ্ছো সেটা হলো বিরাট অমঙ্গলের দরজা, যেটার পিছনে অবস্থান করছে আগুন এবং নিয়ন্ত্রনহীন কামনা-বাসনা। সুতরাং ঐ ঘৃণ্য কাজের দরজা বন্ধ করা এবং অন্য সব নির্গমনের পথ বন্ধ করে দেয়া ছাড়া তোমার কোনো গত্যন্তর নেই। তুমি যদি এ কাজটা করতে পার তাহলে তোমার আত্মা ঐ কুকর্ম করার প্রবণতা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পাবে।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 সুন্দর স্বাস্থ্য ও আরোগ্য লাভের উপায়

📄 সুন্দর স্বাস্থ্য ও আরোগ্য লাভের উপায়


আরোগ্য লাভ এবং অটুট স্বাস্থ্য অর্জনের একমাত্র উপায় হলো বাসনাকে জলাঞ্জলী দিয়ে মনকে জাগ্রত করা এবং দুর্বলতাকে বিদায় দিয়ে দৃঢ় সংকল্পকে নিজের আয়ত্তে আনা।
আলাপ শুরু আল্লাহর নবী ঐ যুবকের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ শুরু করেন। নবী করিম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কি কাজটা তোমার মায়ের সাথে করতে পছন্দ কর?" তোমার মা যিনি তোমার হৃদয়ের সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তি তার সাথে তুমি এ জঘন্য কাজটা করার জন্য অনুমতি চেয়েছ? কেন এ কাজটা মায়ের সাথে করার প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু করেছিলেন সচেতনতাকে উদ্দীপ্ত করার জন্য এবং বোধ শক্তিকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌছে নেয়ার জন্য এ গর্হিত কাজটি মায়ের সাথে করা যায় কিনা সে প্রশ্ন করেছিলেন। শপথ নেওয়ার পর রসূল করিম -এর প্রশ্নের সে তাৎক্ষণিক এবং চূড়ান্ত উত্তর প্রদান করে যে, না। শপথটা এরকম, হে আল্লাহর রসূল, আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি।' তার এ ধরণের উত্তর, ভালবাসার একটি ঘোষণার পর এসেছিল, যার মধ্যে লুক্কায়িত ছিল একটি সংকেত। আমি যাতে আপনার জন্য একটি ত্যাগ স্বীকার করতে পারি সে শক্তি যেন আল্লাহ আমাকে দান করেন।
যুবকটি যেনো এ কথাগুলো বলতে চেয়েছিল, "হে আমার প্রিয় রসূল, আমার সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি এমন কথা বলবেন না যার মর্যাদা রক্ষার জন্য আমি জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত এবং তাঁর সম্মানের জন্য কিছু আত্মার মৃত্যু হতে পারে। যুবকের কথায় রসূল উত্তর দিলেন।
“হে যুবক! আমি বুঝতে পেরেছি তুমি কি বলতে চাও। তোমার তাৎক্ষণিক এবং চূড়ান্ত উত্তরের মধ্য দিয়ে মায়ের প্রতি তোমার যে ঈর্ষা সেটা ফুটে উঠেছে। সে একই ধরণের ঈর্ষা দ্বারা সকল মানুষের হৃদয় পরিপূর্ণ।” রসূল করিম বললেন, “মানুষ তাদের মায়ের জন্যও এ ব্যাপারটা (ব্যভিচার) পছন্দ করে না। নবীর উদ্দেশ্য ছিল ব্যভিচারের অন্তরালে যে বিপদ এবং অমঙ্গল লুক্কায়িত আছে সেটা থেকে যুবকের মনযোগকে সম্পূর্ণভাবে অন্যদিকে আকৃষ্ট করা।
এ ইস্যুটা শুধুমাত্র মাতার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। এ দয়াবান শিক্ষক নবী (সা)-এর উদ্দেশ্য ছিল অমঙ্গলের প্রভাব থেকে এ যুবকের হৃদয়কে পুরোপুরিভাবে মুক্ত করা।
যুবকের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া প্রত্যেক প্রিয় এবং কাছের মহিলা সদস্যদেরকে এ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছিল কন্যা সন্তান, বোন, ফুফু এবং খালা। তুমি যদি তোমার নিকটতম আত্মীয়ের সাথে এ কাজটা করতে পছন্দ না কর, সে ক্ষেত্রে অন্যরাও তাদের সাথে এ কাজটা করতে চাইবে না।
একজন মহিলা তিনি যে দেশেরই হোন না কেন তিনি কারো মা। আরেকজনের কন্যা, তৃতীয় কোনো ব্যক্তির বোন, চতুর্থ কোনো ব্যক্তির ফুফু অথবা পঞ্চম কোনো ব্যক্তির খালা।
হে যুবক! যে ঈর্ষাটা তোমার হৃদয়কে পরিপূর্ণ করে, সেটা সমানভাবে অন্যান্য এলাকার মানুষের হৃদয়কেও পরিপূর্ণ করে। এ ব্যাপারটা যদি তোমার হৃদয়কে ব্যথিত করে তাহলে এটা তাদেরকেও ব্যথিত করবে। যদি তুমি এমন কোনো মহিলার সন্ধান না পাও যিনি কারো কোনো নিকট আত্মীয় নন। সে ক্ষেত্রে তুমি কেন এ ধরণের অনুমতি চাও?
এ সময়ে এ প্রশ্নের উত্তরটা ঐ যুবক যাতে তার হৃদয়ঙ্গম করতে পারে এবং অনুধাবন করতে পারে সে জন্য পুনারাবৃত্তি করা হলো। সবকিছু তাকে পরিষ্কারভাবে বুঝানো হলো। তবে কুকর্ম বা নিষিদ্ধ কাজের প্রতি প্রত্যেক মানুষেরেই ঝোঁক থাকে।
এরপর নবী করিম ﷺ ঐ যুবকের শরীরের ওপর তাঁর হাত রাখলেন সম্ভবত তার মাথায়। বুকে অথবা কাঁধে। ঐ যুবকটার শরীর একটি সম্মানিত হাত মোলায়েম স্পর্শ পেলো যার সহগমনকারী ছিল মহান শিক্ষক নবী ﷺ-এর দয়ায় পরিপূর্ণ একটি চাহনী। এসব কিছুই একটা সনির্বন্ধ আবেদন দ্বারা ভূষিত ছিল যেটা ঐ যুবকের হৃদয়কে সব ধরণের নিষিদ্ধ করবে। নবী করিম ﷺ যুবকের জন্য আল্লাহর কাছে বললেন, "হে আল্লাহ, তার গুনাহ মাফ করে দাও, তার হৃদয়কে পরিশুদ্ধ কর এবং তার যৌনাঙ্গকে রক্ষা কর।"
এরপর কি হতে পারে? তুমি কি মনে কর এসব কিছুর পরেও নিষিদ্ধ বাসনাগুলো তার হৃদয়ে থেকে যাবে অথবা এ কুচিন্তাগুলো তার হৃদয়কে নিয়ন্ত্রণ করবে?
তবে বাস্তবতা এবং ফলাফল হলো, "এ ঘটনার পর ঐ যুবক এ ধরণের কোনো কিছু করা থেকে নিজেকে বিরত রাখল!"

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 কুতকার্য নেতার চতুর্থ গোপন বিষয় শান্ত আলাপ-চারিতা এবং মনোযোগী শ্রবণ

📄 কুতকার্য নেতার চতুর্থ গোপন বিষয় শান্ত আলাপ-চারিতা এবং মনোযোগী শ্রবণ


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00