📄 তিন নম্বরের মুক্তা
আমীর ইবনে তাগলিব বলেছেন, নবী করীম একদল লোককে কিছু দিলেন এবং অন্য কিছু লোককে দিলেন না। আপতদৃষ্টিত এটা মনে হলো যে, পরবর্তী লোকেরা এটাতে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। সেজন্য নবী করীম বললেন, "আমি অবশ্যই একদল লোককে কিছু একটা দিয়েছি এবং অন্য কিছু লোককে এটা দেয়া থেকে বঞ্চিত করেছি তাদের ন্যায়শীলতা এবং সুখের জন্য যেটা আল্লাহ তাদের হৃদয়ে শিকড় বদ্ধ করে রেখেছেন এবং তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমীর ইবনে ভাগলীব।
আমীর ইবনে তাগলীব বললেন, "যে বাক্যটা আল্লাহর রসূল আমার পক্ষে উচ্চারণ করেছেন সেটা আমার মালিকানায় যে লাল উটগুলো আছে সেগুলোর চাইতেও প্রিয়।
নিশ্চিতভাবে নবীর দেয়া সনদ ও উপহার যে কোনো উপহারের চাইতেও শ্রেয়, যে কোনো দয়ার চাইতেও মূল্যবান এবং যে কোনো স্বর্ণ এবং অলঙ্কারের চাইতেও মূল্যবান।
হে আল্লাহ! তোমার দেয়া, শান্তি এবং আশীর্বাদ মুহাম্মদ -এর তাঁর পত্নী তাঁর সন্তান-সন্ততি এবং অনুসারীদের ওপর বর্ষিত হোক, আমীন।
📄 মনে রেখো
একজন কৃতকার্য, মহান এবং কার্যকর নেতা হতে হলে আরোও অধিক আখ্যা প্রদান কর এবং তোমার প্রিয়জনদেরকে তাদের সম্মানিত আখ্যা সহকারে ডাক।
আল্লাহ বলেন, আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে তারা তাদের সাথে থাকবে, আল্লাহ যাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল (সালেহীনদের) মধ্য থেকে। আর তারা কতই না উত্তমই না বন্ধু।
দুনিয়াতে নবুওয়াত ও রেসালাতের দায়িত্ব পালনকারী ও নবীগণ ঐ সকল ব্যক্তিবর্গ যাদেরকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশধিকার দিয়ে উচ্চ মর্যাদাবান করেছেন।
সিদ্দীক ঐ উত্তম ব্যক্তি ও উচ্চ মানসম্পন্ন ব্যক্তিগণ যারা রসূলকেও রিসালাতকে জীবনের একান্ত বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
শহীদ ব্যক্তিগণ হচ্ছেন ঐ সকল উৎসর্গীয় নিবেদিত প্রাণ যারা জীবনের বিনিময়ে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিক-নির্দেশনায় আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করতে প্রাণান্ত সচেষ্ট। যারা আল্লাহর রাস্তায় জীবন উৎসর্গ করেছেন।
ছালেহীন হচ্ছে ঐ সকল ব্যক্তি যারা জীবনের সকল ক্ষেত্রে আমলে ছালেহ করে অসামান্য দৃষ্টান্ত আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করতে পেরে স্বীকৃতি ব্যক্তিতে পরিণত হতে চেয়েছেন।
আনুগত্যের উন্নত ও উত্তম দৃষ্টান্ত সাহাবায়ে কেরাম রেদওয়ানুল্লাহী আজমাইন।
টিকাঃ
৪৮. আন-নিসা (৪: ৬৯)
৪৯. জুবদাতুত তাফসীর লিল আশকার পৃষ্ঠান। ১১২ হতে সারাংশাকৃত।