📄 পাঠের মাঝে আপনাকে কি নির্দেশনা দেয়?
অবশ্যই কাউকে আখ্যা এবং উপাধিতে ভূষিত করা হলো মহান নেতার অন্যতম গুণ। এটা ছিল মহান নেতার অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। যারা মুহাম্মাদ -কে ভালবাসেন তাদের মধ্যে এ বৈশিষ্ট্যটি গ্রথিত হয়েছিল এবং বিশ্বাসীদের মনে এ বৈশিষ্ট্যটি দয়া বর্ধনে সাহায্য করে, ভাল বৈশিষ্ট্য হলো অন্যতম ব্যাপার যেটা কোনো ব্যক্তিকে নিজের সম্পর্কে গর্বিত করে তোলে এবং সৎ উপাধিগুলো একজনের মুখমণ্ডলে (Beauty spot)-এর মতো।
📄 ধন্যবাদের সনদ
আপনি কি দেখেছেন রিপোর্ট সনদ এবং মেডেল দিয়ে ভূষিত হয়ে একজন ব্যক্তি কি করে? তারা এগুলোকে সবার নজরে পড়ে এমন জায়গায় ঝুলিয়ে রাখে, তারা এগুলো দ্বারা আনন্দিত বোধ করে এবং আত্মসন্তুষ্টি এবং আনন্দ লাভ করে। এটা সত্ত্বেও এ সনদগুলো তাদের মূল্য হারিয়ে ফেলতে পারে অথবা সময়ের গহবরে চিরতরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
অন্যপক্ষে সৎ উপাধি এবং গুণাবলি অধিক সময় পর্যন্ত টিকে থাকবে এবং কখনই মুছে যাবে না। এটার কখনও মৃত্যুও হবে না যদিও উপাধির মালিকের মৃত্যু হয়। মাটির এ পৃথিবীতে অমরণশীলতা সব সময়ের জন্য কাম্য-এটা হলো এক শব্দে লিখিত একটি মহত্ত্ব। এটা একটি বিবৃতি অথবা বাগবিশিষ্ট দ্বারা প্রকাশিত সম্মান।
অনুরূপভাবে মেধাবী নেতা তাঁর পছন্দের শ্রেষ্ঠত্বটা বেছে নেন এবং কোনো ব্যক্তিকে শ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করেন। এ উপাধিগুলো দাতাকে কি খরচের সম্মুখীন করে! উপাধি গ্রহিতাকে একটি উপাধি কি দেয়। এগুলোর গ্রহিতা থাকে সন্তুষ্ট এবং তাকে আনন্দ দান করে। এ উপাধিগুলো একজনের স্মৃতিতে বিজয় লিখে দেয়। সম্মানকে মজবুত করে। মহান অর্থকে দৃঢ় করে এবং ভাল কাজের স্পৃহা তার মধ্যে গ্রথিত করে। হে আল্লাহ! এগুলো কত সহজলভ্য এবং ফলপ্রসূ! মহান নেতা নবী এটা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, উপাধি এবং গুণাবলি মানুষের মনে জাগরুক থাকে। সুতরাং তিনি এগুলো প্রদান করার সময় মহানুভব থাকতেন এবং অবশ্যম্ভাবীরূপে তিনি ছিলেন মহান এবং প্রভাবশালী নেতা।
📄 তৃতীয় অধ্যায়ের মুক্তা
শুভেচ্ছা হলো ভালবাসার চাবিকাঠি এবং মানুষের অন্তরে প্রবেশ করার দ্বার। গ্রহিতার হৃদয় এটার মিষ্টতাকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করে। এ ধরনের সবচেয়ে ভাল শুভেচ্ছা হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে গ্রথিত আছে এবং এগুলো পাহাড় এবং প্রাচীন বৃক্ষের মতো অটল দৃঢ়। সবচাইতে স্থায়ী শুভেচ্ছা হলো একটি সম্মানিত উপাধি এবং একটি অতি উঁচু ধরনের বর্ণনা।
📄 তিন নম্বরের মুক্তা
আমীর ইবনে তাগলিব বলেছেন, নবী করীম একদল লোককে কিছু দিলেন এবং অন্য কিছু লোককে দিলেন না। আপতদৃষ্টিত এটা মনে হলো যে, পরবর্তী লোকেরা এটাতে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। সেজন্য নবী করীম বললেন, "আমি অবশ্যই একদল লোককে কিছু একটা দিয়েছি এবং অন্য কিছু লোককে এটা দেয়া থেকে বঞ্চিত করেছি তাদের ন্যায়শীলতা এবং সুখের জন্য যেটা আল্লাহ তাদের হৃদয়ে শিকড় বদ্ধ করে রেখেছেন এবং তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমীর ইবনে ভাগলীব।
আমীর ইবনে তাগলীব বললেন, "যে বাক্যটা আল্লাহর রসূল আমার পক্ষে উচ্চারণ করেছেন সেটা আমার মালিকানায় যে লাল উটগুলো আছে সেগুলোর চাইতেও প্রিয়।
নিশ্চিতভাবে নবীর দেয়া সনদ ও উপহার যে কোনো উপহারের চাইতেও শ্রেয়, যে কোনো দয়ার চাইতেও মূল্যবান এবং যে কোনো স্বর্ণ এবং অলঙ্কারের চাইতেও মূল্যবান।
হে আল্লাহ! তোমার দেয়া, শান্তি এবং আশীর্বাদ মুহাম্মদ -এর তাঁর পত্নী তাঁর সন্তান-সন্ততি এবং অনুসারীদের ওপর বর্ষিত হোক, আমীন।