📄 টকাশা তোমার আগে এটা পেল
এটা এমন একটা প্রবাদ, যেটার পুনরাবৃত্তি প্রত্যেক বক্তাই করে এবং বাগবৈশিষ্ট্য। চৌদ্দশত শতাব্দী হতে যে ব্যক্তি যে ক্ষেত্রে প্রত্যেক যুগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে তার ক্ষেত্রে এটা একটা প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের বরাতে বলা হয়েছে। “নবী করীম (সা) বলেছেন, বিভিন্ন জাতি আমাকে দেখানো হয়েছিল আমার সামনে আমি দেখতে পেয়েছিলাম একজন নবী তাঁর অনুসারীদের বড় একটি দল নিয়ে আমাকে অতিক্রম করে গেলেন। আরেকজন নবী আরেকটি ছোট দলের অনুসারী নিয়ে আমাকে অতিক্রম করে চলে গেলেন এবং আরেকজন নবী পাঁচজনের একটি অনুসারী দল নিয়ে আমাকে অতিক্রম করলেন এবং আরেকজন নবী শুধু নিজেই আমাকে অতিক্রম করলেন।
এবং তারপর আমি বহুসংখ্যক লোককে দেখতে পেলাম। সেজন্য আমি জিবরাঈল (আ)কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ মানুষেরা কি আমার অনুসারী? উত্তরে জিবরাঈল (আ) বললেন, না। তবে দিগন্তের দিকে তাকান। আমি তাকিয়ে দেখতে পেলাম বহু সংখ্যক লোকের একটি সমাগম। জিবরাঈল (আ) বললেন, এরা আপনার অনুসারী এবং তাদের সামনে সত্তর হাজার লোক আছে যারা কোনো পাপ করেছে কিনা সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই এমনকি তারা কোনো শাস্তিও পাবে না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কেন?
তিনি বললেন, “তারা নিজেদেরকে জ্বলন্ত বা অগ্নিদগ্ধ কাঠের টুকর দিয়ে ছেকা লাগবেন না অথবা রুকইয়াহর (পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে নিজেদের চিকিৎসা করতেন না) আশ্রয় নিতেন না এবং বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে অশুভের পূর্বাভাস দেখতে পেতেন না এবং তারা তাদের একমাত্র প্রভুর ওপরই বিশ্বাস স্থাপন করতেন। এটা শোনার পর উকাশাহ বিন মুহসান উঠে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর নবীকে বললেন, আমাকে যাতে তাদের অন্যতম করে সেজন্য আল্লাহর নিকট দুয়া করুন। নবী বললেন, হে আল্লাহ! তাকে তাদের অন্যতম করুন। তারপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং রসূল (সা)-কে বললেন, আল্লাহকে আহ্বান করুন, আমাকে যাতে তাদের অন্যতম করেন। রসূল (সা) বললেন, এ ব্যাপারে উকাশাহর অবস্থান তোমার আগে।
কি ধরনের সম্মান উকাশশাহ এ জীবনে পেয়ে গেলেন এবং পরবর্তী জীবনে অপেক্ষা করছে তার জন্য অধিকতর সম্মান যখন তিনি বিনা শাস্তি এবং বিনা প্রশ্নেই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। এ উকাশাহর ওপর এ দুটি সম্মানের (ইহকাল ও পরকালের জীবনে) ফলাফলের কথা চিন্তা করে দেখ।
ইবনে ইসহাকের বরাতে যারা বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। উকাশাহ বিন মুহসান তার তরবারী ভেঙ্গে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেটা দিয়ে যুদ্ধ করছিলেন। তরবারী ভাঙ্গার পর তিনি রসূলের শরণাপন্ন হলেন যিনি তাকে একটি কাঠের টুকরা দিয়ে বললেন, হে উকাশাহ এটা দিয়ে যুদ্ধ কর। তিনি এটা আল্লাহর রসূল -এর কাছ থেকে নেয়ার পর নাড়া দিলেন এবং এটা একটা বড় ভয়ানক এবং সাদা তরবারীতে রূপান্তরিত হলো। উকাশাহ এ তরবারী দিয়ে আল্লাহ মুসলমানদেরকে যুদ্ধে বিজয় মঞ্জুর করার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে এ তরবারীটা তার কাছেই থাকত। তিনি নবী করিম -এর সাথে একাধিক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। উকাশাহ আল-ইয়ামামার যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত তিনি এ তরবারি ব্যবহার করেছিলেন। এ তরবারিটাকে আল-কাইয়ূ (শক্তিশালী) বলা হতো।
টিকাঃ
৩৫. আল-বুখারী কর্তৃক তাঁর গ্রন্থের হাদীস নং ৬১৯৮
৩৬. আল-বায়হাকী কর্তৃক দালাইল আন-নূওয়াহ গ্রন্থে বর্ণিত। হাদীস নং ৯৬৩
📄 আবু উমাইর এবং গায়ক পাখি
আনাস ইবনে মালিকের বরাতে বলা হয়েছে। "রসূল করীম চরিত্রের দিক থেকে সবচাইতে ভাল ব্যক্তি ছিলেন। আবু উমাইর নামে আমার একটা ভাই ছিল যে আমার মনে হয় মাত্র মায়ের দুধপান ছেড়েছিল। যখন এ শিশুটিকে মুহাম্মাদ এর কাছে আনা হতো, তখন নবী বলতেন, “হে আবু উমাইর! আল-নুগায়েরের কি হয়েছে?
এটা ছিল, একটা গায়ক পাখি যেটা নিয়ে তিনি খেলা করতেন। মাঝে-মধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেলেও তিনি আমাদের বাসায় থাকতেন। তিনি কার্পেটটি ঝাড়ু দিতে এবং পানি দিয়ে ধোয়ার জন্য আদেশ করতেন এবং তারপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াতেন এবং আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াতাম। তিনি সালাতের ইমামত করতেন।
টিকাঃ
৩৭. আল-নুগায়ের হলো লাল ঠোটসহ এক ধরনের ছোট পাখি যেটার গায়ক পাখি সাথে সাদৃশ্য আছে। আল-বুখারী হাদীস নং ৫৮৭০
📄 আমার ভাই এবং আমার সঙ্গী
বিশ্বাসীদের মধ্যে যিনি প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং যে ব্যক্তি রসূল এর হিযরতের সঙ্গী এবং হেরা পর্বতের গুহার সঙ্গী ছিলেন তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাসূল করীম বলেছেন, যদি আমাকে আমার জাতি থেকে একজন বন্ধুকে বেছে নিতে বলা হয়। তাহলে আমি আবু বকরকে বেছে নেব, তবে তিনি হলেন আমার ভাই এবং আমার সাহাবী।
টিকাঃ
৩৮. সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং ৩৪৮৪ ও ৩৬৫৬
📄 বিশ্বাসযোগ্য একজন
আনাস ইবনে মালিকের বরাতে বলা হয়েছে। ইয়ামেনের কিছু অধিবাসী নবী (সা)-এর কাছে এসে বললেন, আমাদের সাথে এমন একজনকে পাঠান যিনি আমাদেরকে ইসলাম এবং সুন্নাহ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারবে।
আনাস বললেন, তিনি [রসূল আবু উবায়দার হাত ধরে বললেন, "এ ব্যক্তি হলেন এ জাতির বিশ্বাসী লোক।
টিকাঃ
৪০. সহীহ মুসলিম আবু উবাইদাহ বিন আল-জাব্বার শ্রেষ্ঠত। হাদীস নং ৪৫৬৬