📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আবুল কাসিম হাসি দিয়ে চলে গেলেন

📄 আবুল কাসিম হাসি দিয়ে চলে গেলেন


আবুল কাসিম (তাঁর ওপর আল্লাহর মেহেরবানী এবং শান্তি বর্ষিত হোক) বলেন যে, সর্বশেষে নবী হাসি দিয়ে আমাকে অতিক্রম করে চলে গেলেন। যখন তিনি আমাকে দেখলেন তখন আমার মনে এবং মুখমণ্ডলে কি ফুটে উঠে ছিল সেটা তার বুঝতে বাকি ছিল না। তিনি বললেন, 'হে আবু হির (আবু হুরায়রা!) আমি তোমার অনুরোধ রক্ষা করব। আমি 'হে আল্লাহর নবী' বলে তাঁকে সম্বোধন করলাম। তিনি আমাকে বললেন, আমাকে অনুসরণ কর, এবং আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম। অতঃপর তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি প্রবেশের অনুমতি চাইলাম এবং আমাকে অনুমতি দেয়া হলো। তিনি একটি বাউলে দুধ দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, এ দুধ কোথা থেকে এলো? ঘরে উপস্থিতরা বললেন, অমুক (অথবা মহিলা) আপনাকে এটা উপহার হিসেবে দিয়েছেন। বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমি আপনার অনুরোধ রক্ষা করব। তখন তিনি বললেন, যাও, আল-সূফফার লোকদেরকে আমার কাছে ডাক।
আল-সুফফার অধিবাসীরা ছিলেন ইসলামের অতিথি, যাদের কোনো পরিবার, অর্থ এবং কেউ ছিল না। যাদের ওপর এ অধিবাসীরা নির্ভর করতে পারতেন। যখনই নবীর কাছে কোনো দানের সামগ্রী নিয়ে আসা হতো, তিনি সেটা আল-সুফফার অধিবাসীদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং সেটাতে নিজে ভাগ বসাতেন না এবং যখনই কোনো উপহার সামগ্রী তার কাছে পাঠানো হতো, তখন তিনি সেটা থেকে কিছু অংশ উক্ত লোকদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন এবং কিছু অংশ নিজের জন্য রাখতেন।
নবী-এর আদেশ আমাকে বিচলিত করল এবং আমি মনে মনে বললাম, কিভাবে এ পরিমাণ দুধ আল সুফফার অধিবাসীদের জন্য যথেষ্ট হবে? আমার ধারণা ছিল যে, আমার শক্তি বাড়ানোর জন্য আমি এ দুধ থেকে আরও বেশি পান করার ব্যাপারে হকদার, তবে চিন্তা করে দেখ নবী (সা) আমাকে সে দুধটা আল সুফফাবাসীকে দিয়ে দেয়ার জন্য আদেশ করলেন। আমি ভেবে পেলাম না, ঐ দুধের থেকে আমার জন্য আর কতটুকুই বা অবশিষ্ট থাকবে। তবে যা হোক, আমি তখন আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিত নবী-কে মান্য না করে পারলাম না। সেজন্য আমি আল- সুফফার অধিবাসীদের কাছে গেলাম এবং তাদেরকে ডাকলাম। তারা অকুস্থলে আসার পর নবী-এর কাছে ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাদেরকে অনুমতি দেয়া হলো এবং তারা ভিতরে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করলেন।
রসূল করীম আমাকে ও হীর! বলে সম্বোধন করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল আমি আপনার অনুরোধ রক্ষা করব। তিনি বললেন, এটা পান কর এবং তাদেরকেও দাও। সুতরাং আমি দুধের বাউলটা নিলাম এবং তারপর এমন একজনকে দিলাম যিনি আকণ্ঠ পান করে বাউলটা আমার কাছে ফেরত দিল। অত:পর আমি এটা আরেকজনকে দিলাম যিনি দুধটা আকণ্ঠ পান করলেন এবং পাত্রটা আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন এরপরে আমি পাত্রটাকে অন্য একজনের কাছে দিলাম যিনি আকণ্ঠ পান করলেন এবং সর্বশেষে আমার কাছে ফেরত দিলেন, যখন পুরো দলটা ঐ দুধ থেকে আকণ্ঠ পান করে সারল তখন আমি নবীর কাছে গেলাম, যিনি পাত্রটা নিলেন এবং তার হাতের ওপর রাখলেন, আমার দিকে তাকালেন এবং হেসে বললেন, 'হে আল্লাহর নবী! আমি আপনার অনুরোধ রক্ষা করতে প্রস্তুত। তিনি বললেন, সেখানেই আমার এবং তোমার অবস্থান। আমি বললাম, আপনি সত্য কথাই বলেছেন! তিনি আমাকে বললেন, বসো এবং দুধ পান কর। আমি উপবেশন করলাম এবং পান করলাম। তিনি বললেন, পান কর এবং আমি পান করলাম। তিনি আমাকে পান করার কথা ক্রমান্বয়ে বলে যেতে থাকলেন। যে পর্যন্ত না আমি তাকে বললাম, না, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন তার নামে কসম খেয়ে বলছি। আমার পেটে আর জায়গা নেই। তিনি বললেন, এটা আমার কাছে দাও। যখন আমি পাত্রটা তার কাছে দিলাম তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করলেন এবং তাঁর নাম নিলেন এবং দুধের বাকি অংশটি পান করলেন।

টিকাঃ
৩৪. আল-বুখারী কর্তৃক তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত। হাদীস নং ৬১১০

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 টকাশা তোমার আগে এটা পেল

📄 টকাশা তোমার আগে এটা পেল


এটা এমন একটা প্রবাদ, যেটার পুনরাবৃত্তি প্রত্যেক বক্তাই করে এবং বাগবৈশিষ্ট্য। চৌদ্দশত শতাব্দী হতে যে ব্যক্তি যে ক্ষেত্রে প্রত্যেক যুগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে তার ক্ষেত্রে এটা একটা প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের বরাতে বলা হয়েছে। “নবী করীম (সা) বলেছেন, বিভিন্ন জাতি আমাকে দেখানো হয়েছিল আমার সামনে আমি দেখতে পেয়েছিলাম একজন নবী তাঁর অনুসারীদের বড় একটি দল নিয়ে আমাকে অতিক্রম করে গেলেন। আরেকজন নবী আরেকটি ছোট দলের অনুসারী নিয়ে আমাকে অতিক্রম করে চলে গেলেন এবং আরেকজন নবী পাঁচজনের একটি অনুসারী দল নিয়ে আমাকে অতিক্রম করলেন এবং আরেকজন নবী শুধু নিজেই আমাকে অতিক্রম করলেন।
এবং তারপর আমি বহুসংখ্যক লোককে দেখতে পেলাম। সেজন্য আমি জিবরাঈল (আ)কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ মানুষেরা কি আমার অনুসারী? উত্তরে জিবরাঈল (আ) বললেন, না। তবে দিগন্তের দিকে তাকান। আমি তাকিয়ে দেখতে পেলাম বহু সংখ্যক লোকের একটি সমাগম। জিবরাঈল (আ) বললেন, এরা আপনার অনুসারী এবং তাদের সামনে সত্তর হাজার লোক আছে যারা কোনো পাপ করেছে কিনা সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই এমনকি তারা কোনো শাস্তিও পাবে না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কেন?
তিনি বললেন, “তারা নিজেদেরকে জ্বলন্ত বা অগ্নিদগ্ধ কাঠের টুকর দিয়ে ছেকা লাগবেন না অথবা রুকইয়াহর (পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে নিজেদের চিকিৎসা করতেন না) আশ্রয় নিতেন না এবং বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে অশুভের পূর্বাভাস দেখতে পেতেন না এবং তারা তাদের একমাত্র প্রভুর ওপরই বিশ্বাস স্থাপন করতেন। এটা শোনার পর উকাশাহ বিন মুহসান উঠে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর নবীকে বললেন, আমাকে যাতে তাদের অন্যতম করে সেজন্য আল্লাহর নিকট দুয়া করুন। নবী বললেন, হে আল্লাহ! তাকে তাদের অন্যতম করুন। তারপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং রসূল (সা)-কে বললেন, আল্লাহকে আহ্বান করুন, আমাকে যাতে তাদের অন্যতম করেন। রসূল (সা) বললেন, এ ব্যাপারে উকাশাহর অবস্থান তোমার আগে।
কি ধরনের সম্মান উকাশশাহ এ জীবনে পেয়ে গেলেন এবং পরবর্তী জীবনে অপেক্ষা করছে তার জন্য অধিকতর সম্মান যখন তিনি বিনা শাস্তি এবং বিনা প্রশ্নেই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। এ উকাশাহর ওপর এ দুটি সম্মানের (ইহকাল ও পরকালের জীবনে) ফলাফলের কথা চিন্তা করে দেখ।
ইবনে ইসহাকের বরাতে যারা বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। উকাশাহ বিন মুহসান তার তরবারী ভেঙ্গে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেটা দিয়ে যুদ্ধ করছিলেন। তরবারী ভাঙ্গার পর তিনি রসূলের শরণাপন্ন হলেন যিনি তাকে একটি কাঠের টুকরা দিয়ে বললেন, হে উকাশাহ এটা দিয়ে যুদ্ধ কর। তিনি এটা আল্লাহর রসূল -এর কাছ থেকে নেয়ার পর নাড়া দিলেন এবং এটা একটা বড় ভয়ানক এবং সাদা তরবারীতে রূপান্তরিত হলো। উকাশাহ এ তরবারী দিয়ে আল্লাহ মুসলমানদেরকে যুদ্ধে বিজয় মঞ্জুর করার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে এ তরবারীটা তার কাছেই থাকত। তিনি নবী করিম -এর সাথে একাধিক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। উকাশাহ আল-ইয়ামামার যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত তিনি এ তরবারি ব্যবহার করেছিলেন। এ তরবারিটাকে আল-কাইয়ূ (শক্তিশালী) বলা হতো।

টিকাঃ
৩৫. আল-বুখারী কর্তৃক তাঁর গ্রন্থের হাদীস নং ৬১৯৮
৩৬. আল-বায়হাকী কর্তৃক দালাইল আন-নূওয়াহ গ্রন্থে বর্ণিত। হাদীস নং ৯৬৩

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আবু উমাইর এবং গায়ক পাখি

📄 আবু উমাইর এবং গায়ক পাখি


আনাস ইবনে মালিকের বরাতে বলা হয়েছে। "রসূল করীম চরিত্রের দিক থেকে সবচাইতে ভাল ব্যক্তি ছিলেন। আবু উমাইর নামে আমার একটা ভাই ছিল যে আমার মনে হয় মাত্র মায়ের দুধপান ছেড়েছিল। যখন এ শিশুটিকে মুহাম্মাদ এর কাছে আনা হতো, তখন নবী বলতেন, “হে আবু উমাইর! আল-নুগায়েরের কি হয়েছে?
এটা ছিল, একটা গায়ক পাখি যেটা নিয়ে তিনি খেলা করতেন। মাঝে-মধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেলেও তিনি আমাদের বাসায় থাকতেন। তিনি কার্পেটটি ঝাড়ু দিতে এবং পানি দিয়ে ধোয়ার জন্য আদেশ করতেন এবং তারপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াতেন এবং আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াতাম। তিনি সালাতের ইমামত করতেন।

টিকাঃ
৩৭. আল-নুগায়ের হলো লাল ঠোটসহ এক ধরনের ছোট পাখি যেটার গায়ক পাখি সাথে সাদৃশ্য আছে। আল-বুখারী হাদীস নং ৫৮৭০

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আমার ভাই এবং আমার সঙ্গী

📄 আমার ভাই এবং আমার সঙ্গী


বিশ্বাসীদের মধ্যে যিনি প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং যে ব্যক্তি রসূল এর হিযরতের সঙ্গী এবং হেরা পর্বতের গুহার সঙ্গী ছিলেন তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাসূল করীম বলেছেন, যদি আমাকে আমার জাতি থেকে একজন বন্ধুকে বেছে নিতে বলা হয়। তাহলে আমি আবু বকরকে বেছে নেব, তবে তিনি হলেন আমার ভাই এবং আমার সাহাবী।

টিকাঃ
৩৮. সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং ৩৪৮৪ ও ৩৬৫৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00