📄 ইয়ামামার যুদ্ধের স্লোগান
উরওয়াহ ইবনে যুবায়েরের বরাতে বলা হয়েছে। ইয়ামামার যুদ্ধে মুসলমানদের স্লোগান ছিল, (যখন মুসায়লামা নামক ভণ্ড নবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল) "হে সূরা বাকারার মানুষেরা!"
টিকাঃ
৩৩. ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসাননাফ গ্রন্থে বর্ণিত। হাদীস নম্বর ৩২৯১৩
📄 একটি উপাধির আবির্ভাবে এবং নামের তিরোধান
আপনি যদি অনেককে জিজ্ঞাসা করেন, আব্দুর রহমান ইবনে সাকীর আল-দুসসী নামক ব্যক্তিটি কে, তাহলে তাদের জন্য এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া কঠিন হবে। তবে তারা প্রচুরভাবে হাসবে যখন তারা বুঝতে পারবে যে, এটা একজন সাহাবীর উপাধি যিনি তার এ উপাধির মাধ্যমেই ব্যাপকভাবে পরিচিত। ঐ ব্যক্তির প্রকৃত নাম সম্পর্কে তাদের হয়তো ধারণাই ছিল না। তবে তিনি অভ্রান্ত নবী কর্তৃক প্রদত্ত উপাধি দ্বারা প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিলেন。
📄 উপাধি যেটা নামকে অতিক্রম করে এবং বংশকে ছাপিয়ে যায়
আবু হুরায়রা বলেছেন, “আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি আল্লাহর সমকক্ষ আর কেউ নেই। আমরা যার ইবাদত বন্দেগী করতে পারি। মাঝে মধ্যে ক্ষুধার তাড়নায় পেটের ওপর ভর দিয়ে আমি মাটিতে শুয়ে থাকতাম এবং একই কারণে পেটে একটি পাথর বেঁধে মাটিতে শুয়ে থাকতাম। একদিন আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সাহাবীগণ যে পথ দিয়ে আসা-যাওয়া করতেন সে পথে আমি বসেছিলাম। যখন আবু বকর আমাকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তখন আমি তাঁকে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তিনি আমার ক্ষুধা মিটাতে পারবেন মনে করেই আমি এ জিজ্ঞাসাটা করেছিলাম। তবে তিনি আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়েই আমাকে অতিক্রম করে সামনে চলে গেলেন।
📄 আবুল কাসিম হাসি দিয়ে চলে গেলেন
আবুল কাসিম (তাঁর ওপর আল্লাহর মেহেরবানী এবং শান্তি বর্ষিত হোক) বলেন যে, সর্বশেষে নবী হাসি দিয়ে আমাকে অতিক্রম করে চলে গেলেন। যখন তিনি আমাকে দেখলেন তখন আমার মনে এবং মুখমণ্ডলে কি ফুটে উঠে ছিল সেটা তার বুঝতে বাকি ছিল না। তিনি বললেন, 'হে আবু হির (আবু হুরায়রা!) আমি তোমার অনুরোধ রক্ষা করব। আমি 'হে আল্লাহর নবী' বলে তাঁকে সম্বোধন করলাম। তিনি আমাকে বললেন, আমাকে অনুসরণ কর, এবং আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম। অতঃপর তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি প্রবেশের অনুমতি চাইলাম এবং আমাকে অনুমতি দেয়া হলো। তিনি একটি বাউলে দুধ দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, এ দুধ কোথা থেকে এলো? ঘরে উপস্থিতরা বললেন, অমুক (অথবা মহিলা) আপনাকে এটা উপহার হিসেবে দিয়েছেন। বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমি আপনার অনুরোধ রক্ষা করব। তখন তিনি বললেন, যাও, আল-সূফফার লোকদেরকে আমার কাছে ডাক।
আল-সুফফার অধিবাসীরা ছিলেন ইসলামের অতিথি, যাদের কোনো পরিবার, অর্থ এবং কেউ ছিল না। যাদের ওপর এ অধিবাসীরা নির্ভর করতে পারতেন। যখনই নবীর কাছে কোনো দানের সামগ্রী নিয়ে আসা হতো, তিনি সেটা আল-সুফফার অধিবাসীদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং সেটাতে নিজে ভাগ বসাতেন না এবং যখনই কোনো উপহার সামগ্রী তার কাছে পাঠানো হতো, তখন তিনি সেটা থেকে কিছু অংশ উক্ত লোকদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন এবং কিছু অংশ নিজের জন্য রাখতেন।
নবী-এর আদেশ আমাকে বিচলিত করল এবং আমি মনে মনে বললাম, কিভাবে এ পরিমাণ দুধ আল সুফফার অধিবাসীদের জন্য যথেষ্ট হবে? আমার ধারণা ছিল যে, আমার শক্তি বাড়ানোর জন্য আমি এ দুধ থেকে আরও বেশি পান করার ব্যাপারে হকদার, তবে চিন্তা করে দেখ নবী (সা) আমাকে সে দুধটা আল সুফফাবাসীকে দিয়ে দেয়ার জন্য আদেশ করলেন। আমি ভেবে পেলাম না, ঐ দুধের থেকে আমার জন্য আর কতটুকুই বা অবশিষ্ট থাকবে। তবে যা হোক, আমি তখন আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিত নবী-কে মান্য না করে পারলাম না। সেজন্য আমি আল- সুফফার অধিবাসীদের কাছে গেলাম এবং তাদেরকে ডাকলাম। তারা অকুস্থলে আসার পর নবী-এর কাছে ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাদেরকে অনুমতি দেয়া হলো এবং তারা ভিতরে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করলেন।
রসূল করীম আমাকে ও হীর! বলে সম্বোধন করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল আমি আপনার অনুরোধ রক্ষা করব। তিনি বললেন, এটা পান কর এবং তাদেরকেও দাও। সুতরাং আমি দুধের বাউলটা নিলাম এবং তারপর এমন একজনকে দিলাম যিনি আকণ্ঠ পান করে বাউলটা আমার কাছে ফেরত দিল। অত:পর আমি এটা আরেকজনকে দিলাম যিনি দুধটা আকণ্ঠ পান করলেন এবং পাত্রটা আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন এরপরে আমি পাত্রটাকে অন্য একজনের কাছে দিলাম যিনি আকণ্ঠ পান করলেন এবং সর্বশেষে আমার কাছে ফেরত দিলেন, যখন পুরো দলটা ঐ দুধ থেকে আকণ্ঠ পান করে সারল তখন আমি নবীর কাছে গেলাম, যিনি পাত্রটা নিলেন এবং তার হাতের ওপর রাখলেন, আমার দিকে তাকালেন এবং হেসে বললেন, 'হে আল্লাহর নবী! আমি আপনার অনুরোধ রক্ষা করতে প্রস্তুত। তিনি বললেন, সেখানেই আমার এবং তোমার অবস্থান। আমি বললাম, আপনি সত্য কথাই বলেছেন! তিনি আমাকে বললেন, বসো এবং দুধ পান কর। আমি উপবেশন করলাম এবং পান করলাম। তিনি বললেন, পান কর এবং আমি পান করলাম। তিনি আমাকে পান করার কথা ক্রমান্বয়ে বলে যেতে থাকলেন। যে পর্যন্ত না আমি তাকে বললাম, না, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন তার নামে কসম খেয়ে বলছি। আমার পেটে আর জায়গা নেই। তিনি বললেন, এটা আমার কাছে দাও। যখন আমি পাত্রটা তার কাছে দিলাম তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করলেন এবং তাঁর নাম নিলেন এবং দুধের বাকি অংশটি পান করলেন।
টিকাঃ
৩৪. আল-বুখারী কর্তৃক তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত। হাদীস নং ৬১১০