📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 সামুরার অধিবাসীর প্রতি বিশেষ ডাকের ফলাফল

📄 সামুরার অধিবাসীর প্রতি বিশেষ ডাকের ফলাফল


যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ-এর বরাতে বলা হয়েছে। "তারা তাকে বলেছিল, 'আমরা আপনার অনুরোধ রক্ষা করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। তাদের মধ্যে একজন একথা শুনে তার উটে হেলান দিল, যে এ কাজটা করতে সক্ষম। অত:পর সে তার বর্ম গলা থেকে খুলে ফেলল, তরবারী এবং বর্শা হাতে নিল এবং তারপর যুদ্ধের ধ্বনি দিতে থাকল যে পর্যন্ত না তাদের মধ্য থেকে একশত জন রসূল-এর চারিদিকে জমায়েত না হলো। তারা মানুষের সম্মুখীন হলো এবং তারপর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল।
হে সামুরার অধিবাসীগণ! আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন যদি কোনো ব্যক্তিকে তার উপাধি এবং বিশিষ্ট গুণাবলি ব্যবহার করে ডাক দেয়া হয় তাহলে সেটার ফলাফল কি হতে পারে? এ সম্বোধনটা এতটা ফলপ্রসূ যে, এ লোকদের মধ্যে কারো যদি উট থেকে থাকে এবং সে উটটি যদি যেতে অস্বীকার করে তাহলে আরোহণকারী উট থেকে নেমে যাবে এবং এটাকে পরিত্যাগ করবে। তারপর ঐ ব্যক্তি সম্বোধনকারির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য তাড়াহুড়া করবে। এটা হলো একই ব্যক্তি যে কিছুক্ষণ আগে তার মাহুতকে বিপদ এবং বিধ্বস্ত জায়গার বিপদ এড়িয়ে চলার জন্য ভোজবাজি দেখাচ্ছিল এবং চাবুকের দ্বারা আঘাত করছিল।

টিকাঃ
৩১. আল-বায়হাকী কর্তৃক তার গ্রন্থ দালাল আল নুবুয়া হতে বর্ণিত

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই

📄 আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই


সামুরার বিশিষ্ট সাহাবীদের মনের ওপর এ ধরনের সম্বোধন কি রকম গভীর প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল তা দেখার বিষয় নয়? একটি মাত্র মিষ্টি সম্বোধন এবং একটি মাত্র সনদ হে সামুরাহর অধিবাসীগণ! ব্যবহারের কারণে প্রতিটা ব্যাপার সামগ্রিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেল। এ সম্বোধনের এবং এ সনদের কল্যাণে প্রতিটি ভীতি দূরীভূত হলো এবং প্রতিটি অনিচ্ছা নিস্তেজ হয়ে গেল। দৃঢ় প্রতিজ্ঞতার জয় হলো এবং বিশ্বাস স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো।
মানুষের সাহস এবং বীরত্বের আবির্ভাব হলো। পার্থিব জীবনের প্রতি মোহের অবসান ঘটল এবং সে স্থলে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার মোহ স্থান করে নিল। এটা সম্ভব হলো শুধুমাত্র একটি সনদ উপহার দেয়ার কল্যাণে। এজন্য ওহী নাযিল অথবা কোনো ফেরেশতাকে জান্নাত থেকে নেমে আসতে হয়নি। দ্রুত ও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানোর জন্য এ সম্বোধনটা যথেষ্ট ছিল। যেটা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজার চাইতে যুদ্ধে অংশ নিতে আরোও উৎসাহিত করে। যেখানে মানুষ মৃত্যু মুখে পতিত হতে পারে। আমরা কি এ পাঠ থেকে শিক্ষা নিয়েছি? আমরা কি এটা অনুধাবন করতে পেরেছি যে, একটি ভাল নামের এবং বিশিষ্ট বর্ণনার কি মোহনীয় শক্তি থাকতে পারে? আমি মনে করি সেটা আমরা সক্ষম হয়েছি।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 ঘটনার সমাপ্তি

📄 ঘটনার সমাপ্তি


আল-আব্বাস বলেছিলেন, মহানবী খচ্চরের পিঠে থাকাকালীন অবস্থায় একটি দীর্ঘ বক্তৃতা করেছিলেন। যখন যুদ্ধের ভয়ানক আকার ধারণ করল তখন রসূল বললেন, "হে আব্বাস! সামনে অগ্রসর হও। এরপর তিনি কয়েকটি পাথর তুলে নিলেন এবং সেগুলো নিক্ষেপ করার সময় বললেন, কাবা ঘরের প্রভুর নামে শপথ করে বলছি। তারা পরাজিত হবে।"

টিকাঃ
৩২. মুসনাদে আল-হুমাইদী কর্তৃক বর্ণিত। হাদীস নং ৪৪৬

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 ইয়ামামার যুদ্ধের স্লোগান

📄 ইয়ামামার যুদ্ধের স্লোগান


উরওয়াহ ইবনে যুবায়েরের বরাতে বলা হয়েছে। ইয়ামামার যুদ্ধে মুসলমানদের স্লোগান ছিল, (যখন মুসায়লামা নামক ভণ্ড নবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল) "হে সূরা বাকারার মানুষেরা!"

টিকাঃ
৩৩. ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসাননাফ গ্রন্থে বর্ণিত। হাদীস নম্বর ৩২৯১৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00