📄 সচেতন নেতা
আল-আব্বাস-এর বর্ণনানুযায়ী, "নবী করিম বললেন, "হে আব্বাস! সামূরাহ অধিবাসীকে আহ্বান কর। আমার গলার আওয়াজ উঁচু ছিল। আমি সর্বশক্তি সহকারে চিৎকার করে বললাম, হে সামুরার অধিবাসী!
রসূল উপলব্ধি করলেন যে, সর্বসাধারণের ডাকের প্রতি (হে মানুষ!) প্রতিক্রিয়া ছিল দুর্বল। তাঁর বুদ্ধিমত্তা এবং অন্তর্দৃষ্টির কারণে উপলব্ধি করতে পারলেন যে, এ ডাকটাকে আরোও স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং এটা বর্ণনামূলক হতে হবে। তখনই শুধু বিভিন্ন হৃদয় তাদের উপাধি শোনার আকুল আকাঙ্ক্ষা বোধ করবে এবং আবেগভরা চিত্তে যে উপাধিগুলো তাদেরকে অন্যদের থেকে পৃথক করেছে সেগুলো ভালবাসবে। সুতরাং তিনি আদেশ করলেন যে, সামুরার লোকদেরকে তাদের উপাধি ধরে ডাকতে হবে। প্রসিদ্ধ সাহাবীদের একটি দলের এটা ছিল একটি মহান সম্মান এবং এ প্রসিদ্ধ লোকেরা সংখ্যায় ছিলেন ১৪০০ জন। তারা রসূল করীম-এর সাথে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন যে চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল যে, তারা মুহাম্মাদ এর সাথে যুদ্ধ করবেন। তারা এ চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন, যখন উসমান ইবনে আফফানের (যিনি ছিলেন হুদায়বিয়া চুক্তিতে কুরাইশে মুহাম্মাদ-এর দূতের মৃত্যু সম্পর্কিত গুজব ছড়িয়ে পরেছিল।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ঐ মানুষদের সম্মানে এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য একটি আয়াত নাযিল হয়েছিল। "আল্লাহ তাদের মহিমান্বিত করেছিলেন এবং তাদের সাথে জয়। সম্মান আল্লাহর আনন্দ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ব্যাপারে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল।
টিকাঃ
৩০. আল-ফতহুল বারী (৪৮: ১৮-১৯)
📄 সামুরার অধিবাসীর প্রতি বিশেষ ডাকের ফলাফল
যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ-এর বরাতে বলা হয়েছে। "তারা তাকে বলেছিল, 'আমরা আপনার অনুরোধ রক্ষা করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। তাদের মধ্যে একজন একথা শুনে তার উটে হেলান দিল, যে এ কাজটা করতে সক্ষম। অত:পর সে তার বর্ম গলা থেকে খুলে ফেলল, তরবারী এবং বর্শা হাতে নিল এবং তারপর যুদ্ধের ধ্বনি দিতে থাকল যে পর্যন্ত না তাদের মধ্য থেকে একশত জন রসূল-এর চারিদিকে জমায়েত না হলো। তারা মানুষের সম্মুখীন হলো এবং তারপর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল।
হে সামুরার অধিবাসীগণ! আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন যদি কোনো ব্যক্তিকে তার উপাধি এবং বিশিষ্ট গুণাবলি ব্যবহার করে ডাক দেয়া হয় তাহলে সেটার ফলাফল কি হতে পারে? এ সম্বোধনটা এতটা ফলপ্রসূ যে, এ লোকদের মধ্যে কারো যদি উট থেকে থাকে এবং সে উটটি যদি যেতে অস্বীকার করে তাহলে আরোহণকারী উট থেকে নেমে যাবে এবং এটাকে পরিত্যাগ করবে। তারপর ঐ ব্যক্তি সম্বোধনকারির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য তাড়াহুড়া করবে। এটা হলো একই ব্যক্তি যে কিছুক্ষণ আগে তার মাহুতকে বিপদ এবং বিধ্বস্ত জায়গার বিপদ এড়িয়ে চলার জন্য ভোজবাজি দেখাচ্ছিল এবং চাবুকের দ্বারা আঘাত করছিল।
টিকাঃ
৩১. আল-বায়হাকী কর্তৃক তার গ্রন্থ দালাল আল নুবুয়া হতে বর্ণিত
📄 আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই
সামুরার বিশিষ্ট সাহাবীদের মনের ওপর এ ধরনের সম্বোধন কি রকম গভীর প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল তা দেখার বিষয় নয়? একটি মাত্র মিষ্টি সম্বোধন এবং একটি মাত্র সনদ হে সামুরাহর অধিবাসীগণ! ব্যবহারের কারণে প্রতিটা ব্যাপার সামগ্রিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেল। এ সম্বোধনের এবং এ সনদের কল্যাণে প্রতিটি ভীতি দূরীভূত হলো এবং প্রতিটি অনিচ্ছা নিস্তেজ হয়ে গেল। দৃঢ় প্রতিজ্ঞতার জয় হলো এবং বিশ্বাস স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো।
মানুষের সাহস এবং বীরত্বের আবির্ভাব হলো। পার্থিব জীবনের প্রতি মোহের অবসান ঘটল এবং সে স্থলে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার মোহ স্থান করে নিল। এটা সম্ভব হলো শুধুমাত্র একটি সনদ উপহার দেয়ার কল্যাণে। এজন্য ওহী নাযিল অথবা কোনো ফেরেশতাকে জান্নাত থেকে নেমে আসতে হয়নি। দ্রুত ও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানোর জন্য এ সম্বোধনটা যথেষ্ট ছিল। যেটা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজার চাইতে যুদ্ধে অংশ নিতে আরোও উৎসাহিত করে। যেখানে মানুষ মৃত্যু মুখে পতিত হতে পারে। আমরা কি এ পাঠ থেকে শিক্ষা নিয়েছি? আমরা কি এটা অনুধাবন করতে পেরেছি যে, একটি ভাল নামের এবং বিশিষ্ট বর্ণনার কি মোহনীয় শক্তি থাকতে পারে? আমি মনে করি সেটা আমরা সক্ষম হয়েছি।
📄 ঘটনার সমাপ্তি
আল-আব্বাস বলেছিলেন, মহানবী খচ্চরের পিঠে থাকাকালীন অবস্থায় একটি দীর্ঘ বক্তৃতা করেছিলেন। যখন যুদ্ধের ভয়ানক আকার ধারণ করল তখন রসূল বললেন, "হে আব্বাস! সামনে অগ্রসর হও। এরপর তিনি কয়েকটি পাথর তুলে নিলেন এবং সেগুলো নিক্ষেপ করার সময় বললেন, কাবা ঘরের প্রভুর নামে শপথ করে বলছি। তারা পরাজিত হবে।"
টিকাঃ
৩২. মুসনাদে আল-হুমাইদী কর্তৃক বর্ণিত। হাদীস নং ৪৪৬