📄 সামুরার বাসিন্দা
গুণাবলির সৌন্দর্য এবং উপাধির মিষ্টতা মানুষের তীব্রতম সহজাত প্রবৃত্তিকে জয় করতে পারে। সহজাত প্রবৃত্তিগুলোর একটি হলো জীবনের প্রতি মায়া। যেটা অকৃত্রিম মানবিক সহজাত প্রবৃত্তির মধ্যে অন্যতম। মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছিল মানব প্রজাতি ও মানব সভ্যতাকে সংরক্ষণ করার জন্য। এটা এরকম হওয়ার কারণ হলো, নাম এবং উপাধি মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এগুলো তাদের ব্যক্তিত্বকে অঙ্কন করে। তাদের পরিচয়কে প্রকাশ করে এবং তাদের অপ্রকাশিত বৈশিষ্ট্যগুলোকে ব্যক্ত করে।
যখন কোনো ব্যক্তি তার সুন্দর গুণাবলি অথবা কোনো উপাধি যেটা সে পছন্দ করে সেটার কথা শুনে, সেক্ষেত্রে সে উপাধির যে সৌন্দর্য এবং আকর্ষণ আছে সেগুলোর বদৌলতে সে তার ভয়-ভীতি, নিরাপত্তার জন্য আকুল কামনা এবং জীবনের মোহনা ভুলে যাবে।
وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَنْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُّدْبِرِينَ.
হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য ও তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল। অথচ তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। আর যমিন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের ওপর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।
জীবনের প্রতি মোহের কারণে কষ্টের সময় এবং দুর্যোগের স্থানে মানুষ নিরাপত্তা খোঁজে। এক্ষেত্রে নেতৃত্বের গোপন তত্ত্ব এবং প্রভাব বিস্তারের পথ প্রকাশ পায়। হুনাইনের যুদ্ধ যখন শুরু হলো তখন মানুষ চারিদিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং বৃষ্টির মতো তাদের চারিদিকে তীর যাওয়া-আসা শুরু করল। গাছের শুকনো পাতা যেভাবে ঝড়ে পড়ে সেভাবে মানুষ জীবন হারাতে থাকল। সেজন্য মানুষ টিলা এবং গাছের পিছনে গিয়ে জীবন বাঁচাতে সাহায্য নিল।
টিকাঃ
২৮. তাওবাহ (৯,২৫)
📄 নেতা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন লোকদেরকে আহবান করলেন
যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ -এর বর্ণনানুযায়ী, "যখন আমরা হুনাইন উপত্যকার মুখোমুখি ছিলাম তখন আমরা একটি উপত্যকা গা বেয়ে নিচের দিকে নামছিলাম যে পর্যন্ত না সে বলে উঠল, আমি আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলছি যখন আমরা টিলা বেয়ে নামছিলাম, তখন একদল সেনার আক্রমণের কারণে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কারো দিকে বিন্দুমাত্র না তাকিয়ে মানুষ যখন পশ্চাদাপসরণ করছিল তখন তারা পরাজয়ের সম্মুখীন হয়। নবী করীম ডানদিকে ঝুঁকে বললেন, হে মানুষ! আমার দিকে আস আমি আল্লাহর রসূল আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ।”
📄 একটি সাধারণ আহ্বান
এখন পর্যন্ত “হে মানুষ!” ডাকটা সাধারণভাবে ব্যবহৃত। এ ডাকটা সব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে যারা প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং যারা পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে। যারা হিযরত করেছিল এবং যারা হিযরতের মহান সম্মান হারিয়েছিল, যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল এবং যারা করেনি, মক্কা এবং মদিনার অধিবাসী, কুরআন নাযিলের পরবর্তী লোক এবং অন্যান্যরা। যারা যুদ্ধ ক্ষেত্রে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন তাদের মনের ওপরে এ আহ্বান কি ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে?
📄 সচেতন নেতা
আল-আব্বাস-এর বর্ণনানুযায়ী, "নবী করিম বললেন, "হে আব্বাস! সামূরাহ অধিবাসীকে আহ্বান কর। আমার গলার আওয়াজ উঁচু ছিল। আমি সর্বশক্তি সহকারে চিৎকার করে বললাম, হে সামুরার অধিবাসী!
রসূল উপলব্ধি করলেন যে, সর্বসাধারণের ডাকের প্রতি (হে মানুষ!) প্রতিক্রিয়া ছিল দুর্বল। তাঁর বুদ্ধিমত্তা এবং অন্তর্দৃষ্টির কারণে উপলব্ধি করতে পারলেন যে, এ ডাকটাকে আরোও স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং এটা বর্ণনামূলক হতে হবে। তখনই শুধু বিভিন্ন হৃদয় তাদের উপাধি শোনার আকুল আকাঙ্ক্ষা বোধ করবে এবং আবেগভরা চিত্তে যে উপাধিগুলো তাদেরকে অন্যদের থেকে পৃথক করেছে সেগুলো ভালবাসবে। সুতরাং তিনি আদেশ করলেন যে, সামুরার লোকদেরকে তাদের উপাধি ধরে ডাকতে হবে। প্রসিদ্ধ সাহাবীদের একটি দলের এটা ছিল একটি মহান সম্মান এবং এ প্রসিদ্ধ লোকেরা সংখ্যায় ছিলেন ১৪০০ জন। তারা রসূল করীম-এর সাথে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন যে চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল যে, তারা মুহাম্মাদ এর সাথে যুদ্ধ করবেন। তারা এ চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন, যখন উসমান ইবনে আফফানের (যিনি ছিলেন হুদায়বিয়া চুক্তিতে কুরাইশে মুহাম্মাদ-এর দূতের মৃত্যু সম্পর্কিত গুজব ছড়িয়ে পরেছিল।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ঐ মানুষদের সম্মানে এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য একটি আয়াত নাযিল হয়েছিল। "আল্লাহ তাদের মহিমান্বিত করেছিলেন এবং তাদের সাথে জয়। সম্মান আল্লাহর আনন্দ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ব্যাপারে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিল।
টিকাঃ
৩০. আল-ফতহুল বারী (৪৮: ১৮-১৯)