📄 হৃদয় জয়ের ক্ষুদ্রতম পথ হলো গুণাবলি
উমর ইবনে খাত্তাব এর বরাতে বলা হয়েছে। “তিনটি ব্যাপার তোমার ভাইয়ের হৃদয়কে তোমার দিকে ঝুঁকাবে- যখন তার সাথে তোমার দেখা হবে তাকে অভিনন্দন জানানো, সমাবেশে বসার জন্য তাকে বসার জায়গা করে দেয়া, যে নামটা সে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে সে নামে তাকে ডাকা।
আমি কিছু উদাহরণের অবতারণা করব যেগুলো বাঞ্চিত অর্থকে সমর্থন করবে। আপনারা দেখতে পাবেন, নবী করীম -এর সাথে যখন বিভিন্ন মানুষের সাথে দেখা হতো তখন তিনি ঐ লোকদের নাম জানার জন্য অধিক উদগ্রীব থাকতেন। একাধিকবার তিনি তাদেরকে সুন্দর নাম এবং উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
টিকাঃ
২৬. আল-বায়হাকী হাদীস নং ২৯৩১
📄 মুসামাহ (দুঃস্বপ্ন)
আয়েশা -এর বরাতে বলা হয়েছে। নবী যখন আমার ঘরে ছিলেন তখন একজন বৃদ্ধা মহিলা রসূল -এর সাথে দেখা করতে এসেছিল। নবী ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কে? মহিলা বললেন, “যুসামাহ আল-মুযানিয়াহ। তিনি বললেন, 'না, আপনি হাসানাহ (সুন্দরীদের একজন) মুযানিয়াহ। আপনি কেমন আছেন? আপনার অবস্থা কি? আমরা আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার পর আপনি কি করেছেন? মহিলা বললেন, “হে আল্লাহ রসূল! আমার মা-বাবা আপনার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করুক, আমরা ভাল আছি। ঐ মহিলা চলে যাওয়ার পর আয়েশা বললেন, হে আল্লাহ রসূল আপনি ঐ মহিলাকে একটি উষ্ণ সম্বর্ধনা দিয়েছেন। নবী বললেন, খাদীজার সময়ে ঐ মহিলা আমাদেরকে দেখতে আসতেন।
টিকাঃ
২৭. আল-হাকীম কর্তৃক তাঁর গ্রন্থ আল-মুস্তাদরাকে বর্ণিত হাদীস নং ৩৯। তার মতে এ হাদীসটি আল- বুখারী ও মুসলিমের মান অনুযায়ী সহীহ। তবে তারা এটা বর্ণনা করেনি। তারা উভয়েই বর্ণনাকারীর জবানবন্দী বিশ্বাস করেছে। এর কোন লুক্কায়িত ত্রুট নেই।
📄 সামুরার বাসিন্দা
গুণাবলির সৌন্দর্য এবং উপাধির মিষ্টতা মানুষের তীব্রতম সহজাত প্রবৃত্তিকে জয় করতে পারে। সহজাত প্রবৃত্তিগুলোর একটি হলো জীবনের প্রতি মায়া। যেটা অকৃত্রিম মানবিক সহজাত প্রবৃত্তির মধ্যে অন্যতম। মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছিল মানব প্রজাতি ও মানব সভ্যতাকে সংরক্ষণ করার জন্য। এটা এরকম হওয়ার কারণ হলো, নাম এবং উপাধি মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এগুলো তাদের ব্যক্তিত্বকে অঙ্কন করে। তাদের পরিচয়কে প্রকাশ করে এবং তাদের অপ্রকাশিত বৈশিষ্ট্যগুলোকে ব্যক্ত করে।
যখন কোনো ব্যক্তি তার সুন্দর গুণাবলি অথবা কোনো উপাধি যেটা সে পছন্দ করে সেটার কথা শুনে, সেক্ষেত্রে সে উপাধির যে সৌন্দর্য এবং আকর্ষণ আছে সেগুলোর বদৌলতে সে তার ভয়-ভীতি, নিরাপত্তার জন্য আকুল কামনা এবং জীবনের মোহনা ভুলে যাবে।
وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَنْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُّدْبِرِينَ.
হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য ও তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল। অথচ তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। আর যমিন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের ওপর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।
জীবনের প্রতি মোহের কারণে কষ্টের সময় এবং দুর্যোগের স্থানে মানুষ নিরাপত্তা খোঁজে। এক্ষেত্রে নেতৃত্বের গোপন তত্ত্ব এবং প্রভাব বিস্তারের পথ প্রকাশ পায়। হুনাইনের যুদ্ধ যখন শুরু হলো তখন মানুষ চারিদিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং বৃষ্টির মতো তাদের চারিদিকে তীর যাওয়া-আসা শুরু করল। গাছের শুকনো পাতা যেভাবে ঝড়ে পড়ে সেভাবে মানুষ জীবন হারাতে থাকল। সেজন্য মানুষ টিলা এবং গাছের পিছনে গিয়ে জীবন বাঁচাতে সাহায্য নিল।
টিকাঃ
২৮. তাওবাহ (৯,২৫)
📄 নেতা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন লোকদেরকে আহবান করলেন
যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ -এর বর্ণনানুযায়ী, "যখন আমরা হুনাইন উপত্যকার মুখোমুখি ছিলাম তখন আমরা একটি উপত্যকা গা বেয়ে নিচের দিকে নামছিলাম যে পর্যন্ত না সে বলে উঠল, আমি আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলছি যখন আমরা টিলা বেয়ে নামছিলাম, তখন একদল সেনার আক্রমণের কারণে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কারো দিকে বিন্দুমাত্র না তাকিয়ে মানুষ যখন পশ্চাদাপসরণ করছিল তখন তারা পরাজয়ের সম্মুখীন হয়। নবী করীম ডানদিকে ঝুঁকে বললেন, হে মানুষ! আমার দিকে আস আমি আল্লাহর রসূল আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ।”