📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 এই গোপনীয়তার ভিত্তি

📄 এই গোপনীয়তার ভিত্তি


মানুষের কাছে তাদের নাম মূল্যবান এবং নামগুলো তাদের কাছে প্রচন্ডভাবে অর্থবহ। মানুষেরা তাদের নাম নিয়ে গর্ববোধ করেন এবং তারা তাদের নামকে পরিচিতি হিসেবে ব্যবহার করেন, যেগুলোর মধ্য দিয়ে তাদের ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটে এবং তাদের স্বভাব-চরিত্রের দিক নির্দেশনা দেয়। সুতরাং কোনো ব্যক্তির হৃদয় এবং আত্মার কাছে পৌঁছানোর হাতিয়ার হলো তাদের নাম জানা।
যখন কোনো ব্যক্তির সাথে আপনার সাক্ষাত ঘটে এবং আপনি তার সাথে পরিচিত হন। তখন আপনি দেখতে পাবেন যে, তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তার মুখমণ্ডলে ভেসে উঠেছে। যদি দীর্ঘ সময় পরে তার সাথে পুনরায় আপনার দেখা হয়। তবে আপনি তার নাম ভুলে গিয়েছেন, তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে কোনো ব্যক্তি তার নিজের নামকে কত ভালবাসে এবং তার নাম নিয়ে গর্ববোধ করেন। যে ব্যক্তিকে আপনি চিনেন তার সাথে দীর্ঘ সময় পরে যদি আপনার দেখা হয় এবং আপনি যদি তার নাম ভুলে গিয়ে না থাকেন তাহলে তার কাছ থেকে একটা স্বত:স্ফূর্ত হাসি পুরস্কার হিসেবে পাবেন। এমনকি আপনি যদি শুধু তার নাম এবং উপাধি মনে রাখতে পারেন সে ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি তার দীর্ঘস্থায়ী হাসি চেপে রাখতে পারবে না। এমনকি যে অবস্থাটা আপনারা দুজনে মিলে অবলোকন করছিলেন সেটা মনে করতে পারেন। তাহলেও আপনি তার কাছে যে কোনো কিছু চাইতে পারবেন। সে আপনার প্রশ্নের তাড়াতাড়ি জবাব দেবে, সেটা আগের যে কোনো সময়ের চাইতে দ্রুত হবে।
আপনি কি জানেন এটা কেন হয়? কারণ প্রতিটা মানুষ তার নাম পছন্দ করে এবং এ নিয়ে গর্ববোধ করে। সুতরাং কারো নামকরণ, ভাল গুণাবলি এবং উপাধি দিয়ে ভূষিত করা কারো হৃদয় এবং আত্মাকে বশীভূত করার সবচাইতে ক্ষুদ্রতম পথ। এক্ষেত্রে মহানবী খুবই দক্ষ ছিলেন। অনেকবার তিনি বিভিন্নজনকে ভাল বিশেষণ এবং উপাধি দ্বারা ভূষিত করেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নবী অজ্ঞতার যুগের নাম পরিবর্তন করেছেন যেগুলোর অর্থ ছিল কদর্য এবং ব্যাখ্যা ছিল অসত্য।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 হৃদয় জয়ের ক্ষুদ্রতম পথ হলো গুণাবলি

📄 হৃদয় জয়ের ক্ষুদ্রতম পথ হলো গুণাবলি


উমর ইবনে খাত্তাব এর বরাতে বলা হয়েছে। “তিনটি ব্যাপার তোমার ভাইয়ের হৃদয়কে তোমার দিকে ঝুঁকাবে- যখন তার সাথে তোমার দেখা হবে তাকে অভিনন্দন জানানো, সমাবেশে বসার জন্য তাকে বসার জায়গা করে দেয়া, যে নামটা সে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে সে নামে তাকে ডাকা।
আমি কিছু উদাহরণের অবতারণা করব যেগুলো বাঞ্চিত অর্থকে সমর্থন করবে। আপনারা দেখতে পাবেন, নবী করীম -এর সাথে যখন বিভিন্ন মানুষের সাথে দেখা হতো তখন তিনি ঐ লোকদের নাম জানার জন্য অধিক উদগ্রীব থাকতেন। একাধিকবার তিনি তাদেরকে সুন্দর নাম এবং উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

টিকাঃ
২৬. আল-বায়হাকী হাদীস নং ২৯৩১

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 মুসামাহ (দুঃস্বপ্ন)

📄 মুসামাহ (দুঃস্বপ্ন)


আয়েশা -এর বরাতে বলা হয়েছে। নবী যখন আমার ঘরে ছিলেন তখন একজন বৃদ্ধা মহিলা রসূল -এর সাথে দেখা করতে এসেছিল। নবী ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কে? মহিলা বললেন, “যুসামাহ আল-মুযানিয়াহ। তিনি বললেন, 'না, আপনি হাসানাহ (সুন্দরীদের একজন) মুযানিয়াহ। আপনি কেমন আছেন? আপনার অবস্থা কি? আমরা আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার পর আপনি কি করেছেন? মহিলা বললেন, “হে আল্লাহ রসূল! আমার মা-বাবা আপনার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করুক, আমরা ভাল আছি। ঐ মহিলা চলে যাওয়ার পর আয়েশা বললেন, হে আল্লাহ রসূল আপনি ঐ মহিলাকে একটি উষ্ণ সম্বর্ধনা দিয়েছেন। নবী বললেন, খাদীজার সময়ে ঐ মহিলা আমাদেরকে দেখতে আসতেন।

টিকাঃ
২৭. আল-হাকীম কর্তৃক তাঁর গ্রন্থ আল-মুস্তাদরাকে বর্ণিত হাদীস নং ৩৯। তার মতে এ হাদীসটি আল- বুখারী ও মুসলিমের মান অনুযায়ী সহীহ। তবে তারা এটা বর্ণনা করেনি। তারা উভয়েই বর্ণনাকারীর জবানবন্দী বিশ্বাস করেছে। এর কোন লুক্কায়িত ত্রুট নেই।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 সামুরার বাসিন্দা

📄 সামুরার বাসিন্দা


গুণাবলির সৌন্দর্য এবং উপাধির মিষ্টতা মানুষের তীব্রতম সহজাত প্রবৃত্তিকে জয় করতে পারে। সহজাত প্রবৃত্তিগুলোর একটি হলো জীবনের প্রতি মায়া। যেটা অকৃত্রিম মানবিক সহজাত প্রবৃত্তির মধ্যে অন্যতম। মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছিল মানব প্রজাতি ও মানব সভ্যতাকে সংরক্ষণ করার জন্য। এটা এরকম হওয়ার কারণ হলো, নাম এবং উপাধি মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এগুলো তাদের ব্যক্তিত্বকে অঙ্কন করে। তাদের পরিচয়কে প্রকাশ করে এবং তাদের অপ্রকাশিত বৈশিষ্ট্যগুলোকে ব্যক্ত করে।
যখন কোনো ব্যক্তি তার সুন্দর গুণাবলি অথবা কোনো উপাধি যেটা সে পছন্দ করে সেটার কথা শুনে, সেক্ষেত্রে সে উপাধির যে সৌন্দর্য এবং আকর্ষণ আছে সেগুলোর বদৌলতে সে তার ভয়-ভীতি, নিরাপত্তার জন্য আকুল কামনা এবং জীবনের মোহনা ভুলে যাবে।
وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَنْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُّدْبِرِينَ.
হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য ও তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল। অথচ তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। আর যমিন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের ওপর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।
জীবনের প্রতি মোহের কারণে কষ্টের সময় এবং দুর্যোগের স্থানে মানুষ নিরাপত্তা খোঁজে। এক্ষেত্রে নেতৃত্বের গোপন তত্ত্ব এবং প্রভাব বিস্তারের পথ প্রকাশ পায়। হুনাইনের যুদ্ধ যখন শুরু হলো তখন মানুষ চারিদিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং বৃষ্টির মতো তাদের চারিদিকে তীর যাওয়া-আসা শুরু করল। গাছের শুকনো পাতা যেভাবে ঝড়ে পড়ে সেভাবে মানুষ জীবন হারাতে থাকল। সেজন্য মানুষ টিলা এবং গাছের পিছনে গিয়ে জীবন বাঁচাতে সাহায্য নিল।

টিকাঃ
২৮. তাওবাহ (৯,২৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00