📄 তুমি কেমন আছ?
মহা নবী তাড়াহুড়া করে পরিব্রাজককে তার অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কেমন আছ?' পরিব্রাজক যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে সে ব্যাপারে তার মনে কি প্রতিক্রিয়া চলছে সেটা প্রকাশ করার সুযোগ তাকে দেয়ার ইচ্ছা ছিল রসূল -এর। রসূলের প্রশ্নের জন্য পরিব্রাজকের বিবৃতি থেকে প্রমাণ চেয়েছিলেন। মনে হয় রসূল পরিব্রাজককে বলতে চেয়েছিলেন, আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ। আমরা আপনার জ্ঞানের অথবা কথার সাথে তেমন কিছু যোগ করব না।
প্রশ্নের উত্তরে পরিব্রাজক বলছিলেন, আমি দিন শুরু করতাম ন্যায় এবং মানুষকে ভালবেসে। আমি যদি ভাল কিছু করি, আমি সেটার জন্য পুরস্কৃত হব, এবং আমি যদি এটা হারাই তাহলে অসুখী হব। নবী করীম পরিব্রাজককে বললেন, যাকে আল্লাহ ভালবাসেন তার মধ্যে একটি চিহ্ন ফুটে উঠে এবং যে ব্যক্তির সাথে তিনি অসন্তুষ্ট হন তাকে ভুল কাজে ধাবিত করেন এবং সে কিভাবে নিঃশেষ হয়ে যাবে সে ব্যাপারে আল্লাহ যত্নবান হন না।
📄 যায়েদ আল-খায়েরের সাথে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাক্ষাতের ফলাফল
হিযরতের নবম বছরে পর যায়েদ ইবনে মুহাল্লাল ইবনে যায়েদ একটি প্রতিনিধি দলের সাথে এসেছিলেন। তিনি রসূল কে বলেছিলেন, অজ্ঞতার যুগে কারো কোনো বর্ণনা আমার কাছে দেয়া হয়নি। নবী করীম (সা) তাকে যায়েদ আল-খায়ের নামে ডাকতেন। যাকে কিছু পুরস্কার দিয়েছিলেন সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়। সে ফেরত সফর শুরু করল এবং রসূল উক্তি করলেন, যদি যায়েদ মদিনায় আক্রান্ত জ্বর থেকে রেহাই পায় তাহলে সে টিকে গেল। বর্ণনাকারী বললেন, কারদাহ নামে একটি উপত্যকায় যায়েদ আক্রান্ত হন সেখানে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।
টিকাঃ
২৫. ইবনে হাযার আসকালনী প্রণীত আস ইসাবাহ দ্রষ্টব্য। (১/৫৭৩)। আল-বায়হাকী তার গ্রন্থ দালাল আল নুবুওয়াহতে একই ধরনের একটি হাদীসের বর্ণনা দিয়েছেন। তায়েরীর প্রতিনিধি এবং যায়েদ তাদের অন্যতম। হাদীস নং ২০৭৮
📄 এই গোপনীয়তার ভিত্তি
মানুষের কাছে তাদের নাম মূল্যবান এবং নামগুলো তাদের কাছে প্রচন্ডভাবে অর্থবহ। মানুষেরা তাদের নাম নিয়ে গর্ববোধ করেন এবং তারা তাদের নামকে পরিচিতি হিসেবে ব্যবহার করেন, যেগুলোর মধ্য দিয়ে তাদের ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটে এবং তাদের স্বভাব-চরিত্রের দিক নির্দেশনা দেয়। সুতরাং কোনো ব্যক্তির হৃদয় এবং আত্মার কাছে পৌঁছানোর হাতিয়ার হলো তাদের নাম জানা।
যখন কোনো ব্যক্তির সাথে আপনার সাক্ষাত ঘটে এবং আপনি তার সাথে পরিচিত হন। তখন আপনি দেখতে পাবেন যে, তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তার মুখমণ্ডলে ভেসে উঠেছে। যদি দীর্ঘ সময় পরে তার সাথে পুনরায় আপনার দেখা হয়। তবে আপনি তার নাম ভুলে গিয়েছেন, তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে কোনো ব্যক্তি তার নিজের নামকে কত ভালবাসে এবং তার নাম নিয়ে গর্ববোধ করেন। যে ব্যক্তিকে আপনি চিনেন তার সাথে দীর্ঘ সময় পরে যদি আপনার দেখা হয় এবং আপনি যদি তার নাম ভুলে গিয়ে না থাকেন তাহলে তার কাছ থেকে একটা স্বত:স্ফূর্ত হাসি পুরস্কার হিসেবে পাবেন। এমনকি আপনি যদি শুধু তার নাম এবং উপাধি মনে রাখতে পারেন সে ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি তার দীর্ঘস্থায়ী হাসি চেপে রাখতে পারবে না। এমনকি যে অবস্থাটা আপনারা দুজনে মিলে অবলোকন করছিলেন সেটা মনে করতে পারেন। তাহলেও আপনি তার কাছে যে কোনো কিছু চাইতে পারবেন। সে আপনার প্রশ্নের তাড়াতাড়ি জবাব দেবে, সেটা আগের যে কোনো সময়ের চাইতে দ্রুত হবে।
আপনি কি জানেন এটা কেন হয়? কারণ প্রতিটা মানুষ তার নাম পছন্দ করে এবং এ নিয়ে গর্ববোধ করে। সুতরাং কারো নামকরণ, ভাল গুণাবলি এবং উপাধি দিয়ে ভূষিত করা কারো হৃদয় এবং আত্মাকে বশীভূত করার সবচাইতে ক্ষুদ্রতম পথ। এক্ষেত্রে মহানবী খুবই দক্ষ ছিলেন। অনেকবার তিনি বিভিন্নজনকে ভাল বিশেষণ এবং উপাধি দ্বারা ভূষিত করেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নবী অজ্ঞতার যুগের নাম পরিবর্তন করেছেন যেগুলোর অর্থ ছিল কদর্য এবং ব্যাখ্যা ছিল অসত্য।
📄 হৃদয় জয়ের ক্ষুদ্রতম পথ হলো গুণাবলি
উমর ইবনে খাত্তাব এর বরাতে বলা হয়েছে। “তিনটি ব্যাপার তোমার ভাইয়ের হৃদয়কে তোমার দিকে ঝুঁকাবে- যখন তার সাথে তোমার দেখা হবে তাকে অভিনন্দন জানানো, সমাবেশে বসার জন্য তাকে বসার জায়গা করে দেয়া, যে নামটা সে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে সে নামে তাকে ডাকা।
আমি কিছু উদাহরণের অবতারণা করব যেগুলো বাঞ্চিত অর্থকে সমর্থন করবে। আপনারা দেখতে পাবেন, নবী করীম -এর সাথে যখন বিভিন্ন মানুষের সাথে দেখা হতো তখন তিনি ঐ লোকদের নাম জানার জন্য অধিক উদগ্রীব থাকতেন। একাধিকবার তিনি তাদেরকে সুন্দর নাম এবং উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
টিকাঃ
২৬. আল-বায়হাকী হাদীস নং ২৯৩১