📄 যেভাবে মহৎ প্রশিক্ষক তাকে অভ্যর্থনা করলেন
এটা সন্দেহাতীত যে, তিনি এ ব্যাপারে দুটো জিনিস করেছিলেন। প্রথমটা বোঝা যায় প্রসঙ্গ থেকে এবং দ্বিতীয়টি তার জীবনী অধ্যয়নের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত বা উপসংহারে আসতে হবে।
প্রথমত: রসূল পরিব্রাজকের বক্তৃতা শুনেছিলেন এবং তাকে প্রকাশ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। তার এ দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার সময় তাকে যে কষ্টের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়েছিল সেটা বর্ণনা করার সুযোগ তাকে দেয়া হয়েছিল।
দ্বিতীয়ত: নবী করিম তাঁর নাতিদীর্ঘ বক্তব্য শোনার সময় দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিব্রাজকের দিকে তাকিয়ে একটি আনন্দদায়ক হাসি হেসেছিলেন।
📄 তিনটি প্রশ্ন
এরপর মুহাম্মাদ তিনটি প্রশ্ন করলেন।
প্রথমত: তিনি তাকে তার নাম জিজ্ঞাসা করলেন এবং এটা এখানে আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত: নবী করীম তাকে অনুরোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
তৃতীয়ত: মুহাম্মাদ তাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। এ পরিব্রাজক বিশ্বাসী হিসেবে নবীর কাছে আসার আগেই তাঁর নাম এবং চারিত্রিক গুণাবলি জানতেন না, চিনতেন না। সুতরাং হৃদয় নিংড়ানো গল্পের প্রথম উত্তর ছিল: তোমার নাম কি?
এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এর কারণ হলো, সাধারণত: প্রত্যেকেই নিজের সম্পর্কে বলতে চায় এবং তার গুণাবলি, সাহস, আভিজাত্য এবং ভাল আচার ব্যবহার প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে তার কি হয়েছিল বুঝা যায়। তারপর আসে নামের প্রশ্নটা যেটা মানুষকে জানার চাবিকাঠি এবং স্নেহ-আদর দেখানোর প্রথম মাধ্যম।
মহা নবী পরিব্রাজকের উত্তর শুনে যেটা বুঝা যায়, সেটা এভাবে বললেন: আমরা তোমার ঘটনা শুনেছি এবং তোমার ইচ্ছা অনুভব করেছি। আমাদের কাছে পৌছানের জন্য তোমার যে কষ্ট করতে হয়েছে সেটা তোমার কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি। সেজন্য আমরা যাতে করে তোমাকে ভালবাসতে পারি এবং তুমি যাতে আমাদের সান্নিধ্যে আসতে পারো, সঙ্গী হতে পার, আমাদের পরিচিত হতে পার, তোমার নামে তুমি পরিচিত হতে পার- সে কারণে কি তোমার নামটা জানা যাবে?
উত্তরে সম্মানিত মেহমান বললেন: আমার নাম যায়েদ আল-খায়েল। ঘোড়া আরোহণের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট জন্তু তবুও মহানবী এ সম্মানিত অতিথিকে একটি মহিমান্বিত স্থানে ভূষিত করতে চেয়েছিলেন যেটা যায়েদ আল খায়ের থেকে অধিকতর সম্মানিত। তিনি (নবী) তাকে একটি অত্যুচ্চ উপাধি এবং ব্যাপক ও মহান বর্ণনা দ্বারা সম্মানিত করলেন। তিনি তাকে যায়েদ আল-খায়ের নামে সম্বোধন করলেন। তিনি হলেন সকল দয়ার যায়েদ। সাধারণ ক্ষেত্রে নামের জন্য যায়েদ এবং ন্যায়ের জন্য একটি স্থান। ঘোড়া হলো ন্যায়ের একটি বৈশিষ্ট্য অথবা অংশ। পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত ন্যায়ের চিহ্ন ঘোড়ার কপালে অঙ্কিত থাকবে, ঠিক যেমনটি আছে পুরস্কার এবং লুঠের মাল।
সুতরাং নবী করীম তাকে সর্বপরিবেষ্টনকারী একটি ডাক নাম দিয়েছিলেন। এ প্রাথমিক পরিচয়টা পরিব্রাজককে ভ্রমণের কষ্ট, অপরিচ্ছন্নতা এবং বোঝা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দিল। মানুষটা মনে মনে খুশি হতে শুরু করল। আল্লাহ যাকে ভালবাসেন তার মধ্যে কি চিহ্ন পাওয়া যায় এবং আল্লাহ যাকে ভালবাসেন না তার মধ্যে কি চিহ্ন পাওয়া যায়?
টিকাঃ
২৪. আল-বুখারী কর্তৃক সহীহ হাদীস বর্ণিত
📄 তুমি কেমন আছ?
মহা নবী তাড়াহুড়া করে পরিব্রাজককে তার অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কেমন আছ?' পরিব্রাজক যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে সে ব্যাপারে তার মনে কি প্রতিক্রিয়া চলছে সেটা প্রকাশ করার সুযোগ তাকে দেয়ার ইচ্ছা ছিল রসূল -এর। রসূলের প্রশ্নের জন্য পরিব্রাজকের বিবৃতি থেকে প্রমাণ চেয়েছিলেন। মনে হয় রসূল পরিব্রাজককে বলতে চেয়েছিলেন, আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ। আমরা আপনার জ্ঞানের অথবা কথার সাথে তেমন কিছু যোগ করব না।
প্রশ্নের উত্তরে পরিব্রাজক বলছিলেন, আমি দিন শুরু করতাম ন্যায় এবং মানুষকে ভালবেসে। আমি যদি ভাল কিছু করি, আমি সেটার জন্য পুরস্কৃত হব, এবং আমি যদি এটা হারাই তাহলে অসুখী হব। নবী করীম পরিব্রাজককে বললেন, যাকে আল্লাহ ভালবাসেন তার মধ্যে একটি চিহ্ন ফুটে উঠে এবং যে ব্যক্তির সাথে তিনি অসন্তুষ্ট হন তাকে ভুল কাজে ধাবিত করেন এবং সে কিভাবে নিঃশেষ হয়ে যাবে সে ব্যাপারে আল্লাহ যত্নবান হন না।
📄 যায়েদ আল-খায়েরের সাথে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাক্ষাতের ফলাফল
হিযরতের নবম বছরে পর যায়েদ ইবনে মুহাল্লাল ইবনে যায়েদ একটি প্রতিনিধি দলের সাথে এসেছিলেন। তিনি রসূল কে বলেছিলেন, অজ্ঞতার যুগে কারো কোনো বর্ণনা আমার কাছে দেয়া হয়নি। নবী করীম (সা) তাকে যায়েদ আল-খায়ের নামে ডাকতেন। যাকে কিছু পুরস্কার দিয়েছিলেন সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়। সে ফেরত সফর শুরু করল এবং রসূল উক্তি করলেন, যদি যায়েদ মদিনায় আক্রান্ত জ্বর থেকে রেহাই পায় তাহলে সে টিকে গেল। বর্ণনাকারী বললেন, কারদাহ নামে একটি উপত্যকায় যায়েদ আক্রান্ত হন সেখানে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।
টিকাঃ
২৫. ইবনে হাযার আসকালনী প্রণীত আস ইসাবাহ দ্রষ্টব্য। (১/৫৭৩)। আল-বায়হাকী তার গ্রন্থ দালাল আল নুবুওয়াহতে একই ধরনের একটি হাদীসের বর্ণনা দিয়েছেন। তায়েরীর প্রতিনিধি এবং যায়েদ তাদের অন্যতম। হাদীস নং ২০৭৮