📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 উপযুক্ত সম্মান করা ও দয়া প্রদর্শন করা

📄 উপযুক্ত সম্মান করা ও দয়া প্রদর্শন করা


আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ-এর বরাতে বলা হয়েছে। "আমরা আল্লাহর রসূল-এর সাথে ছিলাম তখন একজন পরিব্রাজক এসে তার উটের পিঠ থেকে নেমে নবী করীমকে এভাবে সম্বোধন করলেন, "হে আল্লাহর রসূল (সা) আমি আপনার সাথে সাক্ষাতের জন্য গত নয়দিন পর্যন্ত পথে আছি। আমি আমার উটকে পরিশ্রান্ত করে ফেলেছি এবং রাতে আমি জেগে থেকেছি এবং দিনের বেলায় পিপাসায় কাতর হয়েছি। এ সবকিছুই আমি করেছি শুধুমাত্র দুটি ব্যাপার আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে, যেগুলো আমাকে সর্বদা জাগিয়ে রেখেছিল। তখন রসূল তাঁকে বললেন, "তোমার নাম কি? উত্তরে সে বলল, আমার নাম যায়েদ আল-খায়েল। নবী (সা) বললেন, না, তোমার নাম হলো যায়েদ আল-খায়ের। এখন বলো, তুমি কি জানতে চেয়েছিলে?
তখন ঐ ব্যক্তি নবী-কে জিজ্ঞাসা করলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালবাসে না তার মধ্যে কি চিহ্ন ফুটে ওঠে এবং আল্লাহ যাকে ভালবাসে না তার মধ্যে কি চিহ্ন দেখা যায়? নবী বললেন, 'তুমি কিভাবে দিন শুরু কর? উত্তরে ঐ ব্যক্তি বললেন, আমি দিন শুরু করি দয়া, মানুষ এবং যারা ভাল কাজ করে তাদেরকে ভালবেসে। আমি যদি ভাল কাজ করি তবে এর জন্য পুরস্কার আশা করব এবং আমি ভাল করার সুযোগ না পাই তা করার জন্য তীব্র আশা নিয়ে অপেক্ষা করব। নবী বললেন, এটা হলো আল্লাহ যে ব্যক্তিকে ভালবাসেন তার মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত চিহ্ন এবং যে ব্যক্তিকে তিনি ভাল না বাসেন তার মধ্যেও আল্লাহ প্রদত্ত চিহ্ন।

হাদীসটির পাঠ
এ ব্যক্তিটি দীর্ঘ পথ সফর করেছেন। মনের প্রবল ইচ্ছা দ্বারা তাড়িত হয়ে নয় দিনের আরোহণের জন্তু মৃত প্রায় এবং পরিব্রাজকের পিপাসায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। আরব মরুর প্রচণ্ড তাপ সহ্য করে তাকে দিনের সময়টা কাটাতে হয়েছে এবং রাত কাটাতে হয়েছে সাবধানতা অবলম্বন করে এবং ওত পেতে থাকা আক্রমণকারির ভয়ে। অন্ধকার এবং ডাকাতের ভয়ে স্বল্প সময় ছাড়া তিনি কখনও চোখের পাতা এক করতে পারেননি। অবশেষে তিনি আল্লাহর বাণী বহনকারির কাছে গিয়ে পৌছেন এবং উটের পিঠ থেকে নেমে পড়েন। এ সফরে তাকে যে কষ্ট ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল সেটা বর্ণনা করে তিনি একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন, আমি আপনার সাক্ষাত পাওয়ার জন্য দীর্ঘ নয় দিনের সফরে ছিলাম। আমাকে বহনকারী জন্তুকে আমি পরিশ্রান্ত করেছি। আমাকে রাতের পর রাত জেগে থাকতে হয়েছে এবং দিনের বেলায় থাকতে হয়েছে ক্ষুধার্ত আর তৃষ্ণার্ত। আপনাকে দুটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্যই শুধু আমি এতো সব করেছি।

টিকাঃ
২৩. আবু নুয়াইম কর্তৃক প্রণীত হিলাযাই আল-আউলিয়া গ্রন্থে বর্ণিত (৪/১১৬)।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 যেভাবে মহৎ প্রশিক্ষক তাকে অভ্যর্থনা করলেন

📄 যেভাবে মহৎ প্রশিক্ষক তাকে অভ্যর্থনা করলেন


এটা সন্দেহাতীত যে, তিনি এ ব্যাপারে দুটো জিনিস করেছিলেন। প্রথমটা বোঝা যায় প্রসঙ্গ থেকে এবং দ্বিতীয়টি তার জীবনী অধ্যয়নের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত বা উপসংহারে আসতে হবে।
প্রথমত: রসূল পরিব্রাজকের বক্তৃতা শুনেছিলেন এবং তাকে প্রকাশ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। তার এ দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার সময় তাকে যে কষ্টের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়েছিল সেটা বর্ণনা করার সুযোগ তাকে দেয়া হয়েছিল।
দ্বিতীয়ত: নবী করিম তাঁর নাতিদীর্ঘ বক্তব্য শোনার সময় দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিব্রাজকের দিকে তাকিয়ে একটি আনন্দদায়ক হাসি হেসেছিলেন।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 তিনটি প্রশ্ন

📄 তিনটি প্রশ্ন


এরপর মুহাম্মাদ তিনটি প্রশ্ন করলেন।
প্রথমত: তিনি তাকে তার নাম জিজ্ঞাসা করলেন এবং এটা এখানে আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত: নবী করীম তাকে অনুরোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
তৃতীয়ত: মুহাম্মাদ তাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। এ পরিব্রাজক বিশ্বাসী হিসেবে নবীর কাছে আসার আগেই তাঁর নাম এবং চারিত্রিক গুণাবলি জানতেন না, চিনতেন না। সুতরাং হৃদয় নিংড়ানো গল্পের প্রথম উত্তর ছিল: তোমার নাম কি?
এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এর কারণ হলো, সাধারণত: প্রত্যেকেই নিজের সম্পর্কে বলতে চায় এবং তার গুণাবলি, সাহস, আভিজাত্য এবং ভাল আচার ব্যবহার প্রদর্শন করার উদ্দেশ্যে তার কি হয়েছিল বুঝা যায়। তারপর আসে নামের প্রশ্নটা যেটা মানুষকে জানার চাবিকাঠি এবং স্নেহ-আদর দেখানোর প্রথম মাধ্যম।
মহা নবী পরিব্রাজকের উত্তর শুনে যেটা বুঝা যায়, সেটা এভাবে বললেন: আমরা তোমার ঘটনা শুনেছি এবং তোমার ইচ্ছা অনুভব করেছি। আমাদের কাছে পৌছানের জন্য তোমার যে কষ্ট করতে হয়েছে সেটা তোমার কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি। সেজন্য আমরা যাতে করে তোমাকে ভালবাসতে পারি এবং তুমি যাতে আমাদের সান্নিধ্যে আসতে পারো, সঙ্গী হতে পার, আমাদের পরিচিত হতে পার, তোমার নামে তুমি পরিচিত হতে পার- সে কারণে কি তোমার নামটা জানা যাবে?
উত্তরে সম্মানিত মেহমান বললেন: আমার নাম যায়েদ আল-খায়েল। ঘোড়া আরোহণের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট জন্তু তবুও মহানবী এ সম্মানিত অতিথিকে একটি মহিমান্বিত স্থানে ভূষিত করতে চেয়েছিলেন যেটা যায়েদ আল খায়ের থেকে অধিকতর সম্মানিত। তিনি (নবী) তাকে একটি অত্যুচ্চ উপাধি এবং ব্যাপক ও মহান বর্ণনা দ্বারা সম্মানিত করলেন। তিনি তাকে যায়েদ আল-খায়ের নামে সম্বোধন করলেন। তিনি হলেন সকল দয়ার যায়েদ। সাধারণ ক্ষেত্রে নামের জন্য যায়েদ এবং ন্যায়ের জন্য একটি স্থান। ঘোড়া হলো ন্যায়ের একটি বৈশিষ্ট্য অথবা অংশ। পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত ন্যায়ের চিহ্ন ঘোড়ার কপালে অঙ্কিত থাকবে, ঠিক যেমনটি আছে পুরস্কার এবং লুঠের মাল।
সুতরাং নবী করীম তাকে সর্বপরিবেষ্টনকারী একটি ডাক নাম দিয়েছিলেন। এ প্রাথমিক পরিচয়টা পরিব্রাজককে ভ্রমণের কষ্ট, অপরিচ্ছন্নতা এবং বোঝা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দিল। মানুষটা মনে মনে খুশি হতে শুরু করল। আল্লাহ যাকে ভালবাসেন তার মধ্যে কি চিহ্ন পাওয়া যায় এবং আল্লাহ যাকে ভালবাসেন না তার মধ্যে কি চিহ্ন পাওয়া যায়?

টিকাঃ
২৪. আল-বুখারী কর্তৃক সহীহ হাদীস বর্ণিত

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 তুমি কেমন আছ?

📄 তুমি কেমন আছ?


মহা নবী তাড়াহুড়া করে পরিব্রাজককে তার অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কেমন আছ?' পরিব্রাজক যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে সে ব্যাপারে তার মনে কি প্রতিক্রিয়া চলছে সেটা প্রকাশ করার সুযোগ তাকে দেয়ার ইচ্ছা ছিল রসূল -এর। রসূলের প্রশ্নের জন্য পরিব্রাজকের বিবৃতি থেকে প্রমাণ চেয়েছিলেন। মনে হয় রসূল পরিব্রাজককে বলতে চেয়েছিলেন, আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ। আমরা আপনার জ্ঞানের অথবা কথার সাথে তেমন কিছু যোগ করব না।
প্রশ্নের উত্তরে পরিব্রাজক বলছিলেন, আমি দিন শুরু করতাম ন্যায় এবং মানুষকে ভালবেসে। আমি যদি ভাল কিছু করি, আমি সেটার জন্য পুরস্কৃত হব, এবং আমি যদি এটা হারাই তাহলে অসুখী হব। নবী করীম পরিব্রাজককে বললেন, যাকে আল্লাহ ভালবাসেন তার মধ্যে একটি চিহ্ন ফুটে উঠে এবং যে ব্যক্তির সাথে তিনি অসন্তুষ্ট হন তাকে ভুল কাজে ধাবিত করেন এবং সে কিভাবে নিঃশেষ হয়ে যাবে সে ব্যাপারে আল্লাহ যত্নবান হন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00