📄 দ্বিতীয় মুক্তা
খাওওয়াত ইবনে যাবিরের বরাতে বলা হয়েছে। "মার আল-যাহরান নামক জায়গায় রসূল -এর সাথে আমাদের একটি যাত্রা বিরতি হলো। খাওওয়াত বললেন, আমি তাঁবু থেকে বের হয়ে দেখলাম কয়েকজন মহিলা আলাপ করছিলেন এবং তাদের কথা আমার পছন্দ হলো। আমি তাবুতে ফেরত গিয়ে জমা-কাপড় নিলাম। জামা পরিধানের পর ঐ মহিলাদের সাথে বসলাম। রসূল তাঁর তাবু থেকে বের হয়ে আমাকে বললেন, হে আবু আব্দুল্লাহ! তুমি কেন এ মহিলাদের সাথে বসে আছ? আল্লাহর রসূল (সা)-কে দেখে আমি ভীত এবং হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার উট পালিয়েছে সেজন্য এটাকে বাধার জন্য আমি দড়ি খুঁজছি।
তিনি চলে গেলেন এবং আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম। তিনি তাঁর আল খেল্লা আমাকে দিয়ে আল আরাকে প্রবেশ করলেন। আমার মনে হলো যে, সবুজ পাতার মধ্যে তাঁর শরীরের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছিলাম। তিনি প্রাকৃতিক কাজ সারার পর ওযু করলেন। এরপর তিনি আমার কাছে এলেন যখন তাঁর দাড়ি থেকে বুকের ওপর পানি টপ টপ করে পড়ছিল। তিনি বললেন; “হে আবু আব্দুল্লাহ! তোমার উটের কি হয়েছিল যে এটা পালিয়ে গেলো?
তারপর আমরা ঐ স্থান ত্যাগ করলাম। এরপর যখনই মুহাম্মাদের সাথে দেখা হতো তিনি আমাকে বলতেন: "তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আবু আব্দুল্লাহ। তোমার উটের কি হয়েছিল যে এটা পালালো? আমি মদিনাতে পৌছানোর জন্য তাড়াহুড়া করলাম, ঐ মসজিদকে এবং নবী (সা)-এর সাথে বসাকে এড়িয়ে চললাম। দীর্ঘ সময় পর মসজিদে যখন কেউ থাকে না সে সময়টার জন্য অপেক্ষা করলাম, তারপর সালাত আদায় করার জন্য আমি মসজিদে এলাম।
মুহাম্মাদ তাঁর একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলেন এবং দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করলেন। আমি এ আশা নিয়ে সালাত দীর্ঘায়িত করলাম যে তিনি আমাকে বাদ দিয়ে মসজিদ ত্যাগ করবেন, তবে তিনি বলে উঠলেন, হে আবু আব্দুল্লাহ! সালাতের জন্য তোমার যা সময় প্রয়োজন সেটাই ব্যয় কর। কারণ তুমি সালাত শেষ না করা অবধি মসজিদ ত্যাগ করব না।' আমি স্বগোক্তি করে বললাম, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি নবীর কাছে ক্ষমা চাইব এবং তাঁকে আমার অবস্থা জানাব। সে জন্য যখন তিনি বললেন, তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে আবু আব্দুল্লাহ! তোমার উটটির পালানোর কারণ কি? আমি আল্লাহর কসম করে বলতে পারি যিনি আপনাকে সত্যের বাণী নিয়ে পাঠিয়েছেন তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর ঐ উট আর কখনও পালায়নি। তিনি তিনবার বললেন, তোমার ওপর আল্লাহর মেহেরবানী বর্ষিত হোক। এরপর থেকে তিনি আমাকে যা বলতেন সেটার আর কখনও পুনরাবৃত্তি করেননি।
টিকাঃ
৪১. আল নিহায়হা ফীসারীর আল হাদীস ওয়া আল আতহার (৩/৩২৭)
৪২. আল মুযাম আল কাবীরের আল তাবরানী কর্তৃক বর্ণিত : হাদীস নং ৪০৩৩। আল হায়তামী কর্তৃক প্রণীত মাযমা আল জাওয়াঈদ একই হাদীস বর্ণনা করেছেন (৯/৪০৪)
📄 মনে রেখো
একজন কৃতকার্য, মহান এবং কার্যকর নেতা হতে হলে আপনাকে বেদনাদায়ক আলোচনা বাদ দিতে হবে এবং যারা আপনাকে ভালবাসেন তাদের দোষারোপ করা চলবে না। "অত:পর আল্লাহর পক্ষ হতে রহমতের কারণে আপনি তাদের জন্য নম্র হয়েছিলেন। আর যদি আপনি কঠোর কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতেন, তাহলে তারা আপনার আশ-পাশ হতে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা করুন, আর তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।"
এটা আল্লাহর দয়ার একটি অংশ: এটা তোমাদের ওপর এবং তাদের ওপর আল্লাহর দয়ার কারণ।" "তুমি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ছিলে: অর্থাৎ তাদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় আনার জন্য তাদের প্রতি সহিষ্ণু ছিলে এবং তাদের ধর্মের প্রতি তাদেরকে অবিচল করেছ।
"অথবা কর্কশ হৃদয়ের ব্যক্তি" হৃদয়ের কর্কশতার অর্থ হলো হৃদয়কে কঠিন করা, দয়ার স্বল্পতা এবং দয়ার অনুভূতির অভাব।
"তারা আপনার কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে: অর্থ: তারা আপনাকে ত্যাগ করে চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে।"
"সুতরাং তাদেরকে মাফ করে দাও।" অর্থাৎ এটা আপনার অধিকারকে যেভাবে খর্ব করে।"
"এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। তার অধিকার সম্পর্কে তিনি হলেন মহিমান্বিত।"
"এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের মতামত নেন: অর্থাৎ যে ইস্যুগুলো আপনাদের সাথে আলোচনা প্রয়োজন। কারণ আলোচনার মাধ্যমে তাদের হৃদয়ে শান্তি আসবে এবং আপনার প্রতি ভালবাসার মধ্য দিয়ে তাদের আত্মা পরিপূর্ণতা লাভ করবে।
টিকাঃ
৪৩. আল ইমরান (৩/১৫৯)
৪৪. আল আশকার প্রণীত যুবদাত আল-তাফসীর থেকে সামান্য পরিবর্তন সহ উদ্ধৃত। পৃ: ৮৯।