📄 সাধারণ নিয়ম
সাধারণ ক্ষেত্রে এবং সব সময় শান্তি, উপদেশ এবং শিক্ষা এগুলোর প্রতিপালন সবকিছুর মধ্যে থাকতে হবে। অজ্ঞতা অপর্যাপ্ত জ্ঞান, বদ অভ্যাস দোষ-ত্রুটি এগুলোর মধ্যে যে কোনো কারণেই ভুলকে শ্রেণি বিভক্ত করা হোক না কেন একটিকে সমালোচনা এবং দোষারোপকে সব সময় ত্যাগ করা উচিত।
📄 দুটো পরিস্থিতির সাথে যেটা অমিল
এমন কিছু যদি দেখা যায়- যেটা উল্লিখিত দুটি পরিস্থিতির সাথে খাপ না খায়, তাহলে যে কোনোভাবে একটিকে বুঝে নিতে হবে যে এটা নবী -এর মনুষ্যত্বের একটি দিক।
মুহাম্মাদ বলেছেন, হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ একজন মানব সন্তান ব্যতীত আর কিছু নয়; অন্যান্য মানুষের যেমন রাগ তাঁরও তেমন রাগ আছে। আপনার সাথে আমার একটি চুক্তি এবং আপনি এ চুক্তি ভঙ্গ করেন না। আমি যে ব্যক্তির কোনো ক্ষতি করি অথবা লানত দেই অথবা যদি কারো সাথে কঠোরতা দেখাই এসবগুলোই ঐ ব্যক্তির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করার একটি পথ এবং এটা পুনরুত্থানের দিনে আপনার নৈকট্য অর্জনের একটি পন্থা।
টিকাঃ
৪০. মুসলিম কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত। হাদীস নং ৪৮৩২ আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণিত।
📄 দ্বিতীয় অধ্যায়ের মুক্ত
যারা শিক্ষার ব্যাপারে চিন্তিত তারা আসুন শিক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষেত্রে। যারা তৃষ্ণার্ত তারা আসুন উপচে পড়া ঝরণার কাছে এবং সেখান থেকে পানি পান করুন। তৃষ্ণা নিবারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঝরণার পানি পান করুন। যে পর্যন্ত পেটে জায়গা থাকে সে পর্যন্ত পানি পান করুন। আসুন অধ্যয়ন ও চিন্তা করুন এবং আনন্দ করুন।
📄 দ্বিতীয় মুক্তা
খাওওয়াত ইবনে যাবিরের বরাতে বলা হয়েছে। "মার আল-যাহরান নামক জায়গায় রসূল -এর সাথে আমাদের একটি যাত্রা বিরতি হলো। খাওওয়াত বললেন, আমি তাঁবু থেকে বের হয়ে দেখলাম কয়েকজন মহিলা আলাপ করছিলেন এবং তাদের কথা আমার পছন্দ হলো। আমি তাবুতে ফেরত গিয়ে জমা-কাপড় নিলাম। জামা পরিধানের পর ঐ মহিলাদের সাথে বসলাম। রসূল তাঁর তাবু থেকে বের হয়ে আমাকে বললেন, হে আবু আব্দুল্লাহ! তুমি কেন এ মহিলাদের সাথে বসে আছ? আল্লাহর রসূল (সা)-কে দেখে আমি ভীত এবং হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার উট পালিয়েছে সেজন্য এটাকে বাধার জন্য আমি দড়ি খুঁজছি।
তিনি চলে গেলেন এবং আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম। তিনি তাঁর আল খেল্লা আমাকে দিয়ে আল আরাকে প্রবেশ করলেন। আমার মনে হলো যে, সবুজ পাতার মধ্যে তাঁর শরীরের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছিলাম। তিনি প্রাকৃতিক কাজ সারার পর ওযু করলেন। এরপর তিনি আমার কাছে এলেন যখন তাঁর দাড়ি থেকে বুকের ওপর পানি টপ টপ করে পড়ছিল। তিনি বললেন; “হে আবু আব্দুল্লাহ! তোমার উটের কি হয়েছিল যে এটা পালিয়ে গেলো?
তারপর আমরা ঐ স্থান ত্যাগ করলাম। এরপর যখনই মুহাম্মাদের সাথে দেখা হতো তিনি আমাকে বলতেন: "তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আবু আব্দুল্লাহ। তোমার উটের কি হয়েছিল যে এটা পালালো? আমি মদিনাতে পৌছানোর জন্য তাড়াহুড়া করলাম, ঐ মসজিদকে এবং নবী (সা)-এর সাথে বসাকে এড়িয়ে চললাম। দীর্ঘ সময় পর মসজিদে যখন কেউ থাকে না সে সময়টার জন্য অপেক্ষা করলাম, তারপর সালাত আদায় করার জন্য আমি মসজিদে এলাম।
মুহাম্মাদ তাঁর একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলেন এবং দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করলেন। আমি এ আশা নিয়ে সালাত দীর্ঘায়িত করলাম যে তিনি আমাকে বাদ দিয়ে মসজিদ ত্যাগ করবেন, তবে তিনি বলে উঠলেন, হে আবু আব্দুল্লাহ! সালাতের জন্য তোমার যা সময় প্রয়োজন সেটাই ব্যয় কর। কারণ তুমি সালাত শেষ না করা অবধি মসজিদ ত্যাগ করব না।' আমি স্বগোক্তি করে বললাম, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি নবীর কাছে ক্ষমা চাইব এবং তাঁকে আমার অবস্থা জানাব। সে জন্য যখন তিনি বললেন, তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে আবু আব্দুল্লাহ! তোমার উটটির পালানোর কারণ কি? আমি আল্লাহর কসম করে বলতে পারি যিনি আপনাকে সত্যের বাণী নিয়ে পাঠিয়েছেন তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর ঐ উট আর কখনও পালায়নি। তিনি তিনবার বললেন, তোমার ওপর আল্লাহর মেহেরবানী বর্ষিত হোক। এরপর থেকে তিনি আমাকে যা বলতেন সেটার আর কখনও পুনরাবৃত্তি করেননি।
টিকাঃ
৪১. আল নিহায়হা ফীসারীর আল হাদীস ওয়া আল আতহার (৩/৩২৭)
৪২. আল মুযাম আল কাবীরের আল তাবরানী কর্তৃক বর্ণিত : হাদীস নং ৪০৩৩। আল হায়তামী কর্তৃক প্রণীত মাযমা আল জাওয়াঈদ একই হাদীস বর্ণনা করেছেন (৯/৪০৪)