📄 সারাংশ
নবীকে পৃথিবীতে প্রশিক্ষণ শিক্ষক এবং পথ প্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল। তাকে গালমন্দ অথবা বিরক্তিকর কথা বলার জন্য প্রেরণ করা হয়নি। এটার অন্যতম অর্থ হলো যদি তাঁর অনুসারীরা ভুল করে সে ক্ষেত্রে তাঁর উচিত হবে অনুসারীদেরকে শিক্ষিত করে তোলা এবং তাদেরকে পথ প্রদর্শন করা। তবুও সে স্থানের ও লোকদেরকে এ শিক্ষা ও পথের প্রদর্শন দেয়া হবে সেটা অভিন্ন নাও হতে পারে। সে জন্য নবী সতর্কতা, শিক্ষা এবং ট্রেনিংয়ের জন্য একটি পথ নির্দেশিকা গ্রহণ করবেন। যেটা এগুলো অর্জন করার জন্য একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
যদি ভুলটা গর্হিত ও গুরুতর হয় এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের স্বার্থে আঘাত করে- যেমন কর্তৃত্ব, বিচার সামগ্রিক এবং ছোট-খাটো নেতৃত্ব অথবা চরম পাপাচার যেটার পরিণাম হতে পারে রক্তখরন, জাহেলিয়ার যুগ সাদৃশ্য দলাদলিতে উস্কানী। আল্লাহর প্রতীকে অবমাননা, বিরোধিতা সহকারে অশুভ কাজে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত মানসিকতায় লিপ্ত হওয়া, তাহলে রসূলের অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য হবে বিশ্বস্ততা প্রতিষ্ঠা করে দায়িত্ব পালন করা।
কোনো কোনো পরিস্থিতিতে পাঠকের কাছে এ কথাগুলো নির্দয় বা কর্কশ মনে হতে পারে তবে যদি পাঠক এ কথাগুলো সঠিকভাবে চিন্তা করেন তখন তিনি রসূল এ কথাগুলো কেন বলেছেন সেটা অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন এবং তাঁর কথাগুলো পাঠকের কাছে সবচাইতে কম কঠিন এবং নির্দয় বলে প্রতীয়মান হবে।
একজন পাঠক অসংখ্যবার এ ধরনের অভিব্যক্তির সম্মুখীন হবেন। যেমন- "তিনি খুব রাগতভাবে উঠে দাঁড়ালেন।" অথবা "রাগের কারণে তাঁর (নবী) মুখমণ্ডল লাল হয়ে গেল।" তবে পাঠক যদি এ ধরনের অভিব্যক্তি পুরোটা পড়েন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে, আপাত: দৃষ্টিতে তাঁর কথাগুলোর যে অর্থ দাঁড়ায় বাস্তবে সেটা নয়। কথাগুলোর যদি সঠিক বিচার বিশ্লেষণ এবং তুলনা করা হয় তাহলে পাঠক আত্ম-শৃঙ্খলা ও উন্নত নৈতিকতার পরিবেশ অনুভব করবে এবং তার মধ্যে ইহকাল এবং পরকালের স্বার্থের প্রতি উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে। কারণ পাঠক তখন তার ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যমে তার জীবন এবং তার বিশ্বাসের সঠিকতা রক্ষার্থে সচেষ্ট হবে।
📄 সাধারণ নিয়ম
সাধারণ ক্ষেত্রে এবং সব সময় শান্তি, উপদেশ এবং শিক্ষা এগুলোর প্রতিপালন সবকিছুর মধ্যে থাকতে হবে। অজ্ঞতা অপর্যাপ্ত জ্ঞান, বদ অভ্যাস দোষ-ত্রুটি এগুলোর মধ্যে যে কোনো কারণেই ভুলকে শ্রেণি বিভক্ত করা হোক না কেন একটিকে সমালোচনা এবং দোষারোপকে সব সময় ত্যাগ করা উচিত।
📄 দুটো পরিস্থিতির সাথে যেটা অমিল
এমন কিছু যদি দেখা যায়- যেটা উল্লিখিত দুটি পরিস্থিতির সাথে খাপ না খায়, তাহলে যে কোনোভাবে একটিকে বুঝে নিতে হবে যে এটা নবী -এর মনুষ্যত্বের একটি দিক।
মুহাম্মাদ বলেছেন, হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ একজন মানব সন্তান ব্যতীত আর কিছু নয়; অন্যান্য মানুষের যেমন রাগ তাঁরও তেমন রাগ আছে। আপনার সাথে আমার একটি চুক্তি এবং আপনি এ চুক্তি ভঙ্গ করেন না। আমি যে ব্যক্তির কোনো ক্ষতি করি অথবা লানত দেই অথবা যদি কারো সাথে কঠোরতা দেখাই এসবগুলোই ঐ ব্যক্তির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করার একটি পথ এবং এটা পুনরুত্থানের দিনে আপনার নৈকট্য অর্জনের একটি পন্থা।
টিকাঃ
৪০. মুসলিম কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত। হাদীস নং ৪৮৩২ আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণিত।
📄 দ্বিতীয় অধ্যায়ের মুক্ত
যারা শিক্ষার ব্যাপারে চিন্তিত তারা আসুন শিক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষেত্রে। যারা তৃষ্ণার্ত তারা আসুন উপচে পড়া ঝরণার কাছে এবং সেখান থেকে পানি পান করুন। তৃষ্ণা নিবারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঝরণার পানি পান করুন। যে পর্যন্ত পেটে জায়গা থাকে সে পর্যন্ত পানি পান করুন। আসুন অধ্যয়ন ও চিন্তা করুন এবং আনন্দ করুন।