📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 তুমি কি তার হৃদয় চিরে দেখেছিলে?

📄 তুমি কি তার হৃদয় চিরে দেখেছিলে?


উসামা বিন যায়েদ -এর বরাতে বর্ণিত হয়েছে, "আল্লাহর রসূল (সা) আমাদেরকে একটি যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। আমরা সকালে আল-হুরকাত আক্রমণ করলাম। তাদের মধ্য থেকে আমি একজনকে পাকড়াও করলাম এবং সে বলল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, তবে আমি তাকে ছুরিকাঘাত করেছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারটা আমার চিন্তার উদ্রেক করল এবং আমি ব্যাপারটা রসূলের কাছে বললাম। আল্লাহর রসূল জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি কলেমা পড়ার পরে তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, হে রসূল সে অস্ত্রের ভয়ে কলেমা পড়েছিল। রসূল বললেন তুমি তার হৃদয় চিরে কেন দেখলে না সে ব্যক্তিটি কি আসলেই ইসলামে বিশ্বাস স্থাপন করে কলেমা পড়ছে নাকি বিশ্বাস স্থাপন না করেই কলেমা পড়ছে।

মন্তব্য
যেহেতু অবিশ্বাসীদের হত্যাকারী উসামা যে ব্যাপারে নির্ভুল কোনো প্রমাণ ছিল না। সে জন্যই রসূল বলেছিলেন, তোমরা তার হৃদয় চিরে দেখলে না কেন? সে কি বাস্তবিক পক্ষেই ইসলামে বিশ্বাস এনেছে কিনা? তার অর্থ হলো ঐ ব্যক্তিটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তোমরা অজ্ঞাত ছিলে। সে ক্ষেত্রে তুমি অবিশ্বাসীকে হত্যা করলে কেন? সে জন্যই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা মানানসই। এরকম অবস্থায় সেটা আশা করা হয়েছিল তার চাইতে এটা সহিষ্ণু ছিল। অভিব্যক্তিটা তার লক্ষ্য অর্জন করেছিল।

টিকাঃ
৩৪. মুসলিম কর্তৃক তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণিত: ঈমান সম্পর্কিত গ্রন্থ। অবিশ্বাসী কলেমা পড়ার পরও তাকে হত্যার অভিযোগ্য সম্পর্কিত অধ্যায়।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 মসজিদের সামনে শ্রেুমা

📄 মসজিদের সামনে শ্রেুমা


আবু সায়িদ আল-খুদরী-এর বরাতে বলা হয়েছে। আল্লাহর রসূল খেজুর গাছের ছোট ডাল পছন্দ করতেন এবং কিছু ডাল তাঁর হাতে সবসময়ই থাকত। রসূল মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন যে, দেওয়ালে শ্লেষ্মা লাগানো। সেজন্য তিনি এটা উঠিয়ে ফেললেন। তারপর তিনি রাগান্বিত অবস্থায় মুসুল্লীদের দিকে তাকিয়ে বললেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ কি খুশী হতো যদি তোমাদের মুখের ওপর কেউ থুথু ফেলত। কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ানোর অর্থ হলো, যে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। যিনি হলেন মহাপরাক্রমশালী এবং মহিমান্বিত। যাঁর ডানে এবং বায়ে উপস্থিত থাকে ফেরেশতারা। সুতরাং কারোই উচিত হবে না তার ডান দিকে অথবা কিবলার দিকে থুথু ফেলা। যদি কারোর তাড়া থাকে তাহলে তাকে থুথু ফেলার কাজটা এভাবে করতে হবে—ইবনে আযলান দেখিয়েছে কিভাবে তাড়ার সময় থুথু ফেলতে হবে, পরনের কাপড় মুখের ওপর নিতে হবে এবং থুথুটাকে মুছে ফেলতে হবে।

মন্তব্য
রসূলের জিজ্ঞাসা, "তোমাদের মধ্যে কেউ কি খুশী হতে পারতে যদি তোমাদের মুখের ওপর কেউ থুথু ফেলতো? -এটা হলো সর্বোচ্চ আল্লাহর অবমাননার একটি উদাহরণ। এ ধরনের অবমাননাকে অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে।

টিকাঃ
৩৫. সুনান আবু দাউদ হাদীস নং ৪২০ আল বুখারী কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত হাদীস নং ৫৭৭।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 মুয়া’য তুমি কেন মুস্সীদের কষ্ট দিতে চাও?

📄 মুয়া’য তুমি কেন মুস্সীদের কষ্ট দিতে চাও?


যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ এর বরাতে বলা হয়েছে। “মুয়া'য ইবনে যাবাল রসূল এর সাথে সালাত আদায় করতেন। তারপর মুসল্লীদের সালাতে ইমামত করতেন। এভাবে একবার ইমামত করার সময় সুরা বাকারা থেকে তেলাওয়াত করলেন।
সে কারণে মুসুল্লীদের মধ্যে একজন সালাতরত মুসল্লীদের লাইন ছেড়ে দিয়ে পৃথকভাবে সালাত আদায় করল এবং মসজিদ ত্যাগ করল। খবরটা মু'য়াযের কানে পৌঁছালে তিনি এভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানালেন, 'ঐ ব্যক্তিটি একটা মুনাফেক।'
পরবর্তীতে মুয়াযের প্রতিক্রিয়া ঐ ব্যক্তিটি জানতে পেয়ে রসূল-এর কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, উটের সাহায্যে আমরা কৃষিজমিতে পানি সেচের কাজ করি। গতরাতে এশার সালাতে ইমামত করার সময় সূরা বাকারা থেকে তেলাওয়াত করেছিলেন। সে কারণে আমি পৃথকভাবে সালাত আদায় করি, পরিণামে সে (মু'য়ায) আমাকে মুনাফেক বলে আখ্যায়িত করে। রসূল মু'যাযকে ডেকে তিনবার বললেন, “হে মু'য়ায, তুমি কি মুসল্লীদেরকে কষ্ট দিতে চাইছ? তেলাওয়াত কর ওয়াশ-শামস ওয়াদ-দুহা অথবা সাব্বিহি ইসমা রাব্বিকা আল আলা এবং এর কোনো আয়াত।

মন্তব্য
মুসুল্লীদের মসজিদ ত্যাগ করা এবং সালাত অপছন্দ করা নিন্দনীয়। কতবড় নিন্দনীয় কাজ এটা! রসূল মু'য়ায যেটা করেছে সেটার গুরুত্ব পরিষ্কারভাবে রসূল তাকে বুঝিয়ে দিলেন। মুয়াযের সাথে তার কথা খবর অথবা প্রতিবেদনের আকারে আসেনি এটা এসেছিল প্রশ্ন অনুসন্ধানের আকারে: হে মুয়ায! তুমি কি মুসুল্লীদেরকে কষ্টে ফেলতে চাও?” এবং প্রতিবেদন এবং অনুসন্ধানের মধ্যে পার্থক্যটা পরিষ্কার।
হাদীসের কিছু বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, মহানবী এ কথাগুলো খবরের আকারের বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন "যে কোনো ব্যক্তিকে পরীক্ষায় ফেলে .....।" অথবা তিনি বলেছিলেন, 'যে মানুষকে পরীক্ষায় ফেলে। (তিনবার)
তবে বর্ণনা থেকে এটা বুঝা যায় যে, মুয়ায ওখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি রসূল-এর কথা শুনেছেন।
মু'য়ায ঐ ব্যক্তিটি সম্পর্কে রসূল কাছে অভিযোগ করেছিলেন, যে কারণে নবী তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তাই ঐ ব্যক্তি রসূল (সা)-এর কাছে আসলেন যখন মুয়ায অনুপস্থিত ছিলেন। সুতরাং নবী করীম ঐ ব্যক্তিকে সালাত ত্যাগ করার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। উত্তরে ঐ ব্যক্তি সালাতের সময় কি করেছিলেন সেটা জানালেন। নবী করীম হয়তো মুয়াযের মতো কাজ থেকে অন্যান্যদেরকে নিবৃত্ত করতে চেয়েছিলেন এবং সেজন্যই তিনি ঐভাবে কথা বলেছিলেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞানী।
ইমাম আল দাউদা রসূলের বক্তব্যের অন্যান্য দিকে আলোকপাত করে বক্তব্যটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। "সে ব্যক্তি মানুষকে পরীক্ষার মধ্যে ফেলে তাকে শাস্তি দেয়।' কারণ তিনি সালাত দীর্ঘায়িত করে মুসুল্লীদের শাস্তি দিয়েছিলেন, সেটার ইঙ্গিত আমরা আল্লাহর কথা থেকে ইঙ্গিতে পাই: অবশ্যই যারা বিশ্বাসীদের শাস্তি দেয়। কথিত আছে যে, উল্লিখিত আয়াতে বলা হয়েছে "তাদেরকে অত্যাচার করে।”

টিকাঃ
৩৬. আল বুখারী কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত হাদীস নং ৬৮০।
৩৭. আল বুখারী কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত হাদীস নং ৬৮০।
৩৮. আল বুরুজ- (৮৫: ১১)
৩৯. ফতহুলবারী লিইবনে হাজার (২/২৪৯)

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 সারাংশ

📄 সারাংশ


নবীকে পৃথিবীতে প্রশিক্ষণ শিক্ষক এবং পথ প্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল। তাকে গালমন্দ অথবা বিরক্তিকর কথা বলার জন্য প্রেরণ করা হয়নি। এটার অন্যতম অর্থ হলো যদি তাঁর অনুসারীরা ভুল করে সে ক্ষেত্রে তাঁর উচিত হবে অনুসারীদেরকে শিক্ষিত করে তোলা এবং তাদেরকে পথ প্রদর্শন করা। তবুও সে স্থানের ও লোকদেরকে এ শিক্ষা ও পথের প্রদর্শন দেয়া হবে সেটা অভিন্ন নাও হতে পারে। সে জন্য নবী সতর্কতা, শিক্ষা এবং ট্রেনিংয়ের জন্য একটি পথ নির্দেশিকা গ্রহণ করবেন। যেটা এগুলো অর্জন করার জন্য একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
যদি ভুলটা গর্হিত ও গুরুতর হয় এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের স্বার্থে আঘাত করে- যেমন কর্তৃত্ব, বিচার সামগ্রিক এবং ছোট-খাটো নেতৃত্ব অথবা চরম পাপাচার যেটার পরিণাম হতে পারে রক্তখরন, জাহেলিয়ার যুগ সাদৃশ্য দলাদলিতে উস্কানী। আল্লাহর প্রতীকে অবমাননা, বিরোধিতা সহকারে অশুভ কাজে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত মানসিকতায় লিপ্ত হওয়া, তাহলে রসূলের অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য হবে বিশ্বস্ততা প্রতিষ্ঠা করে দায়িত্ব পালন করা।
কোনো কোনো পরিস্থিতিতে পাঠকের কাছে এ কথাগুলো নির্দয় বা কর্কশ মনে হতে পারে তবে যদি পাঠক এ কথাগুলো সঠিকভাবে চিন্তা করেন তখন তিনি রসূল এ কথাগুলো কেন বলেছেন সেটা অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন এবং তাঁর কথাগুলো পাঠকের কাছে সবচাইতে কম কঠিন এবং নির্দয় বলে প্রতীয়মান হবে।
একজন পাঠক অসংখ্যবার এ ধরনের অভিব্যক্তির সম্মুখীন হবেন। যেমন- "তিনি খুব রাগতভাবে উঠে দাঁড়ালেন।" অথবা "রাগের কারণে তাঁর (নবী) মুখমণ্ডল লাল হয়ে গেল।" তবে পাঠক যদি এ ধরনের অভিব্যক্তি পুরোটা পড়েন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে, আপাত: দৃষ্টিতে তাঁর কথাগুলোর যে অর্থ দাঁড়ায় বাস্তবে সেটা নয়। কথাগুলোর যদি সঠিক বিচার বিশ্লেষণ এবং তুলনা করা হয় তাহলে পাঠক আত্ম-শৃঙ্খলা ও উন্নত নৈতিকতার পরিবেশ অনুভব করবে এবং তার মধ্যে ইহকাল এবং পরকালের স্বার্থের প্রতি উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে। কারণ পাঠক তখন তার ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যমে তার জীবন এবং তার বিশ্বাসের সঠিকতা রক্ষার্থে সচেষ্ট হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00