📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 তাদের দিকে বালু নিক্ষেপ করা

📄 তাদের দিকে বালু নিক্ষেপ করা


আমর বিন শুয়ায়েব তাঁর বাবা এবং দাদা থেকে জেনে বলেছেন, "আমি আমার ভাইসহ এমন এক চেয়েও জায়গায় বসেছিলাম সেটা আমার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসের চেয়েও প্রিয়। আমি আমার ভাইয়ের সাথে এসে দেখলাম কয়েকজন সাহাবী নবী করীম -এর দরজার গোড়ায় বসে আছেন। আমরা তাদেরকে ছেড়ে যেতে চাচ্ছিলাম না, সেজন্য আমরা আরোও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম।
হঠাৎ তারা কুরআন মাজিদের একটি আয়াত উল্লেখ করে সেটা নিয়ে বিতর্ক জুড়ে দিল এবং এ ব্যাপারে শোরগোল শুরু করে দিল। এ অবস্থায় রসূল রাগের কারণে লাল-মুখমণ্ডল নিয়ে বের হয়ে আসলেন। তিনি তাদের ওপর বালু নিক্ষেপ করে বললেন, হে মানুষ! ব্যাপারটাকে সহজভাবে নাও। তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর শাস্তি পাওয়ার কারণ ছিল, তারা তাদের নবীদের সাথে দ্বিমত পোষণ করত এবং কিতাবের একটি দিকের সাথে অন্য দিকের বিরোধ খুঁজে বের করত। একটি দিক দিয়ে অন্যদিকের বিরুদ্ধাচরণের জন্য কুরআন নাযিল হয়নি। কুরআন থেকে তুমি জেনে সেটা অনুসরণ কর, কিন্তু তুমি যেটা জাননা সেটা এমন কারো কাছে নিয়ে যাও যে ব্যক্তির কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান আছে।

মন্তব্য
তৎকালীন সময়ের মানুষের অভ্যাস এবং সমাজের রীতি-নীতির নিরীখে বিভিন্ন ব্যাপারকে বুঝতে হবে। ধুলা ছোড়ার ব্যাপারটাকে কি দোষ বলে গণ্য করা যাবে যখন মানুষ মৃত্যুর সন্নিকটে এবং এ প্রজন্মের পর যাদের আগমন হবে তাদেরও মৃত্যু হবে? তারা কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে তর্কে লিপ্ত হয়েছিল যেখানে নবী করীম নিজে উপস্থিত ছিলেন।

টিকাঃ
৩৩. আহমদ কর্তৃক তার মুসনাদ বাণী হাশীম, মুসনাদ আব্দুল্লাহ বিন আমার বিন আল আসে বর্ণিত হাদীস নং ৬৫১৯। আহমদ শফীরের মতে বর্ণনাকারীর সনদ সহীহ।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 তুমি কি তার হৃদয় চিরে দেখেছিলে?

📄 তুমি কি তার হৃদয় চিরে দেখেছিলে?


উসামা বিন যায়েদ -এর বরাতে বর্ণিত হয়েছে, "আল্লাহর রসূল (সা) আমাদেরকে একটি যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। আমরা সকালে আল-হুরকাত আক্রমণ করলাম। তাদের মধ্য থেকে আমি একজনকে পাকড়াও করলাম এবং সে বলল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, তবে আমি তাকে ছুরিকাঘাত করেছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারটা আমার চিন্তার উদ্রেক করল এবং আমি ব্যাপারটা রসূলের কাছে বললাম। আল্লাহর রসূল জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি কলেমা পড়ার পরে তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, হে রসূল সে অস্ত্রের ভয়ে কলেমা পড়েছিল। রসূল বললেন তুমি তার হৃদয় চিরে কেন দেখলে না সে ব্যক্তিটি কি আসলেই ইসলামে বিশ্বাস স্থাপন করে কলেমা পড়ছে নাকি বিশ্বাস স্থাপন না করেই কলেমা পড়ছে।

মন্তব্য
যেহেতু অবিশ্বাসীদের হত্যাকারী উসামা যে ব্যাপারে নির্ভুল কোনো প্রমাণ ছিল না। সে জন্যই রসূল বলেছিলেন, তোমরা তার হৃদয় চিরে দেখলে না কেন? সে কি বাস্তবিক পক্ষেই ইসলামে বিশ্বাস এনেছে কিনা? তার অর্থ হলো ঐ ব্যক্তিটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তোমরা অজ্ঞাত ছিলে। সে ক্ষেত্রে তুমি অবিশ্বাসীকে হত্যা করলে কেন? সে জন্যই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা মানানসই। এরকম অবস্থায় সেটা আশা করা হয়েছিল তার চাইতে এটা সহিষ্ণু ছিল। অভিব্যক্তিটা তার লক্ষ্য অর্জন করেছিল।

টিকাঃ
৩৪. মুসলিম কর্তৃক তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণিত: ঈমান সম্পর্কিত গ্রন্থ। অবিশ্বাসী কলেমা পড়ার পরও তাকে হত্যার অভিযোগ্য সম্পর্কিত অধ্যায়।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 মসজিদের সামনে শ্রেুমা

📄 মসজিদের সামনে শ্রেুমা


আবু সায়িদ আল-খুদরী-এর বরাতে বলা হয়েছে। আল্লাহর রসূল খেজুর গাছের ছোট ডাল পছন্দ করতেন এবং কিছু ডাল তাঁর হাতে সবসময়ই থাকত। রসূল মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন যে, দেওয়ালে শ্লেষ্মা লাগানো। সেজন্য তিনি এটা উঠিয়ে ফেললেন। তারপর তিনি রাগান্বিত অবস্থায় মুসুল্লীদের দিকে তাকিয়ে বললেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ কি খুশী হতো যদি তোমাদের মুখের ওপর কেউ থুথু ফেলত। কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ানোর অর্থ হলো, যে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। যিনি হলেন মহাপরাক্রমশালী এবং মহিমান্বিত। যাঁর ডানে এবং বায়ে উপস্থিত থাকে ফেরেশতারা। সুতরাং কারোই উচিত হবে না তার ডান দিকে অথবা কিবলার দিকে থুথু ফেলা। যদি কারোর তাড়া থাকে তাহলে তাকে থুথু ফেলার কাজটা এভাবে করতে হবে—ইবনে আযলান দেখিয়েছে কিভাবে তাড়ার সময় থুথু ফেলতে হবে, পরনের কাপড় মুখের ওপর নিতে হবে এবং থুথুটাকে মুছে ফেলতে হবে।

মন্তব্য
রসূলের জিজ্ঞাসা, "তোমাদের মধ্যে কেউ কি খুশী হতে পারতে যদি তোমাদের মুখের ওপর কেউ থুথু ফেলতো? -এটা হলো সর্বোচ্চ আল্লাহর অবমাননার একটি উদাহরণ। এ ধরনের অবমাননাকে অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে।

টিকাঃ
৩৫. সুনান আবু দাউদ হাদীস নং ৪২০ আল বুখারী কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত হাদীস নং ৫৭৭।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 মুয়া’য তুমি কেন মুস্সীদের কষ্ট দিতে চাও?

📄 মুয়া’য তুমি কেন মুস্সীদের কষ্ট দিতে চাও?


যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ এর বরাতে বলা হয়েছে। “মুয়া'য ইবনে যাবাল রসূল এর সাথে সালাত আদায় করতেন। তারপর মুসল্লীদের সালাতে ইমামত করতেন। এভাবে একবার ইমামত করার সময় সুরা বাকারা থেকে তেলাওয়াত করলেন।
সে কারণে মুসুল্লীদের মধ্যে একজন সালাতরত মুসল্লীদের লাইন ছেড়ে দিয়ে পৃথকভাবে সালাত আদায় করল এবং মসজিদ ত্যাগ করল। খবরটা মু'য়াযের কানে পৌঁছালে তিনি এভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানালেন, 'ঐ ব্যক্তিটি একটা মুনাফেক।'
পরবর্তীতে মুয়াযের প্রতিক্রিয়া ঐ ব্যক্তিটি জানতে পেয়ে রসূল-এর কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, উটের সাহায্যে আমরা কৃষিজমিতে পানি সেচের কাজ করি। গতরাতে এশার সালাতে ইমামত করার সময় সূরা বাকারা থেকে তেলাওয়াত করেছিলেন। সে কারণে আমি পৃথকভাবে সালাত আদায় করি, পরিণামে সে (মু'য়ায) আমাকে মুনাফেক বলে আখ্যায়িত করে। রসূল মু'যাযকে ডেকে তিনবার বললেন, “হে মু'য়ায, তুমি কি মুসল্লীদেরকে কষ্ট দিতে চাইছ? তেলাওয়াত কর ওয়াশ-শামস ওয়াদ-দুহা অথবা সাব্বিহি ইসমা রাব্বিকা আল আলা এবং এর কোনো আয়াত।

মন্তব্য
মুসুল্লীদের মসজিদ ত্যাগ করা এবং সালাত অপছন্দ করা নিন্দনীয়। কতবড় নিন্দনীয় কাজ এটা! রসূল মু'য়ায যেটা করেছে সেটার গুরুত্ব পরিষ্কারভাবে রসূল তাকে বুঝিয়ে দিলেন। মুয়াযের সাথে তার কথা খবর অথবা প্রতিবেদনের আকারে আসেনি এটা এসেছিল প্রশ্ন অনুসন্ধানের আকারে: হে মুয়ায! তুমি কি মুসুল্লীদেরকে কষ্টে ফেলতে চাও?” এবং প্রতিবেদন এবং অনুসন্ধানের মধ্যে পার্থক্যটা পরিষ্কার।
হাদীসের কিছু বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, মহানবী এ কথাগুলো খবরের আকারের বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন "যে কোনো ব্যক্তিকে পরীক্ষায় ফেলে .....।" অথবা তিনি বলেছিলেন, 'যে মানুষকে পরীক্ষায় ফেলে। (তিনবার)
তবে বর্ণনা থেকে এটা বুঝা যায় যে, মুয়ায ওখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি রসূল-এর কথা শুনেছেন।
মু'য়ায ঐ ব্যক্তিটি সম্পর্কে রসূল কাছে অভিযোগ করেছিলেন, যে কারণে নবী তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তাই ঐ ব্যক্তি রসূল (সা)-এর কাছে আসলেন যখন মুয়ায অনুপস্থিত ছিলেন। সুতরাং নবী করীম ঐ ব্যক্তিকে সালাত ত্যাগ করার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। উত্তরে ঐ ব্যক্তি সালাতের সময় কি করেছিলেন সেটা জানালেন। নবী করীম হয়তো মুয়াযের মতো কাজ থেকে অন্যান্যদেরকে নিবৃত্ত করতে চেয়েছিলেন এবং সেজন্যই তিনি ঐভাবে কথা বলেছিলেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞানী।
ইমাম আল দাউদা রসূলের বক্তব্যের অন্যান্য দিকে আলোকপাত করে বক্তব্যটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। "সে ব্যক্তি মানুষকে পরীক্ষার মধ্যে ফেলে তাকে শাস্তি দেয়।' কারণ তিনি সালাত দীর্ঘায়িত করে মুসুল্লীদের শাস্তি দিয়েছিলেন, সেটার ইঙ্গিত আমরা আল্লাহর কথা থেকে ইঙ্গিতে পাই: অবশ্যই যারা বিশ্বাসীদের শাস্তি দেয়। কথিত আছে যে, উল্লিখিত আয়াতে বলা হয়েছে "তাদেরকে অত্যাচার করে।”

টিকাঃ
৩৬. আল বুখারী কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত হাদীস নং ৬৮০।
৩৭. আল বুখারী কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত হাদীস নং ৬৮০।
৩৮. আল বুরুজ- (৮৫: ১১)
৩৯. ফতহুলবারী লিইবনে হাজার (২/২৪৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00