📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 যুল ইয়াদাইন

📄 যুল ইয়াদাইন


আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা।, “আল্লাহর রসূল যোহর অথবা আসরের সালাতে ইমামতি করছিলেন হয়ত যোহর অথবা আসরের সালাত এবং দুই রাকাআত পর সালাম ফিরিয়ে ছিলেন। তিনি মসজিদের ভিতর একটি কাঠের টুকরা দেখতে পেলেন যেটা কিবলামুখী হয়েছিল। রসূল এই কাঠের টুকরার ওপর হেলান দিলেন এমনকি তিনি রাগান্বিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে অন্যান্যদের মধ্যে আবু বকর ও উমর উপস্থিত ছিলেন এবং তারা নবীর সাথে কথা বলতে অতিশয় ভীতবোধ করেছিলেন। মুসল্লীরা তাড়াহুড়া করে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসলেন। ‘সালাতে রাকাত বাদ পড়েছে।’ দুল ইয়াদান নামে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর নবী! সালাত কি ইচ্ছা করেই কম আদায় হয়েছে না আপনার ভুল হয়েছে?” আল্লাহর রসূল ডানে এবং বাঁয়ে তাকানোর পর বললেন, 'দুল ইয়াদাইন কি বলছে? উত্তরে তারা বলল, ঠিকই বলেছে। আপনি শুধু দুই রাকাত আদায় করেছেন। তারপর তিনি আরোও দুই রাকাত আদায় করলেন এবং সালাম ফেরালেন। তারপর তিনি তাকবীর বললেন এবং সেজদায় গেলেন, তারপর তাকবীর বললেন এবং সেজদা থেকে উঠলেন অত:পর পুনরায় তাকবীর বললেন এবং সেজদায় গেলেন, আবার তাকবীর বললেন এবং মাথা তুললেন।"

মন্তব্য
নবীর জিজ্ঞাসা "দুল ইয়াদাইন কি বলছে?" এ প্রশ্নটা তোলা হয়েছে, কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্পর্কে যেটা সালাত ছাড়া অন্য কিছু না। এটা কোনোভাবেই দোষারোপ করাকে বোঝায় না।

টিকাঃ
৩০. সহীহ মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদীস নং ৯৩৭।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 বেদঈনের আল খেত্না

📄 বেদঈনের আল খেত্না


আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আমের-এর বরাতে বলা হয়েছে। 'একজন বেদুঈন নবী করীম-এর কাছে আসলেন যার পরনে ছিল বুক- ফাড়া লম্বা আলখেল্লা, প্রশস্ত হাতা সেটা বুটিদার রেশমী কাপড়ের ছিল এবং মুড়ি সেলাই করা। এ লোকটা বললেন, 'আপনার বন্ধু (নবী) প্রতিটি মেষপালকের অবস্থা উন্নীত করতে চান এবং প্রত্যেক সম্ভ্রান্ত লোককে মান- মর্যাদায় খাটো করতে চান। নবী করীম উত্তেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আলখেল্লা ধরে লোকটিকে টান দিয়ে বললেন, "আমি তোমাকে একটি পাগলের বেশে দেখতে চাই না।"
অত:পর নবী করীম তাঁর জায়গায় ফেরত গেলেন এবং বললেন, "যখন নূহ (আ) মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছিলেন তখন তিনি তার ছেলে দুটিকে ডেকে বললেন, 'আমার রেখে যাওয়া সম্পদ শুধু তোমাদের দু'জনের মধ্যে থাকবে। আমি তোমাদেরকে দুটো জিনিস করার জন্য এবং দুটো কাজ না করার জন্য আদেশ দিচ্ছি। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করার জন্য এবং ঔদ্ধত্য প্রকাশ না করার জন্য। আর আমি তোমাদের আদেশ করছি এটা বলতে, 'লা ইলাহা ইল্লাললাহু' (আল্লাহর ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই) কারণ যদি আকাশ, পৃথিবী আর সমস্ত জিনিসকে একপাল্লায় দেয়া হয় এবং লা ইলাহাকে অন্য পাল্লায় রাখা হয় তাহলে এটার ওজন (লা ইলাহা) বেশি হবে। আকাশ এবং পৃথিবী যদি বৃত্তের মতো হতো এবং লা ইলাহাকে যদি এগুলোর ওপর স্থাপন করা হয়, এতে ওগুলো ছিড়ে ভিন্ন ভিন্ন করে ফেলবে। তোমাদেরকে আদেশ করছি সুবহান আল্লাহ বলতে। কারণ এটা হলো সবকিছুর দোয়া যার বদৌলতে সকলে আহার পায়।”

মন্তব্য
এটা পরিষ্কার যে যারা নবী করীম-কে ঘিরে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে তারা মুনাফিক। যাদের দ্বিমুখিতা মানুষের জানা।
রসূল-এর তাঁর কাছে বারংবার অনুমতি নিয়েছেন এ ধরনের মুনাফিকদের হত্যা করার জন্য তিনি এ কাজ থেকে বিরত রেখেছেন। রসূল তাদের অনেকের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেছিলেন এবং মৃত অনেক মুনাফিকদের জানাযা পড়েছেন যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁকে (নবী) এ কাজ করতে নিষেধ করেছিলেন। সে ধরনের প্রচণ্ড গালাগাল এবং চরম ব্যবহার মুহাম্মাদ (সা) বেদুঈন ব্যক্তির প্রতি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেটা ছিল বেদুঈন যে বিরাট ঝামেলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং যে অশুভ কাজ সে করেছিল তার বিরুদ্ধে রসূল এর দিক থেকে অতি কম মাত্রার প্রতিক্রিয়া। সতের নেতাকে তিনি দোষারোপ করেছিলেন এবং জাহিলিয়াতের যুগের অযৌক্তিক গোড়ামীকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। যদিও এ নতুন ধর্ম এ ধরনের গোড়ামীকে ধ্বংস করার জন্য বদ্ধ পরিকর।

টিকাঃ
৩১. আহমদ কর্তৃক প্রণীত মুসনাদে বর্ণিত, বনী হাশিমের মুসনাদ, আব্দুল্লাহ আমর বিন আল আস- ৬৯২২। আহমদ শাকীরের মতে এ হাদীসের বর্ণনা সহীহ।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আমার সাহাবী কি ক্ষমার যোগ্য নয়?

📄 আমার সাহাবী কি ক্ষমার যোগ্য নয়?


আসহ আবু দারদা এর বর্ণনানুযায়ী, "আমি যখন নবী করীম-এর সাথে বসেছিলাম তখন আবু বকর হাঁটুর ওপর তার পোশাক তুলে আমাদের কাছে আসলেন। নবী করীম বললেন, তোমার সাহাবীদের মধ্যে একটা ঝগড়া হয়েছে। আবু বকর নবীজীকে অভিনন্দন জানিয়ে বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আল খাত্তাবের পুত্র এবং আমার মধ্যে কিছু একটা (অর্থাৎ ঝগড়া) হয়েছে। আমি তার সাথে কর্কশভাবে কথা বলেছিলাম এবং তারপর এ ব্যাপারে অনুশোচনা করেছিলাম। আমাকে মাফ করে দেয়ার জন্য আমি তাকে অনুরোধ করেছিলাম, তবে সে অস্বীকার করেছে। এ কারণে আমি আপনার কাছে এসেছি।' নবী করীম তিনবার বললেন, হে আবু বকর! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন।'
এর মধ্যে উমর এ ব্যাপারে তাঁর দুঃখ প্রকাশ করে আবু বকর -এর বাড়িতে গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন তিনি আছেন কিনা। উত্তর পাওয়া গেল না সূচক। সেজন্য তিনি নবীর কাছে এসে তাকে অভিনন্দন জানালেন। তবে নবী -এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ ফুটে উঠল। সে জন্য তিনি হাঁটু গেড়ে বসলেন এবং দুবার বললেন, হে আল্লাহ নবী!, আমি আল্লাহর নামে বলছি, আমি তার প্রতি অধিক অবিবেচক ছিলাম। নবী করীম বললেন, "আল্লাহ তোমাদের জন্য আমাকে নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন, তবে তোমরা আমাকে বলছ, "তুমি মিথ্যাচার করছ। "কিন্তু আবু বকর বললেন, "সে সত্যি কথাটাই বলেছে। তিনি আমাকে তার লোকবল এবং সম্পদ দিয়ে সান্ত্বনা দিলেন। তারপর তিনি দু'বার বললেন, 'তাহলে কি তুমি আমার সাহাবীদের ক্ষতি করা ছাড়বে না? এরপর থেকে আর কেউ আবু বকরের ক্ষতি করেনি।"

মন্তব্য
ওপরে উল্লিখিত ঘটনায় বলা হয়েছে যে, নবী করীম তাঁর প্রচণ্ড রাগের কারণে ভ্রূকুটি করেছিলেন। রাগ প্রশমনের পর তিনি বলেছিলেন, “তোমরা কি আমার কথা বিবেচনায় রেখে আমার সাহাবীকে ক্ষমা করে দেবে?" মুহাম্মাদ -এর এ ধরনের কথা থেকে কি কোনো ধরনের দোষারোপ বা সমালোচনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়? এটা বরং এমন ধরনের কথা যেটা আমাদেরকে আবু বকর -এর মহত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। আল্লাহই সবচাইতে ভাল জানেন।

টিকাঃ
৩২. সহীহ আল বুখারী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস নং ৩৪৮৯

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 তাদের দিকে বালু নিক্ষেপ করা

📄 তাদের দিকে বালু নিক্ষেপ করা


আমর বিন শুয়ায়েব তাঁর বাবা এবং দাদা থেকে জেনে বলেছেন, "আমি আমার ভাইসহ এমন এক চেয়েও জায়গায় বসেছিলাম সেটা আমার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসের চেয়েও প্রিয়। আমি আমার ভাইয়ের সাথে এসে দেখলাম কয়েকজন সাহাবী নবী করীম -এর দরজার গোড়ায় বসে আছেন। আমরা তাদেরকে ছেড়ে যেতে চাচ্ছিলাম না, সেজন্য আমরা আরোও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম।
হঠাৎ তারা কুরআন মাজিদের একটি আয়াত উল্লেখ করে সেটা নিয়ে বিতর্ক জুড়ে দিল এবং এ ব্যাপারে শোরগোল শুরু করে দিল। এ অবস্থায় রসূল রাগের কারণে লাল-মুখমণ্ডল নিয়ে বের হয়ে আসলেন। তিনি তাদের ওপর বালু নিক্ষেপ করে বললেন, হে মানুষ! ব্যাপারটাকে সহজভাবে নাও। তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর শাস্তি পাওয়ার কারণ ছিল, তারা তাদের নবীদের সাথে দ্বিমত পোষণ করত এবং কিতাবের একটি দিকের সাথে অন্য দিকের বিরোধ খুঁজে বের করত। একটি দিক দিয়ে অন্যদিকের বিরুদ্ধাচরণের জন্য কুরআন নাযিল হয়নি। কুরআন থেকে তুমি জেনে সেটা অনুসরণ কর, কিন্তু তুমি যেটা জাননা সেটা এমন কারো কাছে নিয়ে যাও যে ব্যক্তির কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান আছে।

মন্তব্য
তৎকালীন সময়ের মানুষের অভ্যাস এবং সমাজের রীতি-নীতির নিরীখে বিভিন্ন ব্যাপারকে বুঝতে হবে। ধুলা ছোড়ার ব্যাপারটাকে কি দোষ বলে গণ্য করা যাবে যখন মানুষ মৃত্যুর সন্নিকটে এবং এ প্রজন্মের পর যাদের আগমন হবে তাদেরও মৃত্যু হবে? তারা কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে তর্কে লিপ্ত হয়েছিল যেখানে নবী করীম নিজে উপস্থিত ছিলেন।

টিকাঃ
৩৩. আহমদ কর্তৃক তার মুসনাদ বাণী হাশীম, মুসনাদ আব্দুল্লাহ বিন আমার বিন আল আসে বর্ণিত হাদীস নং ৬৫১৯। আহমদ শফীরের মতে বর্ণনাকারীর সনদ সহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00