📄 মনোযোগ আকর্ষণে পাথর দিয়ে আঘাত
যাইদ ইবনে সাবিত এর বরাতে বলা হয়েছে। "আল্লাহর রসূল (সা) খেজুর গাছের পাতার মাদুর দিয়ে একটি ছোট ঘর তৈরি করেছিলেন, সেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন। কিছু সংখ্যক ব্যক্তি তাঁকে এ অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার সাথে সালাত আদায় করল। অত:পর একই কাজে তারা আরেক রাতে এলো, এবারে আল্লাহর রসূল বিলম্ব করলেন এবং তাদের কাছে আসলেন না। সেজন্য তারা চেচামেচি শুরু করল এবং তাঁর মনযোগ আকর্ষণ করার জন্য দরজায় ছোট পাথর দিয়ে করাঘাত করল। রসূল রাগান্বিত হয়ে বের হয়ে এসে বললেন, "তোমরা এখনও পীড়াপীড়ি করছ যাতে আমি সিদ্ধান্ত দেই তাহাজ্জুতের এ সালাত তোমাদের জন্য ফরয করা হোক।" তোমাদের উচিত হবে এ সালাত তোমাদের নিজ গৃহে আদায় করা। কারণ শুধুমাত্র জামাতের সালাত ব্যতীত একজন মুসুল্লীর জন্য সালাতের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান নিজ বাসস্থান।
টিকাঃ
২৬. সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং ৫৭৮০
📄 আল্লাহর কিতাব নিয়ে কি খেলা সাজে?
মাহমুদ বিন লাবীদের বরাতে বলা হয়েছে। “নবীকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জানানো হলো যে, তার স্ত্রীকে কোনো বিরতি ছাড়া তিনবার তালাক প্রদান করেছে। এটা শুনে রসূল রাগে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন। “আমি তোমাদের মাঝে থাকা স্বত্ত্বেও কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা হবে?”
মন্তব্য
পাঠক লক্ষ্য করে থাকবেন যে, এ কথাটা Passive Voice-এর (কর্মবাচ্য বাক্যের) এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এটার সাথে মিল আছে, “কিছু মানুষের ব্যাপারটা কি?” এভাবে প্রকাশের মধ্যে সমস্যার কিছু নেই।
টিকাঃ
২৯. আস সুনান আন-নাসাই কর্তৃক বর্ণিত। ইবনে আল কাইয়াম তাঁর গ্রন্থ যা'আদ আল মা'দে লিখেছেন : এ হাদীসে সনদ সহীহ।
📄 যুল ইয়াদাইন
আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা।, “আল্লাহর রসূল যোহর অথবা আসরের সালাতে ইমামতি করছিলেন হয়ত যোহর অথবা আসরের সালাত এবং দুই রাকাআত পর সালাম ফিরিয়ে ছিলেন। তিনি মসজিদের ভিতর একটি কাঠের টুকরা দেখতে পেলেন যেটা কিবলামুখী হয়েছিল। রসূল এই কাঠের টুকরার ওপর হেলান দিলেন এমনকি তিনি রাগান্বিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে অন্যান্যদের মধ্যে আবু বকর ও উমর উপস্থিত ছিলেন এবং তারা নবীর সাথে কথা বলতে অতিশয় ভীতবোধ করেছিলেন। মুসল্লীরা তাড়াহুড়া করে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসলেন। ‘সালাতে রাকাত বাদ পড়েছে।’ দুল ইয়াদান নামে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর নবী! সালাত কি ইচ্ছা করেই কম আদায় হয়েছে না আপনার ভুল হয়েছে?” আল্লাহর রসূল ডানে এবং বাঁয়ে তাকানোর পর বললেন, 'দুল ইয়াদাইন কি বলছে? উত্তরে তারা বলল, ঠিকই বলেছে। আপনি শুধু দুই রাকাত আদায় করেছেন। তারপর তিনি আরোও দুই রাকাত আদায় করলেন এবং সালাম ফেরালেন। তারপর তিনি তাকবীর বললেন এবং সেজদায় গেলেন, তারপর তাকবীর বললেন এবং সেজদা থেকে উঠলেন অত:পর পুনরায় তাকবীর বললেন এবং সেজদায় গেলেন, আবার তাকবীর বললেন এবং মাথা তুললেন।"
মন্তব্য
নবীর জিজ্ঞাসা "দুল ইয়াদাইন কি বলছে?" এ প্রশ্নটা তোলা হয়েছে, কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্পর্কে যেটা সালাত ছাড়া অন্য কিছু না। এটা কোনোভাবেই দোষারোপ করাকে বোঝায় না।
টিকাঃ
৩০. সহীহ মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদীস নং ৯৩৭।
📄 বেদঈনের আল খেত্না
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল আমের-এর বরাতে বলা হয়েছে। 'একজন বেদুঈন নবী করীম-এর কাছে আসলেন যার পরনে ছিল বুক- ফাড়া লম্বা আলখেল্লা, প্রশস্ত হাতা সেটা বুটিদার রেশমী কাপড়ের ছিল এবং মুড়ি সেলাই করা। এ লোকটা বললেন, 'আপনার বন্ধু (নবী) প্রতিটি মেষপালকের অবস্থা উন্নীত করতে চান এবং প্রত্যেক সম্ভ্রান্ত লোককে মান- মর্যাদায় খাটো করতে চান। নবী করীম উত্তেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আলখেল্লা ধরে লোকটিকে টান দিয়ে বললেন, "আমি তোমাকে একটি পাগলের বেশে দেখতে চাই না।"
অত:পর নবী করীম তাঁর জায়গায় ফেরত গেলেন এবং বললেন, "যখন নূহ (আ) মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছিলেন তখন তিনি তার ছেলে দুটিকে ডেকে বললেন, 'আমার রেখে যাওয়া সম্পদ শুধু তোমাদের দু'জনের মধ্যে থাকবে। আমি তোমাদেরকে দুটো জিনিস করার জন্য এবং দুটো কাজ না করার জন্য আদেশ দিচ্ছি। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করার জন্য এবং ঔদ্ধত্য প্রকাশ না করার জন্য। আর আমি তোমাদের আদেশ করছি এটা বলতে, 'লা ইলাহা ইল্লাললাহু' (আল্লাহর ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই) কারণ যদি আকাশ, পৃথিবী আর সমস্ত জিনিসকে একপাল্লায় দেয়া হয় এবং লা ইলাহাকে অন্য পাল্লায় রাখা হয় তাহলে এটার ওজন (লা ইলাহা) বেশি হবে। আকাশ এবং পৃথিবী যদি বৃত্তের মতো হতো এবং লা ইলাহাকে যদি এগুলোর ওপর স্থাপন করা হয়, এতে ওগুলো ছিড়ে ভিন্ন ভিন্ন করে ফেলবে। তোমাদেরকে আদেশ করছি সুবহান আল্লাহ বলতে। কারণ এটা হলো সবকিছুর দোয়া যার বদৌলতে সকলে আহার পায়।”
মন্তব্য
এটা পরিষ্কার যে যারা নবী করীম-কে ঘিরে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে তারা মুনাফিক। যাদের দ্বিমুখিতা মানুষের জানা।
রসূল-এর তাঁর কাছে বারংবার অনুমতি নিয়েছেন এ ধরনের মুনাফিকদের হত্যা করার জন্য তিনি এ কাজ থেকে বিরত রেখেছেন। রসূল তাদের অনেকের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেছিলেন এবং মৃত অনেক মুনাফিকদের জানাযা পড়েছেন যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁকে (নবী) এ কাজ করতে নিষেধ করেছিলেন। সে ধরনের প্রচণ্ড গালাগাল এবং চরম ব্যবহার মুহাম্মাদ (সা) বেদুঈন ব্যক্তির প্রতি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেটা ছিল বেদুঈন যে বিরাট ঝামেলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং যে অশুভ কাজ সে করেছিল তার বিরুদ্ধে রসূল এর দিক থেকে অতি কম মাত্রার প্রতিক্রিয়া। সতের নেতাকে তিনি দোষারোপ করেছিলেন এবং জাহিলিয়াতের যুগের অযৌক্তিক গোড়ামীকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। যদিও এ নতুন ধর্ম এ ধরনের গোড়ামীকে ধ্বংস করার জন্য বদ্ধ পরিকর।
টিকাঃ
৩১. আহমদ কর্তৃক প্রণীত মুসনাদে বর্ণিত, বনী হাশিমের মুসনাদ, আব্দুল্লাহ আমর বিন আল আস- ৬৯২২। আহমদ শাকীরের মতে এ হাদীসের বর্ণনা সহীহ।