📄 চিৎকারের জবাবে নীরবতা
উম্মে আনাস-এর বরাতে বলা হয়েছে। আমিসহ রসূলে করীম: আয়মানের কাছে গিয়েছিলাম। আয়মন একটি পাত্রে নবীকে পানীয় দিলেন। আনাস বললেন, আমি জানিনা নবী করীম সাওম পালন করছিলেন বলে এ পানীয়টি তাকে দেয়া অথবা তিনি না চাওয়াতে এটা তাঁকে দেয়া হয়েছিল কিনা। সে কারণে এ মহিলা চিৎকার শুরু করে দিলেন।
টিকাঃ
২২. মুসলিম কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত: সাহাবীদের গুণাগুণ, উম্মে আইমানের গুণাবলি অধ্যায় দ্রষ্টব্য। হাদীস নং ৪৬১৪।
📄 হাদীস : দুল-খুওয়াইয়িमराह
আবু-সায়ীদ আল-খুদরীর বরাতে বলা হয়েছে। "একদিন যখন আল্লাহর রসূল কিছু সম্পত্তি বিতরণে নিয়োজিত ছিলেন তখন বানু তামীম গোত্রের দুল-খুওয়াইযিরাহ্ বলে উঠলেন, 'হে আল্লাহর রসূল সুবিচার করার চেষ্টা করুন।' উত্তরে নবী করীম বললেন, তোমার ওপর লানত বর্ষিত হোক! আমি যদি সুবিচার না করি তাহলে সুবিচার করার আর কে আছে? উমর রাগান্বিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে তার মাথা কেটে ফেলার অনুমতি দিন।'
নবী করীম বললেন, "বাদ দাও তার কথা, তার কিছু সঙ্গী আছে যারা এমনভাবে ইবাদত-বন্দেগী এবং সাওম পালন করে যে, তুমি তোমার সাওম পালনকে তার সাওম পালনের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র মনে করবে। তারা কুরআন তেলাওয়াত করে তবে কুরআনের শিক্ষা কাজে পরিণত করে না এবং একটি তীর যেভাবে লক্ষ্যবস্তু ভেদ করে ঠিক সেভাবে তারাও ধর্ম ত্যাগ করতে পারে। আরেক বর্ণনানুযায়ী নবী করীম বলেছেন, "তার ওপর লানত হোক, আমি ছাড়া তোমার প্রতি কে বেশি সুবিচার করবে? "ঐ ব্যক্তি প্রস্থান করার পর নবী করীম বললেন, "তাকে ভদ্রভাবে আমার কাছে নিয়ে এসো।”
মন্তব্য
পাঠক লক্ষ্য করে থাকবেন যে, তাঁর বদ দোয়া প্রাথমিকভাবে নির্দয় মনে হতে পারে। তবে আপনারা যদি বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন যে, আরবরা এ ধরনের অভিব্যক্তি করতে অভ্যস্ত। এ কারণেই কোনো কোনো পরিস্থিতিতে দোষারোপ করার জন্য এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেটা এ ক্ষেত্রে করা হয়েছে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাষার মাধ্যমে সুনাম করা হয়। এর সাথে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়, নবী যখন আবু বাসীরের সাহস এবং বীরত্বের সুনাম করেছিলেন এই বলে, "তোমার মায়ের ওপর লানত বর্ষিত হোক। তার যদি সম্পর্ক থাকত তাহলে তিনি কত সুন্দর যুদ্ধের মদতদাতা হতে পারতেন।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, এ ধরনের ভাষা ব্যবহারে তেমন কিছু আসে যায় না বরং এটা শ্রোতাকে সাবধান করার জন্য আরবদের অভ্যাসগত একটি অভিব্যক্তি। সে পরিপ্রেক্ষিতে নবী করীম বললেন, তাকে ভদ্রভাবে আমার কাছে নিয়ে এসো।" এ কথাগুলো দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করলেন।
টিকাঃ
২৩. আল বুখারী কর্তৃক তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণিত। হাদীস নং ৫৮৩০
২৪. রসূলের আচার-ব্যবহার গ্রন্থে আবু আল-বাহানী কর্তৃক বর্ণিত, নবীর দয়া এবং ক্ষমাশীলতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে সে সম্পর্কে অধ্যায় নং ৬৬। ইবনে তাইমিয়াহর মতে বর্ণনাকারীদের সকলে সহীহ।
২৫. সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ২০৩
📄 মনোযোগ আকর্ষণে পাথর দিয়ে আঘাত
যাইদ ইবনে সাবিত এর বরাতে বলা হয়েছে। "আল্লাহর রসূল (সা) খেজুর গাছের পাতার মাদুর দিয়ে একটি ছোট ঘর তৈরি করেছিলেন, সেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন। কিছু সংখ্যক ব্যক্তি তাঁকে এ অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার সাথে সালাত আদায় করল। অত:পর একই কাজে তারা আরেক রাতে এলো, এবারে আল্লাহর রসূল বিলম্ব করলেন এবং তাদের কাছে আসলেন না। সেজন্য তারা চেচামেচি শুরু করল এবং তাঁর মনযোগ আকর্ষণ করার জন্য দরজায় ছোট পাথর দিয়ে করাঘাত করল। রসূল রাগান্বিত হয়ে বের হয়ে এসে বললেন, "তোমরা এখনও পীড়াপীড়ি করছ যাতে আমি সিদ্ধান্ত দেই তাহাজ্জুতের এ সালাত তোমাদের জন্য ফরয করা হোক।" তোমাদের উচিত হবে এ সালাত তোমাদের নিজ গৃহে আদায় করা। কারণ শুধুমাত্র জামাতের সালাত ব্যতীত একজন মুসুল্লীর জন্য সালাতের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান নিজ বাসস্থান।
টিকাঃ
২৬. সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং ৫৭৮০
📄 আল্লাহর কিতাব নিয়ে কি খেলা সাজে?
মাহমুদ বিন লাবীদের বরাতে বলা হয়েছে। “নবীকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জানানো হলো যে, তার স্ত্রীকে কোনো বিরতি ছাড়া তিনবার তালাক প্রদান করেছে। এটা শুনে রসূল রাগে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন। “আমি তোমাদের মাঝে থাকা স্বত্ত্বেও কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা হবে?”
মন্তব্য
পাঠক লক্ষ্য করে থাকবেন যে, এ কথাটা Passive Voice-এর (কর্মবাচ্য বাক্যের) এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এটার সাথে মিল আছে, “কিছু মানুষের ব্যাপারটা কি?” এভাবে প্রকাশের মধ্যে সমস্যার কিছু নেই।
টিকাঃ
২৯. আস সুনান আন-নাসাই কর্তৃক বর্ণিত। ইবনে আল কাইয়াম তাঁর গ্রন্থ যা'আদ আল মা'দে লিখেছেন : এ হাদীসে সনদ সহীহ।