📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 বেমানান পোশাক

📄 বেমানান পোশাক


আনাস ইবনে মালিক-এর বরাতে বর্ণিত। এক ব্যক্তির পরনে ছিল হলুদ রংয়ের পোশাক। যে রংটা রসূল পছন্দ করতেন না। যখন ঐ ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালেন তখন রসূল কয়েকজন সাহাবীকে বললেন, 'তোমরা যদি ঐ লোকটিকে হলুদ রং ত্যাগ করতে বলতে পার।" তিনি এ কথাটা দুই বা তিনবার বললেন। রসূল সে রংটা অপছন্দ করতেন সে রংয়ের পোশাক কারো পরণে দেখলে রসূল এর তার মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারটা ছিল খুবই কদাচিত।

টিকাঃ
১৭. আহমদ কর্তৃক তাঁর মুসনাদে বর্ণিত বানী হাকিমের মুসনাদ, আনাস বিন মালিকের মুসনাদ।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 রাগান্বিত ব্যক্তির রাগ প্রশমন

📄 রাগান্বিত ব্যক্তির রাগ প্রশমন


সুলায়মান বিন সার্দের বরাতে বলা হয়েছে। "আমরা যখন নবী করীম -এর সাথে বসা ছিলাম তখন দু'জন লোক একে অপরকে গালাগালি করছিল। দু'জনের মধ্যে একজন অপর সাহাবীকে প্রচণ্ডভাবে গালাগালি করছিল এবং রাগে তার মুখমণ্ডল লাল হয়ে গিয়েছিল। নবী বললেন, আমি একটি বাক্য জানি সেটা যদি কেউ উচ্চারণ করে তাহলে তার রাগ প্রশমিত হবে, যদি সে শুধু এ বাক্যটা উচ্চারণ করে, "সমাজ বিবর্জিত শয়তানের কব্জা থেকে মুক্ত করে আল্লাহ তুমি আমাকে আশ্রয় দাও।" সাহাবীরা ঐ রাগান্বিত লোকটিকে বলল, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না আল্লাহর নবী কি বলেছেন? উত্তরে সে বলল, 'আমি পাগল নই।"

টিকাঃ
২১. আল-বুখারী কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত হাদীস নং ৫৭৮২

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 চিৎকারের জবাবে নীরবতা

📄 চিৎকারের জবাবে নীরবতা


উম্মে আনাস-এর বরাতে বলা হয়েছে। আমিসহ রসূলে করীম: আয়মানের কাছে গিয়েছিলাম। আয়মন একটি পাত্রে নবীকে পানীয় দিলেন। আনাস বললেন, আমি জানিনা নবী করীম সাওম পালন করছিলেন বলে এ পানীয়টি তাকে দেয়া অথবা তিনি না চাওয়াতে এটা তাঁকে দেয়া হয়েছিল কিনা। সে কারণে এ মহিলা চিৎকার শুরু করে দিলেন।

টিকাঃ
২২. মুসলিম কর্তৃক সহীহ হাদীসে বর্ণিত: সাহাবীদের গুণাগুণ, উম্মে আইমানের গুণাবলি অধ্যায় দ্রষ্টব্য। হাদীস নং ৪৬১৪।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 হাদীস : দুল-খুওয়াইয়িमराह

📄 হাদীস : দুল-খুওয়াইয়িमराह


আবু-সায়ীদ আল-খুদরীর বরাতে বলা হয়েছে। "একদিন যখন আল্লাহর রসূল কিছু সম্পত্তি বিতরণে নিয়োজিত ছিলেন তখন বানু তামীম গোত্রের দুল-খুওয়াইযিরাহ্ বলে উঠলেন, 'হে আল্লাহর রসূল সুবিচার করার চেষ্টা করুন।' উত্তরে নবী করীম বললেন, তোমার ওপর লানত বর্ষিত হোক! আমি যদি সুবিচার না করি তাহলে সুবিচার করার আর কে আছে? উমর রাগান্বিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে তার মাথা কেটে ফেলার অনুমতি দিন।'
নবী করীম বললেন, "বাদ দাও তার কথা, তার কিছু সঙ্গী আছে যারা এমনভাবে ইবাদত-বন্দেগী এবং সাওম পালন করে যে, তুমি তোমার সাওম পালনকে তার সাওম পালনের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র মনে করবে। তারা কুরআন তেলাওয়াত করে তবে কুরআনের শিক্ষা কাজে পরিণত করে না এবং একটি তীর যেভাবে লক্ষ্যবস্তু ভেদ করে ঠিক সেভাবে তারাও ধর্ম ত্যাগ করতে পারে। আরেক বর্ণনানুযায়ী নবী করীম বলেছেন, "তার ওপর লানত হোক, আমি ছাড়া তোমার প্রতি কে বেশি সুবিচার করবে? "ঐ ব্যক্তি প্রস্থান করার পর নবী করীম বললেন, "তাকে ভদ্রভাবে আমার কাছে নিয়ে এসো।”

মন্তব্য
পাঠক লক্ষ্য করে থাকবেন যে, তাঁর বদ দোয়া প্রাথমিকভাবে নির্দয় মনে হতে পারে। তবে আপনারা যদি বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন যে, আরবরা এ ধরনের অভিব্যক্তি করতে অভ্যস্ত। এ কারণেই কোনো কোনো পরিস্থিতিতে দোষারোপ করার জন্য এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেটা এ ক্ষেত্রে করা হয়েছে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাষার মাধ্যমে সুনাম করা হয়। এর সাথে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়, নবী যখন আবু বাসীরের সাহস এবং বীরত্বের সুনাম করেছিলেন এই বলে, "তোমার মায়ের ওপর লানত বর্ষিত হোক। তার যদি সম্পর্ক থাকত তাহলে তিনি কত সুন্দর যুদ্ধের মদতদাতা হতে পারতেন।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, এ ধরনের ভাষা ব্যবহারে তেমন কিছু আসে যায় না বরং এটা শ্রোতাকে সাবধান করার জন্য আরবদের অভ্যাসগত একটি অভিব্যক্তি। সে পরিপ্রেক্ষিতে নবী করীম বললেন, তাকে ভদ্রভাবে আমার কাছে নিয়ে এসো।" এ কথাগুলো দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করলেন।

টিকাঃ
২৩. আল বুখারী কর্তৃক তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণিত। হাদীস নং ৫৮৩০
২৪. রসূলের আচার-ব্যবহার গ্রন্থে আবু আল-বাহানী কর্তৃক বর্ণিত, নবীর দয়া এবং ক্ষমাশীলতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে সে সম্পর্কে অধ্যায় নং ৬৬। ইবনে তাইমিয়াহর মতে বর্ণনাকারীদের সকলে সহীহ।
২৫. সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ২০৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00